গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, চন্দ্রা-নবীনগর সড়ক অবরোধ

হাজিরা বোনাস, টিফিন বিল ও বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে গাজীপুর মহানগরীর জিরানী এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন একটি পোশাক তৈরি কারখানার শ্রমিকরা। শনিবার (৫ অক্টোবর) সকালে শ্রমিকরা চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে ওই সড়কের উভয় দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়েন ওই সড়কে চলাচলকারীরা।

অপরদিকে জেলার আর কোথাও শ্রমিক অসন্তোষের খবর পাওয়া যায়নি। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল থেকে সপ্তাহের প্রথম দিনে শ্রমিকেরা কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। শিল্প কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। তবে জেলার ৮টি পোশাক কারখানা এখনো বন্ধ রয়েছে।

কারখানার শ্রমিক ও শিল্প পুলিশ জানায়, গাজীপুর মহানগরীর জিরানী এলাকার আইরিশ ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা সকালে কারখানায় কাজে এসে প্রধান ফটকে জড়ো হন। পরে শ্রমিকরা হাজিরা বোনাস, টিফিন বিল ও বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে সকাল ৯টার দিকে কারখানার পাশের চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে ওই সড়কের উভয় দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সড়কটি বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন ওই সড়কে চলাচলকারীরা। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

শিল্প পুলিশ জানায়, গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া, ইটাহাটা, কোনাবাড়ি ও কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকার শিল্প কারখানার শ্রমিকরা দল বেধে সকালে কারখানার কাজে যোগ দিয়েছেন। এ সময় বিভিন্ন কারখানার সামনে নিরপত্তা ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত জেলার আর কোথাও শ্রমিক অসন্তোষের খবর পাওয়া যায়নি। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

মহানগরীর ইটাহাটা দিগন্ত সোয়েটার কারখানার শ্রমিক সেলিনা আক্তার বলেন, তাদের কারখানায় এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। তবে আশপাশের কারখানায় যখন ঝামেলা হয়েছিল তখন তাদের কারখানাও ছুটি ঘোষণা করা হয়। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পরিদর্শক আবু তালেব জানান, জিরানী এলাকার একটি কারখানা ছাড়া জেলায় আর কোথাও শ্রমিক অসন্তোষের খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন কারণে জেলার ৮টি কারখানা আজও বন্ধ আছে। শিল্প কারখানার সার্বিক নিরাপত্তায় কাজ করছে শিল্প পুলিশ। সেনাবাহিনী ও বিজিবির টহল অব্যাহত আছে।




মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে মিরপুরে আবারও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকরা।

রোববার (১২ নভেম্বর) সকালে শ্রমিকরা মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। এ কারণে ওই এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট।

মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন বলেন, সকাল ৮টার দিকে বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার কয়েকশ শ্রমিক বেতন বাড়ানোর দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কিছুদিন ধরে ন্যূনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকরা আন্দোলন করে আসছেন। ৭ নভেম্বর ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা ঘোষণা করে মজুরি বোর্ড। যা প্রত্যাহার করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় শ্রমিকদের একাংশ।




শ্রমিক বিক্ষোভে গাজীপুরে শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ

পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর দাবিতে কয়েকদিন ধরে চলা বিক্ষোভের মুখে গাজীপুরে পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ রাখছে কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত ঠিক কতটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে তার সঠিক কোনো তথ্য দেয়নি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। তবে শিল্প পুলিশের তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত ১০০টিরও অধিক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছেন মালিকরা।

ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে প্রায় একসপ্তাহ ধরে চলে আসা শ্রমিক বিক্ষোভ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের সব জায়গায়। গাজীপুর গার্মেন্টস শিল্পের অন্যতম স্থান। এ জেলায় ৩ হাজারেরও বেশি ছোট-বড় গার্মেন্টস রয়েছে বলে জানায় বিজিএমইএর একটি সূত্র। আন্দোলনের অবস্থা বিবেচনা করে বিজিএমইএ সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানায় সূত্রটি। এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান সার্বিক পরিস্থিতি বর্ণনা করবেন বলেও জানা গেছে।

তবে বিজিএমইএ গার্মেন্টস বন্ধের তথ্য নিশ্চিত করলেও কতগুলো কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে তা জানায়নি। এ বিষয়ে কেউ অফিসিয়ালি কথা বলতেও রাজি হননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শীর্ষ নেতা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘অবরোধের ঘোষণায় ফ্যাক্টরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। কেউ কেউ আছেন বিএনপি নেতা। তারাও ফ্যাক্টরি তাদের পলিসির কারণে বন্ধ রাখতে পারেন। আবার শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ করেছেন এটাও অস্বীকার করা যাবে না। আমরা সঠিক তথ্য জেনে অফিসিয়ালি জানাব আপনাদের।’

গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার তথ্য মতে, আজ শ্রমিকরা কাজে গেলে বেশ কয়েকটি কারখানা বন্ধের নোটিস দেখতে পান। অবরোধের মধ্যেও হেঁটে কষ্ট করে এবং অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে কারখানায় এসে বন্ধের নোটিস দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শ্রমিকরা।

তাজমিন গার্মেন্টসের সুইং অপারেটর মোর্শেদ আলম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আজ ফ্যাক্টরি বন্ধ করবে মালিকরা তা আগে জানালে কী হতো? আমার বাসা থেকে ফ্যাক্টরিতে আসতে লাগে ১৫ টাকা অটো ভাড়া। আজ সেখানে আমার লাগল ৫০ টাকা রিকশা ভাড়া। এখানে এসে দেখি বন্ধের নোটিস। মালিকরা তাদের ইচ্ছামতো আমাদের ব্যবহার করেন। শোষণ করেন। বেতনও দেন না চাহিদা মতো। কাজ কিন্তু ঠিকই করিয়ে নেন। বছর শেষে তাদের ফ্যাক্টরি একটা থেকে তিনটা হয়ে যায়। বেতন বাড়ানোর কথা বললে বলেন লসে আছে। লসে থাকলে ফ্যাক্টরি বাড়ে কীভাবে?’

এর আগে গতকাল সোমবার গাজীপুরে এক পোশাক শ্রমিক পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। ২৬ বছর বয়সী রাসেল হাওলাদার নামের এ শ্রমিক ডিজাইন এক্সপ্রেস লিমিটেডের শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশের একটি পিকআপে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা।

এর আগে সিপিডি পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ১৭ হাজার ৫৬৮ টাকা করার প্রস্তাব দেয়। শ্রমিক নেতারা ২৩ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবি জানায়। পোশাক কারখানা মালিকরা বর্তমান বেতনের সঙ্গে আরও ২ হাজার টাকা বাড়াতে চান। তবে সর্বোচ্চ ১২ হাজার টাকা বেতন দিতে প্রস্তাব করেন কোনো কোনো মালিক।

তবে এখনো বেতন বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। এ ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান সংগঠন দুটির কর্তারা।