অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ৩ পরামর্শ আইএমএফের, বাড়বে রিজার্ভ

 

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করতে এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিতে তিন দফা সুপারিশ করেছে আইএমএফ। আর চলমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারলে আগামী দিনে রিজার্ভ বাড়তে শুরু করবে। ফলে চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ রিজার্ভ চার মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান হতে পারে।

আইএমএফের সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে-মুদ্রানীতিকে আরও কঠোর ও সংস্কার করা, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারকে আরও নমনীয় করা এবং নিরপেক্ষ রাজস্ব নীতি অনুসরণ করতে হবে।

আইএমএফ-এর ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ বাবদ ৬৮ কোটি ২০ লাখ ডলার ছাড় করার প্রস্তাব অনুমোদনের পর সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদ এসব সুপারিশ করেছে।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) প্রতিবেদনটি আইএমএফর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।

জানুয়ারিতে আইএমএফ’র নির্বাহী পর্ষদ বাংলাদেশের অনুকূলে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করে। ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ প্রথম কিস্তি বাবদ ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার পায়। দ্বিতীয় কিস্তি বাবদ ৬৮ কোটি ২০ লাখ ডলার ছাড় করার প্রস্তাব মঙ্গলবার আইএমএফ-এর নির্বাহী বোর্ড অনুমোদন করেছে।

আইএমএফ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একাধিক ধাক্কা লেগেছে। এর প্রভাবে অর্থনীতি বহুপাক্ষিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগোতে হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে তিন দফা পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়ক হবে।

এক.
মুদ্রানীতিকে আরও সংকোচনমুখী ও সংস্কার করতে হবে। একইভাবে এ প্রক্রিয়ায় সতর্ক থাকতে হবে।

দুই.
সহায়ক ও নিরপেক্ষ রাজস্ব নীতি অনুসরণ করতে হবে।

তিন.
ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারকে আরও উন্মুক্ত করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আমদানিতে কঠোরতা আরোপ করার ফলে আমদানি ব্যয় কমেছে। গৃহীত পদক্ষেপের ফলে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। এতে চলতি হিসাবের ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে আগামী দিনে রিজার্ভ বাড়তে শুরু করবে।

চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ রিজার্ভ চার মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান হতে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির হার কমে আসবে। জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বৃত্ত অতিক্রম করে ৭ শতাংশের বৃত্তে প্রবেশ করবে।

এতে বলা হয়, মুদ্রানীতিতে আরও সংকোচনমুখী করলে মূল্যস্ফীতির হার কমবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতির প্রভাব জোরদার হবে। ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ধাপে ধাপে নমনীয় করলে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়াতে সহায়ক হবে। এতে ডলারের প্রবাহ বাড়বে। অর্থনীতিতে বহুপাক্ষিক ধাক্কা মোকাবিলায় এটি জরুরি বলে মনে করে আইএমএফ।

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমতির দিকে থাকলেও রপ্তানি ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

সংস্থাটির মতে, অর্থনৈতিক মন্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দুর্বল শ্রেণির জন্য এখন সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধিসহায়ক বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে করনীতি সংশোধন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কর-রাজস্ব বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে। ভর্তুকির যৌক্তিকীকরণ, ব্যয় করার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আরও দক্ষতার সঙ্গে আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

দেশের অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়ছে। এতে অর্থায়নের চাহিদাও বেশি। এ কারণে আর্থিক খাতের সংস্কার জরুরি। ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি কমাতে সরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমানোর পাশাপাশি মূলধন পুনরুদ্ধারে বিশেষ কৌশল প্রণয়ন করতে বলেছে সংস্থাটি।

আইএমএফ পর্ষদ এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে, ব্যাংক খাতের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো জোরদার করা, শাসনব্যবস্থার উন্নতি ও শেয়ারবাজারের উন্নয়ন করা গেলে আর্থিক খাতের দক্ষতা বাড়বে এবং উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ খাতে তারা জোর দিতে বলেছে।




পোশাক রপ্তানি বাড়লেও কমেছে তুলা আমদানি

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তুলা আমদানি কমেছে ২৯ শতাংশ। হঠাৎ করে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ বাড়লে সংকট তৈরির আশঙ্কা বস্ত্রকলমালিকদের।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও দেশে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেও ২০২২-২৩ অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১০ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। যদিও এই সময়ে পোশাকের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল তুলার আমদানি কমেছে ২৯ শতাংশ।

গত জানুয়ারি থেকে জুন—এই সময়কালে দেশের বস্ত্রকলগুলো ১৭ হাজার কোটি টাকার ৬ লাখ ৩২ হাজার টন তুলা আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৮ লাখ ৯১ হাজার টন তুলা। যদিও গত বছর শেষে তুলা আমদানি দাঁড়িয়েছিল ১৮ লাখ টনে। তাতে ব্যয় হয়েছিল ৪৭ হাজার কোটি টাকা।

পোশাক রপ্তানি বাড়ল আর তুলার আমদানি কমল—এমন বৈপরীত্যের বিষয়ে বস্ত্র খাতের কয়েকজন উদ্যোক্তা জানান, গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ কমেছে। তার প্রভাব বস্ত্র খাতে পড়েছে। এমনও হয়েছে, যেটুকু ক্রয়াদেশ ছিল সেটুকুও গ্যাস-সংকটের কারণে সময়মতো দেওয়া যায়নি। অন্যদিকে গত বছর বিপুল পরিমাণ তুলা আমদানি হয়। যেহেতু গ্যাস, ডলার ও ক্রয়াদেশ-সংকট ছিল, তাই অনেক স্পিনিং মিল বেশি তুলা আমদানির ঝুঁকি নেয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ বাড়লে সুতার সংকট দেখা দিতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা জানান উদ্যোক্তারা। তাঁরা বলছেন, তুলা আমদানির জন্য বুকিং দিলে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগে। আবার ডলার-সংকটের কারণে তুলা আমদানির ঋণপত্র খুলতে অনেক প্রতিষ্ঠানের বেগ পেতে হচ্ছে।

আমদানি করা তুলা দিয়ে স্পিনিং মিলগুলো সুতা তৈরি করে। সেই সুতায় উৎপাদিত কাপড় দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হয়।

বস্ত্রকলমালিকদের সংগঠন বিটিএমএর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী নিট পোশাক কারখানার চাহিদার ৮০ শতাংশ সুতার জোগান দেয় দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো। ওভেন পোশাক কারখানার ক্ষেত্রে সেটি ৩৫-৪০ শতাংশ। দেশে বর্তমানে সুতার কল আছে ৫১০টি। সেগুলোর সুতা উৎপাদনের ক্ষমতা বছরে ৩৮০ কোটি কেজি।

বিটিএমএ জানায়, করোনাকালেও দেশে তুলা আমদানি কমেনি। ২০১৯ সালে ১৫ লাখ ৫৪ হাজার টন তুলা আমদানি হয়। পরের বছর করোনার মধ্যেও আগের বছরের চেয়ে তিন হাজার টন বেশি তুলা আমদানি হয়। ২০২১ সালে তৈরি পোশাকের রপ্তানি ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়ালে ১৯ লাখ ৭৯ হাজার টন তুলা আমদানি হয়। ২০২২ সালে আমদানি হয় ১৮ লাখ টন তুলা।

বাংলাদেশে আমদানি হওয়া তুলার ৪৩ শতাংশ আফ্রিকা থেকে আসে। একক দেশ হিসেবে ভারত থেকে আসে ২০ শতাংশ তুলা। গত বছর ৮১ লাখ বেল তুলা আমদানি হয়। তার মধ্যে আফ্রিকা থেকে সাড়ে ৩৫ লাখ বেল, ভারত থেকে ১৬ লাখ, ব্রাজিল থেকে ১৩ লাখ এবং বেনিন থেকে ১১ লাখ ৫১ হাজার বেল তুলা আমদানি হয়েছে।

লিটল গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, গ্যাস-সংকটের কারণে উৎপাদন সক্ষমতার দুই-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করতে না পারায় গুদামে তুলা পড়ে আছে। বর্তমানে গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি অনুযায়ী যদি উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেক ব্যবহার করি, তাহলে মজুতকৃত তুলায় ছয় মাস চলবে। আর পুরো সক্ষমতায় চললে তিন মাস।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে খোরশেদ আলম বলেন, গত মাসের তুলনায় নতুন ক্রয়াদেশের অনুসন্ধানের হার বাড়ছে। গুদামে থাকা সুতা বিক্রি বেড়েছে। সামনের দিনে ক্রয়াদেশ বাড়লে তুলা আমদানি নিয়ে সমস্যা হবে না।

এদিকে তুলার পাশাপাশি সুতা আমদানিও কমেছে। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে যথাক্রমে ৭ লাখ ১৪ হাজার ও ৬ লাখ ৪৫ হাজার টন সুতা আমদানি হয়। করোনার বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে আমদানি হয় ৬ লাখ ৫৩ হাজার টন সুতা। পরের বছর তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ বাড়লে সুতা আমদানিও বেড়ে ১০ লাখ ৭৪ হাজার টন হয়। সর্বশেষ গত বছর ৩৯ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকার ১০ লাখ ২৮ হাজার টন সুতা আমদানি হয়।

বিটিএমএ বলছে, এ বছরের প্রথমার্ধে সুতা আমদানি কমেছে ৩৬ শতাংশ। গত জানুয়ারি-জুন সময়ে ৪ লাখ ১৩ হাজার টন সুতা আমদানি হয়। গত বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৬ লাখ ৪৮ হাজার টন সুতা। তার মানে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সুতা আমদানি কমেছে ২ লাখ ৩৫ হাজার টন।

বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্ম্মদ আলী বলেন, বস্ত্রকলগুলোতে উৎপাদন বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট সমাধানের কোনো লক্ষণ নেই। এ জন্য অধিকাংশ কারখানা উৎপাদন সক্ষমতার ৪০-৫০ শতাংশের বেশি ব্যবহার করতে পারছে না। আবার ডলার-সংকটও কাটেনি। এরই মধ্যে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের আকার (ইডিএফ) কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে তুলা আমদানির এলসি খুলতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। এখন হঠাৎ করে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ বাড়লে তুলা ও সুতার জোগানে কিছুটা সমস্যা হলেও হতে পারে।




নতুন রাষ্ট্রপতিকে ডিএসইর শুভেচ্ছা

নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ায় মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

সোমবার (২৪ এপ্রিল) সরকারের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু। ডিএসই থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অভিনন্দন বার্তায় ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি এক সংকটময় পরিস্থিতি পার করছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তবে অসীম সাহসী ও দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সব চ্যালেঞ্জকে সুযোগে পরিণত করে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি একের পর এক রচিত হচ্ছে উন্নয়নের সাফল্যগাথা। এমন এক সময়ে আপনার দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার ও ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্ঠা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্ভাবনী চিন্তা-চেতনা বাস্তবায়নে একজন যোগ্য ব্যক্তিত্বকেই নির্বাচিত করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি।

তিনি বলেন, আপনার দীর্ঘ কর্মময় ও রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে দেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তি হিসেবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ও প্রধানমন্ত্রীর অনবদ্য জয়যাত্রায় নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আপনার সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে বলে বিশ্বাস করি। আমরা নিশ্চিত, আপনার সফল নেতৃত্ব, প্রজ্ঞা এবং দিকনির্দেশনায় সব ক্ষেত্রে আগামীতে আরও বেশি সফলতা অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হবে।




রমজান সামনে রেখে স্বস্তি রেমিট্যান্সে

করোনার পরে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিলো। এরপরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে দেশেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা দেয়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রায় ২০০ কোটি ডলার আসায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিলো। তবে সেই ধারা অব্যহত থাকেনি ফেব্রুয়ারিতে। কমতে থাকে প্রবাসী আয়। তবে রমজান সামনে রেখে স্বস্তি দিচ্ছে রেমিট্যান্স। চলতি মাসের প্রথম ১৭ দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছে ১১৬ কোটি ৪১ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, মার্চ মাসের প্রথম ১৭ দিনে মোট ১১৬ কোটি ৪১ লাখ মার্কিন ডলার এসেছে দেশে। এর মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৪ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ২ কোটি ৫২ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ৯৮ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সাথে হুন্ডি বা অন্য কোনো অবৈধ পথে রেমিট্যান্স না পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা বিএফআইইউ। তবে আগামীতে দুইটি বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা রয়েছে। এ কারনে রেমিট্যান্স বেশি পরিমাণ আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে ডলার সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের ৮ মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার বিক্রি করেছে। দেশের ইতিহাসে পুরো অর্থবছরেও রিজার্ভ থেকে এতো পরিমাণ ডলার বিক্রি হয়নি। মূলত জরুরি আমদানির দায় মেটাতে রিজার্ভ থেকে এসব ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই ও আগস্ট) টানা দুই বিলিয়ন ডলার করে রেমিট্যান্স এসেছিল। এর পরের মাস সেপ্টেম্বর থেকে টানা পাঁচ মাস দেড় বিলিয়ন ডলারের ঘরেই থেমে যায়। অর্থবছরের প্রথম মাসে (জুলাই) এসেছিল ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার, আগস্টে এসেছিল ২০৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলার।

দুই মাস দুই বিলিয়ন ডলার করে এলেও পরের মাস থেকে কমতে থাকে রেমিট্যান্স প্রবাহ যা দেড় বিলিয়ন বা তার কাছাকাছি চলে আসে। সেপ্টেম্বরে এসেছিল ১৫৩ কোটি ৯৬ লাখ মার্কিন ডলার, অক্টোবরে ১৫২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে প্রায় ১৭০ কোটি ডলার বা ১৬৯ কোটি ৯৬ লাখ মার্কিন ডলার। জানুয়ারি মাসে এসেছে ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ মার্কিন ডলার। আর ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসীরা ১৫৬ কোটি ১২ লাখ ডলার পাঠায়।

গত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ (২১.০৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। এটি তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ কম। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ (২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল।