এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.০৪ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের ফলে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এপ্রিল মাসে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মার্চ মাসে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। এতে মাসের ব্যবধানে ভোগ্যপণ্যে ব্যয়ের চাপ বাড়লো।

বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে।

 

এতে বলা হয়েছে, খাদ্যখাত—বিশেষ করে চাল, ডাল, মাছ, মুরগি, ডিম, দুধ, সবজি, মাংসসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি।

এপ্রিল মাসে খাদ্যখাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ।

 

অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ হয়েছে, যেখানে মার্চ মাসে এই হার ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।

খাদ্যবহির্ভূত খাতে দাম বাড়ায় সন্তানের পড়ালেখা, বাড়িভাড়া, পরিবহন, পোশাক ও তামাকের খরচ মেটাতে চাপ বাড়বে। কারণ এসব খাতে হাতখরচ বাড়ছে দেশবাসীর।




দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে গভীর সংকট, দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের

টানা তিন বছর ধরে মন্থর প্রবৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। তারওপর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত বৈশ্বিক প্রতিকূলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বুধবার (০৮ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে দেশের অর্থনীতির এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৯ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, প্রবৃদ্ধি টেকসই করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য অবিলম্বে সাহসী ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

চ্যালেঞ্জের মুখে অর্থনীতি ও দারিদ্র্য বিস্তারের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে;

ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য : জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮.৭% থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২১.৪% এ দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ২০২৫ সালে আরও ১৪ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে।

উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি : ২০২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৮.৫ শতাংশে অবস্থান করছে। খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বাড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

রাজস্ব সংকট : ২০২৫ অর্থবছরে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন (৭ শতাংশের নিচে) পর্যায়ে নেমে এসেছে।

ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাত ও খেলাপি ঋণের বোঝা দেশের আর্থিক খাত বর্তমানে বেশ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩০.৬% এ পৌঁছেছে। মূলধন পর্যাপ্ততা বা ক্যাপিটাল অ্যাডিকুয়েসি রেশিও নিয়ন্ত্রক সীমার নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক ব্যাংক লোকসান সামাল দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছে। এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বাংলাদেশের জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে জ্বালানি ভর্তুকি বৃদ্ধি, উচ্চ আমদানি ব্যয় এবং রপ্তানি ও রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কম থাকায় এবং কঠোর মুদ্রানীতির কারণে এই ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতা বাংলাদেশের জন্য সীমিত।

এই সংকট থেকে উত্তরণের বিষয়ে সংস্থাটির, বাংলাদেশ ও ভুটানে বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসম বলেন, স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি। কিন্তু রাজস্ব আহরণ, আর্থিক খাত এবং ব্যবসায়িক পরিবেশে সুদূরপ্রসারী সংস্কার ছাড়া এই স্থিতিশীলতা স্থায়ী হতে পারে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর টেকসই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কাঠামোগত সংস্কারের দ্রুত অগ্রগতি অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে, রাজস্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে কর আদায়ের সক্ষমতা বাড়ানো, আর্থিক খাতের সুরক্ষায় ব্যাংকগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করা, ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন সহজ করা এবং নিয়ন্ত্রক অনিশ্চয়তা কমানো এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও উন্নত অবকাঠামো নিশ্চিত করা।

বিশ্বব্যাংকের ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক আপডেট’ অনুযায়ী, বৈশ্বিক অস্থিরতায় পুরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে ৬.৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে দক্ষিণ এশিয়া এখনও বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অঞ্চল বলে মনে করে সংস্থাটি। বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়োহানেস জুট এবং প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা ওনসোর্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাজারভিত্তিক সংস্কার এবং দক্ষ শিল্পনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।




জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৫৫ শতাংশ

দীর্ঘ সময় পর গত জুনে স্বস্তি ফিরেছিল মূল্যস্ফীতিতে। তবে জুলাইয়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার শূন্য দশমিক ০৭ শতাংশ বেড়েছে। ফলে জুনের ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ থেকে বেড়ে জুলাইয়ে তা হয়েছে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

বিবিএস জানায়, জুলাইয়ে বেড়েছে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও। মাসটিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জুনে যা ছিল ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

এছাড়া জুনে সার্বিক খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ থাকলেও জুলাইয়ে সেটি বেড়ে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বেড়েছে শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ।

জুলাইয়ে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

আর শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।




জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৮ শতাংশের নিচে নামার পূর্বাভাস

আগামী জুন মাসের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। পাশাপাশি সফররত আইএমএফ প্রতিনিধি দল সব বিষয়ে সন্তোষজনক উত্তর পাচ্ছে।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানান।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন মতে, ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ, যা তার আগের মাস জানুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত।

আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে আইএমএফের সঙ্গে চলা বৈঠকে মূল্যস্ফীতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এ সময় প্রতিনিধি দলটি আগামী জুন নাগাদ বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না। সরকারের সবগুলো অর্গান যখন একসঙ্গে কাজ করে তখনই এটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় বলে জানান তিনি।

আইএমএফের ঋণের সবশেষ দুই কিস্তি পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া জবাবে সংস্থাটি সন্তুষ্ট কি না জানতে চাইলে মুখপাত্র বলেন, সফররত প্রতিনিধি দলের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে মনে হচ্ছে তারা সন্তুষ্ট। যদি কোনো প্রশ্নের জবাবে তারা সন্তুষ্ট না হন, তখন তারা পাল্টা প্রশ্ন করে থাকেন, যেটা এখনো হয়নি, এখানে আমরা আশাবাদী।

রিজার্ভ গণনা নিয়ে তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ গণনার ক্ষেত্রে ডাবল কাউন্টিং হচ্ছে না। আইএমএফের নির্দেশনার আলোকে বর্তমানে রিজার্ভ গণনা করায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট নিয়ে আরিফ হোসেন খান বলেন, তারল্য সংকটে থাকা দেশের ১১ ব্যাংকের মধ্যে ৬টির অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তাদের এখন তারল্য সহায়তা লাগবে না। তবে এখনো পাঁচটি ব্যাংক দুর্বল অবস্থা রয়েছে।

আইএমএফের কাছ থেকে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের চতুর্থ কিস্তির ২৩৯ কোটি ডলার পাবে বাংলাদেশ। সে অর্থ ছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্ত পর্যালোচনা করতে ৬ এপ্রিল থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করছে আইএমএফ। সংস্থাটির ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্ত পালনের অগ্রগতি পর্যালোচনায় আইএমএফের প্রতিনিধি দলটি ৬ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত টানা দুই সপ্তাহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে। সব দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক শেষে ১৭ এপ্রিল প্রেস ব্রিফিং করবে সফররত আইএমএফ দল।




১৫ লাখ অনলাইন রিটার্নের ১০ লাখ করদাতারই শূন্য কর

চলতি করবর্ষে অনলাইন রিটার্নের মধ্যে ৬৬ শতাংশই শূন্য রিটার্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

সোমবার (২৪ মার্চ) আগারগাঁওয়ের এনবিআর আয়োজিত ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

আবদুর রহমান খান বলেন, ১৫ লাখ অনলাইন রিটার্নের মধ্যে ১০ লাখই সাড়ে ৩ লাখ টাকার নিচে। এর মানে, আমরা সঠিকভাবে করদাতাদের শনাক্ত করতে পারছি না।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ, ১০ লাখ করদাতার আয়কর বিবরণীতে উল্লিখিত বার্ষিক আয়ের বিপরীতে কোনো কর প্রদান করা হয়নি। এ নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে, যারা কর প্রদান করছেন না, তাদের প্রকৃতপক্ষে করযোগ্য আয় নেই কি না। আমাদের কর ফাঁকি শনাক্ত করার দিকে আরও মনোযোগী হতে হবে।

এ সময় ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা মূল্যস্ফীতির ভিত্তিতে ব্যক্তিগত করদাতাদের কর ছাড়ের সীমা সাড়ে তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকার করার প্রস্তাব দেন।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সাড়ে তিন লাখ থেকে ৪ লাখ বা ৫ লাখ টাকা করার বিষয়টি যৌক্তিক মনে করি। তবে সমস্যা হলো, বর্তমানে ডিজিটাল রিটার্নের মাধ্যমে সকল তথ্য আমাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৫ লাখ ১৫ হাজার রিটার্ন জমা পড়েছে। প্রতিদিন ২-৩ হাজার রিটার্ন জমা পড়ছে এবং অনলাইন রিটার্ন এখনও চালু রয়েছে। অনেকেই রিভাইজড রিটার্নও জমা দিতে পারছেন, এটি একটি বড় সুবিধা।

শূন্য আয়কর বিবরণী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৫ লাখ রিটার্নের মধ্যে ১০ লাখ রিটার্নই সাড়ে ৩ লাখ টাকার নিচে জমা পড়েছে, যার মানে তারা এক টাকাও ট্যাক্স দেয়নি। পেপার রিটার্নের ক্ষেত্রেও চিত্র প্রায় একই। মফস্বল এলাকাতেও একই অবস্থা। যদি আমরা শূন্য রিটার্নের সীমা বাড়িয়ে চার লাখ করি, তাহলে শূন্য রিটার্নের সংখ্যা আরও এক লাখ বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, কোয়ালিটি ট্যাক্সপেয়ারদের সংখ্যা খুবই কম। যদি আমরা সিলিং বাড়িয়ে দেই, তাহলে আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করব, কিন্তু এটা বলছি না যে, বাড়াবো না। এটা নিশ্চিত, যে বড় গ্রুপটি এখন ন্যূনতম কর প্রদান করে, তারা শূন্য করের আওতায় চলে যাবে, যা একটি সমস্যা।

ইআরএফের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে, বাজেটে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্রশ্রেণির উপর করের বোঝা কমানোর জন্য কর ফেরতের ব্যবস্থা করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির ওপর উপকরণের কর হার ৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা, বেসরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ড করমুক্ত করা, ব্যক্তিশ্রেণির কর হার ৩০-৩৫ শতাংশ করা, ভ্যাটের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ করের দিকে জোর দেওয়া এবং বাজার মূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে কর আদায় বৃদ্ধি করা।




বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি মূল্যস্ফীতি

চলতি বছরে (২০২৫) পাঁচটি ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঝুঁকির বিষয়টি হচ্ছে মূল্যস্ফীতি। এছাড়া আরও চার ঝুঁকির বিষয়গুলো হলো- চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া, পরিবেশ দূষণ, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক নিম্নমুখিতা।

সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় হিসেবে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া, বিশেষ করে বন্যা ও উচ্চ তাপমাত্রা এবং দূষণকে দায়ী করা হয়েছে। বাংলাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ ১০টি দেশের মধ্যে একটি, যেখানে দূষণকে শীর্ষ তিন ঝুঁকির একটি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। দেশ দুটিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণ অনেক ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সবুজ অর্থনীতি রূপান্তরের ক্ষেত্রে দূষণ সচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ডব্লিউইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য আরও দুটি বিষয় খুব ঝুঁকিপূর্ণ। এর একটি হচ্ছে বেকারত্ব, অন্যটি হচ্ছে অর্থনৈতিক নিম্নমুখিতা। এ দুটি বিষয়ের কারণে বাংলাদেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ঘাটতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ধীর প্রবৃদ্ধি মোকাবিলা করছে।

এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে ২০২৪ সালে মূল্যস্ফীতির গড়পড়তা হার ছিল ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে তা ছিল ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবমতে, ২০২২ সালে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ুগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যান্য উদ্বেগকে ছাপিয়ে বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে রাষ্ট্রভিত্তিক সশস্ত্র সংঘাত।

দেশভিত্তিক প্রধান ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করতে নির্বাহী মতামত জরিপ (ইওএস) চালায় ডব্লিউইএফ। এটি মূলত ধারণাভিত্তিক জরিপ। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞেস করা হয়, ‘আগামী দুই বছরে আপনার দেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনগুলো।’ অংশগ্রহণকারীদের ৩৪টি ঝুঁকির তালিকা দেওয়া হয়। সেখান থেকে তারা পাঁচটি প্রধান ঝুঁকি চিহ্নিত করেন।




মূল্যস্ফীতি কমেছে ডিসেম্বরে

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশে, যা নভেম্বরে ছিল ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি কমেছে। সাধারণের পাশাপাশি খাদ্য ও খাদ্য বহির্ভূত খাতেও স্বস্তি মিলেছে।

সোমবার (০৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এ তথ্য জানা গেছে।

বিবিএস জানায়, নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি কমলেও, বছর-বছর বিবেচনায় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসের তুলনায়ও গত ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ১ দশমিক ৪৮ শতাংশীয় পয়েন্ট। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ।

এছাড়া সাধারণ মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি ডিসেম্বর মাসে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতিও কমেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে যথাক্রমে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ১২ দশমিক ৯২, গত মাসে যা ছিল ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত খাতেও কমে হয়েছে ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। গত নভেম্বরে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর এই দুই খাতের মূল্যস্ফীতি ছিল যথাক্রমে ৯ দশমিক ৫৮ ও ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ।




নীতি সুদহার বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে নীতি সুদহার বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকগুলো যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার করে তখন তার সুদহার ঠিক হয় রেপোর মাধ্যমে। আর রিভার্স রেপোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে যে সুদ হারে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয়, তাকে বলে ব্যাংক রেট। রেপো রেট বৃদ্ধি করায় ব্যাংকগুলোর অর্থ নেওয়ার খরচ বাড়বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে।

নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো যে টাকা ধার করে, তার সুদহার বাড়বে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে রাখা আমানত ও ব্যাংকঋণের সুদহারও বেড়ে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নীতি সুদহার বা রেপো রেট দশমিক ৫০ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৯ দশ‌মিক ৫০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো যে টাকা ধার করবে, তার সুদহার বাড়বে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক আরও সংকোচনমূলক মুদ্রা সরবরাহের পথে হাঁটছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নীতি সুদহার করিডরের ঊর্ধ্বসীমা স্ট্যান্ডিং ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) সুদহার ১১ শতাংশ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১১ দশ‌মিক ৫০ শতাংশে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া নীতি সুদহার করিডরের নিম্নসীমা স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) সুদহার ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশ‌মিক ৫০ শতাংশে বেসিস পয়েন্ট করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, নীতি সুদহার বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত ২৭ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে দেশে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ১৫ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০২২ সালের মে মাস থেকে বেশ কয়েকবার সংকোচনমূলক নীতি অনুসরণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং পলিসি রেট বাড়াচ্ছে। নীতি সুদহার বাড়ানোর ফলে ব্যাংক ঋণের সুদ বেড়েছে এবং ঋণ নেওয়া আগের চেয়ে ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।




সেপ্টেম্বরে কমেছে মূল্যস্ফীতি

আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ০.৫৭ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

 

বুধবার (২ অক্টোবর) বিবিএসের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং উইংয়ের মূল্য ও মজুরি পরিসংখ্যান শাখা থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিবিএস জানায়, আগস্ট মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১০.৪৯ শতাংশ, যা সেপ্টেম্বরে কমে দাঁড়িয়েছে ৯.৯২ শতাংশে। এছাড়া, সেপ্টেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ১০.৪০ শতাংশে, যা আগস্টে ছিল ১১.৩৬ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে নীতি সুদহার বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

খাদ্য বহির্ভূত খাতের মূল্যস্ফীতিও কিছুটা কমেছে। আগস্টে এ খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৭৪ শতাংশ, যা সেপ্টেম্বরে কমে দাঁড়িয়েছে ৯.৫০ শতাংশ।

 

এর আগে, জুলাইয়ে গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাসটিতে মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘর ছাড়িয়ে যায়। ওই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ১১.৬৬ শতাংশ। জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৭২ শতাংশ।

অন্যদিকে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি জুলাই মাসে বেড়ে ১৪ শতাংশ ছাড়ায়। যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে, সর্বশেষ সর্বোচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ২০১১ সালের এপ্রিলে ১৪.৩৬ শতাংশ। এরপর আর কখনো খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশে ওঠেনি। জুলাই মাসের পর ক্রমান্বয়ে কমছে মূল্যস্ফীতি।




আগস্টে কমেছে মূল্যস্ফীতি

গত জুলাই মাসের তুলনায় আগস্ট মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে সার্বিক মূল্যাস্ফীতি ১.১৭ শতাংশ কমেছে।

রোববার (০৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং উইং এর মূল্য ও মজুরি পরিসংখ্যান শাখা থেকে আগস্টের মূল্যাস্ফীতির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

বিবিএস জানায়, গত জুলাই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১১.৬৬ শতাংশ। যা আগস্টে কমে দাঁড়িয়েছে ১০.৪৯ শতাংশে। এছাড়া আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ১১.৩৬ শতাংশে, যা জুলাই মাসে ছিল ১৪.১০ শতাংশ।

অন্যদিকে, খাদ্য বহির্ভূত খাতের মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। এ খাতে জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৬৮ শতাংশ, যা আগস্টে কিছু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৭৪ শতাংশে।

এর আগে জুলাই মাসে গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাসটিতে মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘর ছাড়িয়ে যায়। ওই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ১১.৬৬ শতাংশ। গত জুন মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৭২ শতাংশ।

অন্যদিকে খাদ্য মূল্যস্ফীতি জুলাই মাসে বেড়ে ১৪ শতাংশ ছাড়ায়। যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বশেষ সর্বোচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ২০১১ সালের এপ্রিলে ১৪.৩৬ শতাংশ। এরপর আর কখনো খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশে ওঠেনি।




মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরেক দফা বাড়লো নীতি সুদহার

দেশের বিরাজমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার আরেক দফা বাড়ালো বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং আন্তঃব্যাংক থেকে ব্যাংকের ধারে ব্যবহারিত উপকরণে সুদ ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানো হয়।

এর ফলে এখন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধারের সুদহার হবে ৯ শতাংশ। আন্তঃব্যাংকে ধারের সর্বোচ্চ সুদহার হবে সাড়ে ১০ আর সর্বনিম্ন সাড়ে ৭ শতাংশ হবে। রোববার (২৫ আগস্ট) মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। গত ৮ মে সবশেষ নীতি সুদহার বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত সুদহারের সর্বোচ্চসীমা নির্ধারিত ছিল ৯ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচি শুরুর পর গত বছরের জুলাই থেকে সুদহার নির্ধারণে প্রথমে ‘স্মার্ট’ পদ্ধতি চালু হয়। স্মার্টের সঙ্গে সরকারি ট্রেজারি বিলের ৬ মাসের গড় সুদের সঙ্গে ৩ শতাংশ যোগ করে গ্রাহক পর্যায়ে সুদহার নির্ধারিত হয়ে আসছিল। এতে গত এপ্রিলের সর্বোচ্চ সুদহার উঠেছিল ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

তবে গত ৮ মে আইএমএফের শর্ত মেনে একদিনে অর্থনীতির তিন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই দিন গ্রাহক পর্যায়ে সুদহার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, নীতি সুদহার বাড়ানো হয় এবং ডলার দরে ‘ক্রলিং পেগ’ চালু করে ১১৭ টাকা করা হয়। ডলারের এ মধ্যবর্তী দরের সঙ্গে এক শতাংশ যোগ করে ডলার বেচাকেনার সুযোগ ছিল।

ড. আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব নেওয়ার পর ডলারের ১১৭ টাকা মধ্যবর্তী দরের সঙ্গে আড়াই শতাংশ যোগ করে ১২০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রির সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন নীতি সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানোর ফলে গ্রাহক পর্যায়ে সুদহার আরও বাড়বে। মূলত চাহিদা নিয়ন্ত্রণের জন্য সুদহার ও ডলারের দর বাড়ানো হয়।




মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে বাড়ানো হলো নীতি সুদহার

দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে নীতি সুদহার বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে মনিটারি পলিসি কমিটির ৫ম সভায় নীতি সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ সিদ্ধান্ত আগামী মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) থেকে কার্যকর হবে।

নীতি সুদহার বা রেপো রেট দশমিক ৫০ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো যে টাকা ধার করবে, তার সুদহার বাড়বে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক আরও সংকোচনমূলক মুদ্রা সরবরাহের পথে হাঁটছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নীতি সুদহার করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা স্ট্যান্ডিং ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) সুদহার ১০ শতাংশ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া নীতি সুদহার করিডোরের নিম্নসীমা স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) সুদহার ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫০ বেসিস পয়েন্ট করা হয়েছে।




এখন থেকে মূল্যস্ফীতির প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা হবে : ড. সালেহউদ্দিন

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাড়িয়ে বা কমিয়ে নয় বরং এখন থেকে প্রকৃত মূল্যস্ফীতি এবং মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির তথ্য প্রকাশ করা হবে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকেই সবোর্চ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, কয়েকদিনের স্থবিরতার কারণে ভেঙে পড়েছে সরবরাহ শৃঙ্খল। যার প্রভাবে বেড়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়। তবে এখন বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমেছে। সবকিছু স্বাভাবিক হলে দাম আরও কমে আসবে।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র জরুরি প্রকল্প ব্যয়ে অর্থের যোগান দেওয়া হবে। স্থবিরতার যেন সৃষ্টি না হয়, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া হবে। কম টাকা ব্যয় করে বেশি সুফল মেলে এমন সব প্রকল্পে অর্থ ছাড় করা হবে বেশি। অর্থনৈতিক নানান সূচকে তথ্যের গরমিল এখন থেকে আর হবে না। পরিসংখ্যান ব্যুরো যাতে আরও সঠিকভাবে কাজ করতে পারে, সেদিকে নজর দিতে হবে।




জুনে মূল্যস্ফীতি কমেছে ০.১৭ শতাংশ

মে মাসের তুলনায় জুন মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে ০.১৭ শতাংশ। এ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯.৭২ শতাংশে। যা মে মাসে ছিল ৯.৮৯ শতাংশ।

রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জুন মাসের মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

বিবিএস জানায়, জুন মাসে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৫ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ।

বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৮১ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৩৯ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৬ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ।

শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। খাদ্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

মজুরি হার বেড়ে ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা মে মাসে ছিল ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। কৃষিতে মজুরি হার হয়েছে ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। যা মে মাসে ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। শিল্প খাতে মজুরি বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। সেবা খাতে মজুরি হার বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।




বাজেটে রপ্তানি খাতে প্রস্তাবনার প্রতিফলন ঘটেনি : ইএবি

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে আসায় আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের প্রধান উৎস রপ্তানি খাতের প্রস্তাবনার প্রতিফলন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি)।

সোমবার (১০ জুন) ইএবি থেকে পাঠানো এক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইএবি জানায়, শিল্প টিকে থাকলে রাজস্ব আসবে, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। গত অর্থবছরে আমাদের পোশাক রপ্তানি ছিল ৪৭ বিলিয়ন ডলার, ২০৩০ সাল নাগাদ আমরা ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছি। সরকারের অব্যাহত সহযোগিতায় আমরা রপ্তানি বাড়াতে পারলে কর হার না বাড়িয়েও রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব।

এতে অর্থনীতি বেশ উপকৃত হবে। তাই ২০২৯ সাল পর্যন্ত পোশাক ও বস্ত্র খাতের চলমান সব নীতি সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং বিকল্প নীতি সহায়তা প্রবর্তন না করা পর্যন্ত যেন চলমান নীতি সহায়তাগুলো কাটছাঁট না করা হয়, সেই দাবি জানায় ইএবি। একইসঙ্গে বাজেটে রপ্তানি শিল্পের জন্য সহায়ক কিছু নীতি সহায়তার জন্য প্রস্তাব করছে সংগঠনটি।

ইএবির প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে– উৎসে কর ০.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, রপ্তানি খাতে নীতি সহায়তার ওপর আয়কর অব্যাহতি, শিল্পের জন্য সব পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট ও পরোক্ষ কর প্রত্যাহার, বিকল্প সহায়তার ব্যবস্থা করা, অগ্নি ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম পুনঃস্থাপনের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর কর রেয়াত, পোশাক শিল্পের ঝুট বা বর্জ্য সংগ্রহের ওপর ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা, রিসাইকেল ফাইবার সরবরাহের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা, এইচ এস কোড ভুল হলে ২০০ থেকে ৪০০ শতাংশ জরিমানার বিধান প্রত্যাহার করা, সোলার প্যানেল আমদানিতে শুল্কহার শূন্য করা, ব্যাংক সুদের উৎসে করহার কোম্পানি করদাতার জন্য ১০ শতাংশ রাখা, ব্যাংক সুদ সহনীয় পর্যায়ে রাখা, রপ্তানিমুখী শিল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ভর্তুকি দেওয়া, পোর্ট চার্জ কমানো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোকে বিশেষ নীতি সহায়তা ও অর্থায়ন সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া মাংস প্রক্রিয়াজাত এবং রপ্তানি প্রসারের জন্য কিছু সুপারিশ করেছে ইএবি। হিমায়িত চিংড়িতে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া, হিমায়িত মাছ রপ্তানিতে নগদ সহায়তা ১০ শতাংশ দেওয়া, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে নীতি সহায়তা দেওয়া, রাসায়নিকে ভ্যাট কমানো, বাইসাইকেল রপ্তানি সহজ করতে কাঁচামাল আমদানি সহজ করা, শিল্প ও অর্থনীতির স্বার্থে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল ও সহনীয় রাখার সুপারিশ করেছে ইএবি।




প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর চেয়ে মূল্যস্ফীতি কমানো জরুরি: আতিউর রহমান

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ছাড় দিতে হলেও দুর্ভাবনার কিছু নেই। কেননা এই মূহুর্তে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর চেয়ে মূল্যস্ফীতি কমানো জরুরি বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

মঙ্গলবার (২৮ মে) ঢাকায় উন্নয়ন সমন্বয়ের আয়োজনে ‘গণমাধ্যমের সাথে প্রাক-বাজেট মতবিনিময়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

ড. আতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশে সম্ভাবনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের বিকল্প নেই। এজন্য জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহন বাড়াতেই হবে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যম এক্ষেত্রে বাজেট-প্রণেতাদের সঙ্গে জনগণের সংযোগ সূত্র হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে সেজন্য গণমাধ্যমকেও তাদের বিশ্লেষণী দক্ষতা ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে যেতে হবে।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের দেওয়া প্রণোদনা এই মুহুর্তে উঠিয়ে নেওয়া ঠিক হবে না। অস্থির বিশ্ববাজারে টিকে থাকার পোশাক রপ্তানিতে প্রণোদনা চালু রাখা দরকার।

উন্নয়ন সমন্বয় কার্যালয়ে সভায় আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব জাহিদ রহমান ও ব্যাংক এশিয়ান হেড অফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সিদ্দিক ইসলাম।

সংসদ সদস্য ও অংশীজনদের বাজেট বিষয়ে তথ্য ও গবেষণা সহযোগিতা দিতে ব্যাংক এশিয়া ও উন্নয়ন সমন্বয় যৌথভাবে ‘আমাদের সংসদ” কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে এ মতবিনিময় সভা হয়।




এপ্রিলে কমেছে সার্বিক মূল্যস্ফীতি

এপ্রিল মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৯.৭৪ শতাংশে নেমেছে। যা মার্চ মাসে ছিল ৯.৮১ শতাংশ। অন্যদিকে এপ্রিলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০.২২ শতাংশে উঠেছে। যা মার্চ মাসে ছিল ৯.৮৭ শতাংশ।

সোমবার (১৩ মে) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিবিএসের মাসিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপরে উঠেছে। এর আগের মাসে এই হার ছিল ৯.৮৭ শতাংশ। তার আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১০.৭৬ শতাংশ। অর্থাৎ নভেম্বরের পর আবারও খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

তবে ওই একই মাসে (এপ্রিল) খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে এর হার ছিল ৯.৪ শতাংশ। মার্চ মাসে যা ছিল ৯. ৬৪ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি মাসে এই মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.৩৩ শতাংশ।

তবে পল্লী এলাকায় সার্বিক, খাদ্য এবং খাদ্যবহির্ভূত খাতে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি। দেখা যায়, পল্লী এলাকায় এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.৯২ শতাংশ। যা মার্চ মাসে ছিল ৯.৬৮ শতাংশ। আবার খাদ্য খাতে পল্লী এলাকায় এপ্রিলের মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০ .২৫ শতাংশ। যা মার্চে ছিল ৯.৮৬ শতাংশ। খাদ্য বহির্ভূত খাতেও এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এ খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.৬০ শতাংশ। যা মার্চে ছিল ৯.৪১ শতাংশ।

এছাড়া শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। বিবিএস প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯.৪৬ শতাংশ। যা মার্চে ছিল ৯.৯৪ শতাংশ। আবার শহরাঞ্চলে খাদ্যখাতে এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০.১৯ শতাংশে। যা মার্চে ছিল ৯.৯৮ শতাংশ। খাদ্য বহির্ভূত খাতেও শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি অনেকাংশেই কমেছে। এপ্রিলে এ খাতে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯.০১ শতাংশ। যা মার্চ মাসে ছিল ৯.৭১ শতাংশ।




উন্নয়নের সবচেয়ে বড় জোগানদার হচ্ছে ব্যাংক : ড. আতিউর রহমান

ব্যাংককে উন্নয়নের সবচেয়ে বড় জোগানদার মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, আমরা সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করছি সেটা আমরা ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে প্রমাণ করেছি।

আমাদের ব্যাংকিং খাত ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রথম স্তম্ভ স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংকিং খাত মূল্যস্ফীতিকে স্থিতিশীল করে।

শনিবার (২৩ মার্চ) প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘ব্যাংকার্স ওয়েলফেয়ার ক্লাব বাংলাদেশ’ আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় ব্যাংক ও ব্যাংকারদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

ড. আতিউর রহমান বলেন, আমাদের দেশে কৃষক থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আমাদের গ্রামে-গঞ্জে সাব ব্রাঞ্চ আছে। আমাদের অনলাইন ব্যাংকিং চলছে। আমাদের ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের অংশ হিসেবে মোবাইল ব্যাংকসহ মোট ১৭ কোটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আমাদের এজেন্ট ব্যাংকিং সবজায়গায় বিরাজমান। বাংলাদেশে যত ব্যাংক আছে সব ব্যাংকের মালিক হচ্ছে আমানতকারীরা এবং সেই আমানতকারীদের স্বার্থ দেখে ব্যাংকাররা। সুতরাং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সবধরনের কাজকে এগিয়ে নিতে হবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার আলোচনা সভায় উপস্থিত থাকা ব্যাংকারদের উদ্দেশ্যে বলেন, এদেশের মানুষকে ভালো রাখার জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন এগুলো নিয়ে কাজ করে। একটি গভর্মেন্টের যে লক্ষ্য, গভর্নমেন্ট যেখানে যেতে চায়, সে জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য আপনারা একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন। সরকার এ জাতিকে এবং দেশকে যে উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়, সেই উচ্চতায় যাওয়ার জন্য আপনারা সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছেন। আপনাদেরকে সেজন্য আমরা সরকারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই।

ব্যাংকার্স ওয়েলফেয়ার ক্লাবের সভাপতি ড. তাপস চন্দ্র পালের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লায়ন হামিদুল আলম সখার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড. আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।




জানুয়ারিতে খাদ্যপণ্য ছাড়াসব খাতে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের প্রথম মূল্যস্ফীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, খাদ্য খাতে কিছুটা স্বস্তির ফিরেছে। মাসভিত্তিক খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি কমে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ হয়েছে, গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে যা ছিল ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এছাড়া মাছ, মাংস, চাল, ডাল, ডিম, দুধ ও সবজিতেও মূল্যস্ফীতি কমেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জানুয়ারির ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠনের পর মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পণ্য পরিবহনে সিন্ডিকেট ভাঙার কড়া নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে সড়কে পণ্যবাহী যানবাহনে চাঁদাবাজির বিষয়ে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে।

বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে খাদ্য ছাড়া অন্য কোনো খাতে মূল্যস্ফীতি কমেনি। অন্য প্রায় সব খাতে আগের দুই মাস (নভেম্বর-ডিসেম্বর) মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও জানুয়ারিতে তা ফের বেড়েছে। এ মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশে। খাদ্য বহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। নভেম্বরে যে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ ছিল, জানুয়ারিতে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে উঠেছে।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা ছিল সরকারের। কিন্তু ডলার সংকটের কারণে আমদানি ব্যাহত হওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। এরই মধ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়িয়েছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির জন্য এতদিন মূলত ডলারের দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সুদের হার বাড়লে মানুষ সাধারণত ব্যাংকে আমানত রাখতে উৎসাহিত হন।

গত কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টাও এবার ব্যর্থ হয়েছে। গত কয়েক মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও বেড়েছে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি।

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, এবার গ্রামের চেয়ে শহর এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। জানুয়ারিতে শহর এলাকায় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশে, ডিসেম্বরে যা ছিল ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ হয়েছে।

জানুয়ারিতে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭০ শতাংশে, যা ডিসেম্বরে ছিল ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জানুয়ারিতে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশে নেমেছে, যা ডিসেম্বরে ছিল ৯ ধশমিক ৬৬ শতাংশ। এসময়ে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ হয়েছে, যা গত ডিসেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ।




ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি কমেছে : বিবিএস

গত বছরের ডিসেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি আগের মাসের (নভেম্বর) তুলনায় কমে দাঁড়িয়েছে ৯.৪১ শতাংশ, যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

রোববার (১৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বিবিএস জানায়, ডিসেম্বরে গ্রাম-শহর নির্বিশেষে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ১০ শতাংশের নিচে নেমেছে, তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সার্বিক খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯.৫৮ শতাংশ। নভেম্বরে এই মূল্যস্ফীতি ছিল ১০.৭৬ শতাংশ। গত অক্টোবরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১২.৫৬ শতাংশ, যা গত প্রায় ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

মূলস্ফীতি প্রসঙ্গে বিবিএসের সচিব শাহনাজ আরেফিন বলেন, ক্রমান্বয়ে মূল্যস্ফীতি আরও কমে আসবে। জানুয়ারি মাসে আরও কমবে, কারণ এ মাসে আমন ধান তোলা হচ্ছে।

বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, গত অক্টোবর ও নভেম্বরে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল যথাক্রমে ৯.৯৩ ও ৯.৪৯ শতাংশ। সে হিসেবে ডিসেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি সামান্য কমেছে। তবে এখনো তা সাড়ে ৯ শতাংশের কাছাকাছিই রয়েছে। ডিসেম্বরে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯.৪৮ শতাংশ, আর শহরে এটি ৯.১৫ শতাংশ হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি হলো এক ধরনের করের মতো, যা ধনী-গরিবনির্বিশেষে সবার ওপর চাপ বাড়ায়। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে যাওয়ার অর্থ গরিব ও মধ্যবিত্তের সংসার চালাতে ভোগান্তি সামান্য কমেছে। তবে বাজারে শীতের শাক-সবজিসহ চাল, আটা, চিনি, ডাল, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল এবং আলুসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম এখনো বাড়তি।

পুরো বিষয়টি একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যেতে পারে। যেমন— আপনি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ১০০ টাকায় যত জিনিসপত্র কিনেছেন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ওই টাকা দিয়ে সেই জিনিসপত্র পাবেন না। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় আপনাকে ১০৯ টাকা ৪১ পয়সা খরচ করতে হবে। এই ৯ টাকা ৪১ পয়সা হলো মূল্যস্ফীতি। গত ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল এটাই।

বিবিএসের হিসাবে সবশেষ ডিসেম্বরে শহর-গ্রাম নির্বিশেষে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের নিচে নেমেছে। গত মাসে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯.৬৬ শতাংশ। তার বিপরীতে শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯.৪৬ শতাংশ। অর্থাৎ শহরের তুলনায় গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেশি।

অন্যদিকে, গত মাসে দেশে সার্বিক খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। ডিসেম্বরে শহর-গ্রাম নির্বিশেষে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮.৫২ শতাংশ; যা নভেম্বরে ছিল ৮.১৬ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, ডিসেম্বরে শহর ও গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি প্রায় সমান ছিল। গত মাসে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি গ্রামে ৮.৪১ শতাংশ ও শহরে ৮.৩৯ শতাংশ হয়েছে।




মূল্যস্ফীতি ছাড়া অর্থনীতি এগুতে পারে না: অর্থমন্ত্রী

সাংবাদিকদের সঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, মূল্যস্ফীতি ছাড়া অর্থনীতি চলতে পারে না। যারা অর্থনীতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবেন না, তারাই মূল্যস্ফীতি নিয়ে কথা বলেন।

মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ে নির্বাচন-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা অর্থমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

মূল্যস্ফীতি অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে, সাংবাদিকদের এমন কথার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরের মধ্যে ৮ থেকে ১০ বছর মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের নিচে ছিল। এর থেকে ভালো অবস্থা হতে পারে না।

আপনি আবার নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী হবেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা প্রধানমন্ত্রী ঠিক করবেন। তবে, যিনিই অর্থমন্ত্রী হোক না কেন, অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে কাজ করবে সরকার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উত্তীর্ণ হয়েছিল, যা সম্প্রতি কমেছে। তবে, আগামীতে ৩০ বিলিয়নের নিচে নামতে দেওয়া হবে না।




মূল্যস্ফীতি ও অস্থিতিশীল মুদ্রা বাজারে চ্যালেঞ্জের মুখে অর্থনীতি

মূল্যস্ফীতি ও অস্থিতিশীল বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের কারণে অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন বলে মনে করেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার।

সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিবৃতিতে তিনি এসব কথা জানান।

ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার বলেন, অর্থনৈতিক সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ অনেক উন্নয়নশীল অর্থনীতির চেয়ে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। যদিও মুডিস’স ইনভেস্টর সার্ভিস বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং এবং দেশের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে, তারপরেও ২০২৬ সালে এলডিসি গ্রাজুয়েশনকে সামনে রেখে অর্থনীতিতে গতি আনতে কিছু পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে আমাদের অর্থনীতি বেশকিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে এবং যেকোনো মূল্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন প্রয়োজন। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতির বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা একান্ত আবশ্যক। পণ্যের মূল্য কমিয়ে আনতে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির সঙ্গে রাজস্ব নীতিসমূহের সমন্বয় করা প্রয়োজন। আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে নিয়ে আসা। এ ব্যাপারে যথাযথ এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের নিকট হতে রেমিট্যান্স প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য বাজারভিত্তিক বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, সরকারকে অবশ্যই রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্যকরণে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যাতে করে আমাদের প্রথাগত বাজার ও গতানুগতিক প্রথাগত পণ্যের বাইরেও সম্ভাবনাময় একাধিক বাজারে ভিন্ন ভিন্ন নতুন পণ্য রপ্তানি থেকে আয় বৃদ্ধি করা যায়।

ব্যারিস্টার সাত্তার মনে করেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজস্ব আহরণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা উচিত। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষকরে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে কর অফিস খোলা এবং কর অফিসের কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য একটি যথাযথ ম্যাপিং প্রয়োজন। রাজস্ব বাড়াতে অনানুষ্ঠানিক খাতকে যথাযথভাবে করের আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম নিশ্চিত করতে রাজস্ব বোর্ডের জনশক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্পূর্ণ অটোমেশনের মাধ্যমে করজাল বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়াও ব্যারিস্টার সাত্তার ক্রমবর্ধমান মন্দঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং খাতে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দেন।




ডলার সংকটে বাংলাদেশ ব্যাংককে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিল এফবিসিসিআই

ডলার সংকট সমাধান এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও কার্যকরী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি- এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম। বিপরীত দিকে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে অর্থনীতির স্বার্থে সব ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড পরিহারের আহ্বান জানিয়েছে তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) সংগঠনটির গুলশান কার্যালয়ে ‘বিরাজমান বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি’ নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই আহ্বান জানান মাহবুবুল আলম। সভায় চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা, ডলার সংকট, মূল্যস্ফীতি, বিলাসী পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, এসিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই, বিজিএমইএ সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতা, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বিগত কয়েক বছর যাবৎ দেশে অত্যন্ত স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করছে যা ব্যবসা, বাণিজ্য ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সম্প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংস কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়ছে। একই সাথে, তৈরি পোশাক খাতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা জাতীয় অর্থনীতিকে শঙ্কার দিকে ঠেলে দিচ্ছে উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি দেশের সাপ্লাই চেইনকে ভীষণভাবে বিঘ্নিত করছে, যার প্রভাব পণ্যের উৎপাদন, বাজার মূল্য এবং রপ্তানি ও সেবা খাতের ওপরও পড়ছে। এসময় রাজনৈতিক দলগুলোকে জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে সব ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড পরিহারের আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।

তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিক ও কর্মচারীদের চাহিদা অনুযায়ী মজুরি কমিশন গঠন এবং শ্রমিক-মালিক উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যা একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। তার পরও তৈরি পোশাক খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। প্রকৃত শ্রমিকরা কোনোভাবেই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পাশাপাশি ডলার সংকট সমাধান এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও কার্যকরী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি। পাশাপাশি শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বর্তমান সহিংস রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সারা দেশের সকল চেম্বার, অ্যাসোসিয়েশনকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবসায়ী সংহতি সমাবেশ আয়োজনের জন্য এফবিসিসিআইকে পরামর্শ দেন।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম অর্থনীতির এই সংকটের মুহূর্তে রাজনৈতিক সহিংস কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তিদের বিতর্কিত মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান তিনি। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এনবিআর, কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করতে এফবিসিসিআইকে কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন তিনি। এ ছাড়াও বিদ্যমান সহিংস কর্মসূচির বিরুদ্ধে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য এফবিসিসিআইকে আহ্বান জানান তিনি।

সভায় এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ডলারের ওপর চাপ কমাতে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের আরও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজনে আগামী ৬ মাস থেকে এক বছর সময়ে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী পণ্য আমদানির হার আরও কমিয়ে আনতে হবে। অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কাট-ছাটের কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি তৈরি পোশাক খাতে সৃষ্ট সহিংস ঘটনায় বহিরাগতরা জড়িত উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, প্রকৃত শ্রমিকরা কখনও নিজ কারখানায় আগুন দিতে পারে না। উদ্দেশ্যমূলকভাবে তৈরি পোশাক খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় অন্যদের মধ্যে সাবেক মূখ্য সচিব ও এফবিসিসিআইয়ের প্যানেল উপদেষ্টা মো. আব্দুল করিম, সিপিডির গবেষণা পরিচালক ও প্যানেল উপদেষ্টা খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের প্যানেল উপদেষ্টা ড. মাসরুর রিয়াজ, আব্দুল মুক্তাদির, এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী, সহ-সভাপতি খায়রুল হুদা চপল, শমী কায়সার, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার সামির সাত্তার, মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, বিকেএমইএ’র এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হক, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন, নাসিব সভাপতি মির্জা নুরুল গণি শোভন, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।




এবার বাড়াল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুদহার

মূল্যস্ফীতি কমাতে ব্যাংকের পর এবার ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) সুদহার বাড়ানো ঘোষণা দেয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় ঋণ ও আমানত দুটোরই সুদহার বাড়ানো হয়েছে।

রোববার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে।

এখন থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের ক্ষেত্রে ‘এসএমএআরটি’ বা ‘স্মার্ট’ রেট বাড়িয়ে সাড়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি আমানতের সুদহার নির্ধারণে স্মার্টের সঙ্গে সর্বোচ্চ আড়াই শতাংশ মার্জিন যোগ করতে পারবে। এতোদিন ঋণে ‘স্মার্ট’ রেট ছিল ৫ শতাংশ এবং আমানতে ছিল দুই শতাংশ।

যে পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে এখন ঋণের সুদহার নির্ধারিত হচ্ছে, তা হলো ‘এসএমএআরটি’ বা ‘স্মার্ট’‘এসএমএআরটি’ বা ‘স্মার্ট’ তথা– সিক্স মান্থ মুভিং এভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল হিসেবে পরিচিত। প্রতি মাসের শুরুতে এই হার জানিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের জুলাইয়ে ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ৬ মাসের গড় সুদহার (স্মার্ট রেট) ছিল ছিল ৭ দশমিক ১০ শতাংশ, আগস্টে হয় ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। সবশেষ সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ২০ শতাংশে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের ‘স্মার্ট’ হারের সঙ্গে সর্বোচ্চ সাড়ে ৫ শতাংশ হারে মার্জিন বা সুদ যোগ করে অক্টোবর মাসে ঋণ দিতে পারবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। অন্যদিকে আমানতে আড়াই শতাংশ হারে মার্জিন যোগ করতে পারবে।

সেই হিসেবে, চলতি অক্টোবর মাসে এনবিএফআই গুলোর সর্বোচ্চ সুদহার হবে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং আমানতে ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ। তবে অক্টোবরে ঠিক করা ঋণের এই সুদহার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিবর্তন করা যাবে না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, গত জুন ও জুলাই মাসে দেশে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমার পর আগস্ট মাসে তা আবার বেড়েছে। গত মাসে (আগস্ট) মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। এই সময় দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হঠাৎ অনেকটা বেড়ে গেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার উঠেছিল ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশে।




নীতি সুদহারে বড় পরিবর্তন

আগামী ডিসেম্বরে মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য নীতি সুদহার বা রেপো রেট এক লাফে দশমিক ৭৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন নীতি সুদহার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে নতুন নীতি সুদহার বা রেপো রেট হবে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ের সভায় আজ বুধবার (৪ অক্টোবর) এই সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে এ দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (ফ্লোর) সুদহার বিদ্যমান বার্ষিক শতকরা ৪ দশমিক ৫০ ভাগ থেকে ৭৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করে শতকরা ৫.২৫ ভাগ এবং স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (সিলিং) সুদহার বিদ্যমান বার্ষিক শতকরা ৮.৫০ ভাগ থেকে ৭৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করে শতকরা ৯.২৫ ভাগে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগামী ৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।

এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো যে টাকা ধার করবে, তার সুদহার বাড়বে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে রাখা আমানত ও ব্যাংকঋণের সুদহারও বাড়বে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক আরও সংকোচনমূলক মুদ্রা সরবরাহের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিলো।

মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির জন্য এত দিন মূলত ডলারের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা করছে। সুদের হার বাড়লে মানুষ সাধারণত ব্যাংকে আমানত রাখতে উৎসাহিত হন।

নতুন এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি কমাতে নীতি সুদহার দশমিক ৭৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে এই সিদ্ধান্ত।’

প্রসঙ্গত, দেশে গত সেপ্টেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। তবে সেপ্টেম্বর মাসে গ্রাম-শহর নির্বিশেষে খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখনও ১২ শতাংশের ওপরেই ছিল। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশে ওঠে।




মূল্যস্ফীতি নিয়ে অসন্তুষ্ট পরিকল্পনামন্ত্রী ও বিশ্বব্যাংক পরিচালক

গত সেপ্টেম্বর মাসে যে পরিমাণ মূল্যস্ফীতি কমেছে তাতে সন্তুষ্ট নন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক। সেপ্টেম্বরে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৯.৬৩ শতাংশ হয়েছে। যা আগস্ট মাসে ছিল ৯.৯২ শতাংশ।

বুধবার (৪ অক্টোবর) বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ও কান্ট্রি ডিরেক্টর এ কথা বলেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের মন্ত্রীর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আর্থিক খাতে সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। মুদ্রা বিনিময় হার, মুদ্রানীতি, সুদের হারসহ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সংস্কারের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছে সংস্থাটি।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। অনেক ক্ষেত্রে সংস্কার হচ্ছে, কিন্তু আরও করতে হবে। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি যে পরিমাণ কমেছে এতে আমি সন্তুষ্ট নই।

আবদৌলায়ে সেক বলেন, বাংলাদেশ কিছু সংস্কার কাজ করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল স্টাবিলিটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এটা ভালো। সুদের হারের ক্যাপ ধীরে ধীরে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এসব সংস্কার অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। তবে যদি নির্বাচনী পরিবেশ ভালো থাকে তাহলে আগামীতে প্রবৃদ্ধি বাড়বে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। স্বল্প সুদে ঋণের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন তহবিলসহ বিভিন্ন স্কিম থেকে আরও ঋণ নেওয়ার সুযোগ আছে বাংলাদেশের। দারিদ্র্য নিরসনে বাংলাদেশ ভালো করেছে। গত কয়েক বছরে প্রায় ১১ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্য সীমার উপরে উঠেছেন। আরও ৫ মিলিয়ন মানুষ চরম দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমরা বাজেট সহায়তা দিয়েছি। আগামীতে আরও দেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। বাংলাদেশের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তা পূরণে বিনিয়োগ দরকার।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আমরা ও বিশ্ব ব্যাংক উভয়ই মনে করি, আগামীর পরিবেশ অর্থাৎ নির্বাচনের পরিবেশ যদি ভালো থাকে তাহলে উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। মানুষ যদি উন্নয়নের পক্ষে থাকে তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি কমেছে। তবে এই কমাতে আমি সন্তুষ্ট নই। মূল্যস্ফীতি কমাতে যা যা করা দরকার সরকার তা করছে। চলতি বছরের শেষ দিকে মূল্যস্ফীতি ৫-৬ শতাংশে নেমে আসলে আমি খুশি হব।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে বলেন, মূল্যস্ফীতি কমাতে প্রয়োজনে নিচের ৫ শতাংশ লোকের জন্য যেসব কর্মসূচি আছে সেগুলো বাড়াতে হবে।

 




চার কারণে বাড়ছে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি : বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বাড়ার চারটি কারণ চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, অভ্যন্তরীণ জ্বালানির মূল্য বেড়ে যাওয়া, দুর্বল মুদ্রানীতি, টাকার অবমূল্যায়ন ও বৈদেশিক মুদ্রা কমে যাওয়ায় আমদানি কমে যাচ্ছে। এই চার কারণেই বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বাড়ছে বলে জানায় সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) সংস্থাাটির ঢাকা অফিসে ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ ও ভুটানে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক বিস্তারিত তুলে ধরেন।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছর বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা কমিয়ে এনেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাাটির নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অর্থবছর জিডিপি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে।

এছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতে ৬ দশমিক ৩ ও মালদ্বীপে ৫ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কায় প্রবৃদ্ধি ছিল নেতিবাচক মায়নাস ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৪ সালে দেশটি ঘুরে দাড়াবে, প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ৭ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে দারিদ্র্য কমে ৫ শতাংশ হয়েছে, ২০১৬ সালে যা ছিল ৯ শতাংশ।




তিন মাসে কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে ৩ হাজার ৩৬২

মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে মানুষ। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস অবস্থা। এর মধ্যেও বড় অঙ্কের আমানতের হিসাব সংখ্যা বাড়ছে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে ৩ হাজার ৩৬২টি। আর এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৫ হাজার ৯৭টি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

২০২৩ সালের জুন প্রান্তিক শেষে ব্যাংকখাতে আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ৫৯ লাখ ৭৩ হাজার ১৯২টি। এতে জমার পরিমাণ ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ২৪ কোটি টাকা। আমানতকারীদের এসব হিসাবের মধ্যে এক কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন ‘ব্যাংক হিসাব এক লাখ ১৩ হাজার ৫৫৪টি।

কোটি টাকার উপরে এসব হিসাবে জমার পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ ৩১ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে ৩ হাজার ৩৬২টি, বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৫ হাজার ৯৭টি। এক বছর আগে ২০২২ সালের জুনে কোটি টাকার হিসাব ছিল ১ লাখ ৮ হাজার ৪৫৭টি।

চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে এক কোটি এক টাকা থেকে পাঁচ কোটি টাকার আমানতকারীর হিসাব সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৭৭২টি। যাদের হিসাবে জমার পরিমাণ এক লাখ ৮৬ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা। আর পাঁচ কোটি থেকে ১০ কোটির মোট ১২ হাজার ২৪৫টি হিসাবে জমার পরিমাণ ৮৬ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা।

এর আগে গত মার্চ প্রান্তিক শেষে আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ১৪ কোটি ১১ লাখ ৩৭ হাজার ২৫৬টি। যেখানে জমার পরিমাণ ছিল ১৬ লাখ ১৩ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে এক কোটি টাকার বেশি আমানতের সংখ্যা ছিল এক লাখ ১০ হাজার ১৯২টি।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৫ জন। যেটা ১৯৭৫ সালে ৪৭ জনে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে ৯৮টি, ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪ জন, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি এবং ২০০৮ সালে ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল।

২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৮৯০টিতে, ২০২১ সালের ডিসেম্বর বেড়ে ১ লাখ ১৯৭৬টি এবং ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সেই হিসাবের সংখ্যা ছিল এক লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি।




শিগগিরই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে : সংসদে অর্থমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের ফলে শিগগিরই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। লেনদেনে ভারসাম্য পরিস্থিতির উন্নয়ন ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল হবে।

সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রশ্নটি উপস্থাপন করা হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, লেনদেন ভারসাম্য পরিস্থিতির উন্নয়ন ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং তা বাস্তবায়ন করছে।

এসময় মন্ত্রী সরকারের বেশকিছু পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে মার্কিন ডলারসহ অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে টাকার বিনিময় হার বাজার ভিত্তিক করা; রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য সঠিক মূল্যে পণ্য আমদানি নিশ্চিত করা; বাণিজ্যিক ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রা ধারণের সীমা হ্রাস করা; ৫ হাজারের ডলারের বেশি প্রবাস আয়ের উৎস প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা বাতিল করা; পাইপ লাইনে থাকা বৈদেশিক অর্থায়ন ছাড়করণ ত্বরান্বিত করার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

জামালপুর-৫ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোজাফফর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, রুগ্‌ণ শিল্পের সমস্যা সমাধানের জন্য ২০০৯ সালে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১০ ও ২০১২ সালে ২৭৯টি রুগ্‌ণ গার্মেন্টস এবং ২০১১ ও ২০১৫ সালে একশটি রুগ্‌ণ টেক্সটাইল শিল্পের ঋণ বিলুপ্তের সার্কুলার জারি করা হয়।

ময়মনসিংহ-১১ আসনের সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচিতে কৃষি এবং পল্লী ঋণ খাতে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ঋণ আকারে বিতরণের জন্য ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।




আগস্টে গড়ে মূল্যস্ফীতি ১২.৫৪ শতাংশ

বাজারে খাদ্যপণ্যে আগুন। বেড়েই চলেছে ডিম, আলু, তেল, চাল, মাছ, মাংস ও সবজির দাম। বাজারের প্রভাব পড়েছে চলতি বছরের আগস্ট মাসের মূল্যস্ফীতিতে। গত মাসে খাদ্যখাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১২.৫৪ শতাংশ। যা বিগত বছরে কখনও হয়নি। এর আগের মাসে এই খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৭৬ শতাংশ। অর্থাৎ আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ২.৭৮ শতাংশ।

রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দেওয়া মে মাসের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ তথ্যে এমনটা বলা হয়েছে। যা গত ১১ বছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১১ সালের মে মাসে ছিল ১০ দশমিক ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি। ২০২০-২১ অর্থবছরেও খাদ্যখাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল মাত্র ৫.৫৬ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে এই খাতে বৃদ্ধি হয়েছে দ্বিগুণের বেশি।

বিবিএসের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, আগস্ট মাসে খাদ্যপণ্য বৃদ্ধির রেকর্ড গড়েছে। চাল, ডাল, তেল, লবণ, মাছ, মাংস, সবজি, মসলা ও তামাকজাতীয় পণ্যের দাম বাড়ায় খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিবিএস। ২০২০ সালে খাদ্যখাতে ১০০ টাকার পণ্যে ৫ টাকা ৫৬ পয়সা বৃদ্ধি হয়েছিল, একই পণ্যে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে বেড়েছে ১২ টাকা ৫৪ পয়সা। তবে বাড়িভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থালি, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন ও শিক্ষা উপকরণের দাম কিছুটা কমেছে বলে দাবি করেছে বিবিএস।

আগস্টে সার্বিক খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১২.৫৪ শতাংশ। আগের মাস, অর্থাৎ জুলাইয়ে এ হার ছিল ৯.৭৬ শতাংশ। এর মধ্যে গ্রাম এলাকায় আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১২.৭১ শতাংশ। আর শহর এলাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১২.১১ শতাংশে। উভয় ক্ষেত্রে খাদ্য মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ে ১০ শতাংশের নিচে ছিল।

অন্যদিকে সার্বিক খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ের ৯.৪৭ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে ৭.৯৫ শতাংশ হয়েছে। এর মধ্যে আগস্টে গ্রাম এলাকায় খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৭.৩৮ শতাংশ ও শহর এলাকায় এটি ৮.৪৮ শতাংশ।

এছাড়া গ্রামে এখন সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯.৯৮ শতাংশ, যা জুলাইয়ে ছিল ৯.৭৫ শতাংশ। আর শহরে এখন সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯.৬৩ শতাংশ, যা জুলাইয়ে ছিল ৯.৪৩ শতাংশ।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, হঠাৎ করেই ডিম ও আলুর দাম বেড়েছে। এসব খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় এর প্রভাব পড়েছে মূল্যস্ফীতিতে। সেই সঙ্গে বন্যা এবং অতি বৃষ্টির কারণে আগস্ট মাসে পণ্য সরবরাহ চেইন ব্যাহত হয়েছে। এ কারণে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বৃষ্টি ও বন্যা কমে গেলে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তখন ধীরে ধীরে আবারও নিত্যপণ্যের দাম কমবে।




জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি কমেছে

দেশে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তার আগের মাসে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

রোববার (৬ আগস্ট) বিবিএস মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ০২ শতাংশ।

বিবিএসের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, গত জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। আগের মাস, অর্থাৎ জুনে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৭৩। জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে।

অন্যদিকে এ মাসে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। জুন মাসে ছিল ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। এ ছাড়া গ্রামে এখন সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ, শহরে এই হার ৯ দশমিক ৪৩।




জুনেও সঞ্চয়পত্রে ঋণের চেয়ে পরিশোধ বেশি

সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে নানান শর্ত আর মূল্যস্ফীতির চাপে নতুন বিনিয়োগ কমেছে সাধারণের। বিপরীতে সঞ্চয়পত্র ভাঙছেন বেশি মানুষ। সদ্য বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে যে পরিমাণ সঞ্চয়পত্র কিনেছেন তার চেয়ে বেশি ভেঙেছেন গ্রাহকরা। একইভাবে চলতি বছরের জুন মাসেও নিট বিক্রির ঘাটতি (ঋণাত্মক) ছিল ২৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নানান শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে। কোনো গ্রাহকের ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ থাকলে রিটার্নের সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব রকম সঞ্চয়পত্রের সুদহার ২ শতাংশ কমানো হয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ সীমাও কমানো হয়। আর ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে মুনাফার ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করে সরকার। এতে বিক্রি কমছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১২ মাসে (জুলাই-জুন) মোট ৮০ হাজার ৮৫৮ কোটি ৬২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। বিপরীতে মুনাফা ও মূল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৮৪ হাজার ১৫৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এসময়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি যা হয়েছে সেটা দিয়ে গ্রাহকদের আগে বিনিয়োগ করা সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধ সম্ভব হয়নি। সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ কমে ঋণাত্মক (নেগেটিভ) প্রবৃদ্ধিতে নেমেছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় কোষাগার বা ব্যাংক থেকে উল্টো ৩ হাজার ২৯৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করেছে।

অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত অর্থবছরের সবশেষ মাস এবং চলতি বছরে একক মাস জুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ১৩৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকার। একই মাসে মূল ও মুনাফা বাবদ সরকারকে পরিশোধ করতে হয়েছে ৬ হাজার ৪০৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। অর্থাৎ নিট বিক্রির ঘাটতি (ঋণাত্মক) ছিল ২৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি পূরণে সঞ্চয়পত্রের নির্ভরতাও কমিয়ে ফেলছে সরকার। চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা কম। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকা।

গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার নিট ঋণ নিয়েছিল ৪৬ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সেটি বেড়ে হয় ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ ছিল ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছর ৪১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৯ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা।

দেশে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। এরমধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রের সুদহার ১১ দশমিক ৫২, পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ১১ দশমিক ৭৬, পাঁচ বছর মেয়াদি মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে ১১ দশমিক ২৮, তিন বছর মেয়াদি ও তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের সুদহার ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানো হলেও এখনো এর সুদহার ব্যাংকের তুলনায় বেশি।




মূল্যস্ফীতি স্থিতাবস্থায় আছে, বাড়েনি: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, মূল্যস্ফীতি স্থিতাবস্থায় আছে, বাড়েনি। শুধু টাকার অঙ্কে বিচার করলে হবে না, সামাজিক সুরক্ষা বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেছেন, দেশে মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার সামাজিক সুরক্ষার আওতায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। টিসিবি’র মাধ্যমে ১ কোটি দরিদ্র পরিবারের মাঝে সাশ্রয়ী দামে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাইকার নির্বাহী সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জুনিচি ইয়ামাদাসহ ৬ সদস্যের প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে আসে। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শরিফা খান উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের বাইরে না। সঙ্কট বিশ্বব্যাপী। সেই বিবেচনায় দেশ ভালো আছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি বিবেচনায় রাখতে হবে সব সময়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর যে প্রভাব পড়েছিল, তা নিয়ে প্রথমদিকে আমরা কিছুটা ভয়ে ছিলাম। বর্তমানে সে ভয় অনেকটা কেটে গেছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো আছে।

জাইকার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, জাইকার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তাদের অর্থায়নে বাংলাদেশে যেসব উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছিল, তার অগ্রগতি দেখার জন্যই এই টিমটি বাংলাদেশ সফরে এসেছে। ইতোমধ্যে তারা কয়েকটি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। মাতারবাড়ি প্রকল্পের কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি ৫ শতাংশের কাজও দ্রুত শেষ হবে।

জাইকা নতুন কোনো প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে কি না। এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, জাইকা আমাদের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। তারা বাংলাদেশে সহায়তা বাড়াতে আগ্রহী। আমরা নতুন কোনো প্রস্তাব দিলে তা তারা বিবেচনা করবে।

বাজেট সহায়তা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ, তারা আমাদের বাজেট সহায়তা দিচ্ছে।

আইএমএফের কাছ নেওয়া ঋণ পরিশোধের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইএমএফ যে লোন দিয়েছে, তা শোধ করা কোনো ব্যাপারই না। তখন বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় লোনটা নিয়েছিলাম। আমাদের দুই মাসের রেমিট্যান্সের সমান তাদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ। কাজেই এটা পরিশোধ করা কোন ব্যাপার না।

মূল্যস্ফীতি এবং কাঁচা মরিচের আকাশছোঁয়া দাম প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, আমরা যখন ক্ষমতায় আসি, তখন দেশে মূল্যস্ফীতি ছিল ১২.৩ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি এখন কি তার চেয়ে বেশি? আর মানুষ কি না খেয়ে মারা গেছে? কাঁচামরিচ একটি পচনশীল পণ্য, তার ওপর বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে এর ক্ষতি হয়েছে। বাজার চড়া হওয়ার ভয়ে কাঁচা মরিচ অনেকেই বেশি দামে কিনে রাখছে। কাঁচা মরিচ আমদানি হচ্ছে ধীরে ধীরে, দাম কমে আসবে।




জুনে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে  ৯.৭৪ শতাংশ

গত মে মাসের তুলনায় জুন মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯.৭৪ শতাংশ। যা মে মাসে ছিল ৯.৯৪ শতাংশ।

সোমবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দেওয়া মে মাসের ভোক্তা মূল্য সূচকের (সিপিআই) হালনাগাদে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরূপ প্রভাবের কারণে চলতি অর্থবছরের মে মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশে গড়ে ৯.৯৪ শতাংশ হয়েছিল। যা গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। ২০১১ সালের মে মাসে ছিল ১০.২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল। তবে জুন মাসে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার কমলেও বেড়েছে খাদ্যপণ্যের দাম। জুন মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯.৭৩ শতাংশ হয়েছে। যা গত মে মাসে ছিল ৯.২৪ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্যে দেখা গেছে, মে মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার ৯.২৪ শতাংশ ছিল, এপ্রিল মাসে যা ছিল ৮.৮৪ শতাংশ। ফলে এপ্রিল থেকে বাড়তে মে মাসে খাদ্যপণ্য বৃদ্ধির রেকর্ড গড়েছে। চাল, ডাল, তেল, লবণ, মাছ, মাংস, সবজি, মসলা ও তামাকজাতীয় পণ্যের দাম বাড়ায় খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিবিএস। এছাড়া বাড়িভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থালি, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন ও শিক্ষা উপকরণের দাম কিছুটা কমেছে। মে মাসে এখাতে মূল্যস্ফীতিরে হার ছিল ৯.৯৬ শতাংশ। যা জুন মাসে কিছুটা কমে ৯.৬০ শতাংশ হয়েছে।

বিবিএস আরও জানায়, যদিও ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ৮.৭৮ শতাংশ। মার্চ মাসে আবারও মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে হয় ৯.৩৩ শতাংশ। এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা আশাব্যঞ্জক ছিল না। তখন সার্বিক বা সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.২৪ শতাংশ। সর্বশেষ বাড়তে বাড়তে ক্রেতা নাগালের বাইরে গেছে সব নিত্যপণ্য।




এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ৯.২৪ শতাংশ : বিবিএস

সদ্য সমাপ্ত এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৯.২৪ শতাংশে। মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি কমেছে ০.৯ শতাংশ।

বুধবার (০৩ মে) নিজেদের ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

 

সংস্থাটি জানায়, টানা পাঁচ মাস কমার পর ফেব্রুয়ারিতে দেশে মূল্যস্ফীতি আবার বৃদ্ধি পায়। বিবিএসের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ৮.৭৮ শতাংশে। মার্চ মাসে আবারও সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে হয় ৯.৩৩ শতাংশ। এপ্রিল মাসে কিছুটা কমে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ।

বিবিএসের দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, এপ্রিলে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার হয়েছে ৮.৮৪ শতাংশ, গত মাসে যা ছিল ৯.০৯ শতাংশ।

বিবিএস তার পরিসংখ্যানে বলছে, মাছ, মাংস, সবজি, মসলা ও তামাকজাতীয় পণ্যের দাম কমায় খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হার কমেছে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থালি, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন ও শিক্ষা উপকরণের দাম অপরিবর্তিত আছে। খাদ্যবহির্ভূত খাতে এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯.৭২ শতাংশ, গত মাসেও যা ৯.৭২ শতাংশই ছিল।

তবে এবার গ্রাম থেকে শহরে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। এপ্রিলে গ্রামে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ৮.৯২ শতাংশ, একই সময়ে শহরে এই হার ৯.৬৮ শতাংশ। একদিকে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে, অন্যদিকে সামান্য বেড়েছে মজুরির হার। এপ্রিলে মজুরি সূচক হয়েছে ৭.২৩ শতাংশ। গত মাসে যা ছিল ৭.১৮ শতাংশ। সামান্য মজুরি সূচক বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি কমার ফলে জনমনে এপ্রিলে স্বস্তি এসেছে বলে দাবি বিবিএস-এর।




মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮. ৭ শতাংশ হবে: এডিবি

২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) এডিবির ঢাকা অফিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সন চ্যাং হং।

এডিবির প্রকাশিত ‘এশিয়ান ডেভলপমেন্ট আউটলুক-২০২৩’ এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বৈশ্বিক সংকটেও ৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কিন্ত আশাব্যঞ্জক। কেননা রপ্তানি গ্রোথ দিন দিন কমে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটও প্রভাব ফেলেছে। প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির হার ধীরগতির অন্যতম কারণ ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ। এর ফলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার মধ্যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ গত বছর ছিল মাত্র ৬ দশমিক ২ শতাংশ, সেখান থেকে ২০২৩ সালে বেড়ে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হবে। দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতেও।

এডিমন গিনটিং বলেন, ‘সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক প্রতিকূলতার প্রভাবেও তুলনামূলকভাবে ভালো করছে। পাশাপাশি সব খাতেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। এই কঠিন সময়েও উচ্চতর প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সাহায্য করবে৷। এই সংস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহকে শক্তিশালী করা, আর্থিক খাতকে গভীর করা, এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রতিযোগিতা বাড়ানো জরুরি৷’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের জলবায়ু এজেন্ডার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশীয় নবায়নযোগ্য শক্তি সরবরাহের দ্রুত সম্প্রসারণ করতে হবে। এই জন্য একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

এডিবির প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, বেসরকারি বিনিয়োগ কম হবে কারণ জ্বালানি ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে নানা কারণে উৎপাদন খরচও বেশি। রাজস্ব সংগ্রহে ঘাটতি, কঠোর ব্যবস্থা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া এবং পাবলিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিও ধীর হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এডিবি ঢাকা অফিসের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বারিও উপস্থিত ছিলেন।