মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের ব্যবসা নিয়ে নিরীক্ষকের শঙ্কা

পুঁজিবাজারে খাদ্য ও আনুসঙ্গিক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক লিমিটেডবিগত কয়েক বছর ধরে টানা লোকসানে রয়েছে । এতে কোম্পানির সম্পদ ঋণাত্মক হয়ে গেছে। ফলে কোম্পানির ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিচালনা করা বা টিকিয়ে থাকা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষক।

কোম্পানির ২০২২-২৩ অর্থবছরের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষায় এই শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছে নিরীক্ষক।

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, কোম্পানির ২০২২-২৩ অর্থবছরে নিট ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এছাড়া কোম্পানির শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ঋণাত্মক (৭২.২২) টাকা, শেয়ারপ্রতি লোকসান (২.১৩) টাকা ও নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক (০.৯৪) টাকা রয়েছে। এতে মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের এই সংকট কোম্পানির ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিচালনা বা টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা নিয়ে খুবই শঙ্কা তৈরি করেছে।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬২.৫৭ শতাংশ মালিকানা রয়েছে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণির (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) বিনিয়োগকারীদের হাতে। বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) কোম্পানির শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ২৭.৫০ টাকায়।




চার কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত চারটি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ, ২০২৩) ও নয় মাসের (জুলাই, ২০২২ থেকে মার্চ, ২০২৩) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য প্রান্তিকের ৯ মাসে কোম্পানিগুলোর শেয়ারপ্রতি মুনাফা বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক
কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিকের শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ০.৪২ টাকা। গত হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১.৬৪ টাকা। তিন প্রান্তিক মিলিয়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১.৫৮ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৫.৩৪ টাকা। এদিকে, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির ঋণাত্মক শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭১.৬৭ টাকা।

মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ
কোম্পানিটি তৃতীয় প্রান্তিকের শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ০.০৫২ টাকা। গত হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ০.০৬ টাকা। তিন প্রান্তিক মিলিয়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ০.১৭৩ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ০.১৮৪ টাকা। এদিকে, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির ঋণাত্মক শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫.০২ টাকা।

ন্যাশনাল পলিমার
কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিকের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.৯৩ টাকা। গত হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ০.৬২ টাকা। তিন প্রান্তিক মিলিয়ে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ১.০১ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ১.৮৯ টাকা। এদিকে, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৮.৬৩ টাকা।

একমি ল্যাবরেটরিজ
কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ২.৫৩ টাকা। গত হিসাব বছর একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ২.৩৮ টাকা। তিন প্রান্তিক মিলিয়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ৭.৮৯ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৭.৫৫ টাকা। এদিকে, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১০৭.৪৮ টাকা।