১৩ লাখ রোহিঙ্গার ভার বাংলাদেশের পক্ষে আর বহন করা সম্ভব নয়

১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার ভার বাংলাদেশের পক্ষে আর বহন করা সম্ভব নয়। সেজন্য রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

 

বুধবার ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গৃহীত এক প্রস্তাব অনুষ্ঠানে এ কথা জানায় বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

 

স্থায়ী মিশন জানায়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তনের জন্য নতুন করে বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যৌথভাবে এ প্রস্তাব পেশ করেছে। আর ১০৫টি দেশ যৌথভাবে এ প্রস্তাবে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে।

২০১৭ সাল থেকে গৃহীত এই বার্ষিক প্রস্তাবে রাখাইন রাজ্যে অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্ঘন, রোহিঙ্গা মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু করা, মানবিক প্রবেশাধিকারের ওপর বিধিনিষেধ এবং বাংলাদেশ ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশে রোহিঙ্গাদের অব্যাহত অনুপ্রবেশের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ এবং টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য অব্যাহত আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানালেও গত আট বছরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তনের কোনো বাস্তব অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে।




রোহিঙ্গাদের আরও ৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তায় আরও ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ইন্দো-প্যাসিফিকবিষয়ক ব্রিটিশ মন্ত্রী অ্যান-মারি ট্রিভেলিয়ান থাইল্যান্ডে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) আঞ্চলিক সম্মেলনে এ সহায়তার ঘোষণা দেন।

মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

ব্রিটিশ হাইকমিশন জানায়, যুক্তরাজ্যের ইন্দো-প্যাসিফিকবিষয়ক মন্ত্রী অ্যান-মারি ট্রিভেলিয়ান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ইউএনএইচসিআরের আঞ্চলিক সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের জন্য ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থায়নের ঘোষণা দেন। সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং ইউএনএইচসিআরের হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডিও যোগ দিচ্ছেন।

অ্যান-মারি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতে যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর মধ্যে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। আর সেটি মিয়ানমারের পরিস্থিতি বিবেচনায়।

ব্রিটিশ ইন্দো-প্যাসিফিক মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা যতক্ষণ না নিরাপদে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরতে না পারে আমরা চলমান মানবিক সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ কারণে আমরা বাংলাদেশে শরণার্থীদের সুরক্ষা পরিষেবা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ক্লিন এনার্জির জন্য আরও ৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তার ঘোষণা করেছি।




শিগগির ৩ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার

পাইলট প্রকল্পের আওতায় শিগগির কিছু রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। প্রত্যাবাসনের প্রথম ধাপে দেশটি নিবন্ধিত তিন হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে চায়। গতকাল সোমবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোয় উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক পর্যায়ে বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকে থাকা এক কূটনীতিক বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে ভালো আলোচনা হয়েছে। তারা যত শিগগির সম্ভব প্রত্যাবাসন শুরু করতে চায়। সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রথম ধাপে নিবন্ধিত তিন হাজার রোহিঙ্গা দিয়ে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এটা যত দ্রুত সম্ভব হতে পারে। তবে ঠিক কবে এই প্রত্যাবাসন শুরু হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। দ্বিতীয় ধাপে পাঁচ হাজার এবং তার পরের ধাপে সাত হাজার রোহিঙ্গাকে তারা ফেরত নিতে পারে। যদিও এ সংখ্যক রোহিঙ্গাকেই যে তারা নির্দিষ্ট করে ফেরত নেবে, তা নিশ্চিত করে বলা ঠিক হবে না।

প্রত্যাবাসন শুরুর আগে রোহিঙ্গাদের মনোবল বাড়াতে হবে উল্লেখ করে এ কূটনীতিক বলেন, যাদের প্রত্যাবাসন করা হবে, আগে তাদের মনোবল বাড়াতে হবে। তারপর তাদের মধ্যে যারা স্বেচ্ছায় যেতে চায় তাদের পাঠানো হবে। আমরা টেকসই প্রত্যাবাসন করতে চাই। যেন প্রথম ধাপের পর পরবর্তী ধাপেও রোহিঙ্গারা যেতে থাকে। মিয়ানমার থেকে একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজারে এসে রোহিঙ্গাদের মনোবল বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করার কথা রয়েছে।

মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের কক্সবাজার সফরের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কূটনীতিক বলেন, তারা আসবে। আমরা চাই, তারা এসে রোহিঙ্গাদের আগ্রহী করে তুলুক; তাদের নিশ্চয়তা দিক। প্রত্যাবাসনের আগে আমাদের মূল লক্ষ্য রোহিঙ্গাদের মনোবল বৃদ্ধি করা।

জানা গেছে, নেপিদোয় বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অনু বিভাগের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। রোহিঙ্গাদের আস্থা ফেরানো ও নিরাপদ বোধ করাতে নেপিদো কী কী পদক্ষেপ নেবে, বৈঠকে সে বিষয়ে জোর আলোচনা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মূল প্রশ্ন, তারা ফিরে যেতে নিরাপদ বোধ করছে কিনা। রোহিঙ্গারা যদি নিরাপদ বোধ না করে, তাহলে জোর করে ফেরত পাঠাবে না বাংলাদেশ। কারণ স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চায় ঢাকা। প্রত্যাবাসনে রাজি হওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য বেশ কিছু ঘর তৈরি করেছে মিয়ানমার সরকার। তবে সেগুলো দেখে এসে প্রত্যাবাসনে অনাগ্রহের কথা জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা। এখন তাদের আস্থা অর্জনে নেপিদো থেকে আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা। এর মধ্যে একটি হলো– প্রত্যাবাসনের পর রোহিঙ্গাদের এককালীন অর্থ দেওয়া হবে এবং ইচ্ছা করলে তারা নিজ গ্রামেও যেতে পারবে। মিয়ানমারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। তবে শুরুতেই রোহিঙ্গারা তাদের গ্রামে যেতে পারবে না। মিয়ানমার সরকারের দেওয়া ঘরবাড়িতে তাদের তিন মাস থাকতে হবে। এর পর নিজ গ্রামে স্থানান্তর করা হবে। আর কেউ যদি সরকারি ঘরবাড়িতে থেকে যেতে চায়, সে ব্যবস্থাও করবে মিয়ানমার সরকার।




রোহিঙ্গা সংকট আরও ঘনীভূত, কমেছে অর্থ সাহায্যও

অর্ধযুগ পেরিয়েছে; রোহিঙ্গাদের এখনও ফেরানো যায়নি নিজ দেশে। সময়ের সাথে সাথে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। একদিকে হুমকি বাড়ছে নিরাপত্তার, অন্যদিকে কমছে অর্থ সাহায্য। এমন কী কমছে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপও। এ অবস্থায় সরকারও বলছে, সহজ হবে না প্রত্যাবাসন। আর বিশ্লেষকরা বলছেন, সংকট নিরসনে বাংলাদেশকে আগ্রাসী হতে হবে কূটনীতিকভাবে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট। মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সেনাবাহিনীর নির্যাতনের জেরে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে আসতে শুরু করে বাংলাদেশে। সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গাকে বিনা প্রস্তুতিতে ঠাঁই দেয় বাংলাদেশ। সেই ঘটনার ছয় বছর অতিবাহিত হলো।

 

জাতিসংঘের তথ্যমতে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা বর্তমানে ১১ লাখের মতো। তবে বেসরকারি সূত্রের মতে এ সংখ্যা ১৫ লাখের কাছাকাছি।

গত ছয় বছরে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরাতে দ্বিপক্ষীয়, ত্রিপক্ষীয় এবং বহুপক্ষীয় — সব ধরনের চেষ্টাতেই বিফল বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকে প্রস্তাব আসছে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশেই স্থায়ী করতে। এদিকে, অর্ধযুগ পেরোনোর পর সরকারও অনুভব করছে সহজ হবে না রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের কূটনৈতিক পদক্ষেপে ঘাটতি ছিল বেশকিছু। বিশেষ করে ভারত ও জাপানের সহযোগিতা আকর্ষণে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। সাথে নতুন সংকট হিসেবে ধরা দিয়েছে রোহিঙ্গাদের ভরণ-পোষণে অর্থ জোগাড় করা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কমছে তহবিল। সবশেষ ২০২২ সালে প্রত্যাশার মাত্র ৬২ শতাংশ পূরণ করেছে দাতা দেশগুলো।

মানবিক জায়গা থেকে রোহিঙ্গাদের দেয়া আশ্রয় এখন নিরাপত্তার হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের জন্য। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, গত কয়েক বছরে বেড়ে গেছে মাদক চোরাচালান; হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলছেন, কোন একটা জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বাস করলে সেখানে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকে। সেদিক থেকে রোহিঙ্গাদের মতো জনগোষ্ঠী সন্ত্রাসী কার্যক্রম কিংবা মাদক বেচাকেনার সাথে জড়িয়ে যাবে, এটা মোটেও অস্বাভাবিক না।

যদিও কিছু রোহিঙ্গা জনগণকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে বাংলাদেশ ফেরাতে চাইলেও পশ্চিমা দেশগুলোর মনোভাবে রয়েছে অসন্তোষ। ফলে আশাব্যঞ্জক কোন ফলাফলের দেখা মিলছে না এখনও।

তবে সাম্প্রতিক মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দুর্বল পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গাদের পক্ষে আন্তর্জাতিক আদালতের অবস্থানকে সংকট সমাধানে আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদের।

উল্লেখ্য, এ রোহিঙ্গাদের দ্রুত দেশে ফেরানো না গেলে দেশের অর্থনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




পাইলট প্রত্যাবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে সবার সমর্থন চাইল বাংলা‌দেশ

রোহিঙ্গাদের পাইলট প্রত্যাবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন চেয়েছে বাংলা‌দেশ। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৯ মে) নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গাদের ওপর অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন চান জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবদুল মুহিত।

নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে অনু‌ষ্ঠিত বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা জাতিসংঘ, আসিয়ান এবং আঞ্চলিক দেশগুলোকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য গৃহীত পাইলট প্রকল্পকে সমর্থন করতে এবং এ প্রকল্পের আওতায় প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে পুনরায় একীভূত হতে সহায়তা করার জন্য আহ্বান জানাই।

রাষ্ট্রদূত মুহিত নিরাপত্তা পরিষদকে অবহিত করেন যে, উভয় পক্ষ রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের নিমিত্ত একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ প্রকল্পের অধীনে একদল রোহিঙ্গা প্রথম ব্যাচে মিয়ানমারে ফিরে যাবে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্যদের প্রত্যাবাসন করা হবে।

স্থায়ী প্রতি‌নি‌ধি জানান , গত ৫ মে ২০ জন রোহিঙ্গার একটি দল মিয়ানমারের রাখাইনে যান এবং সেখানে তাদের প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন।

পাইলট প্রকল্পটিকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, এর আওতায় রোহিঙ্গাদের পারিবারিক ইউনিটে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার পর আবার যেন তারা সেখানে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের নিপীড়নের সম্মুখীন না হয় সেজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সজাগ থাকার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত মুহিত।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, রাখাইনে কনফিডেন্স বিল্ডিং পদক্ষেপের অংশ হিসেবে মানবিক ও উন্নয়ন অংশীদারদের উপস্থিতি একান্তভাবে কাম্য। এ লক্ষ্যে আমরা আঞ্চলিক সদস্য দেশগুলোকেও রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যেতে সহায়তা করার আহ্বান জানাই।

বৈঠকে নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্য এবং আসিয়ানের সদস্য রাষ্ট্রগুলো অংশগ্রহণ করে। সভায় উপস্থিত সদস্যরা, অন্যান্যদের মধ্যে, ঘূর্ণিঝড় মোখা পরবর্তী সময়ে মিয়ানমারের বর্তমান মানবিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। তারা মিয়ানমারের বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আসিয়ানের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, টেকসই এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং রাখাইনের অবস্থার উন্নতির জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।




রোহিঙ্গাদের আরও ২৬ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

রোহিঙ্গাদের আরও ২৬ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্ররোহিঙ্গাদের জন্য আরও ২৬ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশসহ এশিয়ার এই অঞ্চলের অন্যত্র বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এই সহায়তা পাবেন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৭ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নতুন এই সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, বাংলাদেশ ও এ অঞ্চলের রোহিঙ্গা শরণার্থী, চলমান সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত মিয়ানমারের মানুষ এবং মিয়ানমার থেকে উদ্বাস্তুদের আতিথেয়তাকারী সম্প্রদায়ের জন্য অতিরিক্ত মানবিক সহায়তায় আরও ২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সহায়তা প্রায় ২.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এ সহায়তা তহবিল বাংলাদেশ-মিয়ানমার উভয় সীমান্তের ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ব্যবহার করা হবে। যা একইভাবে আমাদের মানবিক অংশীদারদের সুযোগ দেবে।