রোহিঙ্গাদের আরও ৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তায় আরও ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ইন্দো-প্যাসিফিকবিষয়ক ব্রিটিশ মন্ত্রী অ্যান-মারি ট্রিভেলিয়ান থাইল্যান্ডে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) আঞ্চলিক সম্মেলনে এ সহায়তার ঘোষণা দেন।

মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

ব্রিটিশ হাইকমিশন জানায়, যুক্তরাজ্যের ইন্দো-প্যাসিফিকবিষয়ক মন্ত্রী অ্যান-মারি ট্রিভেলিয়ান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ইউএনএইচসিআরের আঞ্চলিক সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের জন্য ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থায়নের ঘোষণা দেন। সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং ইউএনএইচসিআরের হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডিও যোগ দিচ্ছেন।

অ্যান-মারি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতে যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর মধ্যে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। আর সেটি মিয়ানমারের পরিস্থিতি বিবেচনায়।

ব্রিটিশ ইন্দো-প্যাসিফিক মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা যতক্ষণ না নিরাপদে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরতে না পারে আমরা চলমান মানবিক সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ কারণে আমরা বাংলাদেশে শরণার্থীদের সুরক্ষা পরিষেবা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ক্লিন এনার্জির জন্য আরও ৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তার ঘোষণা করেছি।




যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে

দীর্ঘদিন পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা এবং যুক্তরাজ্যেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে।

বুধবার (৯ আগস্ট) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইপিবির সূত্র মতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এর আগের বছর ২০২২-২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এর মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে ৭২৯ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা ২০২২-২৩ সালের জুলাই মাসে ছিল ৬৮৫ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাসে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ১৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ড এবং পোল্যান্ডের মতো কিছু বড় বাজারে রপ্তানি যথাক্রমে ৩৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ, ২২ দশমিক ৭১ শতাংশ, ৩৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ২৩ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।

একই সময়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য জার্মানিতে রপ্তানিতে ০.৭০ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে এবং রপ্তানি ৫১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এসময়ে ফিনল্যান্ড, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, এস্তোনিয়া, লিথুনিয়া, মাল্টা, স্লোভাকিয়া এবং স্লোভানিয়াতে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

অপরদিকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্য এবং কানাডায় রপ্তানি যথাক্রমে ৪৭৫ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন এবং ১২৮ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ২৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং ১৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

একই সময়ে অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ২৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৬৭৪ দশমিক ৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। প্রধান অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি যথাক্রমে ৪৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ৫৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ, ২ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং ১৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়েছে।

 




আপনি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা : যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী 

যুক্তরাজ্যের (ইউকে) প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একজন সফল অর্থনৈতিক নেতা হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ‘আপনি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।’

সুনাক বলেন, ‘আমি আপনাকে অনেক বছর ধরে অনুসরণ করছি। আপনি একজন সফল অর্থনৈতিক নেতা।’

শুক্রবার (স্থানীয় সময়) কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের দ্বিপাক্ষিক সভা কক্ষে তাদের প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সুনাককে উদ্ধৃত করে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম এ কথা বলেন।

তাসনিম বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার দুই মেয়ে এবং স্ত্রী তাঁর (শেখ হাসিনা) বড় ভক্ত। তিনি গত অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার কন্যারা শেখ হাসিনার মতো মহান নেতা হবেন এই কামনা করেছেন।

সুনক বলেন, ‘আপনি আমার দুই মেয়ের জন্য মহান অনুপ্রেরণা।’

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, ভূমিহীন ও গৃহহীন বাংলাদেশের জনগণকে সরকারি খরচে বাড়ি দেওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তাঁর গৌরবময় ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

কভিড-১৯ মহামারি পরবর্তী সময়ে ছয় শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে সুনাক বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য।

তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
৩৫ মিনিট স্থায়ী বৈঠকে দুই নেতা উভয় দেশের পারস্পরিক সুবিধা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

‘৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের চমৎকার সম্পক বিদ্যমান’ এ কথা উল্লেখ করে সুনাক বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ককে মূল্য দেয়।

বৈঠকের শুরুতে শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় ঋষি সুনাককে অভিনন্দন জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এশীয় ঐতিহ্য থেকে আপনি এত অল্প বয়সে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এমন তরুণ নেতৃত্ব দেখে আমার ভালো লাগছে।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ইতোমধ্যে সাত লাখ পরিবারকে বাড়ি দিয়েছে।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর কাছে আরও বড় বিনিয়োগ চেয়েছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নত করেছি।’
তিনি ঢাকা ও লন্ডনের মধ্যে একটি যৌথ ইস্তেহার স্বাক্ষর করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
দুই নেতা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও কথা বলেন।

সুনাক বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেছেন।

সুনাক বলেন, যুক্তরাজ্য বুঝতে পেরেছে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য বড় বোঝা।
শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সমর্থন দেয়ায় যুক্তরাজ্যকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য বড় বোঝা এবং বড় নিরাপত্তা হুমকি।’
রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানালে সুনাক ইতিবাচক সাড়া দেন।

লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রাজা তৃতীয় চার্লসের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৩০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা লন্ডনে পৌঁছেছেন।

দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বাংলাদেশের হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ তাদের মধ্যে মাত্র সাতজনের সাথে সুনকের বৈঠক হয়েছে যা প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে যুক্তরাজ্যের সাথে বাংলাদেশের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে।’

রাষ্ট্রদূত মুনা তানিম বলেন, অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধন কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ব্রিফিংয়ের সময় প্রধানমন্ত্রীর স্পিচরাইটার এম নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।




১৫ দিনের সফরে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

১৫ দিনের সরকারি সফরে তিন দেশে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথমে জাপান, পরে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর করবেন তিনি। মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) সকাল পৌনে আটটায় প্রধানমন্ত্রী তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআিইপি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাপানের টোকিওর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় টোকিওর হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে জাপান সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং টোকিওতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী সফরকালীন আবাসস্থলে যাবেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার আমন্ত্রণে টোকিও যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাপান সফরের দ্বিতীয় দিন বুধবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। বিকেলে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাবেন শেখ হাসিনা। সেখানে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। পরে সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিডার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। শীর্ষ পর্যায়ের এ বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন জানান, দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর কৃষি, মেট্রোরেল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল আপগ্রেডেশন, শিপ রিসাইক্লিং, কাস্টমস ম্যাটারস, ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি, ডিফেন্স কো-অপারেশন, আইসিটি ও সাইবার সিকিউরিটি কো-অপারেশনসহ বিভিন্ন সেক্টরে আটটি চুক্তি বা সহযোগিতা স্মারক সই হতে পারে।

এছাড়াও জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাইকার প্রেসিডেন্ট, জাপান বাংলাদেশ পার্লামেন্টরি ফ্রেন্ডশিপ লীগের প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এর গর্ভনর, জাপানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রী।

জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট, জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশ কমিউনিটি আয়োজিত সংবর্ধনাসহ অনেকগুলো কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য বিশিষ্ট জাপানিজ নাগরিকদের সম্মাননা দেবেন। এছাড়া তিনি মিরাইকান জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন করবেন।

শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেলে টোকিও থেকে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই তারিখে স্থানীয় সময় বিকেলে ওয়াশিংটন ডালাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি সফরকালীন আবাসস্থলে যাবেন।

সোমবার (১ মে) বিশ্বব্যাংক সদরদপ্তরে বাংলাদেশ ও বিশ্ব ব্যাংকের মধ্যে সম্পর্কের ৫০ বছর উপলক্ষে ‘রিফ্লেকশন অন ৫০ ইয়ার্স অব ওয়ার্ল্ড ব্যাংক – বাংলাদেশ পার্টনারশিপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

একইদিন প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ভাইস-প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। এছাড়া বিশ্ব ব্যাংকের বোর্ড মেম্বারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন যুক্তরাষ্ট্র চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল।

ওয়াশিংটন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদানসহ বেশ কিছু কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।

বৃহস্পতিবার (৪ মে) ওয়াশিংটন থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডন যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের আমন্ত্রণে লন্ডন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার (৫ মে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাকিংহাম প্যালেসে নতুন রাজা এবং রাণীর রাজ্যাভিষেকের আগাম সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এছাড়া এদিন শেখ হাসিনা কমনওয়েলথ নেতাদের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন।

শনিবার (৬ মে) ওয়েস্ট মিনিস্টারে রাজা ও রাণীর রাজ্যাভিষেকের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

লন্ডন সফরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কর্মসূচি এবং যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।

তিন দেশ সফর শেষে মঙ্গলবার (০৯ মে) সকালে দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।




ঢাকায় বিজনেস সামিটে যোগ দিচ্ছে ১৭ দেশের প্রতিনিধি

বাংলাদেশ বিজনেস সামিটের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ১১-১৩ মার্চ হবে এই সামিট। যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, চীন, ভুটান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সাতটি দেশের মন্ত্রী, ১২টি বহুজাতিক কোম্পানির সিইওসহ বিশ্বের ১৭টির বেশি দেশ থেকে দুই শতাধিক বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল অংশ নিচ্ছে এই সামিটে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে হবে এটি।

বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) এফবিসিসিআই ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানান সংগঠনের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সামর্থ্য, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে এই সামিট ভূমিকা রাখবে।

বিজনেস সামিট দেশের জন্য একটি ব্র্যান্ডিং উল্লেখ করে জসিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সামিটে যোগ দিতে এরই মধ্যে ৭৫০ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এছাড়া রেজিস্ট্রেশনের বাইরেও অনেকে সামিটে যোগ দেবেন। দেশ-বিদেশের যে ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন তারা ভালো একটা অঙ্কের নিবন্ধন ফি প্রদান করে অংশ নিচ্ছেন। এ থেকেই বোঝা যায়, বাংলাদেশের ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে এখন মানুষের আগ্রহ অনেক বেশি। তারা এখানে ব্যবসা করতে চায়। এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।

আরও পড়ুন: কমেছে লেনদেন, সূচক মিশ্র

এফবিসিসিআই সভাপতি জানান, বাংলাদেশ বিজনেস সামিটে ব্যবসায়ী নেতা, নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রধানরা উপস্থিত থাকবেন। সেই সঙ্গে তারা বাংলাদেশ এবং বিশ্ব অর্থনীতি সম্পর্কে আলোচনা করবেন। যা বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক গতিকে ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শনিবার অর্থাৎ ১১ মার্চ সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ বিজনেস সামিটের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

এফবিসিসিআই’র জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরি বাবু, সহ-সভাপতি এম এ মোমেন, মো. আমিন হেলালী, সালাউদ্দিন আলমগীর, মো. হাবীব উল্লাহ ডন, এম এ রাজ্জাক খান রাজ ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।