মোংলা বন্দরে নিলামে তোলা ২৭ গাড়ির বিক্রয়াদেশ জারি

মোংলা বন্দরে নিলামে তোলা ৭২টি গাড়ির মধ্যে ২৭টির বিক্রয়াদেশ জারি করেছে মোংলা কাস্টমস হাউস। এছাড়া নিলামে তোলার পর সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকরা বাকি ৪৫টি গাড়ি আদালতের রায়ে খালাস করেছেন।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২৭টি গাড়ির বিক্রয়াদেশ জারি করে সংস্থাটি।

এদিকে, বিক্রয়াদেশ জারি হওয়া সর্বোচ্চ দাম উঠেছে ‘এস ইউ ভি প্রাডো’ মডেলের গাড়ি। এক কোটি ১৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যে গাড়িটি নিলামে পায় চট্রগ্রামের ডিএমস লজিস্টিক নামে একটি কোম্পানি।

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) মোংলা কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রুবেল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, মোংলা বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এলিয়ন, ফিল্ডার, হাইব্রিড, হাইয়েচ, প্রাডো ল্যান্ড ক্রুজার, বেসেল, হারিয়ার ও জাম্প ট্রাকসহ ৭২টি নিলামে তোলা হয় গত ২০ জানুয়ারি। এসব গাড়ি সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই বন্দর থেকে খালাস করেনি। নিলামে তোলার পর ৭২টি গাড়ির মধ্যে ২৭টি গাড়ির সর্বোচ্চ মূল্যে দরপত্র পড়েছে। এর মধ্যে `এস ইউ ভি প্রাডো’ মডেলের গাড়িটির দাম উঠে এক কোটি ১৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। নিলামে যার ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭ হাজার ১৫৬ টাকা।

এছাড়া আরও ২৬টি গাড়িও সর্বোচ্চ মূল্য পাওয়ায় সে সব গাড়ির জন্যও বিক্রয়াদেশ জারি করে মোংলা কাস্টমস হাউস। এসব গাড়ির মধ্যে রয়েছে করোলা ফিল্ডার, মিসুবিশি কল্ট, হাইয়েচ, নিশান টিয়ানাসহ জাম্প ট্রাক।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক কার্যালয় সূত্র জানায়, মোংলা বন্দরে আমদানি হওয়ার পর ইয়ার্ড এবং বিভিন্ন শেডে রাখা নির্ধারিত সময়সীমা ৩০ দিনের বেশি অতিবাহিত হওয়ায় নিলামে বিক্রির জন্য মোংলা বন্দর থেকে ৩০০টি গাড়ি মোংলা কাস্টমস হাউসে হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে ৭২টি গাড়ি গত ২০ জানুয়ারি নিলামে তোলা হয়।




৭২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় কয়লার চালান মোংলায়

চালুর ৭২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কয়লার চালনা নিয়ে জাহাজ ভিড়েছে মোংলা বন্দরে। ৬২ হাজার ৫০০ টন কয়লা নিয়ে নোঙর করেছে লাইবেরিয়ান পতাকাবাহী এমভি মানা। এত পরিমাণ কয়লা নিয়ে এর আগে কোনো জাহাজ এখানে ভেড়েনি বলে দাবি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের।

গত ৫ নভেম্বর বন্দরের ফেয়ারওয়েতে জাহাজটি নোঙর করলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ গতকাল শনিবার (১১ নভেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ফেয়ারওয়েতে নোঙর করা অবস্থায় ৩১ হাজার ৫০০ টন কয়লা খালাস করা হয়। এরপর বাকি ২৯ হাজার টন কয়লা বন্দরের ২ নম্বর বয়ায় নোঙর করে। দু-একদিনের মধ্যে পুরোপুরি কয়লা খালাস করে বন্দর ত্যাগ করবে বিদেশী এই জাহাজ।

গত ২৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার বোনটাং বন্দর থেকে কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে এমভি মানা। জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট সুলতান শিপিং লাইনসের কর্মকর্তা মাহমুদুল হক রাজু বলেন, এ কয়লা বেসরকারি একটি কোম্পানির জন্য আমদানি করা হয়েছে। খালাস শেষে ছোট লাইটার জাহাজে করে খুলনার রূপসায় নেয়া হচ্ছে।

মোংলা বন্দরের গণসংযোগ বিভাগের উপসচিব মো. মাকরুজ্জামান বলেন, নিয়মিত ড্রেজিংয়ের ফলে গভীর ড্রাফটের যেকোনো জাহাজ এখন বন্দরে ভিড়তে পারছে। এছাড়া যেকোনো পণ্য খালাস ও হ্যান্ডলিং করতে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করায় বিদেশীরা এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন।




রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে এলো আরও ৩১ হাজার ৩০০ টন কয়লা

বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৩১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরে পৌঁছেছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি বসুন্ধরা ইমপ্রেস। শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টায় বন্দরের হাড়বাড়িয়া-১১ নম্বরে নোঙর করেছে জাহাজটি।

ইতোমধ্যে জাহাজ থেকে কয়লা খালাস শুরু হয়েছে। খালাস শেষে লাইটার জাহাজে করে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে নেওয়া হবে।

এর আগে, গত ৪ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার মুয়ারা পাত্তাই বন্দর থেকে ৪৯ হাজার ৭০০ মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে ছেড়ে আসে বানিজ্যিক জাহাজ এমভি বসুন্ধরা ইমপ্রেস। সেখান থেকে প্রথমে ১৮ হাজার ৪০০ মেট্রিকটন কয়লা চট্রগ্রাম বন্দরে খালাস করা হয়। পরে অবশিষ্ট কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরে আসে জাহাজটি।

জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট টগি শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিক লিমিটেড, খুলনার সহকারী ব্যবস্থাপক খন্দকার রিয়াজুল হক বলেন, কয়লা খালাস শুরু হয়েছে। খালাস শেষে এই কয়লা লাইটার জাহাজে করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটিতে নিয়ে সেখান থেকে কয়লা ইয়ার্ডে রাখা হবে।

এর আগে গেল ১০ সেপ্টেম্বর রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ২৯ হাজার ৬৩০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরে পৌঁছে এমভি জেইল অব শহর নামক একটি বাণিজ্যিক জাহাজ।




৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে মোংলায় আরও এক জাহাজ

বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে আরও একটি জাহাজ।

রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বন্দরের ফেয়ারওয়েতে ভারত-বাংলাদেশ নৌ প্রটোকলভুক্ত ‘এপিজে কাইস’ জাহাজে করে এই কয়লা আসে।

জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট টগি শিপিংয়ের খুলনার ব্যবস্থাপক মো. রিয়াজুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা নিয়ে জাহাজটি ১৬ ফেব্রুয়ারি মোংলা বন্দরে আসার কথা থাকলেও শিডিউল জটিলতার কারণে দুদিন পর আজ মোংলা বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়ায় জাহাজটি নোঙর করে। বিকেলে ছোট লাইটার জাহাজে খালাস প্রক্রিয়া শুরু করা হবে এবং এই কয়লা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছানো হবে।

আগামি ২৫ ফেব্রুয়ারি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আরও ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে আরও একটি জাহাজ মোংলা বন্দরে আসবে বলেও জানান তিনি।

মোংলা বন্দরের হারবার সূত্র জানায়, এপিজে কাইস জাহাজটি ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকলের বাল্ক কার্গো। এই কার্গোটি বিশেষভাবে শস্য, কয়লা এবং সিমেন্টের মত পণ্য পরিবহনের জন্য তৈরি করা। এতে পণ্য বোঝাইয়ের জটিলতায় পরিবর্তিত, পণ্যসম্ভার জাহাজে তোলা এবং খালাস করতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগে।

এদিকে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুই ইউনিটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হওয়ার ১০ বছর পর গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। কিন্তু কয়লার অভাবে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রেটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। মূলত ডলার সংকটে এলসি খুলতে না পারায় কয়লা আমদানিতে জটিলতা দেখা দেয়। এর জেরে কয়লার অভাব দেখা দেয়। পরে এই সমস্যার সমাধান হলে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ৩০ হাজার টন কয়লা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে এইটি জাহাজ মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে দিনে পাঁচ হাজার টন কয়লার প্রয়োজন হয়। সে হিসেবে এখন থেকে নিয়মিত কয়লা আসবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত থাকবে।