৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

বুধবার (২০ আগস্ট) আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতির বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সঞ্চালনশীল মেঘমালার প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

 




সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

দেশের চারটি সমুদ্র বন্দরে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত সামুদ্রিক সতর্কবার্তায় এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উড়িষ্যা উপকূলে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরের ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।




সমুদ্র বন্দর থেকে নামানো হলো সতর্ক সংকেত

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে সতর্ক সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১-৩ ডিগ্রি এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত বুধবার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর এবং চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।

সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

তাপমাত্রায় বিষয়ে বলা হয়েছে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১-৩ ডিগ্রি সে. বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার অবস্থায় বলা হয়েছে, এই সময়ের শেষের দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

বুধবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে কুতুবদিয়ায়, বান্দরবানে হয়েছে ১০২ মিলিমিটার। আর ঢাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৭ মিলিমিটার।




কয়লা নিয়ে মোংলায় চীনা জাহাজ

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা চীনা পতাকাবাহী জাহাজ এম ভি জে হ্যায় মোংলা বন্দরে পৌঁছেছে। শনিবার (১০ জুন) ভোর ৫টার দিকে ২৬ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে জাহাজটি মোংলা বন্দরের হাড়বাড়ীয়ায় ভিড়েছে।

এর আগে ২১ মে মোংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে ছেড়ে আসে জাহাজটি। সকাল থেকেই এ জাহাজ থেকে কয়লা খালাস করে লাইটার বা কোস্টার জাহাজে করে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিজস্ব জেটিতে নেওয়া শুরু হয়েছে।

বিদেশি জাহাজ ‘জে হ্যায়’র স্থানীয় শিপিং এজেন্ট টগি শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিক লিমিটেডের খুলনার সহকারী ব্যবস্থাপক খন্দকার রিয়াজুল হক বলেন, কয়লা নিয়ে চীনের পতাকাবাহী জাহাজ এম ভি জে হ্যায় ভোর ৫টার দিকে বন্দরের পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়ীয়ার ১১ নম্বর অ্যাংকোরেজে ভিড়েছে। জাহাজ থেকে কয়লা খালাস ও পরিবহণের কাজ শুরু হয়েছে।

এর আগে গত ১৬ মে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এম.ভি বসুন্ধরা ইমপ্রেসে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ও ২৯ মে এম ভি বসুন্ধরা ম্যাজেস্টি জাহাজে ৩০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন কয়লা এসেছিল মোংলা বন্দর হয়ে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে।

এদিকে কয়লা সংকটের কারণে গত ৫ জুন পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ৯ জুন বাঁশখালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার দুঃসংবাদের মধ্যেই রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য সুখবর নিয়ে মোংলা বন্দরে ভিড়ে কয়লাবাহী জাহাজ এম ভি জে হ্যায়।




ঘূর্ণিঝড় মোখার উপকূল অতিক্রমের পর নামলো সতর্ক সংকেত

সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আর ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কা নেই। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে।

সোমবার (১৫ মে) সকালে দেওয়া আবহাওয়ার সর্বশেষ বার্তায় এ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আবহাওয়ার বার্তায় অধিদপ্তর আরও বলেছে, ১৫ মে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হলো।

এর আগে রোববার (১৪ মে) সন্ধ্যা ৬টার ২২ নম্বর বিশেষ বুলেটিনে অধিদপ্তর জানায়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ উপকূল অতিক্রম করার পর ক্রমশ শক্তি হারাতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে রোববার (১৪ মে) সন্ধ্যা ৬টায় উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করেছে। একই সঙ্গে একটি দুর্বল হয়ে রাখাইন রাজ্যের সিটুয়ে, মিয়ানমারে স্থল গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। মোখা স্থলভাগের অভ্যন্তরে আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।