জানুয়ারিতে রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ

সদ্যবিদায়ী জানুয়ারি মাসে দেশে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪৪৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। বছরের ব্যবধানে যা বেড়েছে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। সোমবার (৩ জানুয়ারি) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত জানুয়ারি মাসে বেড়েছে দেশের রপ্তানি আয়। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৪১৯ কোটি ৬৯ লাখ ডলার।

এছাড়া চলতি (২০২৪-২৫) অর্থবছরের প্রথম (জুলাই-জানুয়ারি) ৭ মাসে রপ্তানি হয়েছে ২৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছে ২৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বেশিরভাগ পণ্যেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ১২ শতাংশ। নিট পোশাকে ১২ ও ওভেন পোশাকে ১১ দশমিক ৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। আলোচ্য সময়ে সাড়ে ২৩ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে।

এছাড়া প্লাষ্টিক পণ্যে ২৪ দশমিক ২২ শতাংশ, চামড়ায় ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ, প্রক্রিয়াজাত পণ্যে ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ, কৃষিজাত পণ্যে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ, হিমায়িত পণ্যে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আর পাটজাত পণ্যে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ।




মার্চ থেকে পেপারলেস আমদানি-রপ্তানি : অর্থ উপদেষ্টা

আগামী মার্চ মাস থেকে আমদানি ও রপ্তানির সকল কার্যক্রম পেপারলেস বা অনলাইনে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) আংশিকভাবে বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো (বিএসডব্লিউ) চালু হয়েছে। আমদানি ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগের অধীনে সাতটি কাস্টমস এজেন্সিকে একক প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে।

রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে বিএসডব্লিউ-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম সহজতর করার কথা জানান।

তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির পর থেকে আমদানি ও রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ১৯টি ডিপার্টমেন্টের যত ধরনের লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয় আছে এতে কোনো ম্যানুয়াল পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে না, সব অনলাইনে করতে হবে। অন্যথায় আমাদের হাতেও ইন্সট্রুমেন্ট আছে। আমাদের অর্থসচিব অনলাইনে আবেদন না হলে সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টের বরাদ্দ আটকে দেবেন।

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, গত ১৫ বছরে ডিজিটাল করতে অনেক টাকা ব্যয় করা হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। আমাদেরকে ডিজিটালের গল্প শোনানো হয়েছে শুধু। যাত্রাবাড়ী থানা পুড়ে গেল, কোনো ব্যাকআপ ডকুমেন্ট রইলো না। আমরা কার্যকর ডিজিটাল দেশ গড়তে অর্থায়ন করব।

এ সময় পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের উপলব্ধি হয়েছে ডিজিটালের গুরুত্ব। সব নথিপত্র পুড়ে গেল কোনো ব্যাকআপ থাকলো না। অথচ বলা হয়েছিল দেশ ডিজিটাল হয়ে গেছে। স্মার্ট হয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য দেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে এসেছি স্মার্ট বাংলাদেশ হয়েছে, আমরা উন্নয়নের হাইওয়েতে প্রবেশ করেছি। এ ধরনের অনেক নেগেটিভ তৈরি হয়েছে। অথচ একটি থানার কাগজ পুড়ে গেলে অনলাইন না থাকায় তার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে বিএসডব্লিউ-এর আওতায় এসেছে সাতটি সংস্থা। সেগুলো হলো পরিবেশ অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ন্যাশনাল অথরিটি ফর কেমিক্যাল উইপনস কনভেনশন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাকি ১২টি সংস্থাকে বিএসডব্লিউ-এর আওতায় আনা হবে। এর ফলে পুরো সিস্টেমটি সম্পূর্ণরূপে চালু হবে।

আরও জানানো হয়, ওই সাতটি সংস্থা ইতোমধ্যে তাদের অটোমেশন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এখন থেকে ব্যবসায়ীরা এ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনলাইনে আমদানি ও রপ্তানি সংক্রান্ত সকল প্রকার শংসাপত্র, লাইসেন্স এবং পারমিট পেতে পারবেন। ফলে, কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য আর অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।




পেঁয়াজ রপ্তানিতে শর্ত শিথিল ও শুল্ক কমাল ভারত

ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান পেঁয়াজ রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশসহ অনেক দেশ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে। বাংলাদেশের আমদানিকারকেরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে আগ্রহী থাকেন। কারণ, প্রতিবেশী দেশটি থেকে দ্রুত পণ্য আনা যায়। আর বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের চেয়ে বেশি।

পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপের চার মাস পর তা কমিয়ে ২০ শতাংশ করেছে ভারত। শনিবার থেকে এ হার কার্যকর হয়েছে বলে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পণ্যটির ন্যূনতম রপ্তানি মূল্যের শর্ত প্রত্যাহার করে, যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় শুল্ক কমানোর ওই নির্দেশনা জারি করে।

প্রতি টন পেঁয়াজ রপ্তানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৫৫০ ডলার মূল্যের যে শর্ত ছিল, দেশটির সরকার তা প্রত্যাহার করেছে। পাশাপাশি কমানো হয়েছে রপ্তানি শুল্ক। গুরুত্বপূর্ণ পেঁয়াজ উৎপাদান অঞ্চল মহারাষ্ট্র রাজ্যে নির্বাচনের আগে পেঁয়াজ রপ্তানির ওপরে থাকা কঠোর শর্ত শিথিল করা হলো।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড শুক্রবার পেঁয়াজের সর্বনিম্ন রপ্তানিমূল্য বা ‘মিনিমাম এক্সপোর্ট প্রাইস’–সংক্রান্ত শর্ত বাতিল করার সিদ্ধান্ত জানায়। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বের কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়। এর ফলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এখন যেকোনো দামে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারবেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু লিখেছে, বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী রাজ্য মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকার বিধিনিষেধ শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের কারণে পেঁয়াজ রপ্তানি বেড়ে যাবে, তাতে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় বিধানসভা নির্বাচনের আগে চাষিরা ভালো মুনাফা পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনাবৃষ্টির পর অভ্যন্তরীণ ঘাটতির আশঙ্কায় গেল ডিসেম্বরে ‘রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর’ রান্নাঘরের প্রধান এ পণ্যের রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছিল ভারত। এরপর মার্চে কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক অনুরোধে কিছু চালান রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়।

এরইমধ্যে বিশ্বজুড়ে পেঁয়াজের উচ্চমূল্য দেখা দেয়, কিন্তু রপ্তানি বন্ধ থাকায় ভালো দাম না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন পেঁয়াজ চাষিরা।

তখন রাজনৈতিক কারণে সিদ্ধান্ত বদলাতে হয় কেন্দ্র সরকারকে। লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৪ মে পণ্যটির রপ্তানি ক্যাটাগরি ‘নিষিদ্ধ’র পরিবর্তে ‘ফ্রি’ করা হয়।

ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভারত থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানি করা হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ ১৭ হাজার টন। ভারতে এপ্রিল থেকে অর্থবছর শুরু হয়।

সর্বনিম্ন রপ্তানিমূল্য বাতিলের সিদ্ধান্তের কারণে ভারতীয় পেঁয়াজচাষিরা লাভবান হবেন। কারণ, তারা স্থানীয় বাজারের তুলনায় বেশি দামে বিশ্ববাজারে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারবেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, দিল্লি পেঁয়াজ রপ্তানির শর্ত কঠোর করার পর মহারাষ্ট্রের পেঁয়াজচাষিরা ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দফায় দফায় বিক্ষোভ করেন। তবে দেশটির সাধারণ নির্বাচনের আগে সরকার বাজারে পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর থাকা বিধিনিষেধ শিথিল করতে চায়নি।




দেশে উৎপাদিত লোহা রপ্তানিতে বড় সম্ভাবনা দেখছেন উদ্যোক্তারা

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশে উৎপাদিত স্টিল বা লোহা এবং লোহা থেকে তৈরি পণ্য বিদেশেও রপ্তানির সম্ভাবনা দেখছেন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। তাদের হিসাবে, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে স্টিল বা ইস্পাত পণ্য রপ্তানি করে বার্ষিক ১০ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) আয়োজিত এক সভায় এসব কথা উঠে আসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম।

এ সময় তিনি বলেন, ইস্পাত বা লোহা এবং লোহার পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা খুঁজে বেড় করতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং করণীয় নির্ধারণে এ খাতের উদ্যোক্তাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তৈরি করতে হবে। বেসরকারি খাতের অভিভাবক হিসেবে এফবিসিসিআই তাদের সেসব প্রস্তাব নিয়ে নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলবে।

রপ্তানিপণ্য বহুমুখী করতে লোহা ও লোহার পণ্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

সভায় অংশ নিয়ে কমনওয়েলথ এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিলের অ্যাডভাইজার জিল্লুর হোসেন জানান, যুক্তরাজ্যসহ কমনওয়েলথের সদস্য দেশগুলোতে বাংলাদেশের ইস্পাতসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারকেও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের লোহা ও লোহার পণ্য তৈরি হচ্ছে, প্রযুক্তি উন্নত- এমন দাবি বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের। তিনি বলেন, স্থানীয় কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় দেশের ইস্পাতের চাহিদা প্রায় ৫০ শতাংশ কম। উদ্বৃত্ত সক্ষমতার (ওভার ক্যাপাসিটি) ইস্পাত যদি আফ্রিকাসহ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে রপ্তানি করা যায়, তাহলে এই খাত থেকে প্রতি বছর ১০ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

এ সময় লোহা ও লোহার পণ্যকে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তরের জন্য সরকারের বিশেষ পৃষ্ঠপোষকাত চান ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে রয়েছে, রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে লোহা ও লোহার পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতে বিশেষ শুল্ক সুবিধা, আংশিক বন্ড সুবিধা, নগদ সহায়তাসহ রপ্তানি অন্যান্য সহযোগিতা। রপ্তানিমুখী ইস্পাত কারখানায় জ্বালানি মূল্যে সুযোগ-সুবিধা, সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করাসহ অন্যান্য নীতি সহায়তা।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, কমনওয়েলথ এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. সুমন চৌধুরী, এফবিসিসিআই পরিচালক এবং বাংলাদেশ আয়রন অ্যান্ড স্টিল ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মো. আমির হোসেন নুরানী, মেট্রোসেম ইস্পাত লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক শুনিল কুমার অধিকারী প্রমুখ।




রপ্তানির গন্তব্য হিসেবে দেশকে গড়ে তোলা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও রপ্তানির আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে দেশকে গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার বেসরকারি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা যখন ’৯৬ সালে সরকার গঠন করি, তখন থেকেই আমাদের প্রচেষ্টা ছিল বেসরকারি খাতকে আরও উজ্জীবিত করা। তাদের জন্য সব কিছু উন্মুক্ত করে দেওয়া এবং বিদেশি বিনিয়োগ যাতে আসে সেজন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া।’

রবিবার ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ৬০ বছর পূর্তি উদযাপন এবং ইনভেস্টমেন্ট এক্সপোর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার বেসরকারি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ’৯৬ থেকে ২০০১, আমরা বেসরকারি খাতকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আসার বিভিন্ন সুযোগ সৃষ্টি করে দেই। আমরা দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে, গ্যাস উত্তোলন থেকে সার্বিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগে আকর্ষণ করার প্রচেষ্টা চালাই। তিনি আরও বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ৬ দফার পঞ্চম দফা ছিল বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনে জাতির পিতার বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কাঠামো নির্ধারণ ও শিল্প-বাণিজ্য পুনর্জীবিত করা। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে ভারত ও রাশিয়া সফর করেন, ফলে বেশকিছু বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি সম্পাদন সম্ভব হয়। জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার আগেই ১৯৭২ সালে জাতির পিতা চিলির সান্তিয়াগোতে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সংস্থা আঙ্কটাডের তৃতীয় অধিবেশনে বাংলাদেশ ডেলিগেশন প্রেরণ করেন।

শক্তিশালী সামষ্টিক অর্থনৈতিক মৌলিক বিষয়সমূহ ও বাণিজ্য সংহতকরণের ফলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭.২৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মাথাপিছু আয় মাত্র এক দশকে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২,৭৯৩ মার্কিন ডলারে। জিডিপির আকার ২০০৬ সালের ৪ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ লক্ষ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দারিদ্র্যের হার কমে ১৮.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

২০৩১ সালের মধ্যে জিডিপিতে বেসরকারি বিনিয়োগের অনুপাত ৩১ দশমিক চার-তিন শতাংশে উন্নীত হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করা হচ্ছে ২০৩৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২০তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সারা দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, ৩৯টি হাই-টেক পার্ক প্রতিষ্ঠা করেছি। এগুলো বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আমরা পাঁচটি বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা গঠন করেছি। ২০২৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত ও ধনিক শ্রেণির সংখা হবে ৩ কোটি ৪০ লাখ। ২০৪০ সালের মধ্যে আনুমানিক মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াবে ৫ হাজার ৮৮০ মার্কিন ডলারে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ৩০০ কোটি মানুষের আঞ্চলিক বাজারের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে ২০৩১ সালের মধ্যে একটি উচ্চ মধ্য-আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরিত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি আমরা। তিনি বলেন, এখন দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৭৮.৫৫ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার ফ্রিল্যান্সার রয়েছে যা বিশ্বব্যাপী অনলাইন শ্রমের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী। আইসিটি রপ্তানি খাতে ২০২৩ সালে আমরা অর্জন করেছি ১.৯ বিলিয়ন ডলার। আশা করা হচ্ছে, ২০২৫ সাল নাগাদ এই খাতে রপ্তানি আয় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে।




রপ্তানি আয়ে বড় ধাক্কা

চলতি বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশের তৈরি পণ‍্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি কমেছে। আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

ইপিবির তথ‍্য মতে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৭৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫৯ কোটি ৪৬ লাখ ডলার বা ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম।

এর আগে ২০২২ সালের অক্টোবরে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৪৩৫ কোটি ৬৬ লাখ ডলার সমপরিমাণ। শুধু গতবছরের তুলনায় কমেনি বরং অক্টোবর মাসে রপ্তানি আয়ে সরকারের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তাও পূরণ হয়নি। উল্লেখিত মাসে সরকারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের পণ্যের। সেই হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ কম রপ্তানি হয়েছে। ফলে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৩- ২৪ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস ভালো ইতিবাচক থাকার পর চতুর্থ মাসে রপ্তানি আয় নেতিবাচক ধারায় ফিরল।

চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে অক্টোবরে মোট ১ হাজার ৭৪৪ কোটি ৭৪ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তাতে প্রথম চার মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। তবে প্রথম তিন মাস অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত রপ্তানি প্রবৃদ্ধির এ হার ছিল ৯ দশমিক ৫১ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রতি মাসেই রপ্তানি আয় হয়েছে ৪০০ কোটির বেশি। এর মধ্যে আগস্টে এসেছিল সবচেয়ে বেশি ৪৭৮ কোটি ডলার। জুলাইয়ে যা ছিল ৪৫৯ কোটি এবং সেপ্টেম্বরে ৪৩১ কোটি ডলার।

২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে ৬২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকেও অক্টোবরের রপ্তানি আয় কমেছে। এ বিষয়ের তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিশ্বব্যাপী মন্দার কারণে পোশাক রপ্তানি কমেছে। এটি আমরা আগেই আশঙ্কা করেছিলাম। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কমার পাশাপাশি বিদেশের অর্থনৈতিক মন্দা কাটলে পোশাক রপ্তানি আরও বাড়বে।




রিজার্ভ ঠিক করতে রপ্তানি-রেমিট্যান্স বাড়াতে হবে : সালমান এফ রহমান

দেশের রিজার্ভ স্বস্তিতে আছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, রিজার্ভ ঠিক করার জন্য রপ্তানি বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে রেমিট্যান্সও বাড়াতে হবে।

রোববার (১ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ভবনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত চার্লস উইটলির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর তিনি এ কথা বলেন। সৌজন্য সাক্ষাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে প্রযুক্তি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দেয় ইইউ প্রতিনিধিদল।

সালমান এফ রহমান বলেন, রিজার্ভ নিয়ে অনেক কথা বলা হচ্ছে, আমার কথা হলো যদি ২১ বিলিয়ন রিজার্ভ হয়, তাহলে চার মাস এক্সপোর্ট করতে পারব। আমাদের ইমপোর্ট ৫ বিলিয়নে নেমে এসেছে। ফলে এই রিজার্ভ দিয়ে চার মাস এক্সপোর্ট করা যাবে। ফোর মান্থ রিজার্ভ ইজ ভেরি কমফোর্টেবল রিজার্ভ। অনেক দেশ আছে যাদের রিজার্ভ দিয়ে দুই মাস ও এক মাস এক্সপোর্ট করা যায়। তারপরও তারা কিন্তু ম্যানেজ করতে পারে।

তিনি বলেন, আমি মনে করি সামনে নির্বাচন, এখন সবাই ব্যস্ত। নির্বাচনের পর নতুন সরকার এলে সব কিছু ঠিক হবে। রিজার্ভ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা বলছি এগুলো আমরা ম্যানেজ করছি। এক্সচেঞ্জ ম্যানেজ ভালো করেছি, এখন ডলার ১১০-এ এসেছে। মূল্যস্ফীতিও আমাদের খেয়াল করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক এ উপদেষ্টা জানান, আইএমএফের ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি পেতে কোনো বাধা নেই। মূল্যস্ফীতির চাপ ও রিজার্ভ সংকট উত্তরণে আর্থিক খাতের প্রয়োজনীয় সংস্কার নতুন সরকার করবে বলেও মন্তব্য করেন সালমান এফ রহমান।




পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৭ শতাংশ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্য আগস্ট মাসে বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়েছে ৪০৪ কোটি ৪৮ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। যা ২০২২ সালের একই সময়ে ছিল ৩৭৪ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার ইউএস ডলার।

অর্থাৎ ২০২২ সালের আগস্ট মাসের তুলনায় ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে রপ্তানি বেড়েছে ২৯ কোটি ৯১ লাখ ইউএস ডলার বা ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ইপিবির তথ্য মতে, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের প্রথম দুই (জুলাই ও আগস্ট) মাসে ৭৯৯ কোটি ৮৬ লাখ ইউএস ডলার সমপরিমাণ পোশাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৭১১ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার সমপরিমাণ পণ্য।

অর্থাৎ ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে জুলাই ও আগস্ট মাসে ১২ দশমিক ৪৬ শতাংশ রপ্তানি বেড়েছে।

দুই প্রকার পোশাক পণ্যের মধ্যে শুধু চলতি অর্থ বছরের আগস্ট মাসে ওভেন পোশাক খাতে ১৭২ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ডলার সমপরিমাণ পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা ২০২২ সালের একই সময়ে ছিল ১৬৮ কোটি ৪২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। অর্থাৎ পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

অপরদিকে নীট পোশাক খাতে আগস্ট মাসে ২৩১ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার। যা ২০২২ সালে ছিল ২০৬ কোটি ১৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার। অর্থাৎ রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ।




সিদ্ধ চাল রপ্তানিতে ভারতের ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ

 

অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষে সিদ্ধ চাল রপ্তানির ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ভারত সরকার। শুক্রবার (২৫ আগস্ট) আরোপিত এই রপ্তানি শুল্ক আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়।

তবে রপ্তানি আদেশ (এলইও) এখনও দেওয়া হয়নি। কিন্তু ২৫ আগস্টের আগে এলসি খোলা হয়েছে বন্দরে পড়ে থাকা এমন সিদ্ধ চালে শুল্ক ছাড় পাওয়া যাবে।

এর আগে, নন-বাসমতী চাল রপ্তানিতে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। যেখানে দেশটি থেকে রপ্তানি হওয়া মোট চালের প্রায় ২৫ শতাংশ নন-বাসমতী সাদা চাল।

গত মাসে ভারত সরকার অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বাড়াতে এবং আসন্ন উৎসব মৌসুমে খুচরা দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নন-বাসমতী সাদা চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর আগে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভাঙা চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

চলতি অর্থবছরের এপ্রিল-জুন মেয়াদে প্রায় ১৫ দশমিক ৫৪ লাখ টন নন-বাসমতী সাদা চাল রপ্তানি করেছে ভারত। যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ১১ দশমিক ৫৫ লাখ টন।

খাদ্যশস্যের মূল্যবৃদ্ধি ও রপ্তানি বৃদ্ধির কারণেই মূলত ভারত নন-বাসমতী সাদা চাল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে।

ভারতে বার্ষিক খুচরা বা ভোক্তা মূল্যস্ফীতি জুলাই মাসে ৭ দশমিক ৪৪ শতাংশে পৌঁছায়, এটি ১৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। যেখানে জুনে মূল্যস্ফীতি ছিল ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারতের বাসমতী চালের মোট রপ্তানি ৪৮০ কোটি ডলার সমমূল্যের ছিল। পরিমাণের দিক থেকে যা ৪৫ দশমিক ৬ লাখ টন। আগের অর্থবছরে নন-বাসমতী রপ্তানি হয়েছে ৬৩৬ কোটি ডলারের বা ১৭৭ দশমিক ৯ লাখ টন।

২০২২-২৩ শস্য বছরে (জুলাই-জুন) ভারতের ধানের উৎপাদন আগের বছরের ১২৯ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন টন থেকে বেড়ে ১৩৫ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন টন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

এদিকে এক সপ্তাহ আগেই অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত পেঁয়াজের ওপর ৪০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেছে।




রপ্তানিতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা পা‌বে ৪৩ পণ্য

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৩টি পণ্য ও খাত‌কে রপ্তানির বিপরীতে ভর্তুকি বা নগদ সহায়তা দেওয়া হ‌বে। গত অর্থবছরের মতো এবারও ১ শতাংশ থেকে স‌র্বোচ্চ ২০ শতাংশ হারে এ নগদ সহায়তা পাবেন রপ্তানিকারকরা।

বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

সার্কুলারের নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে ৪৩টি পণ্য রপ্তানির বিপরীতে প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা পা‌বে। গতবারও এই ৪৩টি পণ্য সহায়তা পেয়েছিল।

নগদ সহায়তা বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বরাবরের ন্যায় চলতি অর্থবছরের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে নগদ সহায়তা পরিশোধ বিষয়ে এ সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, চলমান পরিস্থিতিতে ঘোষিত নগদ সহায়তা রপ্তানি বাণিজ্য প্রসারে সহায়তা করবে। এ প্র‌ণোদনা ডলার সংকট কাটা‌তে সহায়তা কর‌বে। পাশাপাশি বৈদেশিক বাণিজ্যে স্বস্তি আসবে। এছাড়া রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংকট কটিয়ে ঘু‌রে দাঁড়া‌তে পারবে।




সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও রপ্তানি ভর্তুকির উৎসে কর দিতে হবে না

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও রপ্তানিতে নগদ ভর্তুকির ওপর উৎসে কর কর্তন করা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক নয়, সেসব প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঞ্চয়ী আমানত ও স্থায়ী আমানত থেকে অর্জিত সুদ বা মুনাফাতেও উৎসে কর মওকুফ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

নতুন আয়কর আইন অনুযায়ী এসব খাতে ৫ থেকে ১০ শতাংশ উৎসে কর প্রযোজ্য ছিল। বুধবার (২৩ আগস্ট) এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সই করা প্রজ্ঞাপনে এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আয়কর আইন ২০২৩ এর ৭৬ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সঞ্চয়ী আমানত ও স্থায়ী আমানত, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও নগদ রপ্তানি ভর্তুকির ওপর উৎসে কর হতে অর্জিত আয়ের বিপরীতে উৎসে কর্তিত করের পরিমাণকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে নির্ধারণ করে উৎস হতে অর্জিত আয়ের বিপরীতে অতিরিক্ত কোনো করদায় পরিশোধ হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।




রপ্তানি অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

আমদানিতে অর্থ পাচার কমেছে। কিন্তু রপ্তানির মাধ্যমে ব্যাপকহারে বেড়েছে অর্থ পাচার। এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এমন পরিস্থিতিতে রপ্তানির অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকগুলোকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত ব্যাংকার্স সভায় এ নির্দেশ দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। এ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা ছাড়াও সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক সাংবাদিকদের জানান, ওভার ইনভয়েসিং নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনো আন্ডার ইনভয়েসিং হচ্ছে। সে বিষয়টা গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিরোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। পাশাপাশি বিপুল অংকের খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার জন্য ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে নিতে বলা হয়।

বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির মূল্য বেশি দেখানো ওভার–ইনভয়েসিং এবং রপ্তানিতে মূল্য কম দেখানো হচ্ছে আন্ডার–ইনভয়েসিং।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি বছরের মার্চ মাস শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা; যা মোট ঋণের ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ খেলাপি। গত ডিসেম্বরে এর পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫৬ কোটি।

মুখপাত্র বলেন, সম্প্রতি আমরা ব্যাংক ঋণের একক সুদের সীমা উঠিয়ে দিয়েছি এবং সেটা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে সব ব্যাংক। বৈশ্বিক সংকট এখনো বিদ্যমান থাকায় দেশের মূল্যস্ফীতিতে একটি চাপ রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডলার সংকট। সব মিলিয়ে আমরা বাজার নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

এক প্রশ্নের উত্তরে মুখপাত্র বলেন, যেসব ব্যাংক বাফেদা নির্ধারিত রেটের বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে তাদের অবজারভেশনের মধ্যে রেখেছি। নিশ্চই অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিবি চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সেলিম আর এফ হোসেন
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সেলিম আর এফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশ অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় সেই নির্দেশনা দিয়েছেন গভর্নর। আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা কমে এলেও ফাইনান্সিয়াল অ্যাকাউন্টস ব্যালেন্স এখনো ঋণাত্মক। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেটা কীভাবে কমিয়ে আনা যায় তার ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি। পাশাপাশি অতিরিক্ত দরে ডলার সংগ্রহ প্রতিরোধ, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ ভূমিকা এবং ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে।

ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে রয়েছে কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, তারল্য সংকট আছে। তবে কিছু কিছু ব্যাংকে এই সমস্যা। সব ব্যাংকের সংকট নেই। ব্যাংকগুলোকে সংকট নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর।




পণ্য ও সেবা খাতে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৭২ বিলিয়ন ডলার

পণ্য ও সেবা খাতে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা গতবারের চেয়ে সাড়ে ১১ শতাংশ বাড়িয়ে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বুধবার (১২ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও ঘোষণা সংক্রান্ত সভা শেষে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্রতিকূলতার পরেও ভালো ফলাফল এসেছে। গতবছর কিন্তু গ্যাসের সমস্যা হয়েছে, গ্যাসের দাম বেড়েছে। এমন সমস্যার পরও তারা ভালো অর্জন করেছে। গতবছরের টার্গেট অর্জন করতে না পারলেও তার আগের বছরের চেয়ে বেশি অর্জন হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার অর্জিত হয়েছে, যেটি আগের বছরের চেয়ে ৬.৭ শতাংশ বেশি। পণ্যভিত্তিক দেখলে দেখা যায়, তৈরি পোশাকে প্রায় ১০ ভাগ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। নিট পণ্যে একটু বেশি।

কিন্তু চামড়াসহ অন্যান্য খাতে কিছু ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হওয়ায় ওভারঅল ৬.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি বৈশ্বিক রপ্তানির ডেসটিনেশন লক্ষ্য করি, তাহলে দেখা যাবে আমেরিকা এবং ইউরোপে মূল্যস্ফীতিসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমাদের পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। নভেম্বর থেকে হয়তো বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি কমে আসবে, ফলে নভেম্বর থেকে হয়তো সারা বিশ্বব্যাপী আমাদের চাহিদা বাড়বে।




৭ মাসে এক লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য ঘাটতি

আমদানি‌তে অর্থ ব্যয়ের চে‌য়ে রপ্তানি ও প্রাবাসী আয় কম হচ্ছে। যার কার‌ণে বড় ধর‌নের বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৩৮ কোটি ডলার। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি এক ডলার ১০৭ টাকা ধরে) এর পরিমাণ এক লাখ ৪৩ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ৪ হাজার ৪০৩ কোটি ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এই অংক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ কম। ২০২১-২২ অর্থবছরের এই ৭ মাসে ৪ হাজার ৬৬৭ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল। এছাড়া আমদানির বিপরীতে এ সময় রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ৬৪ কোটি ডলারের পণ্য। যা এর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ বেশি। গত বছর একই সময়ে ২ হাজার ৭৮৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। এদিকে ডিসেম্বর শেষে দেশে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১ হাজার ২৩০ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ১০৮ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি শেষে সেবা খাতে দেশ আয় করেছে ৫২৬ কোটি ডলার। অন্যদিকে সেবা খাতে দেশের ব্যয় ৭৫০ কোটি ডলার। এতে সেবা খাতের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২২৪ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২০২ কোটি ডলার। এছাড়া সামগ্রিক লেনদেনেও বড় ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। জানুয়ারি শেষে সামগ্রিক লেনদেনের (ঋণাত্মক) অংক দাঁড়িয়েছে ৭৩৮ কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে (ঋণাত্মক) ২০৫ কোটি ডলারের ঘাটতি ছিল।

তবে দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই বেড়েছে। আলোচ্য এই সাত মাসে এফডিআই এসেছে ৩০৬ কোটি ডলার। যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ২৭৩ কোটি ডলারের বিনিয়োগ এসেছিল।