সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার বিষয় মন্ত্রণালয় জানে না: বাণিজ্য উপদেষ্টা

সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি জানে না মন্ত্রণালয়। ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী মিল মালিকরা এক জোট হয়ে এ দাম বাড়িয়েছে।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন এ কথা জানান।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আলাপ-আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো। কী সিদ্ধান্ত নিই; সেটি আপনারা দেখবেন।’

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মিল মালিকদের একতরফা এভাবে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি সরকার ভালোভাবে নেয়নি।’




সয়াবিন তেলের সিন্ডিকেটদের আইনের আওতায় আনার দাবি

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে ধারাবাহিকভাবে ভোজ্যতেলের দাম কমলেও, দেশের বাজারে সিন্ডিকেটের কারসাজিতে ভোজ্যতেল ভোক্তাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। পাঁচ আগস্টের পর পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠা পুরেনো সিন্ডিকেট বর্তমানে সয়াবিন তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং অতিমুনাফা অর্জন করতে চাইছে। তাই সয়াবিন তেলের সিন্ডিকেটদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সংবাদ মাধ্যমে ক্যাবের তথ্য কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের শুল্ক ছাড় ও ভ্যাট হ্রাসসহ বিভিন্ন নীতিসহায়তা থাকা সত্ত্বেও কিছু প্রভাবশালী কোম্পানি বাজারে তেলের সরবরাহ ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে অস্থিরতা তৈরি করেছে। সর্বশেষ ১৪ এপ্রিল থেকে প্রতি লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে, এরপরও সয়াবিন তেলের সিন্ডিকেটরা আরও ৭ টাকা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

বিশ্ববাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ সালে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১,৬৬৭ ডলার, যা ২০২৪ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১০২২ ডলারে। অথচ দেশে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বারবার। বর্তমানে নির্ধারিত দামেও বাজারে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়, যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১১ টাকা বেশি।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর মতে, দেশের ৪-৫টি বড় কোম্পানি মিলে সয়াবিন তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা সরকারের পূর্ববর্তী সময়েও একই কৌশলে ভোক্তাদের জিম্মি করেছে। এখনো তারা একইভাবে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। সিন্ডিকেট ভেঙে বাজারে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে না পারলে সংকট আরও বাড়বে।

ক্যাব ভোক্তাদের স্বার্থে অবিলম্বে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, বাজার তদারকি জোরদার করা এবং সরকারের নীতিসহায়তার যথাযথ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করলেও ব্যবসায়ীরা আরও দাম বাড়ানোর জন্য বাজারে সরবরাহ বাড়ায়নি, যা সরকারের আইন ও নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল। ব্যবসায়ীদের এধরনের আচরণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।




বাজারে নেই বোতলের সয়াবিন তেল, খোলা তেলে নৈরাজ্য

দাম বাড়ানো হলেও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না বোতলের সয়াবিন তেল। লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়ে সয়াবিন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। এরপর এক সপ্তাহ চলে গেলেও বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ দোকানে বোতলের সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আর খোলা সয়াবিন তেল নিয়ে এক প্রকারের নৈরাজ্য চলছে। ব্যবসায়ীরা খোলা সয়াবিন তেলের দাম ইচ্ছামতো রাখছে। কোনো কোনো ব্যবসায়ী খোলা সয়াবিন তেল ২০০ টাকা কেজিতেও বিক্রি করছেন।

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচাসহ বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠান বোতলের সয়াবিন তেল বাজারে ছাড়ে তারা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। দাম বাড়ানোর পরও তারা তেল সরবরাহ করছে না। কবে বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে সেই তথ্যও কোম্পানির লোক দিতে পারছে না।
বাজারে হঠাৎ করে বোতলের সয়াবিন তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে গত ৯ ডিসেম্বর সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৮ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এই দাম বাড়ানোর ফলে এখন বোতলের এক লিটার সয়াবিনের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১৭৫ টাকা। আর খোলা সয়াবিনের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১৫৭ টাকা।

তবে এ দামে কোথাও সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বেশিরভাগ দোকানেই বোতলের সয়াবিন তেল নেই। দু-একটি দোকানে সীমিত পরিসরে বোতলের সয়াবিন তেল থাকলেও দাম রাখা হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯৫ টাকা পর্যন্ত। আর খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ থেকে ২০০ টাকা কেজি।

রামপুরায় ২০০ টাকা কেজি সয়াবিন তেল বিক্রি করা আলামিন বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে কোম্পানির লোক বোতলের সয়াবিন তেল দিচ্ছে না। আমাদের কাছেও এখন বোতলের সয়াবিন তেল নেই। আর খোলা সয়াবিন তেল বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই আমরাও বাড়তি দামে বিক্রি করছি। বোতলের তেল বাজারে এলে হয়তো দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে কবে নাগাদ বোতলের সয়াবিন তেল আসবে সেই তথ্য কোম্পানির লোক দিতে পারছে না।
মালিবাগ হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী মো. আফজাল বলেন, দাম বাড়ানোর আগে থেকেই বাজারে বোতলের সয়াবিন তেল নেই হয়ে গেছে। লিটারে ৮ টাকা দাম বাড়ানোর পরও কোম্পানি বোতলের তেল দিচ্ছে না। কোম্পানির লোকও এখন কম আসছে। তাদের কাছে প্রশ্ন করলে বলে, কোম্পানি থেকে সরবরাহ শুরু করলে তেল দিয়ে যাবে।
বোতলের সয়াবিন তেল বাজারে না থাকায় খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে গেছে বলেও জানান এই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া খোলা সায়বিন এখন ১৮৫ থেকে ১৯৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বাজারে দ্রুত বোতলের তেল না এলে দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।

খিলগাঁওয়ের কয়েকটি দোকান ঘুরে একটি দোকানে ৪টি বোতলের সয়াবিন তেল দেখা যায়। সাইফুল ইসলাম নামের এই দোকানদার বলেন, আমার কাছে বোতলের যে সয়াবিন তেল রয়েছে, তা আগের কেনা। নতুন দামের সয়াবিন তেল কোম্পানি থেকে এখনো দেয়নি। আমরা বোতলের এক লিটার সয়াবিন তেল ১৯০ টাকা বিক্রি করছি। নতুন দামের তেল এলে, বোতলের গায়ে যে দাম লেখা থাকবে, সেই দামে বিক্রি করবো।
খোলা সয়াবিনের দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খোলা সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা কেজি বিক্রি করছি। সরকার তো খোলা সায়বিনের দাম ১৫৭ টাকা নির্ধারণ করেছে? এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সরকার সয়াবিনের দাম নির্ধারণ করেছে লিটারে, আমরা বিক্রি করি কেজিতে। ১৯৫ টাকার কমে সয়াবিন তেল বিক্রি করা সম্ভব না। এই দামে যার ইচ্ছা নেবে, না নিলে না নেবে।
শান্তিনগর বাজার ঘুরেও বোতলের সয়াবিন তেল খুব একটা চোখে পড়েনি। আর খোলা সয়াবিন দোকান ভেদে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা যায়। মো. আলম নামের শান্তিনগরের এক ব্যবসায়ী বলেন, সরবরাহ না থাকায় সরকার সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু বাজারে কার্যকর তদারকি নেই। যে কারণে দাম বাড়ানোর পর এক সপ্তাহ চলে গেলেও বোতলের সয়াবিন তেল বাজারে আসছে না। আর খোলা সয়াবিন যারা পাইকারি বিক্রি করে তারাও বাড়তি দাম রাখছে। ফলে আমাদের বাড়তি দামে সয়াবিন বিক্রি করতে হচ্ছে।




৭ দিনে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা থেকে এলো অর্ধলাখ টন সয়াবিন তেল

গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে ৫০ হাজার টনের মতো অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি করা হয়েছে। চারটি বড় জাহাজে করে এসব তেল আমদানি করেছে তিনটি শিল্পগ্রুপ। এগুলো হলো— সিটি, মেঘনা ও টিকে গ্রুপ। জাহাজের মধ্যে তিনটি এসেছে আর্জেন্টিনা থেকে এবং একটি এসেছে ব্রাজিল থেকে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ৫ নভেম্বর আর্জেন্টিনা থেকে আরডমোর চেয়েন্নে নামে একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। জাহাজটি চট্টগ্রামে পৌঁছে ৬ ডিসেম্বর। মালামাল খালাস করে জাহাজটি ভারতের উদ্দেশে সোমবার (৯ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দর ত্যাগ করে। সানি ভিক্টরি নামে আরেকটি জাহাজ অপরিশোধিত সয়াবিন তেল নিয়ে ৭ নভেম্বর ব্রাজিলের বন্দর থেকে রওনা দেয়। আজ মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) জাহাজটি চট্টগ্রাম পৌঁছে।

ডাম্বলডোর নামে আরেকটি জাহাজ গত ২ নভেম্বর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। ৭ ডিসেম্বর জাহাজটি চট্টগ্রাম পৌঁছে। এ ছাড়া একই দেশ থেকে জিঙ্গা থ্রেশার নামে একটি জাহাজ ৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। আজ (মঙ্গলবার) জাহাজটি চট্টগ্রাম পৌঁছে।

 

চট্টগ্রাম বন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, চারটি জাহাজে করে ৫০ হাজার টনের মতো অপরিশোধিত সয়াবিন তেল এসেছে। এর মধ্যে আরডমোর চেয়েন্নে থেকে সম্পূর্ণ তেল খালাস করা হয়েছে। বাকি তিনটি জাহাজ থেকে তেল খালাস করে কাস্টমস নিয়ন্ত্রিত ট্যাংক টার্মিনালে রাখা হবে। শুল্ক পরিশোধ করার পর অপরিশোধিত এসব তেল কারখানায় নিয়ে যাওয়া হবে। পরিশোধন করার পর এগুলো বাজারজাত করা হবে। সাধারণত খালাসের পর পরিশোধন করে বাজারজাত করতে দুয়েক সপ্তাহ সময় লাগে।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশে কয়েকদিন ধরে ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৯ ডিসেম্বর) ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন। বৈঠকের পর বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৮ টাকা করে বাড়ানো হয়।




সয়াবিন তেলের দাম বাড়ল লিটার প্রতি ৮ টাকা

ভোজ্যতেলের বাজারে কয়েকদিন ধরে চলা ‘অস্থির’ অবস্থার মধ্যে বোতলজাত সয়াবিন তেল ও খোলা তেলের দাম প্রতি লিটারে ৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এ তথ্য জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশিরউদ্দীন।

এখন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম হবে ১৭৫ টাকা, খোলা সয়াবিন বিক্রি হবে ১৫৭ টাকা। আগে বোতলজাত তেল ১৬৭ টাকা ও খোলা তেল ১৪৯ টাকা ছিল।




লিটারে ১০ টাকা বাড়ল সয়াবিন তেলের দাম

ফের সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৭৩ টাকা। এর আগে খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১৬৩ টাকা। এখন পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ৮৪৫ টাকায়।

সোমবার এ দাম নির্ধারণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।

সোমবার বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভোজ্যতেলের কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন পর্যায়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি জারিকৃত বিজ্ঞপ্তির মেয়াদ গত ১৫ এপ্রিল শেষ হয়েছে। ফলে ১৬ এপ্রিল থেকে বাজারে ভোজ্যতেল (পরিশোধিত পাম তেল এবং পরিশোধিত সয়াবিন তেল) ভ্যাট অব্যাহতি পূর্ববর্তী মূল্যে সরবরাহ করা হবে।

মঙ্গলবার থেকে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ১৭৩ টাকায়। এছাড়া বোতলজাত ৫ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ৮৪৫ টাকায়। আর প্রতি লিটার খোলা পাম তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩২ টাকা।

এদিকে, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত মিট দ্য রিপোর্টার্স আয়োজনে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, “সয়াবিন তেলের দাম কমবে না। আগের দামে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে ট্যারিফ কমিশনের মাধ্যমে একটি নতুন দাম বেঁধে দেওয়া হবে।”




সয়াবিন তেলের দাম কমছে লিটারে ১০ টাকা

শুল্ক ছাড় দেওয়ার পর সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন মিল মালিকরা।

মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে টাস্কফোর্স ও জতীয় কমিটির সভা শেষে এ ঘোষণা দেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এনবিআর ভোজ্যতেলের শুল্ক বাবদ ৫ টাকা কমালেও রোজা সামনে রেখে মিল মালিক বা পরিশোধনকারীরা লিটারে ১০ টাকা করে কমানোর ঘোষণা দিয়েছের। আগামী ১ মার্চ থেকে নতুন দর কার্যকর হবে।

তাতে সয়াবিন তেল এক লিটারের বোতলে ১০ টাকা কমে ১৬৩ টাকায় বিক্রি হবে। এখন দাম নির্ধারিত আছে ১৭৩ টাকা। আর খোলা সয়াবিন তেল দাম কমার পর বিক্রি হবে ১৪৯ টাকায়।

তবে আপাতত পাম তেলের দাম কমানো হচ্ছে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ তৈরি হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এখন মৌখিকভাবে কথা হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত এলে আপনাদের সামনে প্রকাশ করব।”

ভারতের পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গেও ভোগ্যপণ্যের সীমান্ত বাণিজ্য সহজ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “মিয়ানমারের সঙ্গে নিত্যপণ্য নিয়ে এমওইউর একটি খসড়া আমাদের কাছে এসেছে। আশা করছি অচিরেই এটি চূড়ান্ত হবে। মিয়ানমারের চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আদা সহজে নিয়ে আসতে পারব আমরা।”

এদিন প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সচিব তপন কান্তি ঘোষ এই সভা পরিচালনা করেন। দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া এই সভায় সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি, এফবিসিসিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের বড় যোগানদাতা বেসরকারি উদ্যোক্তারা অংশ নেন।




ভারত থেকে ১ কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার

ভারত থেকে ১ কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ১৫৪.২৯ টাকা। ভারতের গ্রিন নেশন বিল্ডার্স অ্যান্ড ডেভলপার্স’র কাছে থেকে এই তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ১৪৩ কোটি ১৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা।

বুধবার (২২ নভেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে সভার সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান।

অতিরিক্ত সচিব জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কর্তৃক আন্তর্জাতিকভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১ কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল ভারতের গ্রিন নেশন বিল্ডার্স অ্যান্ড ডেভলপার্স’র নিকট থেকে কেনার অনুমোন দেওয়া হয়ছে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৪৩ কোটি ১৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৫৪ টাকা ২৯ পয়সা।

এর আগে, অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা হয়। সভায় বিভিন্ন দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সংস্থাভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে নন-ইউরিয়া সার (টিএসপি, ডিএপি এবং এমওপি) আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।




১৭ লাখ টন জ্বালানি ও ৮০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার

দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ১৬.৮০ লাখ মেট্রিক টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল, ৮০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল এবং ৮ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয় করার পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার।

বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি)’র চলতি বছরের ২৪তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাঈদ মাহবুব খান র্ভাচুয়ালি সাংবাদিকদের ব্রিফিং করতে গিয়ে জানান, বৈঠকে মোট ১৪টি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য বিভিন্ন দেশের ছয়টি রাষ্ট্র্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রিমিয়াম ও রেফারেন্স মূল্যসহ প্রায় ১২,৮৫০.৮৭ কোটি টাকায় ১৬.৮০ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল ক্রয় করবে।

এই জ্বালানি তেল থাইল্যান্ডের পিটিটিটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইনোক, চীনের পেট্রোচিনা, ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি, মালয়েশিয়ার পিটিএলসিএল ও চীনের ইউনিপেক থেকে সংগ্রহ করা হবে।

মাহবুব জানান, বাণিজ্য, মন্ত্রণালয়ের পৃথক তিনটি প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্র পরিচালিত ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) স্থানীয় উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে চলতি অর্থবছরের জন্য মেঘনা ভোজ্য তেল শোধনাগার লিমিটেড়ের কাছ থেকে প্রায় ১৩১.১৬ কোটি টাকায় প্রায় ৮০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল সংগ্রহ করবে। এতে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ১৫৮.৬৭ টাকা, যা আগে ছিল ১৬১.৩৭ টাকা।

তিনি বলেন, টিসিবি স্থানীয় প্রত্যক্ষ ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে প্রায় ১১৭.৭৫ কোটি টাকায় প্রায় ৭৫ লাখ লিটার রাইস ব্র্যান অয়েল ক্রয় করবে।

টিসিবি স্থানীয় উন্মুক্ত টেন্ডারের অধীনে চলতি অর্থবছরের জন্য পদ্ধতিতে নাবিল নাবা ফুডস লিমিটেডের কাছ থেকে প্রায় ৭৫.৫৯ কোটি টাকায় প্রায় ৮,০০০ টন মসুর ডাল ক্রয় করবে। এতে প্রতি কেজি (কেজি) মসুর ডালের দাম পড়বে ৮৩.৫১ টাকা, যা আগে ছিল ৯৪.৮৪ টাকা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বলেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সিসিজিপি আজকের বৈঠকে ময়মনসিংহর কেওয়াটখালী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর ডব্লিউপি-০১ প্রায় ২,১৩৭.৯৭ কোটি টাকায় সিএসসিইসি চায়না ও স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি জানান, এছাড়া ক্রয় কমিটির সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের পাঁচটি, স্থানীয় সরকার বিভাগের দুটি এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের একটি করে প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে।




ঈদের আগে আরেক দফা কমতে পারে ভোজ্যতেলের দাম

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ভোজ্যতেলের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ঈদের আগে আরেক দফা তেলের দাম কমতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় দেশের বাজারে সয়াবিন তেল ও পাম তেলের দাম কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে। সয়াবিন তেলের দাম কমানো হয়েছে লিটারে ১০ টাকা, আর পাম তেলের দাম কমানো হয়েছে ২ টাকা করে।

এখন থেকে বোতলের সয়াবিন প্রতি লিটার বিক্রি হবে ১৮৯ টাকায়, খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ১৬৭ টাকায়। আর পাম তেলের দাম লিটারে দুই টাকা কমিয়ে ১৩৩ টাকায় বিক্রি হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম এখনও নিম্নমুখী জানিয়ে সচিব আরও বলেন, আমরা আশা করছি ঈদের আগে আরেক দফায় দাম কমাতে পারব।

নতুন এই দামের সুফল ভোক্তারা কবে থেকে পাবে–এমন প্রশ্নে সচিব বলেন, আগামী তিন দিনের মধ্যে ভোক্তারা এই দামে ভোজ্যতেল পাবেন।

তবে বৈঠকে উপস্থিত সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, নতুন দামের তেল ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে পাঁচ দিন সময় লেগে যাবে।

এর আগে গত ৪ মে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১২ টাকা বাড়ানো হয়। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা এবং বোতলের সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয় সে সময়। আর এছাড়া খোলা পাম তেলের দাম নির্ধারণ করা হয় ১৩৫ টাকা।




তেলের দাম কেজিতে কমলো ১০ টাকা

প্যাকেটজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটারের দাম ১০ টাকা কমে ১৮৯ টাকা, খোলা তেল ৯ টাকা কমিয়ে ১৬৭ টাকা এবং পাম তেলের দাম ২ টাকা কমিয়ে ১৩৩ টাকা করা হয়েছে।

রোববার (১১ জুন) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রতি লিটার প্যাকেটজাত সয়াবিন তেলের দাম কমে ১৮৯ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল কমে ১৬৭ টাকা, পামঅয়েল ১৩৩ টাকা এবং পামঅয়েল সুপার হচ্ছে ১৬৫ টাকা।

এই দাম আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে বলেও জানান সিনিয়র সচিব।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতির দিকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা হয়ত আরও ১৫ দিন পর বসে চেষ্টা করব তেলের দাম আরও কমানো যায় কি না।