মেট্রোরেলে ভ্যাট অব্যাহতি

ঢাকার বাসিন্দাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা গণপরিবহন মেট্রোরেলে সব ধরনের যাত্রীসেবায় মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অব্যাহতি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ সুবিধা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।

সোমবার (৬ জানুয়ারি) এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (মূসক আইন ও বিধি) ব্যারিস্টার মো. বদরুজ্জামান মুন্সীর সই করা এ সংক্রান্ত বিশেষ আদেশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আদেশে বলা হয়, মেট্রোরেল বাংলাদেশের সর্বাধুনিক ও জনপ্রিয় গণপরিবহন। মেট্রোরেল যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি কর্মঘণ্টা সাশ্রয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। মেট্রোরেলকে অধিক জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে এর যাতায়াত ব্যয় সাশ্রয়ী করা প্রয়োজন।

সেখানে বলা হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৪৭ নং আইন) এর ধারা ১২৬ এর উপ-ধারা (৩) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে দ্রুতগামী, নিরাপদ, সময় সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও দূরনিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থা মেট্রোরেল সেবার ওপর আরোপণীয় মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি প্রদান করা হলো।

 

এই ভ্যাট অব্যাহতি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে আদেশ জানানো হয়েছে।




চার মাসে রাজস্ব আয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ

চলতি ২০২৩-২৪ করবর্ষের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়কর, স্থানীয় পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) এবং আমদানি-রফতানি শুল্ক মিলে মোট রাজস্ব আয় করেছে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা, যা বিগত করবর্ষের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। গত করবর্ষের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ৯০ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা।

এনবিআর সূত্র জানায়,খাতভিত্তিক রাজস্ব আয়ের হিসাব হলো— চার মাসে আমদানি ও রফতানি শুল্ক খাত থেকে আয় হয়েছে ৩২ হাজার ৬৬৮ কোটি, স্থানীয় পর্যায়ে মূসক থেকে ৪০ হাজার ৪৮ কোটি ৬২ লাখ এবং আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতে ৩১ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা।

তবে এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আয় কিছুটা পিছিয়ে আছে। চার মাসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা।

এনবিআরের তথ্যমতে, গত ২০২২-২৩ করবর্ষের প্রথম চার মাসে আমদানি-রফতানি শুল্ক থেকে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ২৯ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা। চলতি করবর্ষের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৬৬১ কোটি। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ১২ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে আয়কর আহরণ বেড়েছে ১৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। গত করবর্ষের চার মাসের ২৬ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকার আয়কর রাজস্ব আয় এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। শুল্ক ও আয়করের মতো ভ্যাট রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রেও ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ১৭ দশমিক ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত করবর্ষের চার মাসে ভ্যাট রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার ৪৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, চলতি করবর্ষে এনবিআরের রাজস্ব আয়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।




 ১০ লাখ টাকা ভ্যাটে ই-পেমেন্ট বাধ্যতামূলক

কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিশোধযোগ্য মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ১০ লাখ টাকার বা তার বেশি হলেই ই-পেমেন্ট বা ‘এ’ চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে মূসক নীতি থেকে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত এদেশ জারি হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ওই আদেশ বাধ্যতামূলকভাবে মানার নির্দেশনা দিয়েছে ভ্যাট বিভাগ।

শনিবার (২ ডিসেম্বর) এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভ্যাট নীতির সদস্য জাকিয়া সুলতানা সই করা আদেশে বলা হয়েছে, আধুনিক ই-পেমেন্ট বা ‘এ’ চালান পদ্ধতি ব্যবহার করিয়া ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে দ্রুততম সময়ে রাজস্ব পরিশোধ করতে পারবেন। যার মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা নিশ্চিত হবে। যেহেতু, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা অধিক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর করবার মাধ্যমে সহজে ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে মূসক জমা প্রদান ও জাল-জালিয়াতি রোধ নিশ্চিত করা সম্ভব; সেকারণে জনস্বার্থে ২০১২ সালের মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ও ২০১৬ সালের মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালার ক্ষমতাবলে কোনো নির্দিষ্ট কর মেয়াদে কোনো প্রতিষ্ঠানের নীট প্রদেয় মূসকের পরিমাণ ১০ লাখ টাকা বা তদূর্ধ্ব হলে মূসক বা ভ্যাট ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে পরিশোধযোগ্য হবে এবং তা মূল্য সংযোজন কর ই-পেমেন্ট বা ‘এ’ চালান এর মাধ্যমে জমা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হলো।

এর আগে ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর এক আদেশে ৫০ লাখ টাকা বা তার বেশি পরিমাণ মূল্য সংযোজন কর পরিশোধের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট (ই-পেমেন্ট) বাধ্যতামূলক করেছিল এনবিআর। তখনই ঘোষণা করা হয়েছিল ই-পেমেন্টের ভ্যাটের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে। ২০২০ সালের জুলাই থেকে এনবিআর পরোক্ষ কর প্রদানে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করে।




সাত মাসে এনবিআরের রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১০ শতাংশ

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) এনবিআরের রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়-সংক্রান্ত এনবিআরের সাময়িক প্রতিবেদনে এ তথ্য রয়েছে।

এতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের সাত মাসে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ওই সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সংস্থাটির।

সাত মাসে আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে রাজস্ব এসেছে ৫২ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৮ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা। এ খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। তবে এ খাত থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) খাত থেকে সাত মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬৬ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় যা ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি । তবে এ খাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা কম আয় হয়েছে। এ ছাড়া আয়কর ও ভ্রমণ কর খাত থেকে সাত মাসে রাজস্ব এসেছে ৫৩ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। তবে আদায় হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা কম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক মন্দার পূর্বাভাসের কারণে দেশের অভ্যন্তরে অর্থনীতি কিছুটা শ্লথগতিতে আছে। এসব কারণে কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আয় হচ্ছে না। তবে এনবিআর কর্মকর্তারা আশা করছেন, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবসা-বাণিজ্য আবারও গতি পাবে। তখন রাজস্ব আয়ও বাড়বে।