ছুটি রিসোর্ট ও মেটলাইফের সমঝোতা

ছুটি রিসোর্টের সাথে এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে মেটলাইফ বাংলাদেশ। সম্প্রতি এই এমওইউ’র ফলে গাজীপুর, পূর্বাচল এবং অরণ্যবাস ছুটি রিসোর্টের রুম রেটে ৫০% এবং ডে লং প্যাকেজে ৫% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাবেন মেটলাইফ বাংলাদেশের গ্রাহকরা।

মেটলাইফের ইস্যু করা লাইফ কার্ড দেখিয়ে এ বিশেষ ছাড় উপভোগ করা যাবে। ওয়ান বাই মেটলাইফ মোবাইল অ্যাপ থেকে এ কার্ডের ডিজিটাল কার্ড ডাউনলোড করা যাবে। গ্রাহকদের জন্য লাইফস্টাইল কেন্দ্রিক সুবিধা প্রদানের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নিয়েছে মেটলাইফ।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ছুটি গ্রুপ থেকে উপস্থিত ছিলেন গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা মাহমুদ আরিফী এবং গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোস্তফা কামাল। মেটলাইফ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির চিফ মার্কেটিং অফিসার নওফেল আনোয়ার এবং ম্যানেজার মার্কেটিং অ্যান্ড প্রোডাক্ট শিউলি আক্তার।




ব্র্যাক ব্যাংক ও মেটলাইফের ব্যাংকাস্যুরেন্স চুক্তি স্বাক্ষর

ব্র্যাক ব্যাংক ও মেটলাইফ বাংলাদেশ সম্প্রতি ব্যাংকাস্যুরেন্স সেবা দেওয়ার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এতে ব্র্যাক ব্যাংকের গ্রাহকেরা মেটলাইফের বিভিন্ন জীবনবিমা পলিসি নিতে পারবেন।

বাংলাদেশের মানুষের কাছে বীমাপণ্য ও সেবা আরও সহজলভ্য করার মাধ্যমে এই চুক্তির মধ্য দিয়ে আর্থিক খাতে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলে জীবনবীমা সেবার মধ্য দিয়ে মেটলাইফের বিস্তৃত উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবা ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা, উপশাখা এবং এসএমই ইউনিট অফিসসহ ব্যাংকের দেশজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারপারসন মেহেরিয়ার এম হাসান এবং মেটলাইফ বাংলাদেশের সিইও আলা আহমদের উপস্থিতিতে চুক্তি-স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়।

মেটলাইফ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এএমডি অ্যান্ড চিফ ডিস্ট্রিবিউশন অফিসার জাফর সাদেক চৌধুরী, ডিএমডি অ্যান্ড চিফ করপোরেট বিজনেস অফিসার নাফিস আক্তার আহমেদ, এসইভিপি অ্যান্ড হেড অব ব্যাংকাস্যুরেন্স মুহাম্মদ আসিফ শামস এবং ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষ থেকে ডিএমডি অ্যান্ড হেড অব এসএমই ব্যাংকিং সৈয়দ আব্দুল মোমেন, ডিএমডি অ্যান্ড হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং মো. মাহীয়ুল ইসলাম এবং হেড অব ব্রাঞ্চেস শেখ মোহাম্মদ আশফাক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে ব্যাংকাস্যুরেন্স সেবা অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারপারসন মেহেরিয়ার এম হাসান এই চুক্তির তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ‘আজ একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে মেটলাইফ বাংলাদেশ এবং ব্র্যাক ব্যাংক ব্যাংকাস্যুরেন্স পার্টনারশিপে একত্রিত হয়েছে। এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান দুটির নিরলস পরিশ্রমের প্রতিফলন। এই চুক্তিটি বাংলাদেশের আর্থিক খাতে একটি নতুন ও যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করেছে।’

মেটলাইফ বাংলাদেশের সিইও আলা আহমদ একই অনুভূতি প্রতিধ্বনিত করে বলেন, ‘ব্যাংকাস্যুরেন্সের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিমা সুবিধাকে আরও সহজলভ্য করা। বাংলাদেশের দুটি বিশ্বস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান—মেটলাইফ এবং ব্র‍্যাক ব্যাংকের এই কৌশলগত অংশীদারত্ব দেশের মানুষের কাছে বিমার বিস্তৃতি আরও বাড়াতে সক্ষম হবে। এই উদ্যোগে দেশের আর্থিক সক্ষমতার বৃদ্ধির প্রয়াস আরও গতি পাবে।’

ব্যাংকিং এবং বিমার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দুই শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডের মধ্যে এই কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি গ্রাহকদের ব্যাংকিং ও বিমা চাহিদার জন্য সমন্বিত সমাধান দেবে এবং আর্থিক সেবা খাতকে আরও উন্নত করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ২৬২ কোটি টাকা সংগ্রহ প্রাণ এগ্রোর

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রাণ এগ্রো লিমিটেড ২৬২ কোটি টাকার অনশোর বন্ডে লেনদেন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। আট বছর মেয়াদি এ বন্ডের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ কোম্পানির অবকাঠামো সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে। এ বন্ডে পুরো বিনিয়োগ করেছে মেটলাইফ বাংলাদেশ।

বন্ডটির আংশিক জামানতকারী হিসেবে রয়েছে গ্যারান্টকো। তবে এই প্রথম দেশীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে লেনদেনে সুনামের কারণে বন্ডের কিছু অংশে কোনো গ্যারান্টি ছাড়াই অর্থায়ন পেতে সক্ষম হয়েছে প্রাণ এগ্রো।

বন্ডের অর্থ প্রাণ এগ্রোর কারখানায় প্রয়োজনীয় ভবন নির্মাণ ও নুডলস, কনফেকশনারি, কালিনারি, কুকিং অয়েল এবং বেকারি পণ্য তৈরিতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ব্যবহার করা হবে।

বর্তমানে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপে এক লাখ তালিকাভুক্ত চুক্তিভিত্তিক কৃষক রয়েছে এবং গ্রুপের অধীনে ১ লাখ ৪৫ হাজার লোক কাজ করছে। নতুন এ অর্থায়নের ফলে আরও ২৪০ চুক্তিভিত্তিক খামারি উপকৃত হবে। এছাড়া এ অর্থায়নের ফলে কারখানা পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় ৫০০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, যার মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু’তে বন্ড ক্লোজিং উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, যুক্তরাজ্য সরকারের ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর ড. ডানকান ওভারভিল্ড, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী, মেটলাইফের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এলিনা বোটারোভা ও গ্যারান্টকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হেড অব এশিয়া নিশান্ত কুমার বন্ডের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

 

বন্ড সম্পর্কে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (করপোরেট ফাইন্যান্স) উজমা চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন দেশে প্রাণ এর উৎপাদিত কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ অর্থায়নের ফলে চাহিদাকৃত পণ্যের জোগান দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। ফলে প্রাণ এর রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে।

মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ বলেন, বাংলাদেশের আর্থিক খাতে মেটলাইফের মোট বিনিয়োগ ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। আমরা এমন বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজি, যা গ্রাহকদের সেবা দিতে আমাদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা জোরদার করে এবং একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে আরও সফল হতে সহায়তা করার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এই নতুন প্রাণ এগ্রো বন্ডে বিনিয়োগ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।

গ্যারান্টকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লেইথ আল ফালাকি বলেন, প্রাণ এগ্রোর সঙ্গে দ্বিতীয় লেনদেনটি সম্পন্ন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত, যা বাংলাদেশের বন্ড মার্কেট এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর আগেও প্রাণ এগ্রোর ব্যবসায়িক সম্প্রসারণে ২.১ বিলিয়ন ডলার বন্ডে জামানতকারী হয়েছে গ্যারান্টকো, যা ছিল বাংলাদেশে প্রথম করপোরেট বন্ডগুলোর মধ্যে একটি। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনগণের সুবিধার্থে পুঁজিবাজারের বিকাশে এ ধরনের বন্ডের প্রভাব রয়েছে বলে প্রমাণিত হয়েছে।

এটি প্রাণ এগ্রোর সঙ্গে গ্যারান্টকো ও মেটলাইফ এর দ্বিতীয় লেনদেন। এর আগে ২০২১ সালে প্রাণ এগ্রো প্রথম অনশোর বন্ড ইস্যু করে অর্থ সংগ্রহ করে, যার শতভাগ জামানতকারী ছিল গ্যারান্টকো এবং বিনিয়োগকারী ছিল মেটলাইফ। বন্ডটি ছিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের উদ্যোগে নবগঠিত অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে তালিকাভুক্ত প্রথম বন্ড। নতুন লেনদেনটির ফলে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডের মাধ্যমে সেকেন্ডারি মার্কেটে করপোরেট বন্ডের লেনদেনের কার্যকারিতা আরও স্পষ্ট করেছে। এছাড়া এ ধরনের বন্ড দেশের করপোরেট বন্ডের বাজারে অর্থবহ প্রভাব রাখতে সক্ষম হবে।