সেপ্টেম্বরে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি দুই শতাংশ

সমাপ্ত হওয়া সেপ্টেম্বরে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। যেখানে গত অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২৮ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে আদায় হয়েছে ২৯ হাজার হাজার কোটি টাকা। এ অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশ হওয়া আরেক পরিসংখ্যানে রাজস্ব আদায়ের এ চিত্র দেখা যায়। জুলাই ও আগস্টের শুরুতে সরকার পতনের আন্দোলন, আগস্টজুড়ে পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও ক্ষমতার পটপরিবর্তন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যকে ভুগিয়েছে।

সেপ্টেম্বরে যদিও ব্যবসা-বাণিজ্য কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। এ মাসে ১১ হাজার ২৪৭ কোটি টাকার শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৭ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা, ১৩ হাজার কোটি টাকা ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় ৯ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকা। আর ১৫ হাজার কোটি টাকার আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১১ হাজার ৭৪৮ কোটি টাকা।

আর অর্থবছরের তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের আলোচ্য সময়ে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক মিলিয়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৭৫ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরে তিন মাসের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা কম। আলোচ্য এসময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭০ হাজার ৯০২ কোটি টাকা।

এছাড়া গত অর্থবছরের তুলনায় এবার প্রথম প্রান্তিকে ৪ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় কম আদায় হয়েছে। একই সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৬ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ২৫ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা।




হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায় ৫৪১ কোটি টাকা

গত অর্থবছর (২০২২-২৩) ও চলতি (২০২৩-২৪) অর্থবছরের সাত মাসে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আমদানি হয়েছে ১২ লাখ ১৭ হাজার ৯৩৯ মেট্রিকটন ভারতীয় পণ্য। এ থেকে দুই অর্থবছরে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ৫৪১ কোটি ৩৯ লাখ ৩৬ হাজার ৯৫৫ টাকা।

শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিষয়টি জানিয়েছেন হিলি কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার মো. বায়জিদ হোসেন।

হিলি কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার মো. বায়জিদ হোসেন জানান, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে হিলি বন্দরে আমদানি হয়েছে ৭ লাখ ৮৮ হাজার ১৩৬ মেট্রিকটন ভারতীয় পণ্য। তা থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছেন ২৩৭ কোটি ৩৩ লাখ ৩২ হাজার ৯৫৬ টাকা। আবার চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ৪ লাখ ২৯ হাজার ৮০৭ মেট্রিকটন পণ্য। তা থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছেন ৩০৪ কোটি ৬ লাখ ৩ হাজার ৯১৯ টাকা।

তিনি আরও জানান, ভারত থেকে এই বন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক রয়েছে। আশা করছি আমদানি-রপ্তানি বাড়লে রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে।

 




চাহিদার চেয়ে বেশি পানি উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে ওয়াসার: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা মহানগরে ২৬০ কোটির লিটার পানির চাহিদা থাকলেও ঢাকা ওয়াসা এখন ২৭০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, চাহিদার চেয়ে বেশি পানি উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে ঢাকা ওয়াসার। পানির বিল এখন ১০০ শতাংশ আদায় করতে সক্ষম ওয়াসা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা ওয়াসার দাশেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের (পয়ঃশোধনাগার) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগারের শুভ উদ্বোধন করেছি, ইতিমধ্যে আরেকটি, পাগলা পয়ঃশোধনাগারের ভিত্তি স্থাপন করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত যখন ক্ষমতায়, তখন ঢাকা শহরে মাত্র ৬০ ভাগ মানুষ সুপেয় পানি পেত। সে সময় ঢাকার জনসংখ্যা ছিল এক কোটি বিশ লাখের মতো। পানি উৎপাদন হতো ১২০ কোটি লিটার। ঢাকা ওয়াসার পানির বিল মাত্র ৬৪ শতাংশ আদায় হতো। রাজস্ব আয় ছিল মাত্র ৩০০ কোটি টাকা।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতির জনকের হত্যাকাণ্ডের সময় আমি আর আমার ছোট বোন জার্মানিতে ছিলাম। মিলিটারি ডিক্টেটর আমাদের দেশে আসতে দেয়নি। ’৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে। আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণ এবং দলের নেতাকর্মীদের ওপর ভরসা করে আমি এক প্রকার জোর করে দেশে চলে আসি। তারপর থেকে শুরু হয় সংগ্রাম।

 

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত না থাকলে কোনো দেশের উন্নতি হয় না। পৃথিবীর কোনো দেশে মিলিটারি ডিক্টেটর উন্নতি করতে পারে না, এটা হলো বাস্তবতা। ২১ বছর সংগ্রামের পর ’৯৬ সালে আমরা সরকারে আসি, মানুষের সুপেয় পানির চাহিদা মেটানোর জন্য প্রথম সায়েদাবাদ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণ করি। সেভাবে শুরু হয় আমাদের পথ চলা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়ান, ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অথোরিটির (ওয়াসা) ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইবরাহিম উপস্থিত ছিলেন।




  ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগ জুন পর্যন্ত শনিবার খোলা

রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে এখন থেকে জুন মাস পর্যন্ত শনিবারেও খোলা থাকবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) রাজস্ব বিভাগ।

রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে কর্পোরেশনের নগর ভবনের রাজস্ব বিভাগের সব দপ্তরসহ আঞ্চলিক কার্যালয় পর্যায়েও শনিবারেও রাজস্ব বিভাগের সব দপ্তর খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (৫ মে) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে ডিএসসিসির সচিব আকরামুজ্জামান এ বিষয়ে একটি দপ্তর আদেশ জারি করে বিষয়টি কার্যকর করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

সচিব আমরামুজ্জামান জানান, করদাতাদের হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ফি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন মার্কেটের দোকান ভাড়া ও সালামি, বিজ্ঞাপন কর ইত্যাদি পরিশোধের সুবিধার্থেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, চলতি মে মাস থেকে আগামী ২৪ জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যবর্তী সব শনিবার (সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের রাজস্ব বিভাগের সব দপ্তরসহ আঞ্চলিক কার্যালয় পর্যায়ে রাজস্ব বিভাগের সব দপ্তর খোলা থাকবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।