আগস্টে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী

আগস্টে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

তিনি বলেন, ‘আগামী আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে।’

রবিবার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল জানতে চান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কবে নাগাদ চালু হবে?

লিখিত জবাবে ফকির মাহবুব আনাম জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের একটি যুগান্তকারী প্রকল্প এবং দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, নির্মাণ ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শেষে প্রকল্পটি বর্তমানে কমিশনিং ও স্টার্ট-আপ পর্যায়ে রয়েছে, যা কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পূর্ববর্তী সর্বশেষ এবং অত্যন্ত জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

তিনি বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এর স্টেজ-বি (ফুয়েল লোডিং অ্যান্ড ফিজিক্যাল স্টার্টআপ) পর্যায়ের জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম গত ২৮ এপ্রিল শুরু হয়েছে। বর্তমানে রিঅ্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপন, বোরিক অ্যাসিড সংযোজন, রিঅ্যাক্টর ও প্রাইমারি সার্কিটের বিভিন্ন পরীক্ষা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই, সাব-ক্রিটিক্যালিটি পরীক্ষা এবং অন্যান্য কমিশনিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তী পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরকে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় নিয়ে যাওয়া, কন্ট্রোল ও প্রোটেকশন সিস্টেমের সমন্বিত পরীক্ষা এবং নিম্ন ক্ষমতায় পরিচালনাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করে প্রথমে ১০-১২ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ৩৫-৪০ শতাংশ ক্ষমতায় উন্নীত করা হবে। নির্ধারিত সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে ঠিকাদার কর্তৃক প্রণীত শিডিউল অনুযায়ী জ্বালানি লোডিং শুরুর প্রায় ১১৪তম দিনে প্রথমবারের মতো জেনারেটরকে গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সে অনুযায়ী চলতি ২০২৬ সালের আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।




শেখ হাসিনা-রেহানা পরিবারের দুর্নীতির অনুসন্ধান করবে দুদক

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি বা ৫৯ হাজার কোটি টাকাসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ৮০ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যেখানে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকসহ পরিবারের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে রূপপুর ছাড়াও আশ্রয়ণসহ অন্যান্য প্রকল্পে দুর্নীতির তথ্য আমলে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকের মালয়েশিয়ার ব্যাংকের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (আরএনপিপি) থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা) লোপাটের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে গত ১৫ ডিসেম্বর রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর এ অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। রিটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদে

 

গত ১৯ আগস্ট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শেখ হাসিনা পরিবারের দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। বেশ কয়েকটি পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক মালয়েশিয়ার ব্যাংকের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (আরএনপিপি) থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার লোপাট করেছেন। বিভিন্ন দেশের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে দুর্নীতির অনুসন্ধানকারী গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পোরেশনের তথ্যের বরাত দিয়ে এ প্রতিবেদন করা হয়।

দুদকসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি আত্মসাৎ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা রোসাটম মালয়েশিয়ার একটি ব্যাংকের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে এ অর্থ আত্মসাতের সুযোগ করে দেয়। যাতে মধ্যস্থতা করেন ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক। দেশের সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। আশা করা হচ্ছে, এটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের পর দেশের ২০ শতাংশ বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করবে।

এতে বলা হয়, রাশিয়ার সহযোগিতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণে খরচ ধরা হয় এক হাজার ২৬৫ কোটি ডলার। প্রয়োজনের তুলনায় যা অনেক বেশি। যাতে মালয়েশিয়ার একটি ব্যাংকের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে এই বাজেট থেকে ৫০০ কোটি ডলার আত্মসাতের সুযোগ করে দেয় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা রোসাটম। নিজের ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকের মধ্যস্থতায় রাশিয়ার সঙ্গে এ চুক্তি করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এ মধ্যস্থতার বিনিময়ে পাচার করা অর্থের ৩০ শতাংশ পেয়েছেন টিউলিপ সিদ্দিক, শেখ রেহানা ও পরিবারের কয়েকজন সদস্য।

২০১৩ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শেখ হাসিনার সাক্ষাতের সময় সঙ্গী ছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক। গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পের দাবি, সে সময় ঢাকা-মস্কোর বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তির মধ্যস্থতাও করেন তিনি। ২০০৯ সালে ‘প্রচ্ছায়া লিমিটেড’ নামে একটি ভুয়া কোম্পানি চালু করেন টিউলিপ সিদ্দিক, তার মা শেখ রেহানা ও চাচা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক। যুক্তরাষ্ট্রেও জুমানা ইনভেস্টমেন্ট নামে একটি কোম্পানি রয়েছে তাদের।

গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পের অভিযোগ, এ কোম্পানির মাধ্যমেই বিভিন্ন দেশের অফশোর অ্যাকাউন্টে অর্থ পাচার করতেন শেখ হাসিনা। তাদের এ কোম্পানিটি ডেসটিনি গ্রুপ নামে একটি চিটিং ফান্ড কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার পাচার করেছে।




দেশে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান

দেশে এসে পৌঁছেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান।

আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান এসে পৌঁছায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ও পরমাণু বিজ্ঞানী ড. মো. শৌকত আকবর।

তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে আরও পাঁচটি চালান দেশে আসবে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান ঢাকায় পৌঁছায় ২৮ সেপ্টেম্বর। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুরে নেওয়া হয়। রাশিয়ার একটি কারখানা থেকে একটি বিশেষ বিমানে করে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পারমাণবিক জ্বালানির এই চালান আনা হয়। রাশিয়ার নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে (এনসিসিপি) এই জ্বালানি উৎপাদিত হয়। রূপপুরের জ্বালানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চুক্তিবদ্ধ রয়েছে রোসাটম।

প্রথম দফায় আসা ইউরেনিয়াম আজ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। এর মধ্যে দিয়ে নিউক্লিয়ার ক্লাবের ৩৩তম সদস্য দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।




২০২৫ সালে রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ পাবেন গ্রাহকরা

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পরীক্ষামূলক উৎপাদনে শুরু হচ্ছে। তবে এই ইউনিটে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে ২০২৫ সালের শুরুতে। গ্রাহকরা ২০২৫ সালে এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পেতে শুরু করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বুধবার (৪ অক্টোবর) প্রকল্প পরিদর্শনে এসে এক ব্রিফিংয়ে প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হবে। এর প্রায় ১০ মাস পর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাবে।

প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে শৌকত আকবর জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের সামগ্রিক কাজের প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৭০ শতাংশ। তবে প্রকল্পের কাজ যেভাবে এগিয়েছে, সেভাবে এগোয়নি সঞ্চালন লাইনের কাজ। গ্রিড লাইন নির্মাণে সব মন্ত্রণালয় কাজ করছে, বিষয়টি কো-অর্ডিনেট করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

তিনি আরও জানান, নিউক্লিয়ার জ্বালানি আসার পরই রূপপুর পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশ এখন নিউক্লিয়ার ক্লাবের ৩৩তম সদস্য হতে যাচ্ছে।

এদিন ব্রিফিংয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, ২০২৫ সালের শুরুতে রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ পাবে দেশের জনগণ। সঞ্চালন লাইনসহ অন্যান্য অবকাঠামো তৈরি হওয়ার পরই পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হবে। উত্তরবঙ্গের পিছিয়ে পড়া জনগণ এই প্রকল্প থেকে উপকৃত হবেন। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি জিডিপিতে ২ শতাংশ অবদান রাখবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আসার মধ্য দিয়ে পারমাণবিক স্থাপনার স্বীকৃতি পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এটোমিক এনার্জি কমিশনের (আইএইএ) গভর্নিং বডির সদস্য নির্বাচিত হয়েছে।

একটি নিউক্লিয়ার প্লান্ট নির্মাণে সাধারণত ১২-১৫ বছর সময় লাগে উল্লেখ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, সেই বিবেচনায় মাত্র ৭-৮ বছরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ একটা মাইলফলক। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ‘ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ বা ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান আসে। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের কাছে এই ইউরেনিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করবেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সিই লিখাচেভ। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি।




দেশে পৌঁছেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান

দেশে পৌঁছেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশে পৌঁছায় ইউরেনিয়ামের এই চালানটি।

বৃহস্পতিবার রাশিয়ার একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তেজস্ক্রিয় এ জ্বালানি দেশে আনা হয়েছে। রূপপুরের প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা— রোসাটম এ তথ্য জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক গাইডলাইন মেনে এবং সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রস্তুত করার পর ইউরোনিয়ামের এই চালান প্রকল্প এলাকায় নিয়ে যাওয়া হবে।

পাবনার রূপপুরে বাংলাদেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে রাশিয়ার সহায়তায়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি কমিশন।

২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুই ইউনিট মিলিয়ে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরেই প্রথম ইউনিটের উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যে কাজ চলছে।

এর আগে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা মোতাবেক কাজ এগিয়ে নেওয়ায় পারমাণবিক জ্বালানি পাওয়ার সব ধাপ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

আইএইএর নির্দেশনা অনুযায়ী শর্ত পূরণ করায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি অথরিটি গত ১৩ জুলাই বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনকে (বিএইসি) পারমাণবিক জ্বালানি আমদানি ও সংরক্ষণের লাইসেন্স দেয়।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে রুশ প্রতিষ্ঠান বাররুস প্রজেক্ট এলসিসিকে।

রূপপুরে বর্তমানে সাড়ে চার হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন। তাদের অধিকাংশই রাশিয়ার নাগরিক। এ ছাড়া ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, ভারতেরও কিছু দক্ষ প্রকৌশলী আছেন রূপপুর প্রকল্পে। বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দেশের ১ হাজার ৪২৪ জনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধাপে ধাপে তাদের রাশিয়া পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।




রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে স্থাপিত হলো বিশেষ ক্রেন

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে সম্প্রতি ট্রেসেল ক্রেন স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ক্রেনটি স্থাপিত হয়েছে +৪৭.৫০ মিটার এলিভেশনে।

২২৫ টন ওজনের এই ক্রেনটি রাশিয়ায় তৈরির পর এটিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সাইটে আনা হয়। ক্রেনের অংশগুলো সংযোজনের কাজ সম্পন্ন করা হয় প্রকল্প সাইটেই।

শনিবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার রসাটম কর্তৃক পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিষ্ঠানটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং রূপপুর এনপিপি নির্মাণ কাজের পরিচালক আলেক্সি দেইরি জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চলাকালীন অত্যন্ত ভারী যন্ত্রপাতি এবং জ্বালানির লোডিং-রিলোডিংয়ের জন্য এটি ব্যবহৃত হবে।

প্রসঙ্গত, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জেনারেল ডিজাইনার ও ঠিকাদার রাশিয়ার রসাটম করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা। প্রকল্পটিতে দুটি ইউনিট স্থাপিত হবে, প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। প্রতিটি ইউনিটে থাকছে ৩+ প্রজন্মের রুশ ভিভিইআর রিয়্যাক্টর, যেগুলো সব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে সক্ষম। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে রাশিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের জন্য ফ্রেশ পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।




জ্বালানি লোড-আনলোডের জন্য স্থাপিত হলো ট্রান্সপোর্ট লক

পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের রিয়্যাক্টর ভবনে স্থাপন করা হয়েছে ট্রান্সপোর্ট লক। এর সাহায্যে রিয়্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি লোড-আনলোড করা হবে। এই লকের সাহায্যেই স্টার্টআপ পর্যায়ে ফুয়েল সিম্যুলেটর সরবরাহ এবং রিয়্যাক্টরের রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রোসাটম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ট্রান্সপোর্ট লকের দৈর্ঘ্য ১২ দশমিক ৭০ মিটার, প্রস্থ ১০ মিটার এবং এর পুরো ওজন ২৩৫ টন। প্রকল্প সাইটে এটি অন্যতম বৃহত্তম ইকুইপমেন্ট।

রূপপুর কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক আলেক্সি দেইরি এই ট্রান্সপোর্ট লক ডিজাইন পজিশনে স্থাপনকে রিয়্যাক্টর কম্পার্টমেন্ট বিল্ডিং-এর সিভিল ওয়ার্কস সম্পন্নের পথে ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী ধাপে প্রথম ইউনিটের ডোমে জ্যাকেটিং কার্য সম্পাদনের পর ট্রান্সপোর্ট লকের সংযোজন ও অ্যাডজাস্টমেন্ট করা হবে।

প্রসঙ্গত, রূপপুরে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ভিভিআর-প্রযুক্তির রিয়্যাক্টরের দুটি ইউনিট তৈরি হবে। আগামী ২০২৩ সালে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিট চালু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের আয়ুকাল ৬০ বছর ধরা হয়েছে, যা আরও ২০ বছর বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।