রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে এলো আরও ৩১ হাজার ৩০০ টন কয়লা

বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৩১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরে পৌঁছেছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি বসুন্ধরা ইমপ্রেস। শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টায় বন্দরের হাড়বাড়িয়া-১১ নম্বরে নোঙর করেছে জাহাজটি।

ইতোমধ্যে জাহাজ থেকে কয়লা খালাস শুরু হয়েছে। খালাস শেষে লাইটার জাহাজে করে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে নেওয়া হবে।

এর আগে, গত ৪ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার মুয়ারা পাত্তাই বন্দর থেকে ৪৯ হাজার ৭০০ মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে ছেড়ে আসে বানিজ্যিক জাহাজ এমভি বসুন্ধরা ইমপ্রেস। সেখান থেকে প্রথমে ১৮ হাজার ৪০০ মেট্রিকটন কয়লা চট্রগ্রাম বন্দরে খালাস করা হয়। পরে অবশিষ্ট কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরে আসে জাহাজটি।

জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট টগি শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিক লিমিটেড, খুলনার সহকারী ব্যবস্থাপক খন্দকার রিয়াজুল হক বলেন, কয়লা খালাস শুরু হয়েছে। খালাস শেষে এই কয়লা লাইটার জাহাজে করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটিতে নিয়ে সেখান থেকে কয়লা ইয়ার্ডে রাখা হবে।

এর আগে গেল ১০ সেপ্টেম্বর রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ২৯ হাজার ৬৩০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরে পৌঁছে এমভি জেইল অব শহর নামক একটি বাণিজ্যিক জাহাজ।




ফের উৎপাদনে গেল রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকা রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে তিন দিন পর আবারও উৎপাদন শুরু হয়েছে। ত্রুটি কাটিয়ে সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে উৎপাদন শুরু হয়। উৎপাদনে যাওয়ার পর ২৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে।

বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোহাম্মাদ আনোয়ারুল আজিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ১৪ সেপ্টম্বর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় কেন্দ্রটির।

ডিজিএম আনোয়ারুল আজীম বলেন, সন্ধ্যা ৭টা থেকে ফের উৎপাদন শুরু হয়েছে রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। সন্ধ্যা থেকে উৎপাদিত ২৬০ মেগাওয়াট যুক্ত হয়েছে জাতীয় গ্রিডে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর উৎপাদন শুরুর পর প্রথম ১৪ জানুয়ারি, এরপর ১৫ এপ্রিল, ২৩ এপ্রিল, ৩০ জুন, ১৬ জুলাই ৩০ জুলাই ও সবশেষ ১৫ সেপ্টেম্বর বন্ধ হয় এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।




কয়লা নিয়ে মোংলায় চীনা জাহাজ

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা চীনা পতাকাবাহী জাহাজ এম ভি জে হ্যায় মোংলা বন্দরে পৌঁছেছে। শনিবার (১০ জুন) ভোর ৫টার দিকে ২৬ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে জাহাজটি মোংলা বন্দরের হাড়বাড়ীয়ায় ভিড়েছে।

এর আগে ২১ মে মোংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে ছেড়ে আসে জাহাজটি। সকাল থেকেই এ জাহাজ থেকে কয়লা খালাস করে লাইটার বা কোস্টার জাহাজে করে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিজস্ব জেটিতে নেওয়া শুরু হয়েছে।

বিদেশি জাহাজ ‘জে হ্যায়’র স্থানীয় শিপিং এজেন্ট টগি শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিক লিমিটেডের খুলনার সহকারী ব্যবস্থাপক খন্দকার রিয়াজুল হক বলেন, কয়লা নিয়ে চীনের পতাকাবাহী জাহাজ এম ভি জে হ্যায় ভোর ৫টার দিকে বন্দরের পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়ীয়ার ১১ নম্বর অ্যাংকোরেজে ভিড়েছে। জাহাজ থেকে কয়লা খালাস ও পরিবহণের কাজ শুরু হয়েছে।

এর আগে গত ১৬ মে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এম.ভি বসুন্ধরা ইমপ্রেসে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ও ২৯ মে এম ভি বসুন্ধরা ম্যাজেস্টি জাহাজে ৩০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন কয়লা এসেছিল মোংলা বন্দর হয়ে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে।

এদিকে কয়লা সংকটের কারণে গত ৫ জুন পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ৯ জুন বাঁশখালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার দুঃসংবাদের মধ্যেই রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য সুখবর নিয়ে মোংলা বন্দরে ভিড়ে কয়লাবাহী জাহাজ এম ভি জে হ্যায়।




৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে মোংলায় আরও এক জাহাজ

বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে আরও একটি জাহাজ।

রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বন্দরের ফেয়ারওয়েতে ভারত-বাংলাদেশ নৌ প্রটোকলভুক্ত ‘এপিজে কাইস’ জাহাজে করে এই কয়লা আসে।

জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট টগি শিপিংয়ের খুলনার ব্যবস্থাপক মো. রিয়াজুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা নিয়ে জাহাজটি ১৬ ফেব্রুয়ারি মোংলা বন্দরে আসার কথা থাকলেও শিডিউল জটিলতার কারণে দুদিন পর আজ মোংলা বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়ায় জাহাজটি নোঙর করে। বিকেলে ছোট লাইটার জাহাজে খালাস প্রক্রিয়া শুরু করা হবে এবং এই কয়লা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছানো হবে।

আগামি ২৫ ফেব্রুয়ারি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আরও ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে আরও একটি জাহাজ মোংলা বন্দরে আসবে বলেও জানান তিনি।

মোংলা বন্দরের হারবার সূত্র জানায়, এপিজে কাইস জাহাজটি ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকলের বাল্ক কার্গো। এই কার্গোটি বিশেষভাবে শস্য, কয়লা এবং সিমেন্টের মত পণ্য পরিবহনের জন্য তৈরি করা। এতে পণ্য বোঝাইয়ের জটিলতায় পরিবর্তিত, পণ্যসম্ভার জাহাজে তোলা এবং খালাস করতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগে।

এদিকে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুই ইউনিটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হওয়ার ১০ বছর পর গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। কিন্তু কয়লার অভাবে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রেটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। মূলত ডলার সংকটে এলসি খুলতে না পারায় কয়লা আমদানিতে জটিলতা দেখা দেয়। এর জেরে কয়লার অভাব দেখা দেয়। পরে এই সমস্যার সমাধান হলে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ৩০ হাজার টন কয়লা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে এইটি জাহাজ মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে দিনে পাঁচ হাজার টন কয়লার প্রয়োজন হয়। সে হিসেবে এখন থেকে নিয়মিত কয়লা আসবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত থাকবে।