মোংলা বন্দর হবে সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা হলে এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য একটি সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হবে।

তিনি বলেন, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে পঞ্চগড় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ, বন্দরের সরবরাহব্যবস্থা ও পণ্য পরিবহন সুবিধা সম্প্রসারণে সরকার উদ্যোগ নিতে চায়।

আজ মোংলায় ‘মোংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

আজ সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এ সময়ে বন্দরপ্রাঙ্গণে তিনি একটি গাছের চারাও রোপণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ জোরদার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম চালু করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোংলা বন্দর জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং দেশীয় পণ্য রপ্তানিতে একটি পরিপূরক বন্দর হিসেবে জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, ইয়ার্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে এসব কাজ সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে এবং সারা দেশের জন্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুধু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বন্দরসেবার মান কতটা উন্নত হলো, পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কতটা কমল, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কতটা বাড়ল এবং পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত থাকল, তার ওপরই প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে।

প্রধানমন্ত্রী পরিবেশবান্ধব সেবা ব্যবস্থাপনা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জাহাজের নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তার মানদণ্ড অনুসরণ, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।পাশাপাশি বিপজ্জনক কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা, প্রশিক্ষিত জনবল ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে বিনিয়োগে আন্তর্জাতিক অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, সহজ সেবা প্রক্রিয়া, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্দরের নাব্যতা, নৌ চ্যানেলের নির্ভরযোগ্যতা, জাহাজের নিরাপদ চলাচল এবং প্রতিযোগিতামূলক বন্দরসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে মোংলা বন্দরকে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। একইসঙ্গে উপযুক্ত বাণিজ্যিক ও পরিচালনাগত শর্তে এটিকে ফার্স্ট কলিং পোর্ট হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মোংলা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় খুলনা ও আশপাশের এলাকায় অনেক মিল-কারখানা ছিল। সরকার এ অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া শিল্পঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনতে চায়।

তিনি বলেন, আজকের এ উদ্যোগ দেশের শিল্প-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আস্থা এবং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নে টেকসই আর্থসামাজিক মূল্য সংযোজন করবে।

বাংলাদেশের অবকাঠামো ও উন্নয়নে চীনের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি থেকে কনটেইনারবাহী ট্রেন সরাসরি মোংলা বন্দরে চলাচল করতে পারবে।এতে বন্দরের পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।

অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান দাই হেগেন বক্তব্য রাখেন।

এ সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।




মোংলা বন্দরে নিলামে তোলা ২৭ গাড়ির বিক্রয়াদেশ জারি

মোংলা বন্দরে নিলামে তোলা ৭২টি গাড়ির মধ্যে ২৭টির বিক্রয়াদেশ জারি করেছে মোংলা কাস্টমস হাউস। এছাড়া নিলামে তোলার পর সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকরা বাকি ৪৫টি গাড়ি আদালতের রায়ে খালাস করেছেন।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২৭টি গাড়ির বিক্রয়াদেশ জারি করে সংস্থাটি।

এদিকে, বিক্রয়াদেশ জারি হওয়া সর্বোচ্চ দাম উঠেছে ‘এস ইউ ভি প্রাডো’ মডেলের গাড়ি। এক কোটি ১৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যে গাড়িটি নিলামে পায় চট্রগ্রামের ডিএমস লজিস্টিক নামে একটি কোম্পানি।

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) মোংলা কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রুবেল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, মোংলা বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এলিয়ন, ফিল্ডার, হাইব্রিড, হাইয়েচ, প্রাডো ল্যান্ড ক্রুজার, বেসেল, হারিয়ার ও জাম্প ট্রাকসহ ৭২টি নিলামে তোলা হয় গত ২০ জানুয়ারি। এসব গাড়ি সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই বন্দর থেকে খালাস করেনি। নিলামে তোলার পর ৭২টি গাড়ির মধ্যে ২৭টি গাড়ির সর্বোচ্চ মূল্যে দরপত্র পড়েছে। এর মধ্যে `এস ইউ ভি প্রাডো’ মডেলের গাড়িটির দাম উঠে এক কোটি ১৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। নিলামে যার ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭ হাজার ১৫৬ টাকা।

এছাড়া আরও ২৬টি গাড়িও সর্বোচ্চ মূল্য পাওয়ায় সে সব গাড়ির জন্যও বিক্রয়াদেশ জারি করে মোংলা কাস্টমস হাউস। এসব গাড়ির মধ্যে রয়েছে করোলা ফিল্ডার, মিসুবিশি কল্ট, হাইয়েচ, নিশান টিয়ানাসহ জাম্প ট্রাক।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক কার্যালয় সূত্র জানায়, মোংলা বন্দরে আমদানি হওয়ার পর ইয়ার্ড এবং বিভিন্ন শেডে রাখা নির্ধারিত সময়সীমা ৩০ দিনের বেশি অতিবাহিত হওয়ায় নিলামে বিক্রির জন্য মোংলা বন্দর থেকে ৩০০টি গাড়ি মোংলা কাস্টমস হাউসে হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে ৭২টি গাড়ি গত ২০ জানুয়ারি নিলামে তোলা হয়।




৭২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় কয়লার চালান মোংলায়

চালুর ৭২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কয়লার চালনা নিয়ে জাহাজ ভিড়েছে মোংলা বন্দরে। ৬২ হাজার ৫০০ টন কয়লা নিয়ে নোঙর করেছে লাইবেরিয়ান পতাকাবাহী এমভি মানা। এত পরিমাণ কয়লা নিয়ে এর আগে কোনো জাহাজ এখানে ভেড়েনি বলে দাবি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের।

গত ৫ নভেম্বর বন্দরের ফেয়ারওয়েতে জাহাজটি নোঙর করলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ গতকাল শনিবার (১১ নভেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ফেয়ারওয়েতে নোঙর করা অবস্থায় ৩১ হাজার ৫০০ টন কয়লা খালাস করা হয়। এরপর বাকি ২৯ হাজার টন কয়লা বন্দরের ২ নম্বর বয়ায় নোঙর করে। দু-একদিনের মধ্যে পুরোপুরি কয়লা খালাস করে বন্দর ত্যাগ করবে বিদেশী এই জাহাজ।

গত ২৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার বোনটাং বন্দর থেকে কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে এমভি মানা। জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট সুলতান শিপিং লাইনসের কর্মকর্তা মাহমুদুল হক রাজু বলেন, এ কয়লা বেসরকারি একটি কোম্পানির জন্য আমদানি করা হয়েছে। খালাস শেষে ছোট লাইটার জাহাজে করে খুলনার রূপসায় নেয়া হচ্ছে।

মোংলা বন্দরের গণসংযোগ বিভাগের উপসচিব মো. মাকরুজ্জামান বলেন, নিয়মিত ড্রেজিংয়ের ফলে গভীর ড্রাফটের যেকোনো জাহাজ এখন বন্দরে ভিড়তে পারছে। এছাড়া যেকোনো পণ্য খালাস ও হ্যান্ডলিং করতে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করায় বিদেশীরা এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন।




রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে এলো আরও ৩১ হাজার ৩০০ টন কয়লা

বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৩১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরে পৌঁছেছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি বসুন্ধরা ইমপ্রেস। শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টায় বন্দরের হাড়বাড়িয়া-১১ নম্বরে নোঙর করেছে জাহাজটি।

ইতোমধ্যে জাহাজ থেকে কয়লা খালাস শুরু হয়েছে। খালাস শেষে লাইটার জাহাজে করে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে নেওয়া হবে।

এর আগে, গত ৪ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার মুয়ারা পাত্তাই বন্দর থেকে ৪৯ হাজার ৭০০ মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে ছেড়ে আসে বানিজ্যিক জাহাজ এমভি বসুন্ধরা ইমপ্রেস। সেখান থেকে প্রথমে ১৮ হাজার ৪০০ মেট্রিকটন কয়লা চট্রগ্রাম বন্দরে খালাস করা হয়। পরে অবশিষ্ট কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরে আসে জাহাজটি।

জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট টগি শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিক লিমিটেড, খুলনার সহকারী ব্যবস্থাপক খন্দকার রিয়াজুল হক বলেন, কয়লা খালাস শুরু হয়েছে। খালাস শেষে এই কয়লা লাইটার জাহাজে করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটিতে নিয়ে সেখান থেকে কয়লা ইয়ার্ডে রাখা হবে।

এর আগে গেল ১০ সেপ্টেম্বর রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ২৯ হাজার ৬৩০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরে পৌঁছে এমভি জেইল অব শহর নামক একটি বাণিজ্যিক জাহাজ।




৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে মোংলায় আরও এক জাহাজ

বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে আরও একটি জাহাজ।

রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বন্দরের ফেয়ারওয়েতে ভারত-বাংলাদেশ নৌ প্রটোকলভুক্ত ‘এপিজে কাইস’ জাহাজে করে এই কয়লা আসে।

জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট টগি শিপিংয়ের খুলনার ব্যবস্থাপক মো. রিয়াজুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা নিয়ে জাহাজটি ১৬ ফেব্রুয়ারি মোংলা বন্দরে আসার কথা থাকলেও শিডিউল জটিলতার কারণে দুদিন পর আজ মোংলা বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়ায় জাহাজটি নোঙর করে। বিকেলে ছোট লাইটার জাহাজে খালাস প্রক্রিয়া শুরু করা হবে এবং এই কয়লা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছানো হবে।

আগামি ২৫ ফেব্রুয়ারি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আরও ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে আরও একটি জাহাজ মোংলা বন্দরে আসবে বলেও জানান তিনি।

মোংলা বন্দরের হারবার সূত্র জানায়, এপিজে কাইস জাহাজটি ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকলের বাল্ক কার্গো। এই কার্গোটি বিশেষভাবে শস্য, কয়লা এবং সিমেন্টের মত পণ্য পরিবহনের জন্য তৈরি করা। এতে পণ্য বোঝাইয়ের জটিলতায় পরিবর্তিত, পণ্যসম্ভার জাহাজে তোলা এবং খালাস করতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগে।

এদিকে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুই ইউনিটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হওয়ার ১০ বছর পর গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। কিন্তু কয়লার অভাবে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রেটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। মূলত ডলার সংকটে এলসি খুলতে না পারায় কয়লা আমদানিতে জটিলতা দেখা দেয়। এর জেরে কয়লার অভাব দেখা দেয়। পরে এই সমস্যার সমাধান হলে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ৩০ হাজার টন কয়লা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে এইটি জাহাজ মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে দিনে পাঁচ হাজার টন কয়লার প্রয়োজন হয়। সে হিসেবে এখন থেকে নিয়মিত কয়লা আসবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত থাকবে।