সাকিবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভারতীয় পাঠান

এশিয়া কাপের বাংলাদেশের ব্যর্থতার ক্ষতে প্রলেপ দিয়েছে ভারতের বিপক্ষে ৬ রানের জয়। শেষ ম্যাচের ওই জয় বাংলাদেশকে নিয়ে গিয়েছে টুর্নামেন্টের ৩য় স্থানে। সেইসঙ্গে ক্রিকেটারদের মাঝেও যুক্ত হয়েছে বাড়তি আত্মবিশ্বাস। লোয়ার অর্ডারে রান আসা, পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং সবমিলিয়ে ক্রিকেটে তাক লাগানো ফলাফল উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ।

ফাইনাল শেষে বাংলাদেশের প্রশংসা ঝরলো ভারতীয় সাবেক পেসার ইরফান পাঠানের কণ্ঠেও। বাংলাদেশি গণমাধ্যমকে সাবেক এই পেসার বলেন, ‘বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে দেখিয়েছে তারা কী করতে পারে। সাকিব, অন্য স্পিনার এবং পেসাররা ভালো করেছে। ভারত মূল একাদশ নিয়ে খেললে আমি মনে করি তাদের বিপক্ষে কেউই জিততে পারত না।’

 

ব্যাটে বলে বাংলাদেশের জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাকিব। অধিনায়কত্বেও দেখা গিয়েছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। সাকিবকে নিয়েও তাই প্রশংসাই করলেন ইরফান, ‘সাকিবকে খেলতে দেখে অনেক ভালো লাগে। সে কোয়ালিটি প্লেয়ার। সে বাংলাদেশের লিডার। তবে আমি বাংলাদেশের কাছ থেকে সামনে আরো ভালো পারফরম্যান্স আশা করি।’

বাংলাদেশের ব্যাপারেও ইরফানের মুখে শোনা গেল আত্মবিশ্বাসের সুর, ‘সাকিব অধিনায়ক হিসেবে ভালো করছে। ভারতের বিপক্ষে জয় তাদেরকে অনেক আত্মবিশ্বাস এনে দেবে। বাংলাদেশ কিন্তু অনেক বছর ধরেই ভালো খেলছে। এখন তাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট অনেক ভালো। কম্বিনেশন ভালো থাকলে সামনে তারা আরো ভালো করতে পারবে।’




ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে সাকিবের উন্নতি

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত ছিলেন সাকিব আল হাসান। শেষ ম্যাচটিতে বাংলাদেশের জয়ে মূল অবদান ছিল তারই।

এবার সেই পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়লো র‍্যাংকিংয়েও।

আইসিসির সর্বশেষ ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে উন্নতি হয়েছে সাকিবের। ব্যাট হাতে ইংল্যান্ড সিরিজের তিন ম্যাচে ১৪১ রান করেছেন তিনি। আর এতে ৫ ধাপ এগিয়ে ২৭ নম্বরে উঠে এসেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।

ব্যাটারদের র‍্যাংকিংয়ে ৪ ধাপ এগিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। শেষ ম্যাচে ৭০ রানের ইনিংস খেলা এই ডানহাতি ৪ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ২২তম স্থানে। এক ধাপ করে এগিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৩৩তম) ও লিটন দাসও (৩৪)। তবে এক ধাপ পিছিয়ে ১৯তম স্থানে নেমে গেছেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

ওয়ানডে ব্যাটারদের র‍্যাংকিংয়ে আগের মতোই শীর্ষে আছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম। দুইয়ে অবস্থান প্রোটিয়া ব্যাটার রাসি ফন ডার ডুসেনের। আর তিনে অজি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। চার ও পাঁচে আছেন যথাক্রমে- কুইন্টন ডি কক এবং ইমাম-উল-হক।

বোলারদের র‍্যাংকিংয়েও বড় লাফ দিয়েছেন সাকিব। ইংল্যান্ড সিরিজে বল হাতে ৬ উইকেট নেওয়া এই বাঁহাতি স্পিনার তিন ধাপ এগিয়ে উঠেছেন পাঁচে। আর তাতে এক ধাপ করে অবনতি হয়েছে রশিদ খান (৬), অ্যাডাম জাম্পা (৭) ও শাহিন আফ্রিদির (৮)। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মেহেদী হাসান (১৩) ও তাসকিন আহমেদ (৪৬) দুই ধাপ করে এবং মোস্তাফিজুর রহমান (১৬) পিছিয়েছেন এক ধাপ।

বোলারদের র‍্যাংকিংয়ে আগের মতোই শীর্ষে আছেন ভারতের মোহাম্মদ সিরাজ। এছাড়া দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান ধরে রেখেছেন যথাক্রমে- জশ হ্যাজেলউড, ট্রেন্ট বোল্ট এবং মিচেল স্টার্ক।

ওয়ানডে অলরাউন্ডারদের তালিকায় আগের মতোই শীর্ষে আছেন সাকিব। তবে বেড়েছে ১৫ রেটিং পয়েন্ট। ফলে দুইয়ে থাকা মোহাম্মদ নবীর (৩১০) চেয়ে ব্যবধান বাড়িয়েছেন সাকিব (৪০৭)। এছাড়া আগের মতোই তিনে আছেন আরেক আফগান রশিদ খান। এক ধাপ এগিয়ে চারে উঠে এসেছেন কিউই অলরাউন্ডার মিচেল স্যান্টনার। তবে এক পিছিয়েছেন বাংলাদেশের মেহেদী হাসান (৫)।