সব ইউরিয়া সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না : সংসদে শিল্পমন্ত্রী

বর্তমানে বিশ্বে চলমান বিভিন্ন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের শিল্পখাতে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের সবগুলো ইউরিয়া সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে দেশীয় সার উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এসব তথ্য জানান।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, গ্যাস স্বল্পতার কারণে দেশের অধিকাংশ সার কারখানা বন্ধ থাকলেও বর্তমানে কেবল ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি উৎপাদনে রয়েছে। তবে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস অনুযায়ী আগামী পহেলা মে থেকে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে এবং কারখানাটি পুনরায় সচল করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানির ওপর জোর দিচ্ছে শিল্প মন্ত্রণালয়। জিটুজি চুক্তির আওতায় সৌদি আরব (সাবিক) হতে ২ লাখ মেট্রিক টন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ফার্টিগ্রোব) হতে ১ লাখ মেট্রিক টন এবং আন্তর্জাতিক কোটেশন পদ্ধতির মাধ্যমে আরও ৪ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সার কারখানায় ব্যবহৃত কাঁচামাল যেমন- রক ফসফেট, ফসফরিক এসিড ও সালফারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টেন্ডারের পাশাপাশি সরাসরি উৎপাদনকারী দেশ মরক্কো, জর্ডান, ওমান, ইউএই, চীন ও মালয়েশিয়া হতে জিটুজি চুক্তির মাধ্যমে এসব কাঁচামাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে।




বিদ্যুতে গ্যাসের বরাদ্দ কমিয়ে বাড়ানো হচ্ছে শিল্পে

শিল্পখাতে গ্যাসের চাহিদা পূরণে বিদ্যুৎ খাত থেকে বরাদ্দ কমিয়ে শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ড. মোহাম্মদ রুবায়েত খানের সই করা এক চিঠিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। চিঠিটি বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলকে পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, চলতি বছরের জুন মাস থেকে বিদ্যুৎ খাতের বরাদ্দ কমিয়ে ১৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস শিল্পখাতে দেওয়া হবে। মে-আগস্ট ২০২৫ সময়ের পূর্বপরিকল্পনার তুলনায় চার কার্গো অতিরিক্ত এলএনজি আমদানি করা হবে, যা শিল্পখাতে আরও ১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ বাড়াবে। অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও মিটার টেম্পারিং প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনার জন্য ব্যবসায়ী/শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রতিনিধি, পেট্রোবাংলা এবং গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, আর্মি ও আনসার সহযোগে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও মিটার টেম্পারিং প্রতিরোধে মনিটরিং ও যৌথ অভিযান পরিচালনার সুবিধার্থে তিতাসের কার্যালয়ে একটি হটলাইন নম্বর চালু করা হবে।

৭ মে বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলেও জানানো হয়েছে।




শিল্পখাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দ.কোরিয়াকে সহায়তার আহ্বান ডিসিসিআইর

শিল্পখাতের সক্ষমতা বাড়াতে প্রযুক্তিগত সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) ডিসিসিআই’র সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং সিক সাক্ষাৎ করলে তিনি এমন আহ্বান জানান।

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১.৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৯০২.৯০ মিলিয়ন ও ৪৯১.৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান তৃতীয়। এরইমধ্যে দেশটি বাংলাদেশে ১.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, জাহাজ নির্মাণ, এপিআই, অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, তথ্যপ্রযুক্তি প্রভৃতি খাতে আরো বেশি হারে বিনিয়োগের আহ্বান জানান ডিসিসিআই সভাপতি।

তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষিত তরুণ ফ্রিল্যান্সাররা সম্প্রতি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ডিজাইন তৈরিতে বেশ ভালো করছে, এখাতের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়া সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেন।

অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং সিক বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ভিসা প্রদান ও নবায়ন প্রক্রিয়া সহজ করা, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া দ্রুত করা, বিডা প্রদত্ত সেবা প্রদান প্রক্রিয়া বেগবান করা, কর্পোরেট করহার সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং লজিস্টিক খরচ হ্রাস করা জরুরি।

তিনি বলেন, বিপুল মানবসম্পদ, ভৌগোলিক অবস্থান, বৃহৎ ভোক্তা বাজার প্রভৃতির ফলে বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এছাড়াও ইলেকট্রনিক্স পণ্য, মোবাইল, অটোমোবাইল, তথ্যপ্রযুক্তি প্রভৃতি খাতে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের প্রচুর সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত জানান, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রদানের মাধ্যমে কোরিয়া সহযোগিতা প্রদান করে আসছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষ করে শিল্পখাতের সক্ষমতা বাড়ানো ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য অধিক হারে জোরারোপ করা প্রয়োজন এবং এলক্ষ্যে দুদেশের যৌথ বিনিয়োগ স্থানীয় উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ সময় ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী বাংলাদেশে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান জানান।