১২০ টন ইউরিয়া সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন

পৃথক চারটি লটে ১২০ টন ইউরিয়া সার কিনবে শিল্প মন্ত্রণালয়। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ সংক্রান্ত চারটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে ৩৮০ কোটি ১৬ লাখ টাকায় সার কেনা হবে।

বুধবার (১২ জুলাই) অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সচিব সাঈদ মাহবুব খান বিস্তারিত জানান।

অতিরিক্ত সচিব জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে কাতারের কোম্পানি মুনতাজা থেকে ১৮তম লটে ৩০ হাজার টন (১০%+) বাল্ক গ্র্যানুলার (অপশনাল) ইউরিয়া সার কেনা হবে। সার কিনতে ৮৭ কোটি ৯৮ লাখ ৫৪ হাজার ৭০ টাকা ব্যয় হবে।

এছাড়া, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে মুনতাজা থেকে ১৯তম লটে ৩০ হাজার টন (১০%+) বাল্ক প্রিল্ড (অপশনাল) ইউরিয়া সার কেনা হবে। এই লটে সার কিনতে ব্যয় হবে ৯৭ কোটি ৫৮ লাখ ১ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক ২০২২-২৩ অর্থবছরে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) বাংলাদেশ এর নিকট থেকে ২০তম লটে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ক্রয় করা হবে। এই লটে সার কিনতে মোট ব্যয় হবে ৯৬ কোটি ৯৪ লাখ ২৯ হাজার ৬০০ টাকা।

এছাড়া, মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশের কাছ থেকে ১ম লটে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কিনবে সরকার। এই লটে সার ক্রয়ে ৯৭ কোটি ৬৬ লাখ ১৯ হাজার ৬২৫ টাকা ব্যয় হবে।




১২৯৬ কোটি টাকার ৭ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আরও এক কার্গো এলএনজি আমদানি এবং স্বল্প মূল্যে বিক্রির জন্য ৮ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাবসহ ৭টি ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ২৯৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় প্রস্তাবগুলোতে অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান।

 

অতিরিক্ত সচিব বলেন, আজকে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৭ম এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১১তম সভা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য একটি এবং ক্রয় কমিটির অনুমোদনের জন্য ৭টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। ক্রয় কমিটির প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২টি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ১টি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ১টি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ১টি, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের ১টি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রস্তাব ছিল। ক্রয় কমিটির অনুমোদিত ৭টি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ২৯৬ কোটি ৭৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬০ টাকা।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কো থেকে প্রথম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এতে ব্যয় হবে ২ কোটি ৪৪ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৬২ কোটি ১২ লাখ ৯২ হাজার টাকা)। প্রতি মেট্রিক টন ডিএপি সারের দাম পড়বে ৬১০ মার্কিন ডলার। এর আগে মরক্কো থেকে সর্বশেষ ২০২২সালের নভেম্বর মাসে কেনার সময় প্রতি মেট্রিক টনের দাম ছিল ৭১০ মার্কিন ডলার।

সভায় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশের কাছ থেকে ১৪তম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ক্রয়ের একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৩২৭.৬২৫ মার্কিন ডলার। সে হিসেবে ৩০ হাজার মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৭৫০ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০৫ কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার ১২ টাকা)।

 

ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো বাস্তবায়ন এবং কাস্টমস আধুনিকায়ন ও জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় সফটওয়্যার কেনার একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। বাংলাদেশ আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রকল্প-১ ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো বাস্তবায়ন এবং কাস্টমস আধুনিকায়ন ও জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় সফটওয়্যার সলিউশন অ্যান্ড অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যার ক্রয়ের লক্ষ্যে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত ৪টি প্রতিষ্ঠানের কাছে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল ইস্যু করা হলে ৩টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব দাখিল করে। তার মধ্যে ২টি প্রস্তাব কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। প্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েব ফন্টাইন গ্রুপ এফজেড (এলএলসি) দুবাইয়ের কাছ থেকে সফটওয়্যারটি সংগ্রহ করা হবে। এতে ব্যয় হবে ২১৭ কোটি ৯৯ লাখ ২৩ হাজার ৪৯০ টাকা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) আইন-২০২১’-এর আওতায় স্পট মার্কেট থেকে (২০২৩ সালের ৫ম) এলএনজি আমদানির প্রত্যাশাগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। সিসিইএ সভার অনুমোদনক্রমে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ক্রয়ের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত ২১টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমএসপিএ চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়। পেট্রোবাংলা কর্তৃক ১ কার্গো এলএনজি সরবরাহের জন্য ২১টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব আহ্বান করা হলে ৬টি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দাখিল করে। তার মধ্যে ৫টি প্রস্তাব রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ কমিটির (পিপিসি) সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স এক্সেলারেট এনার্জি এলপি, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি সরবরাহ করবে। প্রতি ইউনিট ১৩.৬৯ মার্কিন ডলার হিসেবে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি’র দাম পড়বে ৫৭৮ কোটি ৬৫ লাখ ২৫ হাজার ১২২ টাকা।

সভায় আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৮ হাজার (+৫%) মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয়ের একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। টিসিবি’র ফ্যামিলি কার্ডধারী ১ কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে মসুর ডাল বিক্রির লক্ষ্যে ৮ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয়ের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে ১টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। প্রস্তাবটি কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ একমাত্র দরদাতা প্রতিষ্ঠান ভারতের উমা একক্সপো প্রাইভেট লিমিটেড (স্থানীয় এজেন্ট: ফিউচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড,ঢাকা) এর কাছ থেকে প্রতি মেট্রিক টন ৮৬৮ মার্কিন ডলার হিসেবে ৮ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয়ে ব্যয় হবে ৭২ কোটি ৯১ লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম পড়বে ৯১.১৪ টাকা।

সভায় ‘বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর সড়কের বরিশাল থেকে ভোলা হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের ভেরিয়েশন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রকল্পের চুক্তি অনুসারে পূর্ত কাজ বাস্তবায়নকালে কিছু টেন্ডারভুক্ত/টেন্ডারবহির্ভূত আইটেম হ্রাস/বৃদ্ধি হওয়ায় ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ১৫ কোটি ২১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৩৬ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়ে কমিটি।

টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ফর রোড ট্রান্সপোর্ট কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট প্রিপারেটরি ফ্যাসিলিটি’ প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে পিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনকারী দরদাতা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে (১) এসএমইসি, অস্ট্রেলিয়া; (২) ওসিজি, জাপান; (৩) দোহওহা ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি, কোরিয়া; (৪) এসিই, বাংলাদেশ এবং (৫) ডিডিসি, বাংলাদেশকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৪৪ কোটি ৪২ লাখ ২৬ হাজার ৬০০ টাকা।

এর আগে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অর্থিনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ‘নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বেসরকারি অপারেটর নিয়োগ’ প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।