১০ হাজার দক্ষ শ্রমিক তৈরি করবে রিহ্যাব

আবাসন খাতে নতুন করে আরও ১০ হাজার উচ্চতর দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্কিলস্ ফর ইন্ডাস্ট্রি কমপিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রামের (সিসিপ) সাথে চুক্তি সাক্ষর করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।

আজ (মঙ্গলবার) সকালে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। রিহ্যাবের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট মো. ওয়াহিদুজ্জামান ও সিসিপের পক্ষে স্বাক্ষর করেন নির্বাহী প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন।

এ সময় রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূইয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ ইঞ্জি. আব্দুল লতিফ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফাইন্যান্স) আব্দুর রাজ্জাক ও এসইআইপি-রিহ্যাব প্রকল্পের চিফ কো-অর্ডিনেটর কাজী আবুল কাশেমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট মো. ওয়াহিদুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, এর আগে রিহ্যাব দেশের বিভিন্ন ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের মাধ্যমে প্রায় ২১ হাজার নির্মাণ শ্রমিককে সফলভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। যাদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানিসহ বিদেশে চাকরি করছেন এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

অন্যদিকে সিসিপ-এর নির্বাহী প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন বলেন, রিহ্যাব এর আগে প্রায় ২১ হাজার প্রশিক্ষনার্থীদের দক্ষতার সাথে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণের মান খুবই সন্তোষজনক। এই প্রশিক্ষণে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল অভূতপূর্ব। আগামীতে রিহ্যাব নির্মাণ খাতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদানে ব্যাপক অবদান রাখবে এমন প্রত্যাশার কথা তিনি ব্যাক্ত করেন।

রিহ্যাব জানায়, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রশিক্ষণার্থীদের এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে। ইলেকট্রিক্যাল ইন্সটলেশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স, প্ল্যাম্বিং এ্যান্ড পাইপ ফিটিংস, মেশিনারি অ্যান্ড স্টিল বাইন্ডিং, টাইলস অ্যান্ড মার্বেল ওয়ার্কস – এই ৪টি ট্রেডে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের মেয়াদ হবে চার মাস। প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের দেশে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে।




বিনা প্রশ্নে কালো টাকা সাদার সুযোগ সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত: রিহ্যাব

অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা প্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়াকে বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।

সংগঠনটির মতে, প্রস্তাবিত বাজেটের এ সিদ্ধান্তের ফলে আবাসন খাতে বিনিয়োগ আসবে, রাজস্ব বাড়বে সরকারের।

রোববার (৯ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ঘোষিত জাতীয় বাজেট ২০২৪-২৫’ সম্পর্কিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান রিহ্যাব সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের প্রথম সহ-সভাপতি লায়ন এম এ আউয়াল, সহ-সভাপতি প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ এবং সহ-সভাপতি (অর্থ) আব্দুর রাজ্জাক।

রিহ্যাব সভাপতি বলেন, জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের আগে রিহ্যাব থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সরকারের কাছে বাজেট সংক্রান্ত দাবি তুলে ধরা হয়। এসব দাবি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বৈঠক হয়েছে। গণমাধ্যমে আমাদের দাবি এবং প্রস্তাবগুলো নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। রিহ্যাবের বাজেট প্রস্তাবনায় আমরা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা প্রশ্নে বিনিয়োগের সুযাগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলাম।

তিনি বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছর বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ থাকায় ২০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অর্থনীতির মূল ধারায় এসেছে। দুই হজার কোটি টাকার রাজস্ব পেয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখায় আমরা প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই। বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

ওয়াহিদুজ্জামান আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। আমরা রিয়েল এস্টেট খাত থেকে রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি পরিবর্তনের অনুরোধ করবো। বর্তমানে ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন ব্যয় অত্যধিক।

তিনি বলেন, এর মধ্যে গেইন ট্যাক্স ৮ শতাংশ, স্ট্যাম্প ফি দেড় শতাংশ, রেজিস্ট্রেশন ফি এক শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর ২ শতাংশ, এমআইটি ৫ শতাংশ, মূল্য সংযোজন কর সাড়ে ৪ শতাংশ মিলিয়ে মোট ২২ শতাংশ রেজিস্ট্রেশন খরচ। এর সঙ্গে যদি করপোরেট ট্যাক্স যোগ করা হয় তাহলে রেজিস্ট্রেশনের খরচ হয় ৩০ শতাংশ। এই রেজিস্ট্রেশন খরচ সব মিলিয়ে ৭ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি। এর আগেও রেজিস্ট্রেশন ব্যয় কমানোর প্রস্তাব দিয়েছি আমরা।

রিহ্যাব সভাপতি আরও বলেন, রেজিস্ট্রেশন ব্যয় কম হলে ক্রেতারা জমির সঠিক মূল্য দেখাতে উৎসাহিত হবেন। ফলে অপ্রদর্শিত অর্থ তৈরি হওয়া স্বাভাবিকভাবে কমে আসবে। দেশের অর্থনীতিতে বিপুল পরিমাণ অপ্রদর্শিত অর্থ রয়েছে, সে জন্য অনেকাংশে দায়ী এই বড় অংকের নিবন্ধন ব্যয়। এই রেজিস্ট্রেশন ব্যয় সার্কভুক্ত দেশ এমনকি বিশ্বের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি, যা আমরা আগেও বলেছি। উচ্চ নিবন্ধন ব্যয়ের কারণে অনেকে নিবন্ধন ছাড়াই ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন, যা পরে আইনি সমস্যা তৈরি করবে। আমাদের দাবি, রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) ব্যয় কমানো হোক। নিবন্ধন ব্যয় কমালে রাজস্ব আয় কমবে না, বরং আরও বাড়বে।




রিহ্যাব নির্বাচন ২৭ ফেব্রুয়ারি

আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (রিহ্যাব) ২০২৪-২০২৬ মেয়াদি দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের ভোট আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

 

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রিহ্যাবের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

রিহ্যাব জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত ভেন্যু ফার্মগেট কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) -এ বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচনে ঢাকার ২৯ পরিচালক পদের বিপরীতে লড়ছেন ৮৬ জন প্রার্থী।

 

আর চট্টগ্রামের তিনটি পরিচালক পদের বিপরীতে প্রার্থী আছেন ৭ জন। সদস্যদের মধ্য থেকে মোট ভোটার হয়েছেন ৪৭৬ জন।




বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ চায় রিহ্যাব

আগামী ১০ বছরের জন্য বিনা প্রশ্নে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল (রিহ্যাব)। পাশাপাশি সংগঠনটি ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন না করারও আহ্বান জানিয়েছে।

রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। সভায় আরও কয়েকটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এরমধ্যে দূষণরোধ ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে পরিবেশ সারচার্জ বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়েছে ইনস্টিটিউট অব চার্টাড সেক্রেটারিস অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি)। পাশাপাশি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ও রাজস্ব আদায় বাড়াতে কর অব্যাহতি নীতিমালা প্রণয়ন, রিটার্ন প্রদান সহজীকরণে মোবাইল অ্যাপের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র ঠিক মতো সংগৃহীত হচ্ছে কি না তা কঠোরভাবে নজরদারি করা, ব্যক্তির অর্জিত ডিভিড্যান্ড আয়ের ওপর ট্যাক্স শূন্য করা, নিট পরিসম্পদের মূল্যমান ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত সারচার্জহার শূন্য করা ইত্যাদি।

অন্যদিকে সরবরাহ বিক্রির ওপর উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ রেডিমেইড মিক্স কনক্রিট অ্যাসোসিয়েশন। সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকারে কাস্টমস ডিউটি ৭০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশে সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সভায় রিহ্যাবের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, অর্থপাচার কমাতে ও সরকারের রাজস্ব বাড়াতে কোনো প্রকার প্রশ্ন না করা সংক্রান্ত আগের যে সুবিধাটি ছিল, তা বহাল করা প্রয়োজন।

বিদেশে অনেকেই সেকেন্ড হোম করছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রচুর অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। ওইসব দেশের ফ্ল্যাট-অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ে অর্থের উৎসের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় না। অপ্রদর্শিত অর্থ দেশে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়ার ফলে ভবিষ্যতে ওই সব বিনিয়োগকারী করের আওতায় চলে আসবে, যা সরকারের রাজস্ব বাড়াতে সহায়তা করবে। এসময় তিনি ফ্ল্যাট ও প্লট রেজিস্ট্রেশনে বিদ্যমান ফি ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাত শতাংশ নামানোসহ আটটি প্রস্তাব তুলে ধরেন।

নির্মাণশিল্পের উন্নয়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কাজ করছে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রাহমাতুল মুমিন।

তিনি বলেন, সংগঠনগুলোর প্রস্তাবগুলো আমরা আমলে নেবো। রাষ্ট্র ও শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আপনাদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় রাখবো।




রিহ্যাবে প্রশাসক নিয়োগ দিলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশে (রিহ্যাব) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জান্নাতুল ফেরদৌসকে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা দিয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশে রিহ্যাবের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনাসহ কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাণিজ্য সংগঠন আইন অনুসারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জান্নাতুল ফেরদৌসকে প্রশাসক নিয়োগ করা হলো। প্রশাসক যথাসময়ে রিহ্যাবের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করবেন। তারপর নির্বাচিত কমিটির নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন তিনি।

গত মাসে রিহ্যাবের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর এই কমিটির মেয়াদ ৫ মাস বৃদ্ধি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে মামলা করেন রিহ্যাবের এক সদস্য। উচ্চ আদালত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তটি তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরে ১৩ নভেম্বর চেম্বার জজ আদালত নির্দেশ দেন, তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। আইন অনুযায়ী বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালককে এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।