শ্রমিক অসন্তোষে অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের কারখানা বন্ধ

শ্রমিক অসন্তোষের জেরে কারখানা লে-অফ বা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অ্যাপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এই তথ্য জানিয়েছে বস্ত্র খাতের কোম্পানিটি।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ মৌখিকভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। লে-অফের ফলে কারখানার প্রায় পাঁচ হাজার কর্মচারী ও শ্রমিক সাময়িকভাবে কাজ থেকে বিরত থাকবেন। সিদ্ধান্তটি মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, চাকরি-সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে শ্রমিকদের অবৈধ ও অযৌক্তিক প্রত্যাশার কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থাই শ্রমিক অসন্তোষের মূল কারণ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কারখানা লে-অফ বহাল থাকবে বলেও জানান কর্তৃপক্ষ।

নিয়মিত ভালো ব্যবসা ও গত কয়েক বছর ধরে ২০ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দিয়ে আসছে এপেক্স স্পিনিং। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ আট কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৪৯ দশমিক ২৯ শতাংশ।

মঙ্গলবার লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ৩৫৮ টাকা ৭০ পয়সায়। কারখানা বন্ধের খবরে আজ (বুধবার) শেয়ারটির দাম প্রায় ২৯ টাকা কমে ৩৩০ টাকায় লেনদেন শুরু হয়েছে।




শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে কারখানাগুলোকে সতর্ক করলো বিজিএমইএ

কোনো পক্ষের প্ররোচনায় যাতে কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের মতো ঘটনা না ঘটে এ বিষয়ে সদস্য কারখানাগুলোকে সতর্ক করেছে তৈরিপোশাক মালিক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সোমবার (২৭ মার্চ) বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সর্তকবার্তা দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটি ২১ এপ্রিল (শুক্রবার) শুরু হবে বলেও জানানো হয়। এ ছুটি নির্ভর করবে চাঁদ দেখার ওপর। তবে স্ব স্ব কারখানা নিজস্ব শিপমেন্ট, কার্যাদেশ ও প্রোডাকশনের সঙ্গে সমন্বয় করে যদি সুযোগ থাকে, ঈদের দুই-তিন দিন পূর্বে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়ার অনুরোধ করেছে সংগঠনটি। এটি সরকারি ছুটি বা সাপ্তাহিক ছুটির দিন শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে জেনারেল ডিউটি করিয়ে সমন্বয় করা যাবে।

সদস্য কারখানাগুলোর মালিকদের দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট মোতাবেক, তৃতীয় কোনো পক্ষ শ্রমিক অসন্তোষ হওয়ার মতো ঘটনার চেষ্টা করতে পারে। সেই দিক থেকে আপনার কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ হওয়ার মতো ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা হতে পারে।

সদস্যদের কাছে পাঠানো বিজিএমইএ’র চিঠিতে আরও বলা হয়, ঈদের ছুটিতে সড়ক, রেল এবং লঞ্চযাত্রায় একই দিন অতিরিক্ত শ্রমিকের চাপ কমানোর লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে ধাপে ধাপে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। ঈদের আগে শেষ কার্যদিবসে শ্রমিকদের ছুটির প্রাক্কালে মালবোঝাই ট্রাকে যাতায়াত না করা, তাড়াহুড়ো না করা, রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক রেখে ফুটপাত দিয়ে হাঁটা, সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বিঘ্ন না করা, অপরিচিত লোকদের দেওয়া খাবার না খাওয়ার বিষয়ে সচেতন করার আহ্বান জানানো হয়।

শেষ কর্মদিবসে শ্রমিকদের নিরাপদে গ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার জন্য প্রয়োজনে কারখানা কর্তৃপক্ষ ৮ থেকে ১০ জনের টিম গঠন করে স্থানীয় ট্রাফিক ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে সহযোগিতা নিতে পারবেন।