প্রথম প্রান্তিকে ইসলামী ব্যাংকের লোকসান ২৮৮ কোটি টাকা।

চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। এই তিন মাসে ব্যাংকটির লোকসান হয়েছে প্রায় ২৮৮ কোটি টাকা।

 

গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় আলোচ্য প্রান্তিকে অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়।

বুধবার (১৩ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে ব্যাংকটি তাদের আর্থিক অবস্থার এই চিত্র প্রকাশ করেছে।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ইসলামী ব্যাংকের সমন্বিতভাবে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৭৯ পয়সা, এই হিসেবে ব্যাংকের মোট শেয়ারের বিপরীতে নিট লোকসান প্রায় ২৮৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা। গত বছরের (২০২৫) একই সময়ে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ছিল ১৮ পয়সা, এই হারে মোট শেয়ারের বিপরীতে নিট মুনাফা হয়েছিল ২৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

ইসলামী ব্যাংক জানিয়েছে, আমানতের বিপরীতে মুনাফা দেওয়ার পরিমাণ ও খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে। এ ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানে টাকা খাটিয়ে সেখান থেকেও আশানুরূপ মুনাফা করতে পারেনি তারা। সব মিলিয়েই এই বড় লোকসান।

এদিকে মুনাফায় ধস নামলেও ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ বা এনওসিএফপিএসে বড় উন্নতি দেখা গেছে। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ১৬ টাকা ১৬ পয়সা নগদ ঘাটতি ছিল, এবার তা ইতিবাচক ধারায় ফিরে ১ টাকা ৩৫ পয়সা হয়েছে। মূলত চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে নতুন ঋণ বিতরণ কমে যাওয়ার ফলে নগদ প্রবাহের এই উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

 

তবে সর্বশেষ প্রান্তিকে বড় অঙ্কের লোকসান হওয়ায় ব্যাংকের মূল সম্পদে প্রভাব পড়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৪৪ টাকা ৩১ পয়সা, ২০২৬ সালের একই সময় শেষে যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪২ টাকা ৫৬ পয়সায়। লোকসানের কারণেই মূলত সম্পদমূল্যে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।




ইনটেকের প্রথম প্রান্তিকে লোকসান কমেছে

পুঁজিবাজারে আইটি খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইনটেক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০২৩) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) কমেছে।

রোববার (২৪ ডিসেম্বর) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।

চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে (০.১৫) টাকা। গত হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) ছিল (০.১৬) টাকা। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) কমেছে ০.০১ টাকা।

চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির ঋণাত্মক শেয়ারপ্রতি ক্যাশফ্লো হয়েছে (০.০৫) টাকা। গত হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানির ঋণাত্মক শেয়ারপ্রতি ক্যাশফ্লো ছিল (০.০৮) টাকা।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ তারিখে কোম্পানির ঋণাত্মক শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে (০.৩৬) টাকা।




লোকসান বেড়েছে ইউনিয়ন ক্যাপিটালের

লোকসান বেড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেডের। কোম্পানিটির চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানির তথ্য মতে, ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর তিন মাসে লোকসান হয়েছে ২৪ কোটি ৫০ লাখ ৫৪ হাজার ৮৫৭ টাকা। যা ২০২২ সালের একই সময়ে ছিল ১৬ কোটি ২২ লাখ ১৯ হাজার ৪১২ টাকা। অর্থাৎ ৮ কোটি টাকার বেশি লোকসান বেড়েছে ইউনিয়ন ক্যাপিটালের।

২০০৭ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির বর্তমান শেয়ার সংখ্যা ১৭ কোটি ২৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৪৩টি। এই শেয়ারধারীদের সর্বশেষ ২০১৮ সালে ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দিয়েছিল ইউনিয়ন ক্যাপিটাল। তারপর থেকে লোকসান দেখিয়ে যাচ্ছে তারা, টানা চার বছর কোনো লভ্যাংশ দেয়নি।

লোকসান বাড়ায় কোম্পানিটিকে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ১৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা প্রভিশনিং করতে হয়েছে। যা ২০২২ সালের একই সময়ে ছিল ৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানির ১২৭কোটি ৫২ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে, যা ২০২২ সালে ছিল ৯৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা। তাতে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৩৯ পয়সা, যা ২০২২ সালের একই সময়ে ছিল ৫ টাকা ৪৬ পয়সা।