৬ ব্যাংক থেকে আরও ৮৫ মিলিয়ন ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহ বাড়ায় দেশে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে মার্কিন ডলার কেনা শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ছয়টি ব্যাংক থেকে ৮৫ মিলিয়ন বা সাড়ে আট কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে প্রতি ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয় ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

 

এর আগে সোমবার (১৮ মে) ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এমপিএ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়েও প্রতি ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংক থেকে মোট ছয় দশমিক ০৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারে ডলারের দাম অতিরিক্ত কমে গেলে রপ্তানিকারক ও প্রবাসী আয় প্রেরণকারীরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন। সে কারণে ডলারের দর একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে যাওয়া ঠেকাতেই কেনার এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরেই বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ডলার কেনাবেচা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে বড় অঙ্কের ডলার বিক্রি করা হলেও, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ধীরে ধীরে কেনার মাধ্যমে রিজার্ভের ওপর চাপ কমানোর কৌশল নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

অর্থনীতিবিদদের মতে, সর্বশেষ এ ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও কিছুটা শক্তিশালী হবে। তারা বলেন, রিজার্ভের চাপ ও বৈদেশিক লেনদেনে ঘাটতির কারণে এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিটি পদক্ষেপই মুদ্রাবাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। ফলে ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ ধরনের হস্তক্ষেপ আস্থা ফেরাতে সহায়ক হবে।




শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিতে ঋণ সহায়তা চান পোশাক শিল্প মালিকরা

বৈশ্বিক মন্দা ও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় দেশের তৈরি পোশাক খাতে সৃষ্ট আর্থিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিশেষ ঋণ সহায়তা চেয়েছে বিজিএমইএ।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ও মার্চ মাসের অগ্রিম মজুরি পরিশোধের জন্য এই সুবিধা চাওয়া হয়।

চিঠিতে অন্তত ৪০০ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দুই মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ সহজ শর্তে ঋণের দাবি জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইনামুল হক খানের সই করা চিঠিতে বলা হয়, ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন, বৈশ্বিক মন্দা এবং শুল্ক যুদ্ধের কারণে রপ্তানি আয় কমে যাচ্ছে। এর ফলস্বরূপ, কার্যাদেশ কমেছে এবং প্রায় ৪০০ প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তার পরিমাণও কমানো হয়েছে। তৈরি পোশাকের ইউনিট মূল্য কমেছে এবং ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০২৬ সময়ে ৬০ দিনের মধ্যে ২৫ দিন কারখানা বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া, ডেফার্ড শিপমেন্ট এবং অর্ডার পিছিয়ে যাওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিকরা শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছে। এসব কারণে তৈরি পোশাক শিল্পে আর্থিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এমন অবস্থায় ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চায় সংগঠনটি।

চিঠিতে ইনামুল হক খান উল্লেখ করেছেন, ‘ঈদের পূর্বে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে এই কাজটি করা সম্ভব হচ্ছে না।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় ২.৪৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং রপ্তানি কার্যক্রমের মন্থরতায় তৈরি পোশাক কারখানাগুলির উৎপাদন সক্ষমতা ক্রমেই কমে আসছে।

এর মধ্যে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার পরিমাণ ১২.৯০ শতাংশ কমেছে, যা আরও চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে বিপদে পড়েছে। এর কারণ, রপ্তানির ধীরগতি, ডেফার্ড শিপমেন্ট এবং অর্ডার পিছিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে। বিশেষত, কারখানাগুলি শ্রমিকদের বেতন, ইউটিলিটি বিল, পরিবহন খরচ এবং ব্যাংক সুদের পরিশোধে চরম চাপের মধ্যে পড়েছে।

বিজিএমইএর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আগামী ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস এবং মার্চ মাসের অগ্রিম মজুরি পরিশোধের জন্য বিশেষ সুবিধায় ঋণ চান তারা। তাদের দাবি, ৩ মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১২ মাসে পরিশোধযোগ্য ঋণ সুবিধা প্রদান করা হোক, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থনৈতিক চাপের মাঝে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে পারে এবং উৎপাদন কার্যক্রম চালু থাকে।

চিঠিতে বিজিএমইএ আরও উল্লেখ করেছে, গত এক বছরে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাক কারখানাগুলি ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই অবস্থা উত্তরণে সরকারের সহযোগিতা ছাড়া এই শিল্পকে সচল রাখা সম্ভব নয়। বিজিএমইএর দাবি, বাংলাদেশ ব্যাংক সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা দিলে পোশাক শিল্পের সংকট দূর করা সম্ভব হবে এবং ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করা যাবে।




জুলাই মাসে রপ্তানি আয়ে ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

দেশের রপ্তানি আয় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, জুলাই মাসে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪.৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা গত বছরের একই মাসে (অর্থবছর ২০২৪-২৫) ৩.৮২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির তুলনায় ২৪.৯০ শতাংশ বেশি।

মোট ৪.৭৭ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের মধ্যে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে আয় হয়েছে ৩.৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২৪.৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

তৈরি পোশাক খাতের মধ্যে নিটওয়্যার রপ্তানি ২৬.০১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.১৭ বিলিয়ন ডলার। ওভেন পোশাক রপ্তানি ২৩.০৮ শতাংশ বেড়ে ১.৭৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং হোম টেক্সটাইলস খাতে রপ্তানি আয় ১৩.২৪ শতাংশ বেড়ে ৬৮.০৮ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া, পাট ও পাটজাত পণ্যে রপ্তানি আয় ৪.৯২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫.৪৪ মিলিয়ন ডলার এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১২৭.৩৮ মিলিয়ন ডলার, যা ২৯.৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

কৃষিপণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৯০.৫০ মিলিয়ন ডলার, যা ১২.৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

হিমায়িত ও জ্যান্ত মাছ রপ্তানি ৪২.৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪১.২০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে, এর মধ্যে চিংড়ি রপ্তানি ৪৭.৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩১.২৩ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যে রপ্তানি আয় ৭৪.৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৮.২৩ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং প্লাস্টিক পণ্যে রপ্তানি আয় হয়েছে ২১.১৬ মিলিয়ন ডলার, যা ৭.৪১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।




সাত মাসে রপ্তানি আয় ২ হাজার ৮৯৬ কোটি ডলার ছাড়াল

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশের পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪৪৪ কোটি মার্কিন ডলার, যা টাকার অঙ্কে ৫৪ হাজার ১১৯ কোটি ৪৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা)। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৪২০ কোটি ডলার। অর্থাৎ জানুয়ারিতে আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ৮৯৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ২ হাজার ৫৯৩ কোটি ৮৯ লাখ ডলার।

রপ্তানি প্রবৃদ্ধির এই ধারা অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। প্রবাসী আয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করছে, তবে শিল্প খাতের কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো বিদ্যমান, যা এই পরিসংখ্যানে পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না।

এ বিষয়ে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, যদিও রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার আশাব্যঞ্জক, তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বাজারভিত্তিক প্রতিযোগিতা ও কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য সংকুচিত হওয়ার ফলে তীব্র মূল্য প্রতিযোগিতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যার ফলে বাংলাদেশের জন্য কিছু সুযোগ সৃষ্টি হলেও জ্বালানি নিরাপত্তা ও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিগত সাত মাসে রপ্তানি আয় প্রধানত তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এই খাতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২ শতাংশ। এ ছাড়া কৃষিজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি খাতে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য খাতের মধ্যে রাবার পণ্য ৩৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ, সাইকেল রপ্তানি ৬৪ ও জাহাজ রপ্তানি ৩১ দশমিক ৬৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সদ্য সমাপ্ত জানুয়ারি মাসে তৈরি পোশাক, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়াবিহীন জুতা, হিমায়িত খাদ্য ও প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। তবে চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি কমেছে। কিন্তু রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি যেহেতু তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে, তাই এ খাতের রপ্তানির ওপর নির্ভর করে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি। এ খাতে জানুয়ারি মাসে রপ্তানিতে ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ফলে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি এর কাছাকাছি রয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ৩৫৫ কোটি ডলারের, যা গত বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। শুধু জানুয়ারিতে এ খাতে ৩৬৬ কোটি ডলারের রপ্তানি হয়েছে; এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, রপ্তানির অর্ডার বাড়লেও উৎপাদন ব্যয়ের চাপ রপ্তানিকারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূল্যের প্রতিযোগিতা বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।




অর্থ বছরে প্রথমার্ধে রপ্তানির আয় বেড়েছে ১২.৮৪ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের (২০২৪-২৫) প্রথমার্ধে দেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২.৮৪ শতাংশ। এতে এক বছর আগের একই সময়ের রপ্তানি আয় ২১.৭৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ২৪.৫৩ বিলিয়ন ডলারে।

বৃহষ্পতিবার বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুসারে, গত অর্থবছরের ডিসেম্বর মাসের রপ্তানি আয় ৩.৯৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১৭.৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৬৩ বিলিয়ন ডলার।

রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় অবদানকারী পোশাক খাত, জুলাই-ডিসেম্বরে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ১৩.২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৯.৮৯ বিলিয়ন ডলার।গত বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১৭ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার। আর ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং আয় হয়েছে ৩ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। গত বছর এই আয় ছিল ৩ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং চামড়াসহ ২৭ ধরনের পণ্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মাসে বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়েছে। এ সময় বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ৪৫৩ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি। প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি করে ১৫৮ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের ১২২ মিলিয়নের তুলনায় ২৯ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য থেকে রপ্তানি আয় ১২ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ১১৪ দশমিক ৪২ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, কৃত্রিম চামড়ার পাদুকা থেকে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে, যা ৩৯ দশমিক ১০ শতাংশ। এই উদীয়মান খাত আয় করেছে ২৭৪ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৯৭ মিলিয়ন ডলার।

বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের নীতিগত সহায়তা, বৈশ্বিক বাজারে চাহিদার বৃদ্ধি এবং পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি খাতের শক্তিশালী অবস্থান এই প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো হলে প্রবৃদ্ধি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানান, বৈশ্বিক বাজারে ক্রিসমাস ডে, ব্ল্যাক ফ্রাইডে, নিউ ইয়ারে পোশাকপণ্যের চাহিদা বাড়ে। ফলে এ সময়ে বেশি পণ্যের জাহাজীকরণ হয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই এ সময়ে রপ্তানি বাড়ে। তবে আশার কথা হলো এ বছর কাজের আদেশ বেশি আছে। আমাদের এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। যার জন্য দরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি।




রেমিট্যান্স ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে ডলার সংকট অনেকটা কেটেছে: অর্থমন্ত্রী

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ার কারণে ডলার সংকট অনেকটা কেটেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তিনি বলেন, “খোলাবাজারে ডলারের দর ১২৫ থেকে কমে ১১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এতে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব কেটে গেছে।”

রোববার সচিবালয়ে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে প্রাক বাজেট বৈঠকে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বৈঠকে বেশ কিছু বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন ইআরএফ সভাপতি রেফায়েত উল্লা মৃধা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। এসব প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব কেটে গেছে। যারা ভেবেছিল দেশ শ্রীলঙ্কা হবে, তাদের ধারণাও ভুল প্রমাণ হয়েছে।”




জানুয়ারি মাসে পোশাক খাতে রপ্তানি আয় ৪৯৭ কোটি ডলার

গত জানুয়ারি মাসে দেশের পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪৯৭ কোটি ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি।

জানুয়ারি মাসের এই আয়ের মধ্য দিয়ে কয়েক মাস পর ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের কাছাকাছি পৌঁছে পোশাক খাত।

জানুয়ারি মাসে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি থেকে আয় দাঁড়িয়েছে ৫৭২ কোটি ৪৩ লাখ মার্কিন ডলার, গত অর্থবছরের এই সময়ে যা ছিল ৫১৩ কোটি ৬২ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয় ১১.৪৫ শতাংশ বেড়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। রবিবার এই পরিসংখ্যান করে ইপিবি।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) দেশ থেকে ৩ হাজার ৩২৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৪৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাক খাত থেকে ২ হাজার ৮৩৬ কোটি ৩১ লাখ ডলার আয় হয়েছে। এর মধ্যে নীট পোশাক (সোয়েটার, টি-শার্ট জাতীয় পোশাক) রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৬১৮ কোটি ডলার সমমূল্যের এবং ওভেন পণ্যের (শার্ট, প্যান্ট জাতীয় পোশাক) রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৮ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। এ সময়ে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এছাড়া জুলাই-জানুয়ারি সময়ে অন্যান্য প্রধান রপ্তানি পণ্য যেমন-পাট ও পাটজাত পণ্য ৫১ কোটি ডলার, হোম টেক্সটাইল ৪৫ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, পাদুকা ২৯ কোটি ৬২ লাখ ডলার, প্লাস্টিক পণ্য ১৪ কোটি ১৩ লাখ ডলার, কৃষিজাত পণ্য ৫৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার, হিমায়িত মাছ ২৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার এবং রাসায়নিক পণ্য ২০ কোটি ২২ লাখ ডলার রপ্তানি হয়েছে।




রিজার্ভ ১৯ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নামল 

দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ডলারের সংকট। এ সংকট উত্তরণের অন্যতম উপায় রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ানো। কিন্তু সেখানে ভালো খবর নেই। অন্যদিকে আমদানির চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন ডলার বি‌ক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফ‌লে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ দিন দিন কমছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ১৯ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বছরের শুরুতে দেশে গ্রস রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার। গতকাল (৩১ জানুয়ারি) গ্রস রিজার্ভ ২৫ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলারে এসেছে। অর্থাৎ এক মাসে রিজার্ভ কমেছে ১৯১ কোটি ডলার। কিন্তু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর শর্ত অনুযায়ী বিপিএম-৬ ম্যাথডের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবের সঙ্গে ৫ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ বিপিএম-৬ ম্যানুয়াল অনুযায়ী গ্রস রিজার্ভ বর্তমানে ১৯ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের শুরুতে গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ২৩ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, যা শুধু আইএমএফকে দেওয়া হয়, প্রকাশ করা হয় না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেই হিসাবে দেশের প্রকৃত রিজার্ভ এখন ১৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে। প্রতি মাসে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার করে এ রিজার্ভ দিয়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো কষ্টসাধ্য হবে বাংলাদেশের জন্য। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম ৩ মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়। সেই মানদণ্ডে বাংলাদেশ এখন শেষ প্রান্তে রয়েছে।

কীভাবে তৈরি হয় রিজার্ভ

রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয়, বিদেশি বিনিয়োগ, বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণ থেকে যে ডলার পাওয়া যায় তা দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তৈরি হয়। আবার আমদানি ব্যয়, ঋণের সুদ বা কিস্তি পরিশোধ, বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা, পর্যটক বা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাসহ বিভিন্ন খাতে যে ব্যয় হয়, তার মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রা চলে যায়। এভাবে আয় ও ব্যয়ের পর যে ডলার থেকে যায় সেটাই রিজার্ভে যোগ হয়। আর বেশি খরচ হলে রিজার্ভ কমে যায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের দাম বেশি থাকায় আমদানি ব্যয় কমেনি। এছাড়া করোনার পর বৈশ্বিক বাণিজ্য এখনো আগের অবস্থায় ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশে ডলার-সংকট প্রকট আকার ধারণ করে, যা এখনো অব্যাহত আছে। এ সংকট দিন দিন বাড়ছে।

রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি

বাজারে ‘স্থিতিশীলতা’ আনতে রিজার্ভ থেকে নিয়মিত ডলার বিক্রি করে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সময়ে বাণিজ্যিক কিছু ব্যাংক থেকে এক বিলিয়ন ডলারের মতো কেনে বাংলাদেশ ব্যাংক, যার পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারের মতো।

২০২২-২৩ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছিল। তার আগের অর্থবছরে ( ২০২১-২২) ডলার বিক্রি করেছিল ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার।




 পাঁচ মাসে রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় নিম্নমুখী

২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধির হার কমে দাঁড়াল ১ দশমিক ৩০ শতাংশে। মূলত পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ায় প্রবৃদ্ধি হারের এই নিম্নমুখী অবস্থান উঠে এসেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন বলছে, জুলাই-নভেম্বর এ পাঁচ মাসে ২২ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারের। মূলত নভেম্বর মাসে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ৭ শতাংশ। এতে পুরো রপ্তানিতে ঝাঁকুনি লেগেছে।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থ-বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৮ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারের। যেখানে এই সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২০ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের। বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার নেমেছে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ কম অর্জিত হয়েছে।

নভেম্বরে প্রবৃদ্ধির হার আগের দুই মাসের চেয়ে কমেছে কয়েকগুণ। আগের মাস অক্টোবরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে ছিল ১৩ শতাংশ।

শুধু নভেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার। অর্জিত হয়েছে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ নভেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ কম অর্জিত হয়েছে। একক মাসের হিসাবে এটা আগের বছরের চেয়ে ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ কম। আগের বছরের নভেম্বর মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৪ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারের।

দেশে তৈরি পোশাক- রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত হওয়ায় পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোট রপ্তানি আয়ও নিম্নমুখী।

বিবিএস বলছে, নভেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে নিট পোশাকের রপ্তানি হয়েছে ১০ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলারের, যা আগের বছরের চেয়ে ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। এরমধ্যে ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারের। যা আগের বছরের চেয়ে সাড়ে ৪ শতাংশ কম। ওভেন পোশাক রপ্তানি আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় এর প্রভাব দেশের তৈরি পোশাক খাত তথা পুরো রপ্তানি খাতকে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি জুলাই থেকে সেপ্টম্বর পর্যন্ত অব্যহত ছিল। কিন্তু অক্টোবর থেকে সেটা কমতে থাকে।

পোশাক শিল্পের শ্রমিক অসন্তোষ ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির কারণে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে বলে মনে করছেন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল।

গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকের প্রধান বাজারগুলোতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এতে মানুষ কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে তৈরি পোশাকের ওপর। এ ছাড়া গত মাসে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অনেকে সময়মতো রপ্তানি করতে পারেনি। রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটিও অন্যতম বড় কারণ।

এছাড়া অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের মধ্যে হিমায়িত মৎস্য রপ্তানি হয়েছে ১৭৫ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ডলারের; ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ শতাংশ। ৪২০ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলারের কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে; প্রবৃদ্ধি কমেছে প্রায় ৮৯ শতাংশ।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে ২০ দশমিক ৫৫ শতাংশ; নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে রপ্তানির পরিমাণ ৪২৭ মিলিয়ন ডলার।

এক সময়ের প্রধান রপ্তানি পণ্য সোনালী আঁশ পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে ১১ শতাংশ; চলতি অর্থ বছরের নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে রপ্তানি হয়েছে ৩৬১ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলারের।

হোম টেক্সটাইল রপ্তানি হয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের; ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪২ দশমিক ২৭ শতাংশ। প্রকৌশল পণ্য রপ্তানি হয়েছে ২০০ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলারের; ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ। জাহাজ রপ্তানি কমেছে প্রায় শতভাগ।




টানা দুই মাস কমলো রপ্তানি আয়

সদ্য বিদায়ী নভেম্বরে ৪৭৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কম। এর আগে গত অক্টোবর মাসেও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। সোমবার (৪ ডিসেম্বর) পণ্য রপ্তানি আয়ের এ হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।

নভেম্বর মাসে ৫২৫ কোটি ডলার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৪৭৮ কোটি ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ কম। অন্যদিকে ২০২২ সালের অক্টোবরে আয় হয়েছিল ৫০৯ কোটি ডলার।

টানা দুই মাস পণ্য রপ্তানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির গতিও কমে গেছে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম চার মাস শেষে (জুলাই-অক্টোবর) পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ৩ শতাংশ। তবে নভেম্বর মাসে রপ্তানি কমায় পাঁচ মাসের হিসাবে (জুলাই-নভেম্বর) প্রবৃদ্ধি মাত্র ১ দশমিক ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জুলাই-নভেম্বর সময়ে রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ২২৩ কোটি ডলারের পণ্য।

 

গত অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে পোশাক খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে ১ হাজার ৮৮৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। আলোচ্য সময়ে তৈরি পোশাকের মধ্যে নিট পোশাকের রপ্তানি ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়েছে। তবে ওভেন পোশাকের রপ্তানি কমেছে সাড়ে ৪ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তৈরি পোশাক ছাড়া অধিকাংশ পণ্যের রপ্তানি কমে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে হিমায়িত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল পণ্য ইত্যাদি।

হোম টেক্সটাইলে ৪২ দশমিক ২৭ শতাংশ, ফুটওয়্যারে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ, পাট পণ্যে ১০ দশমিক ৯৯ শতাংশ, চামড়াজাত পণ্যে ২০ দশমিক ৫৫ শতাংশ, হিমায়িত মাছে ১৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অন্যদিকে প্লাস্টিকে ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ, রাবারে ১৬ দশমিক ৯১ শতাংশ, তুলা বর্জ্যে ৬৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল। চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার।




টানা ১০ মাস কমেছে ভারতের রপ্তানি আয়

টানা ১০ মাস ধরে কমে চলেছে ভারতের রপ্তানি। সেপ্টেম্বরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় তা সংকুচিত হয়েছে ২.৬%। আগস্টে কমেছিল ৩.৮৮%। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর— এই ছয় মাসেও রপ্তানি ৮.৭৭% কমেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ থেকে বাঁচার একমাত্র পথ অবাধ বাণিজ্য চুক্তি। দু’একটি দেশের সঙ্গে ইতোমধ্যেই তা করেছে নয়াদিল্লি। তবে ভারতীয় পণ্যের বড় বাজার, এমন আরও অনেক বেশি সংখ্যক অর্থনীতির সঙ্গে দ্রুত সেই প্রক্রিয়া সারতে হবে।

ভারতের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে রপ্তানির জন্য উৎপাদন। ২০১৭-১৮ সালে জিডিপিতে তার অংশ ছিল ১৮.৮%। ২০২১-২২ সালে বেড়ে হয়েছে ২১.৪%। ফলে রপ্তানি কমলে কল-কারখানায় পণ্যের উৎপাদন কমবে। ধাক্কা লাগবে আর্থিক প্রবৃদ্ধিতে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ভারতের রপ্তানি কমে হয়েছে ৩ হাজার ৪৪৭ কোটি ডলার। আমদানি খরচও ১৫% কমেছে। তবে তার পরেও বিদেশ থেকে পণ্য-পরিষেবা কেনার অঙ্ক ৫৩৮৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ রপ্তানি খাতে আয় যা হচ্ছে, আমদানিতে ব্যয় তার থেকে অনেক বেশি।

বলা হচ্ছে বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম ফের বেড়েছে। এর ফলেও ডলার খরচ হচ্ছে বেশি। রফতানি কমতে থাকায় সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞেরা আরও বেশি উদ্বিগ্ন পশ্চিম এশিয়া অশান্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে। তাদের দাবি, হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েল যুদ্ধ ঘোষণা করায় এই রপ্তানি আরও কমতে পারে। কারণ ভারতের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য সহযোগী তেল আভিভ।

তবে ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য সচিব সুনীল বার্থওয়ালের দাবি, সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যানে উন্নতির ইঙ্গিত স্পষ্ট। বোঝা যাচ্ছে, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্কট মাথায় নিয়েই ভারতের রপ্তানি এগোচ্ছে। এপ্রিল, মে, জুন, জুলাইয়ে সংকোচন ১০ শতাংশের ওপরে ছিল, এখন তার নীচে নেমেছে। ফিনল্যান্ড, তুরস্ক, মালটা, ফিলিপাইনের মতো নতুন নতুন বাজারে পা রাখা হচ্ছে। তার আশা আগামী ছয় মাসে রপ্তানি বৃদ্ধির কক্ষপথে ফিরবে। আমদানি কমার কারণ হিসেবে কেন্দ্রের নেওয়া বিকল্প নীতি (দেশীয় উৎপাদনে জোর), বিশ্ব বাজারে তেল-সহ বিভিন্ন পণ্যের দাম কমার কথাও বলেছেন তিনি।

আমদানি এবং রপ্তানি, দু’টিই কমার ফলে সেপ্টেম্বরে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে। সরকারি হিসাবে তা এখন ১৯৩৭ কোটি ডলার।




রপ্তানিকারকদের ইআরকিউ হিসাবে ডলার জমা রাখার নতুন নির্দেশনা

প্রত্যাবাসিত রপ্তানি আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ (বৈদেশিক মুদ্রা) রপ্তানিকারকের রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাবে জমা রাখা যায়। এই হিসাবে ডলার জমা রাখার পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে ব্যবসায়ীদের হিসাবে ডলার কম থাকলেও বাজারে সরবরাহ বাড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) বৈদেশিক মুদ্রার অনুমোদিত ডিলার (এডি) শাখায় পাঠিয়েছে।

নতুন নির্দেশনার ফলে ব্যবসায়ীদের ইআরকিউ হিসাবে ডলার কম থাকলেও বাজারে সরবরাহ বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।




আগস্টে রপ্তানি আয় বাড়লেও পূরণ হয়নি লক্ষ্যমাত্রা

আগস্টে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশে তৈরি পণ্য রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছে ৪৭৮ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। যা ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৭ কোটি ৫১ লাখ ৯০ হাজার ডলার বেশি।

শতাংশের হিসেবে ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। তবে সরকারের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তা পূরণ হয়নি। ওই মাসে সরকারের রপ্তানি বাবদ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮৭ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ইপিবির তথ্য মতে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের আগস্ট মাসে তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং চামড়াসহ ২৬ ধরনের পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়েছে। সেখান থেকে আগস্টে ৪৭৮ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার আয় হয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছিল ৪৬০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সে হিসেবে গত বছরের তুলনায় ১৭ কোটি ৫১ লাখ ইউএস ডলার পরিমাণ আয় বেড়েছে। যা শতাংশের হিসাবে বেড়েছে ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ।

গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছরের আগস্ট মাসে রপ্তানি আয় বাড়লেও সরকারের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল সেটি পূরণ হয়নি। বিদায়ী মাসে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮৭ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় কম হয়েছে। যা শতাংশের হিসাবে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ।

এমআই/জেডএস




২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাসে রপ্তানি আয়ে চমক

বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার বাজারে নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশের তৈরি পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি আয়ে চমক দেখিয়েছে। বাংলাদেশ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাসে আগের বছরের তুলনায় ১৫ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি রপ্তানি আয় করেছে। পাশাপাশি চলতি বছরের জুলাই মাসে সরকার যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল তা পূরণ করেও ২ দশমকি ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করেছে।

বুধবার (২ আগস্ট) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ইপিবির তথ্য মতে, চলতি বছরের জুলাই মাসে ৪৫৯ কোটি ২৯ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশের তৈরি পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৩৯৮ কোটি ৪৮ লাখ ডলার সমপরিমাণ পণ্য। সে হিসেবে গত বছরের তুলনায় ৬০ কোটি ৮১ লাখ ইউএস ডলার পরিমাণ আয় বেড়েছে। যা শতাংশের হিসাবে বেড়েছে ১৫ দশমিক ২৬ শতাংশ।

বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশ ২৬ ধরনের পণ্য রপ্তানি করে। এর মধ্যে ১৭টি খাতের রপ্তানি বেড়েছে। এই ১৭ খাতের মধ্যে যথারীতি রপ্তানি সবচেয়ে বেশি হয়েছে পোশাক খাত থেকে।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে সরকার এবার ৬২ বিলিয়ন ডলার বা ৬ হাজার ২০০ কোটি ইউএস ডলার পরিমাণ পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি করবে। তাতে প্রবৃদ্ধি হবে ১১ দশমকি ৫৯ শতাংশ। তার মধ্যে একক মাস হিসেবে জুলাই মাসে সরকারে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ বিলিয়ন বা ৪৪৮ কোটি ১০ লাখ ইউএসডলার পরিমাণ পণ্য। আর সরকারের রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৫৯ কোটি ২০ লাখ ইউএস ডলার পণ্য। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার বেড়েছে। যা শতাংশের হিসাবে বেড়েছে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ।

এর আগের বছর ২০২২-২৩ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

খাতভিত্তিক রপ্তানি তথ্যে দেখা যায়, জুলাই মাসে রপ্তানি আয় সবচেয়ে বেশি হয়েছে তৈরি পোশাক থেকে। এ খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ মোট রপ্তানি হয়েছে ৩৯৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের পোশাক পণ্য।

এর মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২২৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলারের (প্রবৃদ্ধি ২২ দশমিক ২৪ শতাংশ) এবং ওভেন পোশাক বিদেশে গেছে ১৬৮ কোটি ৭২ লাখ ডলারের (প্রবৃদ্ধি ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ)।




রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম বাড়ল

আরেক দফা বাড়ল ডলারের দাম। এবার প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ডলারের দাম ৫০ পয়সা বাড়িয়ে ১০৯ টাকা এবং রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে ডলারের দাম ১ টাকা বাড়িয়ে ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ জুলাই) বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমদানি নিষ্পত্তিতে ডলারের দাম ৫০ পয়সা বাড়িয়ে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি ডলারে ১ টাকা করে লাভ করতে পারলেও ডলারের দাম ১০৯ টাকা ৫০ পয়সার বেশি দরে বিক্রি করতে পারবে না ব্যাংকগুলো।

এর আগে বাফেদা ও এবিবি গত জুনের শেষ দিন আন্তঃব্যাংক ডলারের দাম বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল।

রেমিট্যান্সে ডলারের দাম বাড়ানোর ফলে এখন থেকে প্রবাসীরা লাভবান হবেন। এখন থেকে প্রতি ডলারের দাম ১০৯ টাকার সঙ্গে রেমিট্যান্সের বিপরীতে প্রণোদনা ২.৫০ টাকা যোগ করে মোট ১১১ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন প্রবাসীরা। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহী করতে সরকার ২.৫০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে।




বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি ১ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা

ডলার সংকটের কারণে আমদানিতে বিভিন্ন শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর প্রভাবে বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি কিছুটা কমেছে। তবে এলসির হার কমলেও আমদানি দায় পরিশোধ খুব একটা কমেনি। একইসঙ্গে আশানুরূপ হারে বাড়েনি রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়। যার কারণে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তুলনায় ব্যয় হ‌চ্ছে বেশি। ফলে আর্থিক হিসাবে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এছাড়া ঋণ পরিশোধের তুলনায় নতুন ঋণ কম আসায় সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনেরও বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

রোববার (২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ৬ হাজার ৪৭৬ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে। এসময় রপ্তানি হয়েছে চার হাজার ৭৬০ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য। এতে করে এক হাজার ৭১৬ কোটি ২০ লাখ (১৭ দশমিক ১৬ বি‌লিয়ন) ডলারের বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি এক ডলার ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা ধরে) এর পরিমাণ এক লাখ ৮৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকা।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি, বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ সব ধরনের পণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী ও আশানুরূপ রেমিট্যান্স ও বিদেশি বিনিয়োগ না থাকায় বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়ছে বাংলাদেশ।

গেল অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বাণিজ্য ঘাটতির সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ ঘাটতি প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি বৃদ্ধি মানে বিভিন্ন উৎসে দেশে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আসছে, পরিশোধ হচ্ছে তার চেয়ে বেশি। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে গেল ২০২২-২৩ অর্থবছরের সাড়ে ১৩ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। তার আগের অর্থবছরে বিক্রি করা হয় আরও ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। এভাবে ডলার বিক্রির কারণে ধারাবাহিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছে। সবশেষ ২৫ জুন পর্যন্ত রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারে।

চলতি হিসাবের ভারসাম্য (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স)

চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়। সেই হিসাবে উন্নয়নশীল দেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ভালো। কিন্তু দেশে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স এখন ঋণাত্মক হয়েছে।

সবশেষ তথ্য বলছে, অর্থবছরের ১১ মাসে চলতি হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫০ কোটি ৮০ ডলার। আগের অর্থবছরে একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল এক হাজার ৭২৭ কোটি ডলার।

ওভারঅল ব্যালেন্স

সামগ্রিক লেনদেনেও (ওভারঅল ব্যালেন্স) বড় ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। গেল অর্থবছরের মে পর্যন্ত সামগ্রিক লেনদেনের (ঋণাত্মক) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৮০ কোটি ডলার। এ সূচকটি আগের বছর একই সময় ঘাটতি ছিল ৫৫৯ কোটি ডলার।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে এক হাজার ৯৪১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। আগের বছর পাঠিয়েছিলেন এক হাজার ৯১৯ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ১৪ শতাংশ।

এফডিআই বেড়েছে ৮ দশ‌মিক ২৭ শতাংশ

দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) সামান্য বেড়েছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে জুলাই-‌মে সময়ে বাংলাদেশ যেখানে ৪২৬ কোটি ৮০ লাখ ডলারের এফডিআই পেয়েছিল। গেল অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে ৪৬২ কোটি ডলারে উঠেছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে সরাসরি মোট যে বিদেশি বিনিয়োগ আসে তা থেকে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মুনাফার অর্থ নিয়ে যাওয়ার পর যেটা অবশিষ্ট থাকে সেটাকে নিট এফডিআই বলা হয়।

আলোচিত সময়ে নিট বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। এ সূচকটি আগের বছরের চেয়ে ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ কমে ১৬৩ কোটি ডলার হয়েছে। আগের অর্থবছর একই সময়ে নিট বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ১৭৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

একইসঙ্গে আলোচিত সময়ে দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) নেতিবাচক অবস্থা অব্যাহত আছে। অর্থবছরে ১১ মা‌সে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (নিট) যা এসেছিল তার চেয়ে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার চলে গেছে। তার আগের অর্থবছরের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল (ঋণাত্মক) ১০ কোটি ডলার।




চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা

চলতি ২০২২-২৩ অর্থ বছরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৯০ কোটি ৫ লাখ টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেন, ‘চলতি ২০২২-২৩ অর্থ বছরে জুলাই-এপ্রিল সময় পর্যন্ত নিটওয়্যার ওভেন, তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, ফুটওয়্যার খাত, হিমায়িত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে।’

সোমবার (১২ জুন) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।

তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে নিটওয়্যার তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি আয় ২ লাখ ৬ হাজার ৯১ কোটি টাকা, ওভেন তৈরি পোশাক খাতে ১৭ লাখ ৩০ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা, হোম টেক্সটাইল খাতে ৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা, ফুটওয়্যার খাতে ৩ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা, হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি খাতে ৩ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা, পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি খাতে ৭ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি খাতে আয় হয়েছে ৯ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা।




মে মাসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে রপ্তানি আয়

গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে নেতিবাচক প্রভাব থাকলেও সদ্য সমাপ্ত মে মাসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের রপ্তানি আয়। মে মাসে মোট ৪৮৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৫১ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি।

রোববার (৪ জুন) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের এ হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে।

যদিও রপ্তানির এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ কম। মে মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫১২ কোটি ডলার। আর ২০২২ সালের মে মাসে রপ্তানি থেকে ৩৮৩ কোটি ডলার আয় হয়েছিল।

ডলার সংকটের কারণে গত মার্চে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ, একইভাবে পরের মাস এপ্রিলে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয় ১৬ দশমিক ৫২ শতাংশ।

আরও পড়ুন: ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি এক লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ৫ হাজার ৫২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৪ হাজার ৭১৭ কোটি ডলারের পণ্য।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, চামড়াবিহীন জুতা ও প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। অন্যদিকে পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত খাদ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি কমে গেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ৪ হাজার ২৬৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে রপ্তানিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে আছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। যেখানে রপ্তানি হয়েছে ১১২ কোটি ডলারের পণ্য। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি দশমিক ৪২ শতাংশ। অন্যদিকে তৃতীয় সর্বোচ্চ ১০২ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ খাতের রপ্তানি কমেছে ৩০ শতাংশ।




চামড়াজাত পণ্যে রপ্তানি আয় বাড়াতে ৯৩৩ কোটি টাকা দেবে বিশ্বব্যাংক

চামড়াজাত পণ্য থেকে রপ্তানি আয় বাড়াতে ৯৩৩ কোটি টাকা ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস’ প্রকল্পের আওতায় এ ঋণ দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে হবে এ বৈঠক। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

পরিকল্পনা কমিশন জানায়, দ্বিতীয় সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াবে এক হাজার ১০৫ কোটি টাকা। এরমধ্যে বিশ্বব্যাংক ঋণ দেবে ৯৩৩ কোটি টাকা, বাকি অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে মেটানো হবে।

মূল অনুমোদিত প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জুলাই হতে ২০২৩ সালের জুন নাগাদ বাস্তবায়নের কথা ছিল। তবে এখন মেয়াদ বাড়ছে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য

লক্ষ্যযুক্ত খাতে রপ্তানি বৃদ্ধি করা, বিশেষ করে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য যেমন- পাদুকা, হালকা প্রকৌশল প্লাস্টিক, এছাড়া সুবিধাভোগী সংস্থাগুলোতে নতুন উৎপাদন তৈরি করা।

প্রধান কার্যক্রম

সংশোধিত প্রস্তাবনায় এ প্রকল্পের আওতায় দুটি কম্পোনেন্ট প্রস্তাব করা হয়েছে।

কম্পোনেন্ট-১: মার্কেট অ্যাকসেস সাপোর্ট প্রোগ্রাম, এনভায়রনমেন্ট সোশ্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটি সহায়িকা তৈরি ও সচেতনতা বৃদ্ধি। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, প্লাস্টিক এবং হালকা প্রকৌশল খাতের কারখানা পর্যায়ে কমপ্লায়েন্স এসেসমেন্ট করা। শিল্পখাতে দক্ষতা বৃদ্ধিতে কমপ্লায়েন্স ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া। এক্সপোর্ট রেডিনেস ফান্ডের কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত চারটি সেক্টরের ১১০টি কারখানার মানোন্নয়নে ও কমপ্লায়েন্স অর্জনে বিনিয়োগ সহায়তা করা। মার্কেট ইন্টেলিজেন্স ও মার্কেট লিংকেজ কার্যক্রম এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে ব্রান্ডিং ও সোর্সিং শো আয়োজন।

কম্পোনেন্ট-২: এর আওতায় দুটি টেকনোলজি সেন্টার প্রতিষ্ঠাকরণ, টেকনোলজি সেন্টারের নির্মাণের জন্য ৩০ দশমিক ২০ একর জমি অধিগ্রহণ, চারটি টেকনোলজি সেন্টারের ডিজাইন-ড্রইং সম্পন্ন করা, দুটি টেকনোলজি সেন্টারের মূল ভবন, হোস্টেল, ডরমিটরি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। টেকনোলজি রোড ম্যাপ প্রস্তুত, প্রয়োজনীয় টেকনোলজি ও মেশিনারিজ টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন, টেন্ডার ডকুমেন্ট চূড়ান্ত করা, দুটি টেকনোলজি সেন্টারের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা কাঠামো চূড়ান্ত করা।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ

মার্কিন ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক টেন্ডার প্রক্রিয়া সমাপ্ত করার পর অনুমোদিত প্রকল্পের সংস্থান অপেক্ষা অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কলন, কোভিড-১৯ বৈশ্বিক অতিমারিজনিত সংক্রমণ ও বিধি নিষেধের কারণে ২০২০ থেকে শিল্প কারখানা পর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়া। বিদ্যমান বিভিন্ন খাতের ব্যয় পরিবর্তন, খাত অন্তর্ভুক্তি বা বাদ, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সুপারিশের আলোকে চারটি টেকনোলজি সেন্টারের জন্য ২২ একর জমির পরিবর্তে ৩০ দশমিক ২০ একর জমি লিজ বা অধিগ্রহণ বাবদ ৬ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি এবং একটি টেকনোলজি সেন্টারের স্থান পরিবর্তন।

পরিকল্পনা কমিশনের মতামত

রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টির জন্য চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতামূলক বাজারে প্রবেশের পথে যে সব সমস্যা রয়েছে তা দূরীকরণে প্রকল্পটি ভূমিকা পালন করবে।




৪ মাস পর রপ্তানি আয়ে ভাটা

বৈশ্বিক মন্দা, দেশে জ্বালানির ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেও ইতিবাচক ধারায় ছিল রপ্তানি আয়। চার মাস ধরে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি থাকলেও সদ্যসমাপ্ত মার্চে নেতিবাচক ধারায় ফিরেছে রপ্তানি।

মার্চে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে উদ্যোক্তারা আয় করেছেন ৪৬৪ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ শতাংশ ও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ কম।

রোববার (২ এপ্রিল) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইপিবি জানায়, চলতি বছর মার্চে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০২ কোটি ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরের মার্চে রপ্তানি হয়েছে ৪৭৬ কোটি ২২ লাখ ডলার।

মার্চে নেতিবাচক প্রভাব থাকলেও অর্থবছরের ৯ মাস (জুলাই থেকে মার্চ) মোট রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরের তিন প্রান্তিক মিলিয়ে (জুলাই থেকে মার্চ) রপ্তানি আয়ে ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রয়েছে। মার্চ শেষে দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৭২ কোটি ১৬ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ হাজার ৮৬০ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।

মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে তৈরি পোশাকের অংশই বেশি। মার্চে মোট ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। তবে এ মাসে পোশাক রপ্তানিও আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে এক দশমিক ০৪ শতাংশ পিছিয়ে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ সময়ে পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি। একই সময়ে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এসময় চামড়াজাত পণ্যে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ, পাদুকায় ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ, পরচুলায় ২৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

অন্যদিকে এ ৯ মাসে কৃষিপণ্যে ২৮ দশমিক ৩১, হিমায়িত মাছে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ, পাটজাত পণ্যে ২১ দশমিক ২৩ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।