রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর দায়িত্বে আবদুর রহিম খান

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান। তিনি বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি অনুবিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন।

রোববার (২৪ আগস্ট) এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, মো. আবদুর রহিম খানকে মন্ত্রণালয়ে তার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এর ভাইস চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব দেওয়া হলো।

ইপিবির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন পদোন্নতি পেয়ে সচিব হয়েছেন। ১৯ আগস্ট তাকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।




সাত মাসে রপ্তানি আয় ২ হাজার ৮৯৬ কোটি ডলার ছাড়াল

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশের পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪৪৪ কোটি মার্কিন ডলার, যা টাকার অঙ্কে ৫৪ হাজার ১১৯ কোটি ৪৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা)। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৪২০ কোটি ডলার। অর্থাৎ জানুয়ারিতে আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ৮৯৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ২ হাজার ৫৯৩ কোটি ৮৯ লাখ ডলার।

রপ্তানি প্রবৃদ্ধির এই ধারা অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। প্রবাসী আয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করছে, তবে শিল্প খাতের কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো বিদ্যমান, যা এই পরিসংখ্যানে পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না।

এ বিষয়ে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, যদিও রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার আশাব্যঞ্জক, তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বাজারভিত্তিক প্রতিযোগিতা ও কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য সংকুচিত হওয়ার ফলে তীব্র মূল্য প্রতিযোগিতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যার ফলে বাংলাদেশের জন্য কিছু সুযোগ সৃষ্টি হলেও জ্বালানি নিরাপত্তা ও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিগত সাত মাসে রপ্তানি আয় প্রধানত তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এই খাতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২ শতাংশ। এ ছাড়া কৃষিজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি খাতে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য খাতের মধ্যে রাবার পণ্য ৩৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ, সাইকেল রপ্তানি ৬৪ ও জাহাজ রপ্তানি ৩১ দশমিক ৬৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সদ্য সমাপ্ত জানুয়ারি মাসে তৈরি পোশাক, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়াবিহীন জুতা, হিমায়িত খাদ্য ও প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। তবে চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি কমেছে। কিন্তু রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি যেহেতু তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে, তাই এ খাতের রপ্তানির ওপর নির্ভর করে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি। এ খাতে জানুয়ারি মাসে রপ্তানিতে ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ফলে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি এর কাছাকাছি রয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ৩৫৫ কোটি ডলারের, যা গত বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। শুধু জানুয়ারিতে এ খাতে ৩৬৬ কোটি ডলারের রপ্তানি হয়েছে; এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, রপ্তানির অর্ডার বাড়লেও উৎপাদন ব্যয়ের চাপ রপ্তানিকারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূল্যের প্রতিযোগিতা বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।




ফেব্রুয়ারিতে বেড়েছে রপ্তানি

গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ থেকে বিশ্ববাজারে ৫১৮ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১২ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি হয় ৪৬৩ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পণ্য।

সোমবার (৪ মার্চ) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিথ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া শীর্ষ পণ্যগুলো হলো পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং হোম টেক্সটাইল।

অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ১৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। কৃষি পণ্যের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। হোমটেক্সটাইল পণ্যের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ২৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে ৩ হাজার ২৮৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এছাড়া কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৬৪ কোটি ডলারের। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।




রপ্তানি বহুমুখী করে বাণিজ্য বাড়াতে চাই: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

রপ্তানি বহুমুখী করে বাণিজ্য বাড়াতে চান বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

শনিবার (২০ জানুয়ারি) বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিবিসিএফইসি) ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এই মেলার মূল উদ্দেশ্য গার্মেন্টসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানিকে কিভাবে বহুমুখী করা যায়। চেষ্টা করব লোকাল যে শিল্প আছে সেগুলোকে আরও উৎসাহিত করতে। আমাদের রপ্তানি ৬ গুন বেড়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা বেশি উৎসাহিত করে বিদেশীদের আনি না। কারণ মাসব্যাপী তারা অনেকে আসতে চান না। তবে আমাদের লোকাল ইন্ড্রাষ্ট্রিগুলোকে পরিচিত করাটাই অন্যতম লক্ষ্য। ভোক্তা অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেবো মেলায় আগত দর্শনার্থীরা যেন প্রতারিত না হয়। আমাদের দেশে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের লোকজন আছে, তাদের অনেকে আসে। এবার আমরা তাদের একসঙ্গে আনার বিষয়ে উদ্যোগ নেবো।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, গত দুই বছর রাস্তার কিছুটা সমস্যা ছিলো। এবার রাস্তা অনেক ভালো, ফলে অনেক দর্শনার্থী আসবে বলে আশা করছি। চেষ্টা করেছি একটি ভালো মেলা আয়োজনের জন্য। প্রতিবছর পহেলা জানুয়ারি মেলার আয়োজন করলেও এবার নির্বাচনের কারণে কিছুটা পিছিয়েছে। এ মেলাটি মানুষের জন্য বার্ষিক একটা ঐতিহ্যবাহী মেলায় পরিণত হয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান এ.এইচ.এম আহসান বলেন, মেলাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার বিষয় থাকে। সেজন্য ৫০ জনের আউটসোর্সিং করে নিরাপত্তার জন্য লোকবল নিয়োগ দিয়েছি। এছাড়াও পুলিশ-আনসার থাকবে। প্রয়োজনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে র্যাব কাজ করবে। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ১০০ জন ক্লিনার নিয়োগ করা হয়েছে। যাতায়াতের জন্য বিআরটিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের বাস থাকবে। এবার ফার্মগেইট থেকেও বাসে উঠা যাবে। ফলে খুব অল্প সময় মেলা কেন্দ্রে আসা যাবে।

ইপিবি জানিয়েছে, এবারের বাণিজ্যমেলায় দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর, নেপালসহ বিভিন্ন দেশ অংশ নেবে। পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি দেশীয় পণ্য রপ্তানির বড় বাজার খোঁজার লক্ষ্য রয়েছে।

জানা গেছে, দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিকস অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহ সামগ্রী, চামড়া ও জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারিওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, হস্তশিল্পজাত পণ্য, হোম ডেকর, ফার্নিচার ইত্যাদি পণ্য মেলায় প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে।

দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন, উৎপাদনে সহায়তার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবির যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এ মেলা হতো শেরেবাংলা নগরে। কোভিড মহামারির কারণে ২০২১ সালে মেলার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এরপর মহামারির বিধিনিষেধের মধ্যে ২০২২ সালে প্রথমবার মেলার আয়োজন করা হয় পূর্বাচলে বিবিসিএফইসিতে। এবার তৃতীয়বারের মতো স্থায়ী ভেন্যু বাংলাদেশ-চীন এক্সিবিশন সেন্টারে বাণিজ্যমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চীনের অর্থায়নে পূর্বাচলে স্থায়ী বাণিজ্যমেলা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। এখন থেকে প্রতি বছর এখানেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার আসর বসবে।




৫ মাসে আমেরিকায় পোশাক রপ্তানি কমেছে ২০০ মিলিয়ন ডলার

শ্রম অধিকার নিয়ে বা‌ণিজ্য নি‌ষেধাজ্ঞার (স্যাংশন) হুমকির মধ্যে বাংলাদেশের প্রধান দুই বাজার ইউরোপ ও আমেরিকায় পোশাক রপ্তানি কমেছে। এর মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের পাঁচ মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পোশাক রপ্তানি কমেছে ০.২০ বিলিয়ন ডলার বা ২০০ মিলিয়ন ডলার।

বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের (জুলাই-নভেম্বর) প্রথম পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩.২৭ বিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ১৭.৪০ শতাংশ। যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৬ শতাংশ কম। আগের বছর একই সময় রপ্তানি করেছিল ৩.৪৭ বিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে দেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতেও রপ্তানি কমেছে।

রপ্তানি আয় বাড়লেও লক্ষ্য পূরণ হয়নি

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের পোশাক বিক্রেতা ব্রান্ডগুলো করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে গত বছর প্রচুর পোশাক পণ্য আমদানি করেছিল। কিন্তু, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়ায় পোশাকে চাহিদা বাড়েনি তাই অনেক পণ্য বিক্রি হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ১১.৯৮ শতাংশই ইউকেতে রপ্তানি হয়েছে। আলোচ্য সময়ে শুধু ব্রিটেনে রপ্তানি হয়েছে ২.২৫ বিলিয়ন ডলার। আগের বছর একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ১.৯৬ বিলিয়ন ডলার। এ সময় ইউকেতে পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৪.৬১ শতাংশ। একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে নন ট্রেডিশনাল মার্কেটেও। এর আগে চীনকে পেছনে ফেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) নিট পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে উঠেছে বাংলাদেশ।

আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশ থেকে নন ট্রেডিশনাল মার্কেটে মোট রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪.১২ শতাংশ। এ সময় নন ট্রেডিশনাল মার্কেটে পোশাকের মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩.৬৪ বিলিয়ন ডলার। যা বাংলাদেশের রপ্তানির ১৯.৩৩ শতাংশ। আগের বছর একই সময়ে নন ট্রেডিশনাল মার্কেটে রপ্তানি হয়েছিল ৩.১৯ বিলিয়ন ডলার।

ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৪২ শতাংশ

নন ট্রেডিশনাল মার্কেটের মধ্যে রয়েছে- জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, কোরিয়া, চায়না, ইউনাইটেড আরব আমিরাত, মেক্সিকো, সৌদি আরব, তুর্কি, সাউথ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, চিলি, ব্রাজিলসহ অন্যান্য দেশ।

যুক্তরাজ্যে রপ্তানি বাড়লেও সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন অর্থাৎ ইইউতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে রপ্তানির মোট প্রবৃদ্ধি ছিল ০.১৮ শতাংশ কম। আলোচ্য সময়ে ইইউতে বাংলাদেশ থেকে মোট রপ্তানি হয়েছে ৯.০৫ বিলিয়ন ডলার। যা বাংলাদেশের রপ্তানির ৪৮.০৭ শতাংশ। আগের বছর একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৯.০৭ বিলিয়ন ডলার।

অর্থবছরের ৫ মাসে কানাডায় পোশাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৬০৬ মিলিয়ন ডলার। যা বাংলাদেশের রপ্তানির ৩.২২ শতাংশ। আগের বছর একই সময়ে কানাডায় রপ্তানি হয়েছিল ৬২৩ মিলিয়ন ডলার। কানাডায়ও আলোচ্য সময়ে রপ্তানি কমেছে ২.৭১ শতাংশ।




 পাঁচ মাসে রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় নিম্নমুখী

২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধির হার কমে দাঁড়াল ১ দশমিক ৩০ শতাংশে। মূলত পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ায় প্রবৃদ্ধি হারের এই নিম্নমুখী অবস্থান উঠে এসেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন বলছে, জুলাই-নভেম্বর এ পাঁচ মাসে ২২ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারের। মূলত নভেম্বর মাসে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ৭ শতাংশ। এতে পুরো রপ্তানিতে ঝাঁকুনি লেগেছে।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থ-বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৮ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারের। যেখানে এই সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২০ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের। বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার নেমেছে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ কম অর্জিত হয়েছে।

নভেম্বরে প্রবৃদ্ধির হার আগের দুই মাসের চেয়ে কমেছে কয়েকগুণ। আগের মাস অক্টোবরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে ছিল ১৩ শতাংশ।

শুধু নভেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার। অর্জিত হয়েছে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ নভেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ কম অর্জিত হয়েছে। একক মাসের হিসাবে এটা আগের বছরের চেয়ে ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ কম। আগের বছরের নভেম্বর মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৪ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারের।

দেশে তৈরি পোশাক- রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত হওয়ায় পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোট রপ্তানি আয়ও নিম্নমুখী।

বিবিএস বলছে, নভেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে নিট পোশাকের রপ্তানি হয়েছে ১০ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলারের, যা আগের বছরের চেয়ে ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। এরমধ্যে ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারের। যা আগের বছরের চেয়ে সাড়ে ৪ শতাংশ কম। ওভেন পোশাক রপ্তানি আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় এর প্রভাব দেশের তৈরি পোশাক খাত তথা পুরো রপ্তানি খাতকে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি জুলাই থেকে সেপ্টম্বর পর্যন্ত অব্যহত ছিল। কিন্তু অক্টোবর থেকে সেটা কমতে থাকে।

পোশাক শিল্পের শ্রমিক অসন্তোষ ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির কারণে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে বলে মনে করছেন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল।

গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকের প্রধান বাজারগুলোতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এতে মানুষ কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে তৈরি পোশাকের ওপর। এ ছাড়া গত মাসে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অনেকে সময়মতো রপ্তানি করতে পারেনি। রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটিও অন্যতম বড় কারণ।

এছাড়া অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের মধ্যে হিমায়িত মৎস্য রপ্তানি হয়েছে ১৭৫ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ডলারের; ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ শতাংশ। ৪২০ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলারের কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে; প্রবৃদ্ধি কমেছে প্রায় ৮৯ শতাংশ।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে ২০ দশমিক ৫৫ শতাংশ; নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে রপ্তানির পরিমাণ ৪২৭ মিলিয়ন ডলার।

এক সময়ের প্রধান রপ্তানি পণ্য সোনালী আঁশ পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে ১১ শতাংশ; চলতি অর্থ বছরের নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে রপ্তানি হয়েছে ৩৬১ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলারের।

হোম টেক্সটাইল রপ্তানি হয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের; ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪২ দশমিক ২৭ শতাংশ। প্রকৌশল পণ্য রপ্তানি হয়েছে ২০০ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলারের; ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ। জাহাজ রপ্তানি কমেছে প্রায় শতভাগ।




টানা দুই মাস কমলো রপ্তানি আয়

সদ্য বিদায়ী নভেম্বরে ৪৭৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কম। এর আগে গত অক্টোবর মাসেও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। সোমবার (৪ ডিসেম্বর) পণ্য রপ্তানি আয়ের এ হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।

নভেম্বর মাসে ৫২৫ কোটি ডলার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৪৭৮ কোটি ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ কম। অন্যদিকে ২০২২ সালের অক্টোবরে আয় হয়েছিল ৫০৯ কোটি ডলার।

টানা দুই মাস পণ্য রপ্তানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির গতিও কমে গেছে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম চার মাস শেষে (জুলাই-অক্টোবর) পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ৩ শতাংশ। তবে নভেম্বর মাসে রপ্তানি কমায় পাঁচ মাসের হিসাবে (জুলাই-নভেম্বর) প্রবৃদ্ধি মাত্র ১ দশমিক ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জুলাই-নভেম্বর সময়ে রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ২২৩ কোটি ডলারের পণ্য।

 

গত অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে পোশাক খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে ১ হাজার ৮৮৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। আলোচ্য সময়ে তৈরি পোশাকের মধ্যে নিট পোশাকের রপ্তানি ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়েছে। তবে ওভেন পোশাকের রপ্তানি কমেছে সাড়ে ৪ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তৈরি পোশাক ছাড়া অধিকাংশ পণ্যের রপ্তানি কমে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে হিমায়িত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল পণ্য ইত্যাদি।

হোম টেক্সটাইলে ৪২ দশমিক ২৭ শতাংশ, ফুটওয়্যারে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ, পাট পণ্যে ১০ দশমিক ৯৯ শতাংশ, চামড়াজাত পণ্যে ২০ দশমিক ৫৫ শতাংশ, হিমায়িত মাছে ১৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অন্যদিকে প্লাস্টিকে ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ, রাবারে ১৬ দশমিক ৯১ শতাংশ, তুলা বর্জ্যে ৬৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল। চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার।




রপ্তানি আয়ে বড় ধাক্কা

চলতি বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশের তৈরি পণ‍্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি কমেছে। আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

ইপিবির তথ‍্য মতে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৭৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫৯ কোটি ৪৬ লাখ ডলার বা ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম।

এর আগে ২০২২ সালের অক্টোবরে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৪৩৫ কোটি ৬৬ লাখ ডলার সমপরিমাণ। শুধু গতবছরের তুলনায় কমেনি বরং অক্টোবর মাসে রপ্তানি আয়ে সরকারের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তাও পূরণ হয়নি। উল্লেখিত মাসে সরকারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের পণ্যের। সেই হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ কম রপ্তানি হয়েছে। ফলে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৩- ২৪ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস ভালো ইতিবাচক থাকার পর চতুর্থ মাসে রপ্তানি আয় নেতিবাচক ধারায় ফিরল।

চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে অক্টোবরে মোট ১ হাজার ৭৪৪ কোটি ৭৪ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তাতে প্রথম চার মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। তবে প্রথম তিন মাস অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত রপ্তানি প্রবৃদ্ধির এ হার ছিল ৯ দশমিক ৫১ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রতি মাসেই রপ্তানি আয় হয়েছে ৪০০ কোটির বেশি। এর মধ্যে আগস্টে এসেছিল সবচেয়ে বেশি ৪৭৮ কোটি ডলার। জুলাইয়ে যা ছিল ৪৫৯ কোটি এবং সেপ্টেম্বরে ৪৩১ কোটি ডলার।

২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে ৬২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকেও অক্টোবরের রপ্তানি আয় কমেছে। এ বিষয়ের তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিশ্বব্যাপী মন্দার কারণে পোশাক রপ্তানি কমেছে। এটি আমরা আগেই আশঙ্কা করেছিলাম। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কমার পাশাপাশি বিদেশের অর্থনৈতিক মন্দা কাটলে পোশাক রপ্তানি আরও বাড়বে।




  টানা দুই মাস পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে হোঁচট

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্যের রপ্তানি সেপ্টেম্বর মাসে বেড়েছে। তবে সরকার রপ্তানি আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বর নয়, তার আগের মাস আগস্টেও রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হয়নি। ফলে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই মাসে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পর আগস্ট ও সেপ্টেম্বর টানা দুই মাস সরকার নির্ধারিত পোশাক পণ্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে হোঁচট খেলো বাংলাদেশ।

রোববার (১ অক্টোবর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রতিবেদনে এ থ্য উঠে এসেছে।

ইপিবির তথ্যমতে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্য বিশ্ববাজারে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি হয়েছে ৩৬১ কোটি ৮৯ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ পণ্য। যা ২০২২ সালের একই সময়ে ছিল ৩১৬ কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার। অর্থাৎ ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পোশাক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৪৫ কোটি ৭২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। যা শতাংশের হিসাবে বেড়েছে ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

বিদায়ী মাসটিতে পোশাক পণ্য রপ্তানিতে আয়ে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯০ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণের। আর আয় হয়েছে ৩৬১ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। ২৯ কোটি ডলার অর্থাৎ শতাংশের হিসেবে ৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম রপ্তানি আয় হয়েছে।

তার আগের মাস আগস্টে সরকারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২২ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আয় হয়েছিল ৪০৪ কোটি ৪৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। পরপর দুই মাসেই কমেছে। তবে তার আগের মাস জুলাইয়ে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৭৭কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার ডলার পরিমাণ পোশাক পণ্যের। সেই মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯৫ কোটি ৩৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার পরিমাণের। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরও বেশি রপ্তানি আয় হয়েছিল।

সবমিলে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর (তিন) মাসে রপ্তানি আয়ে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১৭৯ কোটি ৩২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। সেখান থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার পরিমাণ পণ্য। অর্থাৎ সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ কম পোশাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

তবে আগের বছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ সালের প্রথম তিন মাসের চেয়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে পণ্য রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছিল ১ হাজার ২৭কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার পণ্যের। আর চলতি বছরে আয় হয়েছে ১ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।

তার আগের ২০২২-২৩ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৪৬ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ।




পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৭ শতাংশ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্য আগস্ট মাসে বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়েছে ৪০৪ কোটি ৪৮ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। যা ২০২২ সালের একই সময়ে ছিল ৩৭৪ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার ইউএস ডলার।

অর্থাৎ ২০২২ সালের আগস্ট মাসের তুলনায় ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে রপ্তানি বেড়েছে ২৯ কোটি ৯১ লাখ ইউএস ডলার বা ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ইপিবির তথ্য মতে, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের প্রথম দুই (জুলাই ও আগস্ট) মাসে ৭৯৯ কোটি ৮৬ লাখ ইউএস ডলার সমপরিমাণ পোশাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৭১১ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার সমপরিমাণ পণ্য।

অর্থাৎ ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে জুলাই ও আগস্ট মাসে ১২ দশমিক ৪৬ শতাংশ রপ্তানি বেড়েছে।

দুই প্রকার পোশাক পণ্যের মধ্যে শুধু চলতি অর্থ বছরের আগস্ট মাসে ওভেন পোশাক খাতে ১৭২ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ডলার সমপরিমাণ পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা ২০২২ সালের একই সময়ে ছিল ১৬৮ কোটি ৪২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। অর্থাৎ পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

অপরদিকে নীট পোশাক খাতে আগস্ট মাসে ২৩১ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার। যা ২০২২ সালে ছিল ২০৬ কোটি ১৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার। অর্থাৎ রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ।




আগস্টে রপ্তানি আয় বাড়লেও পূরণ হয়নি লক্ষ্যমাত্রা

আগস্টে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশে তৈরি পণ্য রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছে ৪৭৮ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। যা ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৭ কোটি ৫১ লাখ ৯০ হাজার ডলার বেশি।

শতাংশের হিসেবে ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। তবে সরকারের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তা পূরণ হয়নি। ওই মাসে সরকারের রপ্তানি বাবদ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮৭ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ইপিবির তথ্য মতে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের আগস্ট মাসে তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং চামড়াসহ ২৬ ধরনের পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়েছে। সেখান থেকে আগস্টে ৪৭৮ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার আয় হয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছিল ৪৬০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সে হিসেবে গত বছরের তুলনায় ১৭ কোটি ৫১ লাখ ইউএস ডলার পরিমাণ আয় বেড়েছে। যা শতাংশের হিসাবে বেড়েছে ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ।

গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছরের আগস্ট মাসে রপ্তানি আয় বাড়লেও সরকারের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল সেটি পূরণ হয়নি। বিদায়ী মাসে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮৭ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় কম হয়েছে। যা শতাংশের হিসাবে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ।

এমআই/জেডএস




২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাসে রপ্তানি আয়ে চমক

বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার বাজারে নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশের তৈরি পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি আয়ে চমক দেখিয়েছে। বাংলাদেশ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাসে আগের বছরের তুলনায় ১৫ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি রপ্তানি আয় করেছে। পাশাপাশি চলতি বছরের জুলাই মাসে সরকার যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল তা পূরণ করেও ২ দশমকি ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করেছে।

বুধবার (২ আগস্ট) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ইপিবির তথ্য মতে, চলতি বছরের জুলাই মাসে ৪৫৯ কোটি ২৯ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশের তৈরি পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৩৯৮ কোটি ৪৮ লাখ ডলার সমপরিমাণ পণ্য। সে হিসেবে গত বছরের তুলনায় ৬০ কোটি ৮১ লাখ ইউএস ডলার পরিমাণ আয় বেড়েছে। যা শতাংশের হিসাবে বেড়েছে ১৫ দশমিক ২৬ শতাংশ।

বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশ ২৬ ধরনের পণ্য রপ্তানি করে। এর মধ্যে ১৭টি খাতের রপ্তানি বেড়েছে। এই ১৭ খাতের মধ্যে যথারীতি রপ্তানি সবচেয়ে বেশি হয়েছে পোশাক খাত থেকে।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে সরকার এবার ৬২ বিলিয়ন ডলার বা ৬ হাজার ২০০ কোটি ইউএস ডলার পরিমাণ পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি করবে। তাতে প্রবৃদ্ধি হবে ১১ দশমকি ৫৯ শতাংশ। তার মধ্যে একক মাস হিসেবে জুলাই মাসে সরকারে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ বিলিয়ন বা ৪৪৮ কোটি ১০ লাখ ইউএসডলার পরিমাণ পণ্য। আর সরকারের রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৫৯ কোটি ২০ লাখ ইউএস ডলার পণ্য। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার বেড়েছে। যা শতাংশের হিসাবে বেড়েছে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ।

এর আগের বছর ২০২২-২৩ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

খাতভিত্তিক রপ্তানি তথ্যে দেখা যায়, জুলাই মাসে রপ্তানি আয় সবচেয়ে বেশি হয়েছে তৈরি পোশাক থেকে। এ খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ মোট রপ্তানি হয়েছে ৩৯৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের পোশাক পণ্য।

এর মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২২৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলারের (প্রবৃদ্ধি ২২ দশমিক ২৪ শতাংশ) এবং ওভেন পোশাক বিদেশে গেছে ১৬৮ কোটি ৭২ লাখ ডলারের (প্রবৃদ্ধি ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ)।




যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে

২০২২-২৩ অর্থ বছরের ১০ মাসে (জুলাই-মে) যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি পাঁচ দশমিক ০৭ শতাংশ কমেছে। এই সময়ে রপ্তানি আয় আট দশমিক চার বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে কমে সাত দশমিক ৭৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে।

শনিবার (১৭ জুন) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

তবে, এই সময়ে যুক্তরাজ্য ও কানাডায় রপ্তানি যথাক্রমে ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি ১৮ দশমিক ০৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধান অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে জাপানে ৪৫ দশমিক ৫০ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যেখানে রাশিয়া এবং চিলিতে যথাক্রমে ২৮ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থ বছরের জুলাই-মে এই সময়ে মোট পোশাক রপ্তানি পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ ৪২ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এই মোট পোশাক রপ্তানির মধ্যে ২১ দশমিক ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পোশাক (মোট রপ্তানির ৪৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ) ইইউর বাজারে গেছে। সেখানে যুক্তরাজ্যের শেয়ার ছিল ১০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। টাকার অংকে সেটি চার দশমিক ৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আর, কানাডায় মোট রপ্তানির তিন দশমিক ২৬ শতাংশ অর্থাৎ এক দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি করা হয়েছে। এছাড়া, সাত দশমিক ৬৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের রপ্তানি হয়েছে অপ্রচলিত বাজারে, যা মোট রপ্তানির ১৮ দশমিক ০৪ শতাংশ।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। কারণ, এটি বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য। যেখানে জুলাই-মে ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় জুলাই-মে ২০২২-২৩ সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে নয় দশমিক ৯৪ শতাংশ। পোশাক রপ্তানি ১৯ দশমিক ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২১ দশমিক ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

উল্লেখিত সময়ে জার্মানিতে পূর্ববর্তী অর্থ বছরের একই সময়ের (জুলাই-মে ২০২১-২২) তুলনায় রপ্তানি সাত দশমিক ২২ শতাংশ কমেছে। টাকার অংকে রপ্তানি ছয় দশমিক ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে কমে ছয় দশমিক ০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। ফ্রান্স ও ইতালিতে রপ্তানি যথাক্রমে দুই দশমিক ছয় এবং দুই দশমিক ০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। যেখানে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ২৩ দশমিক চার শতাংশ এবং ৪৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।

এ বিষয়ে বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই আমাদের তিনটি বড় বাজারের মধ্যে পড়ে। অন্য দুইটি হলো যুক্তরাজ্য ও জার্মানি। দুঃখের বিষয় জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রে আমরা নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। যুক্তরাষ্ট্রে আমরা যদি ভালো করি, তাহলে আমাদের মোট রপ্তানি আরও ভালো হবে। এটা আমাদের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের রপ্তানিতে দিক নির্দেশনাও দেয়। অনেক কিছুই আসলে যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে নির্ভর করে। আমাদের চেষ্টা থাকবে, কিভাবে আমরা এই জায়গাটা পুনরুদ্ধার করতে পারি।




মে মাসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে রপ্তানি আয়

গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে নেতিবাচক প্রভাব থাকলেও সদ্য সমাপ্ত মে মাসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের রপ্তানি আয়। মে মাসে মোট ৪৮৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৫১ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি।

রোববার (৪ জুন) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের এ হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে।

যদিও রপ্তানির এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ কম। মে মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫১২ কোটি ডলার। আর ২০২২ সালের মে মাসে রপ্তানি থেকে ৩৮৩ কোটি ডলার আয় হয়েছিল।

ডলার সংকটের কারণে গত মার্চে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ, একইভাবে পরের মাস এপ্রিলে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয় ১৬ দশমিক ৫২ শতাংশ।

আরও পড়ুন: ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি এক লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ৫ হাজার ৫২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৪ হাজার ৭১৭ কোটি ডলারের পণ্য।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, চামড়াবিহীন জুতা ও প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। অন্যদিকে পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত খাদ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি কমে গেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ৪ হাজার ২৬৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে রপ্তানিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে আছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। যেখানে রপ্তানি হয়েছে ১১২ কোটি ডলারের পণ্য। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি দশমিক ৪২ শতাংশ। অন্যদিকে তৃতীয় সর্বোচ্চ ১০২ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ খাতের রপ্তানি কমেছে ৩০ শতাংশ।




ইউরোপের বাজারে পোশাক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১২ শতাংশ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্য ইউরোপের বাজারে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে এই চিত্র উঠে এসেছে।

রোববার (১৬ এপ্রিল) সময়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইপিবির তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক পণ্য রপ্তানি ১১ দশমিক ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৭ দশমিক ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে ছিল ১৫ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে জার্মানিতে রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ কমেছে, যেখানে ফ্রান্স এবং স্পেনে আমাদের রপ্তানি যথাক্রমে ২৫ দশমকি ২৩ শতাংশ এবং ১৮ দশমকি ৮২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে পোল্যান্ডে রপ্তানি ১৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ কমেছে।

উল্লিখিত সময়কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের পোশাক রপ্তানিতে বছরওয়ারিভাবে ৫ দশমিক ০১ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়ে রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়াও যুক্তরাজ্য এবং কানাডায় আমাদের রপ্তানি যথাক্রমে ১৪ দশমিক ০৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ ৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ১৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ ১ দশমিক ০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

একই সময়ে অপ্রচলিত বাজারে আগের ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-মার্চের তুলনায় আমাদের পোশাক রপ্তানি ৩৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন থেকে ৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

প্রধান অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে, জাপান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, ব্রাজিল এবং দক্ষিণ কোরিয়াতে আমাদের রপ্তানি পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় যথাক্রমে ৪৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ, ৫৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ, ৪২ দশমিক ২২ শতাংশ, ৮২ দশমিক ৪৯ শতাংশ, ৭৩ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং ৩৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।




৪ মাস পর রপ্তানি আয়ে ভাটা

বৈশ্বিক মন্দা, দেশে জ্বালানির ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেও ইতিবাচক ধারায় ছিল রপ্তানি আয়। চার মাস ধরে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি থাকলেও সদ্যসমাপ্ত মার্চে নেতিবাচক ধারায় ফিরেছে রপ্তানি।

মার্চে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে উদ্যোক্তারা আয় করেছেন ৪৬৪ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ শতাংশ ও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ কম।

রোববার (২ এপ্রিল) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইপিবি জানায়, চলতি বছর মার্চে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০২ কোটি ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরের মার্চে রপ্তানি হয়েছে ৪৭৬ কোটি ২২ লাখ ডলার।

মার্চে নেতিবাচক প্রভাব থাকলেও অর্থবছরের ৯ মাস (জুলাই থেকে মার্চ) মোট রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরের তিন প্রান্তিক মিলিয়ে (জুলাই থেকে মার্চ) রপ্তানি আয়ে ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রয়েছে। মার্চ শেষে দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৭২ কোটি ১৬ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ হাজার ৮৬০ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।

মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে তৈরি পোশাকের অংশই বেশি। মার্চে মোট ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। তবে এ মাসে পোশাক রপ্তানিও আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে এক দশমিক ০৪ শতাংশ পিছিয়ে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ সময়ে পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি। একই সময়ে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এসময় চামড়াজাত পণ্যে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ, পাদুকায় ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ, পরচুলায় ২৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

অন্যদিকে এ ৯ মাসে কৃষিপণ্যে ২৮ দশমিক ৩১, হিমায়িত মাছে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ, পাটজাত পণ্যে ২১ দশমিক ২৩ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।




টানা ৪ মাসে বাড়ল রপ্তানি আয়

বিশ্বমন্দার মধ্যেও জানুয়ারির পর ফেব্রুয়ারিতেও রপ্তানি আয়ে বইছে সুবাতাস। ফলে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩৩ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন (ইউএস) ডলার। যা শতকরা হিসেবে ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগের মাস জানুয়ারিতে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের তুলনায় ২৮ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার বেশি রপ্তানি আয় বেড়েছে। যা শতাংশের হিসেবে বেড়েছিল ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এর পরে গত অক্টোবর মাসে রপ্তানি আয় কমার পর নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ৪ মাসে বাড়ল রপ্তানি আয়।

ইপিবির সূত্র মতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪৬৩ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার ইউএস ডলার।

এর আগে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যা হয়েছিল ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। শতাংশের হিসেবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ।

২০২২ সালের তুলনায় রপ্তানি আয় বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমেছে রপ্তানি আয়। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর রপ্তানি হয়েছে ৪৬৩ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

ফলে চলতি অর্থ বছরে জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট আট মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৭০৭৭ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ৩৩৮৪৩ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২৩৪ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় বেড়েছে। যা শতাংশের হিসেবে আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

তবে সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৬৬ দশমিক ৩২ মিলিয়ন মার্কিন (ইউএস) ডলার কমেছে রপ্তানি আয়।