প্রথম প্রান্তিকে রূপালী ব্যাংকের লোকসান ৩৯৬ কোটি টাকা

চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসির তিনশ ৯৬ কোটি টাকা নিট লোকসান হয়েছে। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ২১ কোটি টাকা নিট মুনাফা হয়েছিল ব্যাংকটির। মূলত সুদ আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যয় বাড়ার কারণে ব্যাংকটিকে লোকসান গুনতে হয়েছে।

রূপালী ব্যাংকের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে। গত রোববার (১৬ মে) ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদিত হয়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে রূপালী ব্যাংকের সুদ আয় হয়েছে ছয়শ ৫৮ কোটি টাকা এবং এ সময়ে ব্যাংকটিকে প্রায় ১ হাজার ৩০৪ কোটি টাকার সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে আটশ ৫৯ কোটি টাকা সুদ আয়ের বিপরীতে ১ হাজার ১৩৭ কোটি টাকার সুদ পরিশোধ করা হয়েছিল।

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংকটির শুধুমাত্র পরিচালন লোকসান হয়েছে ৮৪ কোটি টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে তিনশ ৬ কোটি টাকার পরিচালন মুনাফা হয়েছিল।

এদিকে আলোচ্য প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে আট টাকা ১২ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছিল ১৩ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ৫ পয়সায়।

সর্বশেষ, ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে, বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি রূপালী ব্যাংক। আলোচ্য হিসাব বছরে, ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল, ২৩ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ২ পয়সায়।

১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন চারশ ৮৭ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে পাঁচশ ৩৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৪৮ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার ৬৫। এর ৯০ দশমিক ১৯ শতাংশই রয়েছে সরকারের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩ দশমিক ৩২ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।




রূপালী ব্যাংকের পরিচালক হলেন মুজিব আহমদ সিদ্দিকী

রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের পরিচালক হলেন মুজিব আহমদ সিদ্দিকী। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সম্প্রতি মুজিব আহমদ সিদ্দিকীকে ৩ বছরের জন্য রূপালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের পর তিনি ব্যাংকের পর্ষদ সভায় যোগদান করেন।
বৃহস্প‌তিবার (৬ মার্চ) রূপালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ‌্য জানানো হয়েছে।

রূপালী ব্যাংকে পরিচালক হিসেবে যোগদানের পূর্বে তিনি এবি ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ঢাকা ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ৩৫ বছরের কর্মজীবনে তিনি ইউএসএইড এর বাংলাদেশ মিশনে প্রজেক্ট ডেভলপমেন্ট, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে এমবিএ এবং ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা (পিজিডি) ডিগ্রি অর্জন করেন।




রূপালী ব্যাংকের ক্রেডিট রেটিং নির্ণয়

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি রূপালী ব্যাংক পিএলসির ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করে তা প্রকাশ করা হয়েছে। কোম্পানির ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করেছে ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (এনসিআর)।

রোববার (২৫ আগস্ট) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানির দীর্ঘ মেয়াদে ক্রেডিট রেটিং হয়েছে ‘এএএ’। আর স্বল্প মেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এসটি-১’।

কোম্পানির গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩ পর্যন্ত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে এ রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে।




রূপালী ব্যাংকের ৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সরকারি মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক পিএলসি ৫ শতাংশ বোনাস (স্টক) লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

শনিবার (৮ জুন) ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৩ সালের সমাপ্ত অর্থ বছরের জন্য এ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লভ্যাংশ প্রদান সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার বোর্ড সভার তারিখ জানানো হয়।

২০২৩ অর্থবছর শেষে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় ঘোষণা করা হয় ১.৩৫ টাকা। এদিকে গত ৩০ মে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যাংকটির আগের হিসাব বছরের তুলনায় প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে ২৯ শতাংশ।

২০২৪ সালের জানুয়ারি-মার্চ তিন মাসে ব্যাংকটির সমন্বিতভাবে ইপিএস হয়েছে ৪৯ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩৮ পয়সা। এককভাবে প্রথম প্রান্তিকে ইপিএস বেড়েছে ৪৪ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩০ পয়সা। সে হিসেবে এককভাবে ব্যাংকটির আলোচ্য সময়ে ইপিএস বেড়েছে ৪৬ শতাংশ। ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ সমাপ্ত সময়ে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৭.০৭ টাকা।

২০২২ সালে ব্যাংকটি বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দেয়নি।

২০২৩ সালে ৫৫০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ের ঘটনা ঈর্ষণীয় ও অনুকরণীয় অবস্থানে নিয়েছে ব্যাংকটিকে। অবলোপন করা খেলাপি ঋণ থেকে চলতি বছরে ৪০ কোটি টাকা আদায় এখন ব্যাংক খাতে চর্চিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি এক বছরে ৮ লাখ নতুন ব্যাংক হিসাব খুলে রেকর্ড সৃষ্টির মাধ্যমে তাক লাগিয়েছে রূপালী ব্যাংক। গত ২ বছরে ব্যাংকটিতে কর্পোরেট সুশাসন ফিরে আসায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে ব্যাংকটি।




ডিভিডেন্ড পুর্নবিবেচনায় বৈঠক করবে রূপালী ব্যাংক

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসি ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত তথ্য পুর্নবিবেচনায় বৈঠক করবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আগামী ৮ জুন সকাল ১১টায় পরিচালনা পর্ষদের এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ও বিএসইসির সঙ্গে করা বৈঠকের বিষয়ে আলোচনা হবে।

এর আগে, গত ২ মে ডিএসইর ওয়েবসাইটে ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত তথ্য জানায় রূপালী ব্যাংক। এতে বলা হয়, ব্যাংকটি ২০২৩ অর্থবছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের কোন ডিভিডেন্ড দেবে না।

এদিকে, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিএসইসির হস্তক্ষেপে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ডিভিডেন্ড দেবে ব্যাংকটি।

ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

উভয় পক্ষের আলোচনা শেষে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে এবং শেয়ারবাজারের উন্নয়নে রূপালী ব্যাংকের পর্ষদ ডিভিডেন্ড দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পরিচালনা পর্ষদের সভা আহ্বান করেছে ব্যাংকটি।




প্রথম প্রান্তিকে রূপালী ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সরকারি মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি- মার্চ, ২০২৪) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংকটির আগের হিসাব বছরের তুলনায় প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে ২৯ শতাংশ। ২০২৪ সালের জানুয়ারি- মার্চ তিন মাসে ব্যাংকটির সমন্বিতভাবে ইপিএস হয়েছে ৪৯ পয়সা যা গত বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩৮ পয়সা।

এককভাবে আলোচ্য তিন মাসে ইপিএস হয়েছে ৪৪ পয়সা যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩০ পয়সা। সে হিসেবে এককভাবে ব্যাংকটির আলোচ্য সময়ে ইপিএস বেড়েছে ৪৬ শতাংশ।

২০২৪ সালের ৩১ মার্চ সমাপ্ত সময়ে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা ০৭ টাকা।




অনুমোদিত মূলধন বাড়াতে অনুমোদন পেলো রূপালী ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ে

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি রূপালী ব্যাংক পিএলসি সাধারণ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর অনুমতি পেয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত এ ব্যাংকটির বর্তমান মূলধন ৭০০ কোটি টাকা। রূপালী ব্যাংক মূলধন বাড়িয়ে দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা করতে পারবে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাবের যুগ্ম সচিব মীনাক্ষী বর্মন এই সংক্রান্ত চিঠি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠিয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি ইক্যুইটির বিপরীতে সাধারণ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন বাড়াতে পারবে রূপালী ব্যাংক।

রূপালী ব্যাংক সেবার মান বৃদ্ধি, খেলাপী ঋণ আদায় ও ঋণ বিতরণে বৈচিত্র আনয়নের মাধ্যমে ২০২৩ সালে মুনাফাসহ সকল আর্থিক সূচকে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ব্যাংকটির খেলাপী ঋণ আদায়, আমানতের প্রবৃদ্ধি, ঋণ বিতরণ, নতুন হিসাব খোলা, লোকসানী শাখা কমানো ও অটোমেটেড চালনসহ সকল ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে।

গত বছরের প্রথম নয় মাসে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৫ ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ ক্যাশ ফ্লো বা শেয়ারপ্রতি কার্যকরি নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) বেড়েছে রূপালী ব্যাংকের। তালিকাভুক্ত এই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি সহ ২২টি ব্যাংকের ক্যাশ ফ্লো বেড়েছে জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে।

সমাপ্ত অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২৩) রূপালী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো দাঁড়িয়েছে ১১৬ টাকা ৫৪ পয়সায়। গত বছর একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল মাইনাস ৬৯ টাকা ৫৮ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে কোম্পানিটির ক্যাশ ফ্লো বেড়েছে ১৮৬ টাকা ১২ পয়সা। ব্যাংকটি ২০২২ সালে যেখানে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা ছিল ১০৬ কোটি সেখানে ২০২৩ সাল শেষে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৭০০ কোটি টাকারও বেশি। পরিচালন মুনাফার এই চিত্র পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত একমাত্র রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক রূপালী ব্যাংক পিএলসি’র। বছর শেষে পরিচালন মুনাফা বেড়েছে ৭ গুণেরও বেশি।

গত বছরের তুলনায় মুনাফা বেড়েছে ৭ গুণ। শুধু মুনাফা নয় বরং খেলাপি ঋণ আদায়, আমানতের প্রবৃদ্ধি, ঋণ বিতরণ, নতুন হিসাব খোলা, লোকসানি শাখা কমানো, অটোমেটেড চালানসহ সকল ক্ষেত্রের অর্জনে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকটি। নগদ আদায়েও ব্যাংকটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ সফলতা এসেছে। এক্ষেত্রে ঈর্ষনীয় সফলতা দেখিয়েছে ব্যাংক

ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ৪৬৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৫৩২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ব্যাংকটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৪৬ কোটি ৪৬ লাখ ৯৭ হাজার ২০৫। সরকারের কাছে রয়েছে ব্যাংকটির ৯০ দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ শেয়ার। আর বাকি ৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।




রূপালী ব্যাংকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবসায়িক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

রূপালী ব্যাংক পিএলসির চট্টগ্রাম বিভাগের শাখা ব্যবস্থাপকদের অংশগ্রহণে ব্যবসায়িক সম্মেলন-২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার  চটগ্রামে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ডিএমডি তানভীর হাসান।

এ সময় চট্টগ্রাম বিভাগের জিএম মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিভাগের আওতাধীন জোনাল ম্যানেজার ও শাখা ব্যবস্থাপকগণসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।




রূপালী ব্যাংকের ক্রেডিট রেটিং নির্ণয়

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করে তা প্রকাশ করা হয়েছে।

কোম্পানিটিকে ক্রেডিট রেটিং দিয়েছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেডের রেটিং অনুযায়ী, রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের দীর্ঘ মেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এএ+’ এবং আর স্বল্প মেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এসটি-১’।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় তথ্যে ভিত্তিতে এ রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে।




রূপালী ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন, ২০২৩) ও অর্ধবার্ষিক (জানুয়ারি-জুন, ২০২৩) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচ্য হিসাব বছরের অর্ধবার্ষিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফায় (ইপিএস) বড় উত্থান লক্ষ্য করা গেছে।

মঙ্গলবার (১ আগস্ট) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, কোম্পানিটি চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.৪২ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ছিল ০.০৭ টাকা। সে হিসেবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ০.৩৫ টাকা বা ৫০০ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে, কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের অর্ধবার্ষিক প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.৭৯ টাকা। আগের হিসাব বছর একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ০.২৮ টাকা। সে হিসাবে এ সময়ের ব্যবধানে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ০.৫১ টাকা বা ১৮২.১৪ শতাংশ।

২০২৩ সালের ৩০ জুন কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৬.৮১ টাকায়।




রূপালী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মো. নোমান মিয়া

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেছেন রূপালী ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. নোমান মিয়া। পদোন্নতি পেয়ে তিনি রূপালী ব্যাংক লিমিটেড ঢাকা উত্তর বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধান হিসেবে যোগদান করেছেন। এর আগে তিনি রংপুর বিভাগীয় প্রধান (চলতি দায়িত্বে) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

১৯৯৮ সালে মো. নোমান মিয়া ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটির (বিআরসি) মাধ্যমে সিনিয়র অফিসার হিসেবে রূপালী ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন।

অভিজ্ঞ এ ব্যাংকার এর আগে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রধান (চলতি দায়িত্বে), ডিজিএম পদে সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়, সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলের জোনাল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও নিরীক্ষা ও পরিদর্শন টীম প্রধান, চৌমুহনা কর্পোরেট, মৌলভীবাজার কর্পোরেট, শ্রীমঙ্গল শাখার এজিএম ও ব্যবস্থাপক এবং এনায়েতগঞ্জ শাখা, এনায়েতগঞ্জ শাখা ও আজিমগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে এক যুগেরও বেশী সময় সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আজিমগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক থাকাকালীন সেরা ব্যবস্থাপক হিসেবে ১ম পুরস্কার লাভসহ শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে পুরস্কার ও সার্টিফিকেট অর্জন করেন। তিনি সততা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে সর্বমহলে প্রশংসা ও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলছেন।

তিনি কুমিল্লা বোর্ড থেকে ১৯৮৫ সনে এসএসসি ও ঢাকা বোর্ড থেকে ১৯৮৭ সনে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হন। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে পদার্থ বিদ্যায় ১৯৯০ সনে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৯১ সনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং বি ইউ পি এর অধীন আর্মি ইন্সটিটিউট, সিলেট থেকে এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি পেশাগত ডিগ্রী ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় উভয় পর্বে উত্তীর্ণ। পেশাগত প্রয়োজনে ব্যাংকিং বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

তিনি হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার বানেশ্বর গ্রামে এক সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। পিতা মরহুম সালেহ উদ্দিন ও মাতা মরহুমা রেজিয়া বেগমের ২য় সন্তান তিনি।




৮৯ লাখ টাকা আত্মসাতে রূপালী ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

গ্রাহকের এফডিআরের সাড়ে ৮৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের সিনিয়র অফিসার বাহাউদ্দীন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) মোহাম্মদ আরিফ সাদেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামি বাহাউদ্দিন আহমেদ সিনিয়র অফিসার (দ্বিতীয় কর্মকর্তা) হিসেবে খুলনার বয়রার মহিলা শাখায় দায়িত্ব পালনকালে শাখার কর্মকর্তাদের আইডি ব্যবহার করে এফডিআর ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে সাড়ে ৮৯ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

বাহাউদ্দীন প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংক শাখায় দায়িত্বশীল পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে ৭টি লেনদেনের মাধ্যমে ৮৫ লাখ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে ওই বছরের নভেম্বর পর্যন্ত আরও ১৪ লাখ টাকাসহ মোট ওই টাকা আত্মসাত করেন। এছাড়াও চালানে প্রায় এক কোটি ৮৫ লাখ টাকার গড়মিলের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে তিনি ব্যাংক ব্যবস্থাপকের আইডি কৌশলে ব্যবহার করেছেন।

তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪৩০/৪৬৮/৪৭১/৪৭৭(ক) ধারাসহ ১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।