মোবাইলে প্রিমিয়াম সংগ্রহ করতে পারবে নন-লাইফ বিমা কোম্পানি

এখন থেকে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অপারেটরদের মাধ্যমে প্রিমিয়াম সংগ্রহ করতে পারবে নন-লাইফ বিমা কোম্পানিগুলো।

গত রোববার এক সার্কুলারে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) জানিয়েছে, একটি কোম্পানি তাদের নামে নিবন্ধিত সর্বোচ্চ ১০টি করপোরেট সিম ব্যবহার করে প্রিমিয়াম সংগ্রহ করতে পারবে। আর ওই সিমগুলো অবশ্যই আইডিআরএ অনুমোদিত হতে হবে।

প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার দুই কার্যদিবসের মধ্যে তা বিমা কোম্পানি মনোনীত তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের যেকোনো একটিতে স্থানান্তর করতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তহবিল স্থানান্তর না করা হলে, তার দায় বিমাকারী বহন করবেন। এমএফএসের মাধ্যমে সংগৃহীত প্রিমিয়াম কেবল বিমাকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে উত্তোলন করতে হবে। এমএফএসের মাধ্যমে উত্তোলন করা যাবে না।

 

যদি প্রিমিয়াম ফেরত নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে ব্যাংক ড্রাফট বা পে অর্ডার ব্যবহার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ফেরত নিতে হবে। এমএফএস অপারেটরদের মাধ্যমে ফেরত নেওয়া যাবে না।

এমএফএসের মাধ্যমে প্রিমিয়াম সংগ্রহ প্রক্রিয়া শুরুর আগে প্রিমিয়াম সম্পর্কিত তথ্য আইডিআরএ’র ইউনিফাইড মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে (ইউএমপি) পাঠাতে হবে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ইউএমপির সঙ্গে কারিগরি সংযোগ স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত এমএফএসের মাধ্যমে প্রিমিয়াম সংগ্রহ করা যাবে না।

এর আগে, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে নন-লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোর কমিশন বিষয়ক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার স্বার্থে মোবাইল ফিন্যান্সয়াল সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে প্রিমিয়াম সংগ্রহ না করার বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছিল আইডিআরএ।




ক্যাশলেস লেনদেনে বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়: নগদ

ছাপা টাকা ব্যবহারের বদলে ‘ক্যাশলেস’ লেনদেন নিশ্চিত করতে পারলে প্রতি বছর অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন ডাক বিভাগের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) নগদের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক।

মঙ্গলবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদের শপথগ্রহণ কক্ষে সংসদ সদস্যদের জন্য আয়োজিত ‘টুওয়ার্ডস ক্যাশলেস ডিজিটাল ট্রানজেকশন সিস্টেম’ শীর্ষক আলোচনা অনু্ষ্ঠানে এই তথ্য তুলে ধরেন তানভীর এ মিশুক।

এ বিষয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নগদ জানায়, এই আলোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেন তানভীর।

তিনি বলেন, প্রতি বছর কেবল টাকা ছাপতেই সরকারের ৫০০ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়। তাছাড়া এই টাকার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ, লেনদেনের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা এবং তার ফলে যে সম্ভাবনার অপচয় হয় সেটির মূল্য অন্তত ৯ হাজার কোটি টাকা।

স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে ডিজিটাল বা স্মার্ট লেনদেনের বিকল্প নেই উল্লেখ করে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আপনারা যদি আমাকে দেশের বিশেষ কোনো এলাকা বা অঞ্চলকে দেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন, তাহলে আমরা নগদ থেকে ওই অঞ্চলকে ক্যাশলেস লেনদেনের মডেল হিসেবে তৈরি করে দেব।

শুধু ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন’ গ্রহণ করায় গত ১৪ বছরে বাংলাদেশের জিডিপি তিন গুণ হয়েছে জানিয়ে তানভীর বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উন্নত দেশ হওয়ার যে ভিশন এখন আমাদের সামনে আছে, সে অনুসারে এগোতে পারলে অল্প দিনেই আমাদের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে সময় লাগবে না।

২০১৯ সালে নগদের যাত্রা শুরুর পর চার বছরে প্রতিষ্ঠানটি একের পর এক সরকারি ভাতা বিতরণ পদ্ধতিকে ডিজিটালাইজড করায় সরকারের খরচ কমেছে, সময় বেঁচেছে, স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং যার ভাতা তার হাতে যাওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তানভীর।

সরকারের ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে খুবই সময়োপযোগী মন্তব্য করে নগদের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা গেলে ব্যাংকের সব সুবিধা চলে আসবে হাতের মুঠোয়। কৃষকদের সার কেনার জন্য দশ হাজার টাকার জন্য তখন আর দাদন নিতে হবে না। তারা মুঠোফোন থেকেই ঋণ নিতে পারবে এবং ফসল বিক্রি করে ওই মোবাইলের মাধ্যমেই সেই ঋণ পরিশোধ করতে পারবে।

একইভাবে, আমদানি-রপ্তানির লেনদেনের মতো বড় বড় কাজও তখন অনায়াসেই দিন বা রাতের যেকোনো সময় মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই হবে বলে জানান তিনি।

সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ। অনু্ষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কি-এক্সপার্ট ড. মোয়াজ্জেম গোলাম হোসেন।




নন-লাইফের প্রিমিয়াম সংগ্রহে অনুমোদন পেতে পারে এমএফএস

প্রিমিয়াম সংগ্রহের ক্ষেত্রে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বা এমএফএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি পেতে পাওে নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোও। কোম্পানিগুলোকে এই অনুমোদন দেয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে ইতিমধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা শুরু করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

২০২০ সালে জারি করা এক সার্কুলারে নন লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোতে কমিশনবিষয়ক শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণের স্বার্থে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যম অর্থাৎ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অ্যাকাউন্ট (বিকাশ/রকেট/ নগদ) ইত্যাদির মাধ্যমে প্রিমিয়াম সংগ্রহ পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করে আইডিআরএ।

ডিজিটাল পেমেন্টের ক্রমবর্ধমান উপযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে প্রয়োজনের নিরীখে এই সার্কুলারের বিষয়টি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের এক সভায় সংশ্লিষ্ট শাখাকে এ বিষয়ে দ্রুত নথি উপস্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে মতামত দিয়েছে কর্তৃপক্ষের আইন/বিধি/প্রবিধান প্রণয়ন শাখা।

জানতে চাইলে আইডিআরএ’র মুখপাত্র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ব্যাংক বীমা অর্থনীতিকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, দেশে বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১৯ কোটি ছাড়িয়েছে। লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো প্রিমিয়াম সংগ্রহে ইতিমধ্যে এই সার্ভিস ব্যবহার করছে।

ছোট ছোট অংকের প্রিমিয়াম সংগ্রহের ক্ষেত্রে নন লাইফ কোম্পানিগুলোও এই সার্ভিস ব্যবহার করতে পারে বলে মনে করেন এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমাম শাহীন। তিনি বলেন, প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশে প্রযোজ্যক্ষেত্রে এই সার্ভিস ব্যবহারের অনুমতি পেলে সুবিধাই হয়।

কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান তারেক বলেন, শিক্ষা বীমা পলিসি, ট্রাভেল ও স্বাস্থ্যবীমা পলিসির প্রিমিয়াম সংগ্রহের ক্ষেত্রে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সুযোগ দিলে সুবিধাই হয়। এর আগে মোটরবীমার প্রিমিয়াম সংগ্রহে আমরা এমএফএস ব্যবহার করেছি।