এবার শাহজালালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং করতে চায় সুইজারল্যান্ড

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে যুক্তরাজ্য ও তুষস্কের পর এবার আগ্রহের কথা জানিয়েছে সুইজারল্যান্ড।

 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম ও প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি। এসময় তিনি এ আগ্রহের কথা জানান।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ়, গতিশীল ও বহুমাত্রিকভাবে সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের বিমান খাতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে সুইস প্রতিষ্ঠান সুইসপোর্ট-এর আগ্রহের বিষয়টিও তুলে ধরেন দেশটির রাষ্ট্রদূত।

 

জবাবে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সুইসপোর্টকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, এর আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে আগ্রহের কথা জানায় যুক্তরাজ্য ও তুরস্ক।




‘শাহজালাল বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করেছেন বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। সোমবার (২০ এপ্রিল) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বিমানমন্ত্রী বলেন, “আমরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি বৈশ্বিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে চাই। আপনাদের সকলের সহযোগিতায় আমাদের সেই লক্ষ্য পূরণ হবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা আপনাদের যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে একটি অত্যাধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের শুভ উদ্বোধন করছি, যা আমাদের আকাশসীমাকে আরও নিরাপদ, দক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবে।” এ সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, “১৯৮০ সালে এই কুর্মিটোলায় ঢাকার নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু করার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ভিত্তি রচনা করেছিলেন।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জমান মিল্লাত বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, এই নতুন এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পরিসরের সমন্বিত আকাশসীমা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য উল্লেখযোগ্য সুযোগ সৃষ্টি করবে। তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে আমরা ধীরে ধীরে নিজেদের একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছি।”




মঙ্গলবারেও বাতিল মধ্যপ্রাচ্যের ২৬ ফ্লাইট

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

এরপর বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মোট ২৮ টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছে, যুদ্ধপরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি এবং ৯ মার্চ ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২ টি, ১১ মার্চ ২৭ টি, ১২ মার্চ ২৮ টি, ১৩ মার্চ ২৫ টি, ১৪ মার্চ ২৪ টি, ১৫ মার্চ ২৩ টি, ১৬ মার্চ ২৮ টি এবং কাল ১৭ মার্চ) ২৬ টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

মঙ্গল্পবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে– কুয়েত ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, ইউএই) ৬টি, গালফ এয়ার (বাহরাইন) ৪টি, কাতার এয়ারওয়েজ (কাতার) ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইনস (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ২টি, জাজিরা (কুয়েত) ৪টি, ফ্লাইদুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৪টি। এছাড়া সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত সর্বমোট বাতিলকৃত ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫৭ টি।




ঘন কুয়াশার কারণে কলকাতা-ব্যাংককে নামলো শাহজালালের ৫ ফ্লাইট

ঘন কুয়াশাজনিত কারণে আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কয়েকটি ফ্লাইট নিরাপত্তার স্বার্থে বিকল্প বিভিন্ন বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩টি ফ্লাইট চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে, ৪টি ফ্লাইট কলকাতা বিমানবন্দর এবং ১টি ফ্লাইট ব্যাংকক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে সব ফ্লাইট অপারেশন পুনরায় স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে। বিলম্বিত ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসমূহ প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার ও হোটেল সুবিধা দিচ্ছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।




তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চূড়ান্ত আলাপ

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় সিদ্ধান্ত নিতে তিন দিনব্যাপী চূড়ান্ত আলোচনা পর্ব শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও সুমিতোমো করপোরেশনের নেতৃত্বাধীন একটি জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে এ আলোচনা চলছে।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বেবিচক কার্যালয়ে আলোচনা শুরু হয়। বেবিচক সূত্র জানায়, প্রথম দুটি বৈঠকে সংস্থার চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এবং শেষ দিনে অন্তর্বর্তী সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন উপদেষ্টা এসকে বশির সভাপতিত্ব করবেন। এতে পরামর্শক হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনসহ (আইএফসি) সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

উপদেষ্টা বশির এর আগে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) বলেন, ‘জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগে যেসব বিষয় অস্পষ্ট ছিল, সেগুলোও এবার স্পষ্ট করেছি। এখন বল তাদের কোর্টে, তাই আমরা অপেক্ষা করছি।’

উপদেষ্টা ইঙ্গিত দেন, জাপানি কনসোর্টিয়াম যদি দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায় তবে সরকার বিকল্প আন্তর্জাতিক অপারেটর খুঁজতেও প্রস্তুত। তবে অন্য কোনো দেশ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, ‘যদি সুমিতোমো রাজি না হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা অন্য অপারেটর খুঁজবো, কেন খুঁজবো না? আমি বাংলাদেশের জন্য কাজ করি। সেটা জাপান হোক বা অন্য কোনো দেশ, আমার কাছে বাংলাদেশের স্বার্থ আগে।’

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইএফসি আগেই একটি রূপরেখা দিয়েছে এবং বাংলাদেশ এরই মধ্যে সব অমীমাংসিত বিষয়ে স্বচ্ছ সাড়া দিয়েছে উল্লেখ করে বশির বলেন, ‘আমরা চাই টার্মিনালটি একটি দক্ষ আন্তর্জাতিক অপারেটরের হাতে পরিচালিত হোক, যাতে সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা উন্নত হয়।’

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ২১ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা অর্থায়নে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনালটি নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে এটি পরিচালনার জন্য প্রস্তুত। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট গত আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে টার্মিনালটি ব্যবহার করেছিল। কিন্তু জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে সমঝোতার অভাবে বাণিজ্যিকভাবে কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।

সুমিতোমো করপোরেশন নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশন, সোজিতজ করপোরেশন ও জাপানি সরকারি সংস্থা রয়েছে। তাদের মূলত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের আওতায় তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

এই চুক্তি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জাইকার অর্থায়নে নির্মিত প্রকল্পের অংশ হিসেবে করা হয়। তবে, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে দুই বছরের জন্য নতুন টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের কারণে কনসোর্টিয়ামের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। তারা এখন টার্মিনালের আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ ও আয়ের ভাগ চাচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

বেবিচকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বাসসকে জানান, সরকারের সঙ্গে কনসোর্টিয়ামের আলোচনায় মূল অমীমাংসিত বিষয় হলো রাজস্ব ভাগাভাগি। সরকার কত ভাগ পাবে এবং তারা কত ভাগ নেবে তা নিয়েই দ্বন্দ্ব চলছে।

টার্মিনালটি ২০২৩ সালের অক্টোবরে ‘সফট ওপেনিং’-এর মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়। এটি শাহজালাল বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি ৪০ লাখে উন্নীত করবে এবং কার্গো পরিচালনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

টার্মিনালটি মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও হজ ক্যাম্পের সঙ্গে সংযুক্ত। এটি ভবিষ্যতে বিমান পরিবহন খাতের বিকাশে কেন্দ্রীয় ‘হাব’ হিসেবে গড়ে উঠবে। যদিও বিমান বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অপারেটর চূড়ান্ত করতে দেরি হলে খরচ বাড়তে পারে। কারণ টার্মিনালে বসানো যন্ত্রপাতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে প্রকল্পের কৌশলগত সুবিধা ক্ষুণ্ন হতে পারে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটি ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে নির্মিত হয়েছে। এটির মেঝের আয়তন স্পেস ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার। উন্নতমানের এই স্থাপনায় থাকবে ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজ, ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপারচার ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন ডেস্ক ও তিনটি ভিআইপি ইমিগ্রেশন ডেস্ক।




শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন ৩ উপদেষ্টার

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন করেন তিন উপদেষ্টা

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় এই টার্মিনাল পরিদর্শন করেন তারা। পরিদর্শনকালে তারা প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে পর্যালোচনা করেন।

এরপর উপদেষ্টারা সিভিল এভিয়েশন অথরিটির সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্প সম্পর্কিত একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন সেশনে অংশ নেন।

বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এ সভায় অনলাইনে অংশ নেন। এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান, সিভিল এভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




শাহজালাল বিমানবন্দরে সাড়ে ৪ কোটি টাকার সোনা জব্দ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে (৪.৪২০ কেজি) বা ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের সোনা জব্দ
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে (৪.৪২০ কেজি) বা ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের সোনা জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

বুধবার (৩ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টায় ওমানের মাস্কাট থেকে আসা সালাম এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট তল্লাশিকালে এসব সোনা পাওয়া যায়।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে সোনা চোরাচালানের আগাম তথ্য ছিল। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

শাহজালালের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের সহকারী পরিচালক প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, তল্লাশিকালে উড়োজাহাজটির সিট নং ২ (ডি-ই-এফ) এর ওপরে লাগেজ রাখার কেবিনে কালো স্কসটেপ মোড়ানো দুটি ভারী বস্তু পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। উড়োজাহাজটির দায়িত্বরদের সামনে ভিডিও ধারণ করে কালো স্কসটেপে মোড়ানো বস্তু দুটি কাস্টমস হলের ইনভেন্টরিতে আনা হয়।

বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে কালো স্কসটেপ কেটে ৩৮ পিস ( প্রতি পিস ১০ তোলা) গোল্ডবার পাওয়া যায়। যার ওজন ৪ কেজি ৪২০ গ্রাম। উদ্ধারকৃত গোল্ডবারের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। জব্দ করা সোনা ঢাকা কাস্টমস হাউজের শুল্ক গুদামে পাঠানো হয়েছে




শাহজালালে সাড়ে ৩ কেজি সোনাসহ যাত্রী আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোয়া ৩ কোটি টাকার সোনাসহ এক যাত্রীকে আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ায়লাইন্সের ওই যাত্রীর কাছ থেকে ৩ কেজি ৪৯৮ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের বার ও কয়েন জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দার একটি টিম।

শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১১টায় ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফারহানা বেগম জানিয়েছেন।

শুল্ক গোয়েন্দা জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে বিমানটি ১০ নম্বর বোর্ডিং ব্রিজে সংযুক্ত হওয়ার সাথে সাথে ফ্লাইটের ২৬ কে সিটের যাত্রী এম মাসুদ ইমামের দেহ তল্লাশি করে একটি চামড়া সদৃশ মানিব্যাগের ভেতরে একটি বড় আকারের স্বর্ণের কয়েন পাওয়া যায়, যা তিনি নিজের বলে স্বীকার করেন। অতঃপর আরও দুটি একই আকৃতির মানিব্যাগ উদ্ধার করা হয়। দুইটি মানিব্যাগ হতে ২৮টি স্বর্ণবার এবং একটি মানিব্যাগ হতে ১টি বড় আকারের স্বর্ণের কয়েন পাওয়া যায়। সোনার বারের ওজন ৩ কেজি ২৪৮ গ্রাম ও কয়েনের ওজন ২৫০ গ্রামে। মোট ৩ কেজি ৪৯৮ গ্রাম স্বর্ণের আনুমানিক বাজার মূল্য ৩ কোটি ১৪ লাখ ৮২ হাজার টাকা।

জব্দ করা স্বর্ণবারগুলো কাস্টম হাউসের গুদামে জমা দেওয়া হয়েছে। যাত্রীকে আটক করে বিমানবন্দর থানায় ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে।




ঘন কুয়াশায় কলকাতার ফ্লাইট নামলো ঢাকায়

ঘন কুয়াশায় কারণে ঢাকার ফ্লাইট কলকাতায় চলে যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তবে এবার একই কারণে কলকাতায় নামতে না পেরে কাতার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

রোববার (১৪ জানুয়ারি) দিনগত রাত ৩টা ১৪ মিনিটে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, রোববার রাত ১২টা থেকে সোমবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ৮টা পর্যন্ত ঢাকার বিমানবন্দরে ঘন কুয়াশার জন্য কোনও বিমানের ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হয়নি। তবে কলকাতায় কাতার এয়ারলাইন্সের একটি বিমানের ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করে। পরে কলকাতার আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বিমানটি ফিরে যায়।




শাহজালাল বিমানবন্দরের উন্নয়নে ৫৬০০ কোটি টাকা দেবে জাইকা

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের (তৃতীয় কিস্তি) জন্য ৭৬ হাজার ৬৩৫ মিলিয়ন জাপানি ইয়েনের সমপরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।

রোববার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অফিসে এ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ হিরোশি ইয়োশিদা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে এ ঋণচুক্তি করা হয়। প্রকল্পের আওতায় নতুন প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল বিল্ডিং (টার্মিনাল ৩), নতুন কার্গো কমপ্লেক্স ও বহুস্তরবিশিষ্ট গাড়ি পার্কিং নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া, এ ঋণের অধীনে অন্যান্য ট্রান্সপোর্ট মোডের সঙ্গে যোগাযোগ, পয়ঃনিষ্কাশন ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার মতো আনুষঙ্গিক খাতে অর্থায়ন করা হবে।

বাংলাদেশে বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প। এর মধ্যে দিয়ে দেশের বিমান ও কার্গো চলাচলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ হবে। এর ফলে বিমানবন্দরে প্রবেশ ও যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হবে। পাশাপাশি, প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ব্যবহার করা আরও বেশি আরামদায়ক হবে এবং বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হবে।

এ ঋণচুক্তিতে সিভিল ওয়ার্কসের জন্য বাৎসরিক ১.৩০ শতাংশ সুদহার ও পরামর্শ সেবার জন্য ০.২০ শতাংশ সুদহারের মতো সহজ শর্ত সংযুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই ঋণ পরিশোধের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ বছর। ঋণের গ্রেস পিরিয়ড নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ বছর।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ হিরোশি ইয়োশিদা বলেন, ‘বাংলাদেশের বিমান খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হচ্ছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প। এটি কেবল ক্রমবর্ধমান চাহিদাই পূরণ করবে না, বরং বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আঞ্চলিক কানেক্টিভিটির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলবে। এই উদ্যোগ আমাদের দুই দেশের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।’

দ্বিপাক্ষিক পর্যায়ে জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী দেশ। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত জাপান সরকার বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন সেক্টরে উল্লেখযোগ্য সহায়তা করেছে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামাঞ্জস্য বজায় রেখে জাপান সরকার কর্তৃক অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ, পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন, পল্লী উন্নয়ন, পরিবেশ উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ঋণ ও অনুদান সহায়তা হিসেবে এখন পর্যন্ত ৩১.৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।




শাহজালালে সাড়ে ৬ কোটি টাকার সোনাসহ যাত্রী আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাড়ে ৬ কোটি টাকার সোনাসহ এক যাত্রীকে আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারওয়েজের রেখা পারভীন নামের এক যাত্রীর কাছ থেকে ৮ কেজি ২১৭ গ্রাম ওজনের সোনার বার ও অলংকার জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দার বিশেষ টিম। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

বুধবার (২০ ডিসেম্বর) শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফারহানা বেগম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শুল্ক গোয়েন্দা জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) রাত ১১টায় দুবাই থেকে ঢাকায় আসা এমিরেটস এয়ারলাইন্স এর ফ্লাইট নং- EK584 এর যাত্রী রেখা পারভীনকে তল্লাশি করে তার সাদা হ্যান্ড ব্যাগের ভেতরে কালো কাপড়ে মোড়ানো স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা স্বর্ণ (যাত্রীসহ) গ্রিন চ্যানেলের ইনভেন্ট্রি টেবিলে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে খোলা হয়। গণনা করে ৬৯টি স্বর্ণবার, ১টি স্বর্ণের চেইন পাওয়া যায়। পরে যাত্রীর দেহ তল্লাশি করে আরও ৬টি স্বর্ণের চুড়ি পাওয়া যায়। মোট উদ্ধার করা স্বর্ণের বারের ওজন ৮ কেজি ৪ গ্রাম, ১টি স্বর্ণের চেইন যার ওজন ১১৫ গ্রাম এবং ৬টি স্বর্ণের চুড়ি যার ওজন ৯৮ গ্রাম। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন ৮ কেজি ২১৭ গ্রাম। স্বর্ণের আনুমানিক বাজার মূল্য ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

এরপর স্বর্ণবারগুলো ঢাকা কাস্টম হাউসের গুদামে জমা দেওয়া হয় ও যাত্রীকে আটক করে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়।




ঘন কুয়াশায় ১১টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নামতে পারেনি শাহজালালে

ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ছয় ঘণ্টা কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নামতে পারেনি। এসময় ১১টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এ বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল।

সোমবার (১১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ২টার পর থেকে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে আবার এসব ফ্লাইট ফেরত আসতে শুরু করে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ১১টি ফ্লাইটের মধ্যে ১০টি ছিল যাত্রীবাহী, একটি ছিল কার্গো বিমান। তবে সকাল ৮টার পর থেকে আবার এসব উড়োজাহাজ ফেরত আসতে শুরু করে। যদিও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলো রাতে থাকে না। এছাড়া আজ সকালে এসব উড়োজাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয়নি।




তৃতীয় টার্মিনাল অপারেশনে জাপানের আগ্রহ প্রকাশ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ পাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপান। এ নিয়ে একাধিক জাপানিজ কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলছে।

শনিবার (৭ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত পার্লামেন্টারি ভাইস মিনিস্টার মাশাহিরো ওকামুরার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এসব কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

শাহরিয়ার আলম বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল ডিজাইনের ক্ষেত্রে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম সেরা হয়ে থাকবে এমন নয়, যাত্রী সেবাতে যেন বিশ্ব সেরা হতে পারে সেটার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন।

জাপানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেলের কাজ শেষের দিকে। খুব শিগগিরই লাইন-৬ খুলে দেওয়া হবে। দ্বিতীয় টার্মিনাল আংশিক উদ্বোধন হলো। মাতারবাড়ির কাজ এগিয়ে চলেছে। বঙ্গবন্ধু রেল সেতু যমুনার ওপরে নির্মিত হচ্ছে এটাও এগিয়েছে। যে প্রজেক্টগুলো হাতে সেগুলো যেন যথা সময়ে স্মুথলি কাজ শেষ হয়, সেটার বিষয়ে আলোচনা করেছি।

তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং আরও প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের কৌশলগত সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত করতে জাপানের অব্যাহত একটা সহযোগিতার অংশ হচ্ছে বড় অগ্রাধিকারে থাকবে। সেটার জন্য আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও কীভাবে জোরদার করা যায় সে বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ করেছি।

শাহরিয়ার আলম বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাপানের সহযোগিতা প্রয়োজন। মিয়ানমারের সঙ্গে জাপানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আছে। মিয়ানমারে বর্তমানে সেনা শাসনের কারণে একটা জটিলতা আছে। এটা নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

বৈঠক শেষে জাপানের ভাইস মিনিস্টার বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারতীয় উপমহাদেশ তথা ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ দেশ। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে সহায়তা করতে পেরে জাপান গর্বিত।

বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন জাপানি মন্ত্রী। তিনি বলেন, জাপান স্বেচ্ছায়, মর্যাদার ভিত্তিতে ও নিরাপদে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন আশা করে। আমাদের প্রত্যাশা মিয়ানমার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী মাশাহিরো ওকামুরা।

রোববার (৮ অক্টোবর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ সময় দুই দেশের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোচনা করেছেন তারা।

এর আগে শনিবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন জাপানের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় অবস্থান করছেন তিনি।

থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন উপলক্ষে ঢাকায় এলেও জাপানের এই উপমন্ত্রী বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। তিনি আজ কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফরে যাবেন বলেও জানা গেছে।




শাহজালাল ও কক্সবাজার বিমানবন্দর হবে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাব: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কক্সবাজার বিমানবন্দর হবে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাব।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এর সফট ওপেনিং অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারই দেশের বিমানবন্দর আধুনিকায়ন শুরু করে। আকাশ পথে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা আছে।

এর আগে নতুন টার্মিনালে প্রবেশের পর প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় একদল শিশু শিল্পী। সেখান থেকে তাকে একটি চেক ইন কাউন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। চেক ইন কাউন্টার থেকে তাকে একটি নমুনা বোর্ডিং পাস দেওয়া হয়। এরপর বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কাউন্টার, সিকিউরিটি গেট, মুভিং ওয়াকওয়ে (স্ট্রেট এসকেলেটর) পরিদর্শন করেন।

আজকের এ উদ্বোধনীকে বলা হচ্ছে সফট ওপেনিং। সফট ওপেনিং এর পর বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইট তৃতীয় টার্মিনাল ব্যবহার করে ঢাকা ত্যাগ করবে বলে জানা গেছে। সেই ফ্লাইটের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংও করবে রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইন্স।

দেশে সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন হওয়া মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে উদাহরণ তৈরি করেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। মাত্র ৩ বছরেই উদ্বোধন করা হয় নান্দনিক এই স্থাপনা।




শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহু কাঙ্ক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার দুপুর ১২টায় এই টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন করেন তিনি।

বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে ‘স্বপ্নের সাথে বাস্তবতার সংযোগ’ শ্লোগান নিয়ে টার্মিনালটি উদ্বোধন করা হয়।

এর আগে, সকাল সোয়া ১০টার দিকে নবনির্মিত এই টার্মিনালে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান একদল শিশু শিল্পী। এরপর পুরো টার্মিনালটি ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন সরকারপ্রধান। চেক ইন কাউন্টার থেকে তাকে একটি নমুনা বোর্ডিং পাস দেওয়া হয়। এরপর বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কাউন্টার, সিকিউরিটি গেট, মুভিং ওয়াকওয়ে (স্ট্রেট এসকেলেটর) পরিদর্শন করেন। ১০টা ৩৫ মিনিটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপবিষ্ট হন তিনি। সেখানে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিয়ে তৃতীয় টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন সরকারপ্রধান।

 

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমানসহ বেবিচক ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরের আদলেই তৈরি শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। নকশাও করেছেন চাঙ্গি বিমানবন্দরের নকশাকারক প্রখ্যাত স্থপতি রোহানি বাহরিন। এ নকশা বাস্তবায়ন করছে জাপানি দুই কোম্পানি মিতসুবিশি ও ফুজিতা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশন।

২০১৭ সালে শাহজালালের ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটারের এই টার্মিনালের নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়। সে সময় ব্যয় ধরা হয় ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ। তখন খরচ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। খরচের বেশিরভাগ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা জাইকা।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (বিমান) সূত্র জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর আজই এ টার্মিনাল ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমানের একটি ফ্লাইট ঢাকা ছেড়ে যাবে। এই ফ্লাইটের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পালন করবে বিমান নিজেই।

 

তৃতীয় এ টার্মিনালে মিলবে উন্নত বিশ্বের আধুনিক বিমানবন্দরগুলোর মতো নানা সুবিধা। সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক এ মেগা প্রকল্পে যাত্রীদের জন্য থাকছে অত্যাধুনিক সব সুবিধা।

তৃতীয় টার্মিনালের ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার অ্যাপ্রোন এলাকায় একসঙ্গে রাখা যাবে ৩৭টি উড়োজাহাজ। লাগেজ পেতে অপেক্ষার প্রহরও কমে আসবে এ টার্মিনালে। স্থাপন করা হয়েছে স্বাভাবিক ওজনের ব্যাগেজের জন্য অত্যাধুনিক ১৬টি ব্যাগেজ বেল্ট, অতিরিক্ত ওজনের ব্যাগেজের জন্য আলাদা চারটি বেল্ট। প্রথমবারের মতো সংযুক্ত করা হয়েছে ৩টি ব্যাগেজ স্টোরেজ।

নতুন টার্মিনালে ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেম, অ্যারাইভাল লাউঞ্জ, ক্যান্টিনা, ডিউটি ফ্রি শপ ও বোর্ডিং ব্রিজ থাকবে। ৪১ হাজার ৫০০ বর্গমিটার জুড়ে দুটি এক্সিট ট্যাক্সিওয়ে রয়েছে, যাতে কোনো উড়োজাহাজ অবতরণের পর দ্রুত রানওয়ে ছেড়ে যেতে পারে এবং এটি উড্ডয়ন বা অবতরণের জন্য অন্যান্য উড়োজাহাজ ব্যবহার করতে পারে। নতুন টার্মিনালে ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য একটি বড় লাউঞ্জ বছরে ৪০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেবে। রয়েছে স্ট্রেইট এসকেলেটর, যা দিয়ে যাত্রীরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারবেন না হেঁটেই। অন্যান্য দেশ থেকে আগত যাত্রীদের জন্য কাস্টমসের জন্য একটি হল ও ছয়টি চ্যানেল রাখা হয়েছে।

এয়ারলাইন্স লাউঞ্জ, ডেরুম, মুভি লাউঞ্জ, শিশুদের জন্য প্লে-জোন এবং ফুড কোর্ট যাত্রীদের চাহিদা ও স্বাচ্ছন্দ্য পূরণ করবে।

নতুন টার্মিনালটি যাত্রীদের বিশ্বমানের সেবা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুরোপুরি সেবার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী বছরের শেষ পর্যন্ত। টার্মিনাল অপারেশনে ব্যবহৃত সরঞ্জামের প্রয়োজনীয় ক্যালিব্রেশন এবং প্রস্তুতির কারণে এই সময়ের প্রয়োজন হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সুইস এয়ার, এয়ার কানাডা, এয়ার ফ্রান্সসহ অন্তত ১৫টি নতুন বিদেশি এয়ারলাইন্স ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে ফ্লাইট পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।




শাহজালালে তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন শনিবার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিশ্বমানের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন (সফট ওপেনিং) হতে যাচ্ছে শনিবার। এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে বেসামরিক বিমান চলাচল (বেবিচক) কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি প্রস্তুতি নিচ্ছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

আজ বৃহস্পতিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সিইও) মো. শফিউল আজিম  জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এর সফট ওপেনিং এর জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সম্পূর্ণ প্রস্তুত। টার্মিনাল-৩ এর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য নতুন ইকুয়েপমেন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে, দায়িত্ব পালনকারী জনবলের জন্য আন্তর্জাতিক মানের নতুন ইউনিফর্ম করা হয়েছে।

তিনি বলেন, টার্মিনাল-৩ এর সফট ওপেনিং ঘিরে বৃহস্পতিবার নিরাপত্তার দ্বিতীয় মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এই মহড়ায় নতুন ইউনিফর্মে বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং টিম বিজি ৩৭১ বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সুসম্পন্ন করে এবং বিমানটি ১০টা ১৫ মিনিটে কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যায়।

বিমান কর্মকর্তারা জানান, এর আগে বিমানবন্দরে বিমানের প্রথম মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে গত বুধবার।

এদিকে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান জানান, তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন ঘিরে বিমানবন্দরে নিরাপত্তার বিষয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।




চার দিনের সফরে সুইজারল্যান্ড গেলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১৪-১৫ জুন জেনেভায় অনুষ্ঠেয় ‘ওয়ার্ল্ড অফ ওয়ার্ক সামিট: সোশ্যাল জাস্টিস ফর অল’ এ যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ জুন) সকাল সোয়া ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৫টায় ফ্লাইটটি জেনেভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এসময় বিমানবন্দরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সংসদের উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্যসচিব, তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং ডিপ্লোমেটিক কোরের প্রধান প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, বুধবার (১৪ জুন) জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ইউএনএইচসিআর প্রধান ফ্লিপো গ্র্যান্ডি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার অবস্থানস্থলে সাক্ষাৎ করবেন। পরে প্রধানমন্ত্রী প্যালাইস ডি ন্যাশনস-এ সুইস কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বারসেটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পরে সেখানে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে পারে। ওইদিন বিকালে প্রধানমন্ত্রী প্যালাইস ডি ন্যাশনস-এ ‘ওয়ার্ল্ড অফ ওয়ার্ক সামিট ২০২৩’ এর প্লেনারিতে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সেখানে পৌঁছালে আইএলও’র এডিজি ও আঞ্চলিক পরিচালক তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন। গেট থেকে সভাস্থল পর্যন্ত লাল গালিচা বিছানো হবে এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। শেখ হাসিনা মাল্টার প্রেসিডেন্ট ড. জর্জ ভেলার সঙ্গেও বৈঠক করবেন। পরে তিনি আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ হাউংবোর সঙ্গে বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় আইএলও এর সদর দফতরে উচ্চ পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জন্য ডিজি কর্তৃক আয়োজিত একটি নৈশভোজে যোগ দিবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সফরের তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডাব্লিউইএফ) অফিসে ডাব্লিউইএফ এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ক্লাউস শোয়াবের সাথে একটি বৈঠকের পরে ‘এ টক অ্যাট দ্য ডাব্লিউইএফ’-এ তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডাব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘নিউ ইকোনমি অ্যান্ড সোসাইটি ইন স্মার্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন। ওইদিন সন্ধ্যায় ডাব্লিউটিও মহাপরিচালক ড. ওকোনজো আইওয়ালা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার অবস্থানস্থলে সাক্ষাত করবেন। সন্ধ্যায় তিনি একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

শেখ হাসিনা শুক্রবার (১৬ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় ঢাকার উদ্দেশে জেনেভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন। ১৭ জুন তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

‘দ্য ওয়ার্ল্ড অফ ওয়ার্ক সামিট ২০২৩: সকলের জন্য সামাজিক ন্যায়’ হচ্ছে সামাজিক ন্যায়বিচারের সমর্থনে অধিকতর, সমন্বিত এবং সুসংগত পদক্ষেপের প্রয়োজনে বিশ্বব্যাপী সোচ্চার হওয়ার একটি উচ্চ-পর্যায়ের ফোরাম।

এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য একটি গ্লোবাল কোয়ালিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও অবহিত করার সুযোগ দেবে। আন্তর্জাতিক শ্রম অফিসের ৩৪৭তম অধিবেশনে গভর্নিং বডি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।

ফ্রান্সের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ, পানামার সাবেক রাষ্ট্রপতি জুয়ান কার্লোস ভারেলা এবং ২০১৪ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী কৈলাশ সত্যার্থী এবং নিয়োগকর্তা ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিসহ বেশ কয়েকজন উচ্চ-পর্যায়ের অতিথি সম্মেলনে ভাষণ দেবেন।

দুই দিনের এই শীর্ষ সম্মেলনটি আরও টেকসই এবং ন্যায়সঙ্গত বিশ্ব তৈরিতে সামাজিক ন্যায়বিচারের মূল ভূমিকা তুলে ধরবে এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে এগিয়ে নিতে এবং নীতির সুসমন্বয় নিশ্চিত করার জন্য বর্ধিত ও অধিকতর সঙ্গত যৌথ পদক্ষেপের কৌশল নিয়ে আলোচনা করবে। এ সম্মেলন হচ্ছে অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি ফোরাম যেখানে তারা সামাজিক ন্যায়বিচার সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারগুলি সম্পর্কে মতবিনিময় করার পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচারকে এগিয়ে নিতে তাদের পদক্ষেপ ও অঙ্গীকারগুলো তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।

আশা করা হচ্ছে এ শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফল বৃহত্তর সামাজিক ন্যায়বিচার অর্জনের কৌশলগুলি সম্পর্কে অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরাম যেমন, ২০২৩ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য শীর্ষ সম্মেলন, জি২০ এবং ব্রিকস দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলনের আলোচনায় তুলে ধরা হবে। শীর্ষ সম্মেলনে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিব, আইএলও মহাপরিচালক এবং নিয়োগকর্তা ও শ্রমিক সংগঠনের উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিরা ভাষণ দেবেন।

বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে পদক্ষেপগুলি চিহ্নিত ও সম্প্রসারিত করতে এবং একটি যৌথ, সুসংগত ও সমন্বিত অঙ্গীকারের লক্ষ্যে সরকার এবং নিয়োগকর্তা ও শ্রমিকদের সংগঠন, জাতিসংঘের সংস্থা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে চারটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।




কাতার সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী

কাতার সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিন দিন সফর শেষে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ মে) সকালে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

এর আগে বুধবার (২৪ মে) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২৫মিনিটের দিকে (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ২৫ মিনিট) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

 

প্রধানমন্ত্রী কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল সানির আমন্ত্রণে তৃতীয় কাতার অর্থনৈতিক ফোরামে (কিউইএফ) যোগ দিতে গত ২২ মে দোহায় পৌঁছান। শেখ হাসিনা কাতার ইকোনমিক ফোরামে যোগদান ছাড়াও সফরের সময় আমিরি দিওয়ানে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল সানির সঙ্গে সাক্ষাৎ, কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল সানির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এছাড়া কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সাদ বিন শেরিদা আল কাবি ও সৌদি আরবের বিনিয়োগ মন্ত্রী খালিদ এ আল-ফালিহ ও সৌদি অর্থনীতি ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ফয়সাল আলিব্রাহিম একসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

শেখ হাসিনা কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভাষণ দেন ও দোহায় কাতার ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত স্কুল আওসাজ একাডেমি পরিদর্শন করেন।




৪১৫ যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছেড়েছে প্রথম হজ ফ্লাইট

চলতি বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট বিজি-৩০০১ মোট ৪১৫ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছেড়েছে। এতে ৪১৯ হজযাত্রী থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত উড়াল দেন ৪১৫ জন।

শনিবার (২০ মে) ভোর ৩টা ৩৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২০ মিনিটে জেদ্দায় পৌঁছাবে। এছাড়াও, বিমানের আরও ৪টি ফ্লাইট আজ দিনের বিভিন্ন সময়ে জেদ্দার উদ্দেশে হজযাত্রীদের নিয়ে ঢাকা ত্যাগ করবে।

হজ ফ্লাইট ছেড়ে যাওয়ার সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসুফ আল দুহাইলান, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য হাবিব হাসান, বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউল আজিমসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমান বন্দরে উপস্থিত থেকে হজযাত্রীদের বিদায় জানান।

এসময় বিমান প্রতিমন্ত্রী সম্মানিত হজযাত্রীদের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি অব্যাহত থাকার জন্য দোয়া কামনা করেন।

এর আগে হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও পবিত্র হজের গুরুত্ব ও ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সুষ্ঠু হজ পরিবহন কার্যক্রম পরিচালনার সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লিট আধুনিকায়নের ফলে সক্ষমতা বাড়ায় ২০১৯ সাল থেকে বিমান তাদের নিজস্ব উড়োজাহাজ দিয়ে হজ পরিবহন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এবছরও হজযাত্রী পরিবহনে বিমান তাদের ৪টি অত্যাধুনিক ও সুপরিসর বোয়িং-৭৭৭ ইআর এবং ১টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারসহ মোট ৫টি উড়োজাহাজ ব্যবহার করবে।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফল কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণেই ২০১৯ সাল থেকে ‘রোড টু মক্কা ইনেশিয়েটিভ’ এর আওতায় হজযাত্রীদের সৌদি আরব অংশের ইমিগ্রেশন ঢাকায় বিমানবন্দরে সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে। এমনকি সৌদি আরবে পৌঁছার পর তাদের লাগেজও নির্ধারিত আবাসনে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এতে সম্মানিত হজযাত্রীদের পরিশ্রম, সময় ও কষ্ট লাঘব হয়েছে। হজযাত্রা হয়েছে সহজ ও আরামদায়ক। প্রধানমন্ত্রীর এ সফল ও জনবান্ধব কূটনৈতিক উদ্যোগের সম্পূর্ণ সুবিধা যাতে হজযাত্রীরা পান সেই ব্যাপারে আমরা সবসময় সচেষ্ট থেকেছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৯ সাল হতে হজের টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু ও মনিটরিং বৃদ্ধির কারণে কোনো হজযাত্রীকেই এরপর থেকে এয়ারলাইন্সের টিকিট নিয়ে কোনো প্রকার হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়নি। ইন শা আল্লাহ এবারও তারা টিকিট নিয়ে কোনো প্রকার সমস্যায় পড়বেন না। হজ পরিবহনের সব বিষয় আমরা সার্বক্ষণিক ও নিবিড় মনিটরিং করছি। সুষ্ঠুভাবে হজ পরিবহন কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সম্মানিত হজযাত্রীদের ও সব অংশীজনের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

এবছর বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ২২ হাজার ২২১ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। এর মধ্যে মোট যাত্রীর অর্ধেক ৬১ হাজার ১১১ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে বিমান। বাকি হজযাত্রী পরিবহণ করবে সাউদিয়া এয়ারলাইন্স ও ফ্লাই নাস। বিমান প্রি-হজে ২১ মে থেকে ২২ জুন পর্যন্ত ১৬২টি ও পোস্ট-হজে ২ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ১৬৮টি করে মোট ৩৩০টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করবে। বিমান গত বছরের মতো এবারও ঢাকা থেকে জেদ্দা ও মদিনায় ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি চট্টগ্রাম এবং সিলেট থেকেও জেদ্দায় ও মদিনায় ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

এর আগে শুক্রবার (১৯ মে) হজ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

 




দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (৯ মে) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটটি। ১৫ দিনের সফর শেষে ঢাকায় ফেরেন তিনি।

এর আগে ৪ মে, প্রধানমন্ত্রী রাজা এবং রানি হিসেবে তৃতীয় চার্লস ও তার স্ত্রী ক্যামিলার অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিন দেশ সফরের তৃতীয় ধাপে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে লন্ডনে যান।

যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে ৬ মে তিনি ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানির অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

লন্ডনে শেখ হাসিনা রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লিভারলি এবং তার স্ত্রী সুসানা স্পার্কসও লন্ডনের ক্লারিজ হোটেলে তার বাসভবনে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

প্রধানমন্ত্রী একই দিনে ক্লারিজ হোটেলের ফয়ের প্রাইভেট ডাইনিং রুমে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার কর্তৃক আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন।

তিনি সেখানে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগেল ওয়াংচুক এবং রানি জেটসুন পেমার সঙ্গে বৈঠক করেন।

এছাড়া শেখ হাসিনা রাজা তৃতীয় চার্লসের অভিষেক অনুষ্ঠানে মিশর ও রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট, সিয়েরা লিওন, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, গাম্বিয়া, নামিবিয়া ও উগান্ডার প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং কমনওয়েলথ মহাসচিব ব্যারনেস প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ডও ৭ মে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার আবাসস্থলে সাক্ষাৎ করেন।

একই দিনে লন্ডন ম্যারিয়ট হোটেলে যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রধানমন্ত্রীকে নাগরিক সংবর্ধনা দেন এবং তিনি বিবিসিকে একটি সাক্ষাৎকারও দেন।

এর আগে তিনি তার জাপানি সমকক্ষ ফুমিও কিশিদার আমন্ত্রণে জাপানের টোকিওতে তার চার দিনের সরকারি সফর শেষ করে ২৯ এপ্রিল তার তিন দেশ সফরের দ্বিতীয় ধাপে ওয়াশিংটন ডিসি পৌঁছেন।




৭২ যাত্রী নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের জরুরি অবতরণ

কলকাতা থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। ফ্লাইটটি ৭২ জন যাত্রী নিয়ে নিরাপদে অবতরণ করেছে।

সোমবার সকালে বিমানের বিজি-৩৯২ ফ্লাইটটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

জানা যায়, কলকাতা থেকে উড্ডয়নের পর মাঝ আকাশে বিমানের একটি চাকার টায়ার ফেটে যায়।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিমানটির পেছনের ডান পাশের চাকার টায়ার ফেটে যায়। পরে ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণ করানো হয়। যাত্রীরা সবাই নিরাপদে আছেন।

জানা যায়, বিমানটি কানাডার ড্যাশ ৮-৪০০ মডেলের। এটি কলকাতার স্থানীয় সময় ৯টা ১৯ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। পরে সকাল পৌনে ১০টার দিকে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নিলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

এদিন সকাল ১০টা ৩ মিনিটে এটি নিরাপদে অবতরণ করে। অবতরণের সময় দুর্ঘটনা এড়াতে বিমানবন্দরে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট তৎক্ষণাৎ প্রস্তুত ছিল।