দুদকে আবেদন : পূর্বাচলে গোলাম দস্তগীরের বিরুদ্ধে ৫০০ প্লট আত্মসাতের অভিযোগ 

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে রূপগঞ্জের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বরাদ্দ পাওয়া পাঁচ শতাধিক প্লট আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, তাদের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ জব্দ এবং বিদেশযাত্রা বন্ধের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে এ আবেদন জমা দেওয়া হয়।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা নিজেদের, পরিবারের সদস্যদের ও আত্মীয়স্বজনের নামে পূর্বাচল প্রকল্পের সরকারি প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। এতে প্রকৃত ও যোগ্য আবেদনকারীরা বঞ্চিত হয়েছেন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগের প্রাথমিক তালিকায় সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী, তার এপিএস এমদাদুল হক দাদুল, আনছার আলী, সালাউদ্দিন চেয়ারম্যান, ফেরদৌসী আলম নীলা, ইমন হাসান খোকন ও আরমান মোল্লার নাম রয়েছে।

আবেদনে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে অনিয়মের মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া প্লট বাতিল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের ব্যাংক হিসাব, সম্পদ ও পাসপোর্ট জব্দের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিদেশযাত্রা বন্ধের ব্যবস্থাও চাওয়া হয়েছে।

রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে রূপগঞ্জের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের শত শত প্লট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের নামে বরাদ্দ নিয়েছেন। এ বিষয়ে দুদকে আবেদন করা হয়েছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভরসা হলো দুর্নীতি দমন কমিশন। আমরা চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে বরাদ্দ পাওয়া প্লটগুলো বাতিল করা হোক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা, তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ, বিদেশযাত্রা বন্ধ ও পাসপোর্ট জব্দ করার জন্যও আবেদন জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, তদন্তের মাধ্যমে যেসব প্লট অবৈধভাবে বরাদ্দ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেগুলো উদ্ধার করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও এখনো প্লট না পাওয়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পাবলিক প্রসিকিউটর) আবুল কালাম আজাদ জাকির বলেন, রূপগঞ্জে সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বরাদ্দ পাওয়া পাঁচ শতাধিক প্লট নিজেদের ও অন্যদের নামে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

আবুল কালাম আজাদ জাকির বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যের নজরে আসার পর তার নির্দেশনা ও পরামর্শে দুদক চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে দুর্নীতি ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, তাদের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দ করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এবং অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।




রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুরের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. ছিদ্দিকুর রহমান সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে এই মামলা করা হবে। মঙ্গলবার ১৬ (সেপ্টেম্বর) সংস্থার প্রধান কার্যালয় থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশনের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

রাজউক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের মাধ্যমে অজ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩৬ কোটি ১৫ লাখ ৯৭ হাজার ৬৮৫ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। এ ছাড়া নিজের নামে খোলা ৩৮টি ব্যাংক হিসাবে ৭৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৭ হাজার ৫২১ টাকা জমা ও ৭৫ কোটি ৬৫ লাখ ২৪ হাজার ৪৩৬ টাকা উত্তোলনসহ মোট ১৫১ কোটি ৩১ লাখ ২১ হাজার ৯৫৭ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন সম্পন্ন করেন।

এছাড়া সিদ্দিকুরের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ১৯টি ব্যাংক হিসাবে ১৩ কোটি ১৬ লাখ ৫৭ হাজার ৩৭ টাকা জমা ও ১৩ কোটি ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩৭ টাকা উত্তোলনসহ মোট ২৬ কোটি ২৭ লাখ ৫ হাজার ৬৭৪ টাকার লেনদেন হয়েছে। সব মিলিয়ে সিদ্দিকুর ও তার প্রতিষ্ঠানের নামে ১৭৭ কোটি ৫৮ লাখ ২৭ হাজার ৬৩১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত করেছে দুদক।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, এসব অর্থ-সম্পদের অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে তিনি রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং অপরাধে জড়িত।

এ ঘটনায় দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।




রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের অস্থাবর সম্পদ ফ্রিজ

দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় রাজধানীর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ – রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. ছিদ্দিকুর রহমান সরকার ও তার স্ত্রী গাজী রেবেকা রওশনের অস্থাবর সম্পদ ফ্রিজ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৯ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিন দুদকের পক্ষে সংস্থাটির পরিচালক আবুল হাসনাত সম্পদ ক্রোক চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ছিদ্দিকুরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে নিজ নামে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগটি অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র মোতাবেক জানা যায় অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মো. ছিদ্দিকুর রহমান সরকার ও তার স্ত্রী রেবেকার নামীয় সর্বমোট ১৩টি বিও অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, এফডিআর ও সঞ্চয়পত্রে বিপুল পরিমাণ অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের নামীয় অস্থাবর সম্পদগুলো থেকে টাকা উত্তোলন করতেন। বিদেশে পাচারের চেষ্টা করছেন বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে। তারা অর্থ বিদেশে পাচার করলে অনুসন্ধান কার্যক্রম দীর্ঘায়ত বা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মো. ছিদ্দিকুর রহমান সরকার ও তার স্ত্রী গাজী রেবেকা রওশনের অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধকরণ (ফ্রিজিং) করা প্রয়োজন।

 




নকশা না মানা ঢাকার ৩৩৮২ ভবনের অংশ ভাঙবে রাজউক

নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ঢাকায় নির্মাণাধীন ৩ হাজার ৩৮২টি ভবনের অবৈধ অংশ চিহ্নিত করে ভাঙা হবে, কাজগুলো শুরুও হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম।

সোমবার (২১ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত “সমস্যার নগরী ঢাকা : সমাধান কোন পথে?” শীর্ষক এক নগর সংলাপে তিনি এ কথা জানান।

রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, অবৈধ ভবনগুলোর কাজ স্থগিত রাখতে নির্দেশ দিয়ে পর্যায়ক্রমে ভবনগুলো আংশিক অংশ ভেঙে ফেলা হবে। প্রথম ধাপে সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ফৌজদারি মামলা দায়ের করা, নকশা বাতিল এবং প্রয়োজনে ভবনগুলো সিলগালা করা হবে।

তিনি জানান, রাজউক এলাকায় নির্মাণাধীন ৩ হাজার ৩৮২টি ভবন চিহ্নিত করেছি, যেগুলো নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে। এই ভবনগুলোর যেটুকু অংশেই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে, সেটুকু ভেঙে ফেলবো। আমি যতদিন দায়িত্বে আছি তারমধ্যে এই কাজ চালিয়েই যাবো। এগুলো ভেঙে হোক কিংবা অন্যভাবে হোক, তাদের নিয়মের মধ্যে আনবো। আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি।

 

নগর সরকার কিংবা এক ছাতার নিচে আনার মতো ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব উল্লেখ করে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ঢাকাকে এক আমব্রেলার নিচে না আনলে যত পরিকল্পনাই করা হোক না কেন কাজে আসবে না। সবকাজের সিদ্ধান্ত একটি জায়গা থেকে আসতে হবে। সেখানে নগর সরকার হোক কিংবা এক মেয়রের কাছে ক্ষমতা থাকুক, সেটায় সমস্যা নেই। নগরের পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, সেবাসহ সব সেবার বিষয়ে একটি জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, এই মুহূর্তে যারা বাড়ি করে ফেলেছে সেগুলোর ব্যবস্থা পরে নেবো। সব কাজ একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। তবে আন্ডার কনস্ট্রাকশন বিল্ডিংয়ে কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না, সেটা নিশ্চিত করছি। আমাদের নতুন করে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। আমরা বেদখল হওয়া প্লটগুলো উদ্ধার করে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করবো।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সিনিয়র সদস্য খালেদ সাইফুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মতিন আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির প্রকাশনা “ঢাকাই” ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। একইসঙ্গে সংগঠনের সিনিয়র সদস্য হেলিমুল আলম বিপ্লবের প্রকাশিত ঢাকার খালগুলো নিয়ে প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।




স্ত্রীসহ রাজউক পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা

দুই কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক মো. মোবারক হোসেন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (৩ জুলাই) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-২) মোবারক হোসেনের দাখিল করা সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪৫ টাকার আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। যে কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক।

অন্যদিকে তার স্ত্রী সাহানা পারভীন পেশায় গৃহিণী হলেও তার নামে ১ কোটি ৫৮ লাখ ৭৩ হাজার ১৫২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। যা তার স্বামীর অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দিয়ে ওই সম্পদ করেছেন বলে দুদকের কাছে মনে হয়েছে। যে কারণে শাহানা পারভিনকে প্রধান আসামি করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সহযোগিতার জন্য রাজউক কর্মকর্তা মোবারক হোসেনকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে এই মামলায়।

আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দুটি দায়ের করা হয়েছে।




ধানমন্ডির টুইন পিক টাওয়ারের ১২ রেস্তোরাঁ সিলগালা

রাজউকের অভিযানের পর ধানমন্ডির টুইন পিক টাওয়ারে অনুমোদনহীন ও নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মাণ করা ১২টি রেস্তোরাঁ সিলগালা করা হয়েছে। একইসঙ্গে জরিমানা করা হয়েছে ১টি রেস্তোরাঁকে।

 

সোমবার (৪ মার্চ) ভবনটিতে অভিযান পরিচালনা করার পর এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজিনা সারোয়ার।

 

তিনি বলেন, এই ভবনটি মূলত এফ ক্যাটাগরির। এটি অফিসের জন্য রাজউক থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখানে অবৈধভাবে প্রায় ৮-১০টির মত রেস্টুরেন্ট করা হয়েছে। আমরা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছি। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানাতে পারবো।

 

তাজিনা সারোয়ার বলেন, এই ভবনটি এফ ওয়ান ক্যাটাগরিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ওই ক্যাটাগরি অনুসারে ভবনটি অফিস হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু আমরা পরিদর্শনে মাত্র দুই ফ্লোরের কিছু অংশ অফিস হিসেবে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি দেখলাম। বাকি অংশগুলোতে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ১২ থেকে ১৫টি রেস্টুরেন্ট ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে ওষুধ ও কাপড়ের দোকান পেয়েছি।

 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজউক ছাড়াও সিটি করপোরেশন কিংবা কলকারাখানা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদেরকেও বিষয়টি অবগত করবো। যেন নিয়মের ব্যত্যয় যারা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

এর আগে সকাল ১১টায় এই ভবনে অভিযান পরিচালনা শুরু করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। পরে ভবনটির ছাদে নকশা বহির্ভূতভাবে গড়ে তোলা রেট্রো লাইভ কিচেন নামের রুফটপ রেস্টুরেন্টটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।




রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

পরিত্যক্ত সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা রেকর্ডপত্র তৈরি করে হস্তান্তর, অনুমতি ও নামজারি অনুমোদন করে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক দুই চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

যদিও রাজধানীর গুলশান-২ এর ১০৪ নম্বর সড়কের ২৭/বি নম্বর বাড়িটির মালিক খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট সালাম মূর্শেদী। তার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ থাকলেও তাকে বাদ দিয়েই মামলা দায়ের হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক ইয়াছির আরাফাত বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেম ও প্রকৌশলী এম আজিজুল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট) লে. কর্নেল (অব.) এম নুরুল হক, সাবেক পরিচালক আবদুর রহমান ভূঁঞা, সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট) মো. আজহারুল ইসলাম, রাজউকের সহকারী পরিচালক (নিরীক্ষা ও বাজেট) শাহ মো. সদরুল আলম ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিব উল্লাহ।

অন্যদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সহকারী সচিব আবদুস সোবহান, সাবেক শাখা সহকারী মো. মাহবুবুল হক এবং কক্সবাজারের রামুর বাসিন্দা মীর মোহাম্মদ হাসান ও তার ভাই মীর মো. নুরুল আফছারকে আসামি করা হয়েছে।

নথি জালিয়াতির মাধ্যমে সালাম মূর্শেদীকে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়— এমন অভিযোগ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ২০২২ সালের ১১ আগস্ট দুদকে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। দুদক আবেদন আমলে না নেওয়ায় একই বছরের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তিনি।

রিট আবেদনে বলা হয়, রাজধানীর গুলশান-২ এর ১০৪ নম্বর সড়কের ২৭/বি নম্বর বাড়িটি ১৯৮৬ সালের অতিরিক্ত গেজেটে ‘খ’ তালিকায় পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত। কিন্তু আব্দুস সালাম মূর্শেদী সেটি দখল করে বসবাস করছেন। রিটে ২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল, ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি এবং চলতি বছরের ৪ জুলাই রাজউক চেয়ারম্যানকে দেওয়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তিনটি চিঠি যুক্ত করা হয়।

২০১৫ ও ২০১৬ সালে দেওয়া চিঠিতে পরিত্যক্ত বাড়ির তালিকা থেকে বাড়িটি অবমুক্ত না হওয়ার পরও আব্দুস সালাম মূর্শেদী কীভাবে বাড়িটি দখল করে আছেন, রাজউক চেয়ারম্যানের কাছে এ ব্যাখ্যা চেয়েছিল গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

২০২২ সালের ১ নভেম্বর এ সংক্রান্ত রিটের শুনানিতে ১০ দিনের মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাজউক চেয়ারম্যান এবং আব্দুস সালাম মূর্শেদীকে হলফনামা আকারে নথি দাখিল করতে বলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রুলে পরিত্যক্ত সম্পত্তির ‘খ’ তালিকাভুক্ত বাড়িটি বেআইনিভাবে দখল করার অভিযোগে আব্দুস সালাম মূর্শেদীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব, রাজউক চেয়ারম্যান, দুদক চেয়ারম্যান, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও আব্দুস সালাম মূর্শেদীকে রুলের জবাব দিতে বলেন হাইকোর্ট। এরপর দুদক অভিযোগটি আমলে নেয়।

পরবর্তীতে উপ-পরিচালক ইয়াছির আরাফাত ও জেসমিন আক্তারের সমন্বয়ে অনুসন্ধানী টিম গঠিত হয়।