মেট্রোরেলে শিক্ষার্থীদেরও ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার চিন্তা সরকারের : মন্ত্রী

মেট্রোরেলে শিক্ষার্থীদের জন্যও ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। বর্তমানে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীরা এ সুবিধা পাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের পরিচয় যাচাই পদ্ধতি নির্ধারণ করা গেলে ঈদের পর এ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেল এবং নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সোমবার (২৫ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে মেট্রোরেলে বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের একক যাত্রা টিকিটে ২৫ শতাংশ ছাড়ের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, মেট্রোরেল এখন ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে যাদের বয়স এবং যারা শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী, তাদের জন্য আমরা ২৫ শতাংশ ভাড়া কম কার্যকর করেছি। একই সুবিধা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরিচয়পত্র যাচাইয়ের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অল্প সময়ের কারণে আমরা ছাত্রদের জন্য সেটা করতে পারিনি। তাদের আইডেন্টি কার্ডটা (পরিচয়পত্র) কীভাবে শনাক্ত করা হবে, সেটা নির্ধারণে আরেকটু সময় লাগছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, মেট্রোরেলের ট্রেন চলাচলের ব্যবধানও কমানোর চেষ্টা চলছে। আগে ছয় মিনিট পরপর ট্রেন চললেও এখন সাড়ে তিন মিনিট পরপর ট্রেন চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আরও কোচ বাড়ানো গেলে দুই থেকে আড়াই মিনিট পরপর ট্রেন ছাড়া সম্ভব হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় কম কোচ চালু রয়েছে। নতুন কোচ যুক্ত করা গেলে যাত্রীসেবা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

এদিকে, দেশের প্রথম মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-৬–এ প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য বিশেষ ভাড়া ছাড় কার্যকর করা হয়েছে। এখন থেকে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী যাত্রী এবং প্রতিবন্ধী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা একক যাত্রার টিকিটে (এসজেটি) ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় পাবেন।




মেট্রোরেলের সেবায় ভ্যাট অব্যাহতি ৩০ জুন পর্যন্ত

রাজধানীবাসীর কাছে জনপ্রিয় বাহন মেট্রোরেলের সেবার উপর মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

বুধবার  (২৪ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমীন শেখ বিষয়টি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, সরকার জনগুরুত্ব বিবেচনায় এবং পরিবেশবান্ধব ও দূরনিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক গণপরিবহন মেট্রোরেলকে অধিক জনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যে ইতোপূর্বে মেট্রোরেল সেবার ওপর আরোপিত ভ্যাট ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অব্যাহতি প্রদান করেছে। মেট্রোরেল সেবার ওপর মূল্য সংযোজন করের বিদ্যমান অব্যাহতি চালু রাখার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে ওই অব্যাহতির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করে সরকার ২৩ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর দেশের প্রথম মেট্রোরেল উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত উদ্বোধন করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে মেট্রোরেল চলাচল মতিঝিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। মেট্রোরেলের যাত্রীদের কোনো ক্লাস বা শ্রেণিবিন্যাস নেই। সব যাত্রী একই ভাড়ায় নির্ধারিত গন্তব্যে আসা-যাওয়া করতে পারেন।




আগামীকাল চালু হচ্ছে মেট্রোরেলের কার্ড অনলাইন রিচার্জ

মেট্রোরেলের র‌্যাপিড পাস ও এমআরটি পাস অনলাইন রিচার্জ প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করা হবে আগামীকাল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন।

বেলা পৌনে ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনে অনলাইনে রিচার্জ প্রক্রিয়া উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার রেজাউল করিম সিদ্দিকী।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এর নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ।




উত্তরা-আগারগাঁও পথে মেট্রো চলাচল শুরু

প্রায় আড়াই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর উত্তরা-আগারগাঁও-উত্তরা সেকশনে মেট্রোরেলের চলাচল শুরু হয়েছে। তবে বন্ধ রয়েছে আগারগাঁও-মতিঝিল-আগারগাঁও অংশের চলাচল।

রোববার (২৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছে এমআরটি লাইন-৬ এর দায়িত্বশীল একটি সূত্র।

সূত্রটি জানায়, একটি পিলার থেকে বিয়ারিং প্যাড পড়ে যাওয়ার ঘটনায় দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে উত্তরা-মতিঝিল রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। তবে যাত্রীদের সুবিধার্থে দুপুর ২টা ৫৮ মিনিট থেকে উত্তরা-আগারগাঁও-উত্তরা রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে আবুল কালাম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঈশরপাটি গ্রামে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর থেকে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

 




মেট্রোরেলে সেবা বিঘ্নিত হলে টেলিভিশন স্ক্রলে জানানোর নির্দেশনা

বিদ্যুৎ, মেট্রোরেল, সড়ক ও রেলপথে গ্রাহক কিংবা যাত্রীসেবা বিঘ্নিত হলে টেলিভিশনে স্ক্রলের মাধ্যমে জানানো নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

রোববার (২৭ এপ্রিল) উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, গতকাল শনিবার মেট্রোরেল চলাচল সাময়িক বিঘ্নিত হয়। এ ছাড়া খুলনা অঞ্চলে বিদ্যুতের ব্ল্যাকআউট হয়। এই দুটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা কিংবা সংস্থার প্রধানেরা উপদেষ্টাকে জানাননি। উপদেষ্টা এসব বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জানতে পারেন।

ফলে এখন থেকে যেকোনো ধরনের গ্রাহক ও যাত্রীসেবা বিঘ্নের ঘটনা টেলিভিশনে স্ক্রলের মাধ্যমে অনতিবিলম্বে জানাতে হবে। গ্রাহক ও যাত্রীসেবা আবার চালু হলে, সেটাও জানিয়ে ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করতে হবে।




‘মেট্রোরেলকে জরুরি সেবা ঘোষণার উদ্যোগ’

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, মেট্রোরেলকে জরুরি সেবা হিসেবে ঘোষণা করার উদ্যোগ নিয়েছি। যাতে কেউ এই সার্ভিস (সেবা) ব্যাহত করতে না পারে।

রোববার (২৫ আগস্ট) মেট্রোরেলের সচিবালয় স্টেশনে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, এখানে যেন ভাঙচুর না হয়, সেজন্য কেপিআই হিসেবে আপগ্রেড করার চেষ্টা করছি। যাতে এটার নিরাপত্তা বাড়ে।

মেট্রোরেলে ভাঙচুর প্রশ্নে সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা দেশকে পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করেছেন, তাদের পক্ষে এ ধরনের কাজ করা সম্ভব নয়। এটা দুষ্কৃতকারীদের কাজ। আপনাদের কাছে তাদের ভিডিও আছে, ফুটেজ আছে, আমরা যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরেই প্রধান উপদেষ্টা বলেছিলেন, তোমার প্রথম কাজ হবে মেট্রোরেল চালু করা। সেটাই আমরা করেছি। এখানে বোর্ড পুনর্গঠন করতে হয়েছে। বোর্ডের সভা ছিল, কিছু দাবি ছিল, এগুলো আমরা দেখেছি।

তিনি বলেন, এর আগে ১৭ তারিখ এটা (মেট্রোরেল) চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মেট্রোরেলের কিছু কর্মকর্তা কর্মচারীর জন্য চালু করা সম্ভব হয়নি। আপনারা জানেন এটা বড় অন্যায় কাজ করেছে। তিন লাখ যাত্রীকে জিম্মি করে কোনো দাবি আদায়ের চেষ্টা শুভ লক্ষণ নয়।

দেশে দাবি দাওয়ার মৌসুম চলছে মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, এখন সারা দেশে দাবি দাওয়ার মৌসুম চলছে। সবাই চায় বৈষম্য দূর হবে, সবাই চায় বঞ্চনা থেকে তারা মুক্তি পাবেন। ১৬ বছরের বঞ্চনা, এ সরকারের বয়স ১৬ দিন হয়েছে, অন্তত ১৬ মাস সময় দিন। আমরা আস্তে আস্তে এগুলো সবই বিবেচনা করব।

উপদেষ্টা বলেন, একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, এসব দাবি দাওয়ার সঙ্গে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা আছে। সরকারের যদি রাজস্ব না বাড়ে কিংবা অন্যান্য আয় যদি না বাড়ে, তাহলে কোথা থেকে দেবে? এখন যদি টাকা ছেপে আমরা দিতে পারি, তাহলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। এতে সাধারণ মানুষের অনেক কষ্ট হবে। সুতরাং এটা অনভিপ্রেত ঘটনা ছিল এবং আমরা চাই ভবিষ্যতে এটা ঘটবে না।

মেট্রোরেলের অন্য লাইন কবে চালু হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্যান্য লাইনগুলো চালুর ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। আজ বিকেলে জাপানের রাষ্ট্রদূত আমার সঙ্গে দেখা করতে আসবেন। কাজীপাড়া এবং মিরপুর-১০ স্টেশন কীভাবে চালু করা যায় সে ব্যাপারে আলাপ হবে। মেট্রোরেলের এমডিকে বলেছি ক্ষয়ক্ষতি কী হয়েছে এটা নির্ধারণ করে টাইম লাইন দিতে।

দীর্ঘ ৩৭ দিন পর মেট্রোরেল রোববার সকালে চালু হওয়ার পর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান আগারগাঁও থেকে মেট্রোরেলে করে সচিবালয় স্টেশনে আসেন।




আমি থাকতেই প্রতিটি বিভাগে মেট্রোরেল করে দেব : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চলছে, যাতে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করছে। মেয়েদের জন্য মেট্রোরেল একটা নিরাপদ যান হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। এই মেট্রোরেল চালু হওয়ার পরে ঢাকার যানজট অনেকাংশে কমেছে।

আজ (শনিবার) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট সহনশীল করার জন্য আমরা ঢাকা মাস ট্রানজিট তৈরি করেছি, এর মাধ্যমে ৬টা রুটে মেট্রো রেল নির্মাণ করা হচ্ছে, একটি তো হয়েই গেছে। ইতোমধ্যে আমরা চট্টগ্রামে মেট্রোরেল নির্মাণের জন্য সার্ভে করছি। আমি থাকতে থাকতে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আমি মেট্রোরেল হেড কোয়ার্টারের সঙ্গে সংযুক্ত করে দিয়ে যাবো। যাতে দেশের মানুষ দ্রুততম সময় যানজট মুক্ত হয়ে চলাচল করতে পারে।




শুক্রবারও চলতে পারে মেট্রোরেল

দেশের প্রথম বিদ্যুৎ চালিত দ্রুতগতির গণপরিবহন মেট্রোরেল বর্তমানে সপ্তাহে শুক্রবার ছাড়া ৬ দিন নিয়মিত চলাচল করছে। যাত্রীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এটি শুক্রবারও চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

ফলে অল্প কিছুদিনের মধ্যে যাত্রীরা সপ্তাহে ৭ দিনই মেট্রোরেলে ভ্রমণ করতে পারবেন বলে জানা গেছে।

ডিএমটিসিএলের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আগামী জুলাই মাস থেকে শুক্রবারেও মেট্রোরেল চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জুন মাসের মধ্যে পিক আওয়ারের হেডওয়ে (দুই ট্রেনের মধ্যবর্তী অপেক্ষমাণ সময়) ৮ মিনিট থেকে কমিয়ে ৫ মিনিট করা হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে ডিএমটিসিএলের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। হয়তো কয়েকদিন পরে আমাদের এমডি সংবাদ সম্মেলন করে জানাবেন, যদি এরকম কোনো সিদ্ধান্ত হয়।

বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, দিনের প্রথম ট্রেন উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিল স্টেশনে উদ্দেশ্যে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ছেড়ে আসে এবং মতিঝিল স্টেশন থেকে সকাল সাড়ে ৭টায় উত্তরা উত্তর স্টেশনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

এছাড়া দিনের শেষ ট্রেন রাত ৮টায় উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে এবং মতিঝিল স্টেশন থেকে রাত ৮টা ৪০ মিনিটে উত্তরা উত্তর স্টেশনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।




জুলাই থেকে মেট্রোরেলের টিকিটে ভ্যাট বসছে

চলতি বছরের জুলাই থেকে মেট্রোরেলের টিকিটের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আরোপ হতে যাচ্ছে।

মেট্রোরেলের টিকিটের ওপর বর্তমানে ভ্যাট মওকুফ রয়েছে, যার সময়সীমা আগামী ৩০ জুন শেষ হবে। ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ওই সুবিধা দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কিন্তু জুন মাসের পরে ওই ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা বাতিল করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো চিঠির সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এনবিআরের ভ্যাট বিভাগের দ্বিতীয় সচিব ব্যারিস্টার মো. বদরুজ্জামান মুন্সীর সই করা চিঠি ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মেট্রোরেলের টিকিটের ওপর ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩০ জুন। যদিও মেয়াদ বৃদ্ধি করার জন্য এনবিআরকে অনুরোধ করে ডিএমটিসিএল। কিন্তু রাজস্ব বোর্ডের পর্যালোচনায় দেখা যায়, রূপকল্প ২০৪১ অনুযায়ী উন্নত দেশের কাতারে সামিলের লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ওই উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পাদনে সরকারকে প্রতিনিয়ত অর্থের জোগান দিতে হচ্ছে, যা মূলত আহরিত হচ্ছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের মাধ্যমে। দেশীয় শিল্পের বিকাশ, আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশ ইত্যাদি লক্ষ্যকে সামনে রেখে সময়ে সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর অব্যাহতি সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকে।

উন্নয়নের বিপুল কর্মযজ্ঞে অর্থের জোগান অব্যাহত রাখাসহ দেশকে এলডিসি থেকে গ্রাজুয়েশন এবং কর-জিডিপি অনুপাতে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উন্নীত করার উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন খাতের সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সেজন্য বিভিন্ন খাত থেকে কর অব্যাহতি সুবিধা ক্রমান্বয়ে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ কর অব্যাহতির ক্ষেত্র সংকুচিত করা হচ্ছে।

এই অবস্থায় মেট্রোরেল সেবার ওপর ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত থাকা ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ শেষে পুনরায় অব্যাহতি প্রদানে এনবিআর অপারগতা জ্ঞাপন করছে।

২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর দেশের প্রথম মেট্রোরেল উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর পর্যায়ক্রমে মেট্রোরেল চলাচল মতিঝিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। যদিও মেট্রোরেলের যাত্রীদের কোনো ক্লাস বা শ্রেণিবিন্যাস নেই। সব যাত্রী একই ভাড়ায় নির্ধারিত গন্তব্যে আসা-যাওয়া করতে পারেন।

এছাড়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তিন ফুট উচ্চতার শিশুরা বিনা ভাড়ায় এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিরা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ডিসকাউন্টে মেট্রোরেলে ভ্রমণ করতে পারেন। কিন্তু, সবার জন্য মেট্রোরেল ও মেট্রোরেলের যাত্রীদের কোনো ক্লাস বা শ্রেণিবিন্যাস না থাকায় মেট্রোরেলের সেবার ওপর এই মুহূর্তে কোনো ধরনের মূসক বা ভ্যাট প্রযোজ্য ছিল না এতোদিন।




আজ থেকে এক ঘণ্টা বেশি চলবে মেট্রোরেল

আজ থেকে মেট্রোরেল এক ঘণ্টা বেশি চলাচল করবে। বর্ধিত সময় অনুযায়ী মতিঝিল স্টেশন থেকে সবশেষ ট্রেন ছেড়ে যাবে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে। উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে শেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ৯টায়।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এমএএন ছিদ্দিক মঙ্গলবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই কাজটি আমরা সম্পন্ন করেছি।”

তিনি জানান, উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিলের উদ্দেশে এতদিন রাত ৮টায় সবশেষ মেট্রোরেল ছেড়ে যেতো। সেটি এখন এক ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলাচল করবে।

অপরদিকে মতিঝিল স্টেশন থেকে উত্তরা উত্তরের উদ্দেশে এতদিন সবশেষ মেট্রোরেল রাত ৮টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যেতো। এখন রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সবশেষ মেট্রোরেল মতিঝিল স্টেশন থেকে ছেড়ে যাবে। ট্রেনটি উত্তরা উত্তর স্টেশনে পৌঁছাবে রাত ১০টা ১৪ মিনিটে।

তিনি বলেন, “নতুন করে বাড়ানো এক ঘণ্টা সময়ে উভয়দিকেই মেট্রোরেল ১২ মিনিট পরপর চলাচল করবে। এছাড়া অন্য সময়সূচি আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে।”

তবে সকাল ৭টা ১০ মিনিট এবং সকাল ৭টা ২০ মিনিটে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া মেট্রোরেল দুটিতে এবং রাত ৯টার পর থেকে মতিঝিল স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া মেট্রোরেলগুলোতে শুধুমাত্র এমআরটি র‌্যাপিড পাস ব্যবহারকারীরা যাতায়াত করতে পারবেন। এই বর্ধিত সময়ে আরও ১০বার মেট্রোরেল চলাচল করবে। এতে দৈনিক ১৯৪ বার মেট্রোরেল চলাচল করবে এবং প্রতি ট্রেনে ২ হাজার ৩০৮ জন করে মোট ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫২ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন।




বুধবার থেকে রাত ৯টার পরও চলবে মেট্রোরেল

ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে মেট্রোরেল চলাচলের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। আগামী বুধবার (২৭ মার্চ) অর্থাৎ ১৬ রমজান থেকে ঈদ উল ফিতরের আগের দিন পর্যন্ত এই বর্ধিত সময় কার্যকর থাকবে।

মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানিয়েছে, ১৬ রমজান থেকে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ৯টা ২০ মিনিটে এবং মতিঝিল স্টেশন থেকে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে।

ডিএমটিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক বলেন, ১৬ রমজান থেকে ঈদ উল ফিতরের আগের দিন পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচলের সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়বে। সেই সময় আরো ১০টি ট্রেন চলাচল করবে। ফলে দিনে মেট্রো চলাচলের সংখ্যা হবে ১৯৪ বার। এ সময়ের মধ্যে সময় যাত্রী চলাচল করতে পারবেন দিনে ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫২ জন।

বর্তমানে মেট্রোরেল চলাচল করছে সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত। পিক আওয়ারে (৭টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা এবং দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা) প্রতি ৮ মিনিট পরপর মেট্রোরেল চলাচল করে। আর বেলা ১১টা থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অফ পিক আওয়ারে ১২ মিনিট পরপর মেট্রোরেল চলাচল করে।




নির্বাচনের দিন চলবে মেট্রোরেল

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন (৭ জানুয়ারি) মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।

বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট লাইন (৬) এর উপ-প্রকল্প পরিচালক (গণসংযোগ) তরফদার মাহমুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মেট্রোরেল বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচনের দিন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।

এদিকে, ভোটের দিন প্রাইভেটকার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মতামত নিয়ে আমরা যে সার্কুলার (বিজ্ঞপ্তি) দিয়েছি সেখানে যানবাহনের ওপর আগে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেটা এবার শিথিল করা হয়েছে।

তবে ৫ জানুয়ারি মধ্যরাত থেকে ৮ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে, রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক অথবা জরুরি কোনো কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল চলাচল করবে।




মতিঝিল থেকে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়লো

মেট্রোরেল চলাচলের সময়সূচির নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

রোববার (১২ নভেম্বর) বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়।

এতে বলা হয়েছে, শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশন থেকে মতিঝিল মেট্রো রেলস্টেশন পর্যন্ত সকাল ৭টা ১০ মিনিট থেকে বেলা ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ১০ মিনিট পরপর ট্রেন চলাচল করবে।

বিশেষ নোটে বলা হয়েছে, সকাল ৭টা ১০ মিনিটে এবং সকাল ৭টা ২০ মিনিটে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে দুটি ট্রেন মতিঝিলের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। মেট্রো ট্রেন দুটি বর্তমানে চালু সব স্টেশনে থামবে। এমআরটি বা র‍্যাপিড পাস ব্যবহার করে ট্রেন দুটিতে ভ্রমণ করা যাবে।

এরপর বেলা ১১টা ৪০ মিনিট, ১১টা ৫০ মিনিট, দুপুর ১২টা ও দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে চারটি অতিরিক্ত মেট্রো ট্রেন মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ সচিবালয়, ফার্মগেট এবং পরবর্তী প্রতিটি স্টেশনে নেমে উত্তরা উত্তর স্টেশন যাবে।

তবে এ চারটি মেট্রো ট্রেনে উঠতে পারবেন শুধু এমআরটি/র‍্যাপিড পাস ব্যবহারকারীরা। ভ্রমণের দিন বেলা ১১টা ৩০ মিনিটের আগে কেনা সিঙ্গেল জার্নি টিকিটে এসব ট্রেনে ভ্রমণ করা যাবে। ১১টা ৩০ মিনিটের পর এ তিনটি স্টেশনে থেকে সিঙ্গেল জার্নি টিকিট কেনা যাবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশন থেকে আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের বিষয়ে বলা হয়েছে, বেলা ১১টা ৩১ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফ পিক আওয়ারে হেডওয়ে ১২ মিনিট। বিকেল ৪টা ১ মিনিট থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পিক আওয়ারে হেডওয়ে ১০ মিনিট।

বিশেষ নোটে সময়সূচি নিয়ে বলা হয়েছে, রাত ৮টা ১৫ মিনিট এবং রাত ৮টা ৩০ মিনিটে দুটি মেট্রো ট্রেন আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে প্রতিটি মেট্রোরেল স্টেশনে থেমে উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশন পর্যন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, মেট্রো ট্রেন দুটিতে শুধু এমআরটি পাস অথবা র‍্যাপিড পাস এবং ভ্রমণের দিন রাত ৭টা ৪৫ মিনিটের আগে কেনা সিঙ্গেল জার্নি টিকিটের যাত্রীরা ভ্রমণ করতে পারবেন। রাত ৭টা ৪৫ মিনিটের পর সব টিকিট বিক্রয় অফিস ও টিকিট বিক্রয় মেশিন বন্ধ হয়ে যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে।




শিক্ষার্থী-পেশাজীবীদের জন্য আজ থেকে বিশেষ মেট্রোরেল

শুধুমাত্র শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য দুটি বিশেষ মেট্রোরেল চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। আজ বুধবার (৮ নভেম্বর) থেকে সপ্তাহে ৬ দিন সকালে এই দুটি ট্রেন চালানো হবে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। শুক্রবার বন্ধ থাকবে বিশেষ এই দুটি মেট্রোরেল।

মঙ্গলবার এমআরটি লাইন-৬ এর উপপ্রকল্প পরিচালক (গণসংযোগ) তরফদার মাহমুদুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এই দুটি মেট্রোরেল চালানো হবে।

সাধারণত প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে মেট্রোরেলের চলাচল শুরু হয়। কিন্তু বুধবার সকাল ৭টা ১০ মিনিট ও ৭টা ২০ মিনিটে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বিশেষ এই ট্রেন চলবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রী ও পেশাজীবীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। ট্রেন দুটি চালু থাকা সবগুলো স্টেশনেই থামবে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে। তবে এই বিশেষ ট্রেনের সেবা পেতে ব্যবহার করতে হবে এমআরটি বা র‍্যাপিড পাস। অর্থাৎ এই ট্রেনে চড়তে কাউন্টার থেকে প্রচলিত সাধারণ টিকিট বা একবার ব্যবহার করার ‘ওয়ান টাইম পাস’ সংগ্রহ করার সুযোগ থাকবে না।

বর্তমানে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল করছে। আর রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ট্রেন চলছে। এসব ট্রেন সপ্তাহের সাত দিনই এই নিয়মে চলবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৪ নভেম্বর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল সার্ভিসের দ্বিতীয় ধাপ উদ্বোধন করেন। এর আগে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের প্রথম ধাপের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী




কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ মেট্রোরেল চলাচল

মেট্রোরেলের লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সাবস্টেশনগুলোর মধ্যে শেওড়াপাড়া সাবস্টেশনে বৈদ্যুতিক লাইন ফেইল করায় মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (দুপুর পৌনে ১২টা) সেখানে টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (ডিএমডিসিএল) একটি বিশ্বস্ত সূত্র।

সূত্রটি ঢাকা পোস্টকে জানায়, ‘শেওড়াপাড়ায় আমাদের একটি পাওয়ার সাবস্টেশন আছে। সেখান থেকেও পাওয়ার সাপ্লাই দেওয়া হয় মেইন লাইনে। কোন কারণে পাওয়ার সাবস্টেশনের ওই বৈদ্যুতিক লাইনটি ফেইল করেছে। বিদ্যুৎ না থাকলে তো আর ট্রেন চলবে না।’

সূত্র আরও জানায়, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে এখন পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমাদের টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে। ঠিক করতে সময় লাগছে। প্রায় দুই ঘণ্টা যাবত ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমটিসিএলের জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) মোহাম্মদ ইফতিখার হোসেন বিরক্তি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা সহজ পন্থা পাইছেন। আপনারা নিজে এসে দেখে যান, খালি টেলিফোন করে জিজ্ঞেস করলে তো হবে না।’

এর আগে সোমাবার (৭ আগস্ট) সকালে সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মেট্রো ট্রেন ছাড়তে ৪০ মিনিট বিলম্ব হয়। ফলে সকাল ৮টায় মেট্রোরেল চলাচল শুরুর কথা থাকলেও তা ছাড়ে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে।




৩১ মে থেকে ১২ ঘণ্টা চলবে মেট্রোরেল

মেট্রোরেল চলাচলের সময়সীমা আরও ছয় ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। নতুন সময়সূচির হিসেবে এখন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেট্রোরেল চলবে।

আগামী ৩১ মে থেকে উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এই নতুন সময়সূচি কার্যকর হবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ মে) রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) এমডি এম এ এন সিদ্দিক এ তথ্য জানিয়েছেন।

সিদ্দিক বলেন, আমরা আগেই বলেছি ক্রমান্বয়ে সময় বাড়াবো। সে অনুযায়ী জনগণের চাহিদা বিবেচনায় আমরা এই সময়সূচিতে চলব।

তিনি বলেন, নতুন সময় অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ‘পিক আওয়ার’ বিবেচনা করে প্রতি ১০ মিনিট পর পর মেট্রো ছাড়বে। ১১টার পর থেকে ১৫ মিনিটের ব্যবধানে মেট্রো ছাড়বে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। পরবর্তী ৩ ঘণ্টা আবারও ১০ মিনিট পর পর স্টেশন ছাড়বে মেট্রো রেল। সন্ধ্যা ৬টা এক মিনিট থেকে ‘নন পিক আওয়ার’ ধরে ১৫ মিনিট পরপর মেট্রো চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত।

বর্তমানে মেট্রোর সাপ্তাহিক ছুটি মঙ্গলবার হলেও নতুন সময়সূচিতে শুক্রবার বন্ধ থাকবে।




মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের ট্রায়াল রান জুলাইয়ে

রাজধানীর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৬ এর দ্বিতীয় অংশের মেট্রোরেলের ট্রায়াল রান আগামী জুলাই থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এমডি এম এ এন সিদ্দিক।

বৃহস্পতিবার (১৮ মে) রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনে ডিএমটিসিএল সম্মেলন কক্ষে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৬ এর দ্বিতীয় অংশ আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত কাজের অগ্রগতির বিষয়টি আমরা অনলাইনে ইতিমধ্যে দিয়েছি। দ্বিতীয় অংশের অগ্রগতি ৯০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন। কিছু কিছু কাজ চলছে। কিছু ইলেকট্রিক্যাল কাজ আছে সেগুলো এখন চলছে। জুলাইয়ে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের ট্রায়াল রান থেকে শুরু করে সব টেস্ট শুরু হবে।

 

তিনি বলেন, ডিসেম্বরে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল মেট্রোরেল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি আরও এগিয়ে আনা যায় কিনা। মতিঝিল পর্যন্ত যদি চালু করা যায় তাহলে জনগণের সুবিধা হয়। সবগুলো স্টেশন একসঙ্গ চালু না করা গেলে, প্রথমে আমরা যেভাবে চালু করেছিলাম সেভাবে চালু করব।




আজ থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলবে মেট্রোরেল

যাত্রী চাহিদার কথা বিবেচনা করে মেট্রোরেলের চলাচলে ২ ঘণ্টা সময় বাড়ানো হয়েছে।

বুধবার (৪ এপ্রিল) থেকে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলবে এই ট্রেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনের মেট্রোরেলের সভা কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড বা ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক এ তথ্য জানিয়েছেন।

রাজধানীর উত্তরার উত্তর থেকে আগারগাঁওগামী নয়টি স্টেশনের প্রতিটিতেই এখন থামছে মেট্রোরেল।

প্রসঙ্গত, ঢাকার উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের প্রথম মেট্রোরেল যেটা এমআরটি লাইন-৬ নামে পরিচিত। এ প্রকল্প সরকার হাতে নেয় ২০১২ সালে।

 

২৮ ডিসেম্বর এই পথের প্রথমাংশ উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চালু হলেও দ্বিতীয় অংশ আগারগাঁও থেকে মতিঝিল ২০২৩ সালের শেষ দিকে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া, মতিঝিল থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত বর্ধিতাংশ চালু হতে পারে ২০২৫ সালে। এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোমোট ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা।




৩ মাস পরেই মতিঝিলে স্বপ্নের মেট্রোরেল

উত্তরা থেকে আগারগাঁও রুটে যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে মেট্রোরেল। অন্যদিকে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৯২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। প্রস্তুত উড়াল রেললাইন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ক্যাবল কিংবা দ্বিতীয় ধাপের ৭টি স্টেশন। এখন শুধু অপেক্ষা মেট্রোরেলের জন্য।

যাত্রী উঠানামার এক্সিট-এন্ট্রি আর ছোটখাটো কিছু কাজ বাদে দ্বিতীয় ধাপের স্টেশনগুলোতে গড়ে ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আর সরকারি বিতরণ সংস্থাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ পেলে আগামী জুলাইয়ে মতিঝিল থেকে মেট্রোরেলের পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডে (ডিএমটিসিএল)। তবে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু হবে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ।

মেট্রোরেল লাইন-৬ এর উপ প্রকল্প পরিচালক (গণসংযোগ) নাজমুল ইসলাম ভূইয়া  বলেন, ‘জুলাই মাস থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে মেট্রোরেল চলাচল করবে। হাতে সময়ও নেই। তবে পরীক্ষামূলকভাবে মতিঝিল পর্যন্ত চলাচলের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’

আগারগাঁও পর্যন্ত চালু হওয়ার পর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু এখন তবে মতিঝিল থেকে মেট্রোরেল চলাচল করবে।

আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পুরো ৮ কিলোমিটারের বেশি অংশের উড়ালপথ নির্মাণকাজ শেষ। এর ওপর বসে গেছে আসা যাওয়ার জন্য ১৬ দশমিক ১৯ কিলোমিটার ট্র্যাক রেললাইন।

আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশে মতিঝিল রিসিভিং সাব-স্টেশনের ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করে যাবতীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি স্থাপন ও ১৩২ কেভি ক্যাবল লেইং-এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

মেট্রোলাইনের এই অংশে মতিঝিলে নির্মিত ১৩২ কিলো ভোল্ট সাব স্টেশন থেকে শক্তি যোগান আসবে। সাব স্টেশন থেকে মেট্রোর বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে উচ্চগতির ক্যাবল টানাসহ সকল সরঞ্জাম বসানো হয়ে গেছে। এর আগে মেট্রোতে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য রেল-ট্র্যাকের ওপর দিয়ে টানা আগারগাঁও থেকে মতিঝিল ১৬ কিলোমিটারের বেশি অংশের ওসিএস ক্যাবল টানার কাজ শেষ হয়েছে।

সবমিলিয়ে ইলেকট্রিক্যাল আর মেক্যানিক্যাল অংশের ছোটখাটো ১০ শতাংশেরও কম কাজ বাকি আছে। এসব কাজ তিন মাসের মধ্যেই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




মেট্রোরেলে তিন মাসে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি

রাজধানীর উত্তরা উত্তর (দিয়াবাড়ি) থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার রুটে চলাচল করছে মেট্রোরেল। আধুনিক এ পরিবহন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ ৭৭ হাজার যাত্রী চলাচল করেছেন। এ খাতে আয় হয়েছে ৬ কোটি ২০ লাখ টাকা। তবে একই সময়ে ব্যয় হয়েছে ৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে মেট্রোরেলে তিন মাসে আয়ের চেয়ে এক কোটি ১৩ লাখ টাকা বেশি ব্যয় হয়েছে। ব্যয়ের একটি বড় অংশই বিদ্যুৎ বিল।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ডিএমটিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক।

তিনি বলেন, মেট্রোরেল পরিচালনায় সবচেয়ে বড় অংশ খরচ হয়েছে বিদ্যুৎ বিলে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের দামও বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের আমরা ডেকেছি, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে আমাদের একটা মূল্য ঠিক করে দেওয়ার জন্য। আমাদের দ্বিতীয় প্রধান ব্যয় মেট্রোরেলে কর্মরতদের বেতন বাবদ। এছাড়াও অন্য খরচ রয়েছে।

মেট্রোরেলের আয়-ব্যয় এখন পর্যন্ত খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয় জানিয়ে এম এ এন সিদ্দিক বলেন, পরিপূর্ণভাবে মেট্রোরেল চালু না হলে বোঝা যাবে না, একটা প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় না। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমাদের আরও দুটা স্টেশন চালু হচ্ছে। যেখানে নতুন নতুন যাত্রী যোগ হবে। অন্যদিকে এখন রমজান মাস। প্রথম দিকে একটা ট্যুরিস্ট পয়েন্টের মতো ব্যাপক জনসমাগম হতো। যে জায়গাতে এখন ভাটা পড়েছে। তবে নিয়মিত যাত্রীরা যাতায়াত করছেন।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়ায় মেট্রোরেল চালু হয়েছে। এসব দেশের থেকে আমরা অনেক অনেক এগিয়ে রয়েছি। কোনো দেশেই মেট্রোরেলে একসঙ্গে সবগুলো স্টেশন খুলে দেওয়ার নজির নেই।