নীতি সুদহার ১০ শতাংশ রেখেই দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা

নীতি সুদহার (১০ শতাংশ) অপরিবর্তিত রেখে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত বছরের ২২ অক্টোবর দেশের মুদ্রানীতির অন্যতম টুল নীতি সুদহার (ব্যাংক রেট) ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার ৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ করে। গত ২৫ আগস্ট উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে এটি ৯ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়। এর আগে ২০২২ সালের মে মাসে নীতি সুদহার ছিল ৫ শতাংশ। সেসময় থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১০ বার বাড়ানো হয়েছে নীতি সুদহার।

দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ভোগাচ্ছে দীর্ঘদিন। নানান পদক্ষেপের সঙ্গে সুদহার বাড়িয়েও তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। এরই মধ্যে নীতি সুদহার (রেপো সুদ) আরেক দফা বাড়িয়ে চলতি (২০২৪-২৫) অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধ (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতিতে ঘোষণার কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে উদ্যোক্তারা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব হবে না, বরং আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব পড়বে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে। অর্থনীতিবিদরাও এ নিয়ে পরামর্শ দেন। নীতি সুদহার বাড়িয়ে বিনিয়োগ চাইলে ব্যবসায়ীদের ওপর এর প্রভাব কিছুটা হলেও পড়বে বলে মত দেন তারা। এ পরিস্থিতির মধ্যে গত মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসে। সার্বিক দিক বিবেচনায় এনে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হলো।

আর বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। যেটা চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের একই লক্ষ্যমাত্রা (৯ দশমিক ৮ শতাংশ) ছিল। আর সরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগের মুদ্রানীতিতে সরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত নভেম্বরে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যা ২০২১ সালের মে মাসের (৭.৫৫ শতাংশ) পর সর্বনিম্ন। এ প্রবৃদ্ধি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ৯ দশমিক ৮ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, যা গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধের প্রক্ষেপণের তুলনায় সামান্য কম।




অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা বিকেলে

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে চলতি (২০২৪-২৫) অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলন করে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে মুদ্রানীতি নিয়ে আলোচনা হবে। বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না বিনিময় হার ব্যবস্থাপনায়। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসা ও রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে স্থিতিশীল থাকায় এমন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার আমলের এবং বর্তমান গভর্নরের প্রথম মুদ্রানীতি এটি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনই সংকোচন থেকে সম্প্রসারণের নীতিতেও যাবে না।

গত বছরের ১৮ জুলাই চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেখানে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিময় হার স্থিতিশীল করা এবং রিজার্ভ বাড়ানোকে প্রধান চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলন না করে কেবল ওয়েবসাইটে মুদ্রানীতির ঘোষণাপত্র দেওয়া হয়।

আহসান এইচ মনসুর গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর স্বল্পমেয়াদি সুদহার ছিল ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। তিন দফায় ৫০ বেসিস পয়েন্ট করে তা বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। যার প্রভাব পড়ে সুদহারে। এতে গ্রাহক পর্যায়ে সুদহার বেড়ে এখন ১৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ হিসাবে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসায় আপাতত নীতি সুদহার বাড়ানো হবে না। তবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বিবেচনায় সুদহার না বাড়িয়ে বরং সুদহার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধারাবাহিক যে অবনতি হচ্ছিল, তা ঠেকানো গেছে। বিশেষ করে অর্থপাচারের বিরুদ্ধে কঠোর নীতির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছে না। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দীর্ঘদিন ধরে তা ২০ বিলিয়ন ডলারে স্থিতিশীল আছে। বর্তমানে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে। ডলারের দরও ১২২ থেকে ১২৪ টাকায় স্থিতিশীল আছে। গত জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশে নেমেছে। আগের মাস ডিসেম্বর শেষে ছিল ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

 




মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতির কার্যকারিতা দেখা যায়নি

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দেশের মুদ্রানীতির কার্যকারিতা তেমন পরিলক্ষিত হয়নি, এই অবস্থায় পরিস্থিতি বিবেচনায় আরো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ চেয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে নির্ধারণে আরো সচেতন হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘এলডিসি পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রস্তুতি’ শীর্ষক সেমিনারে এসব বক্তব্য উঠে আসে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেম-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়ে বেশকিছু চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সুযোগও তৈরি হবে, তবে সেগুলো মোকাবিলার জন্য আমাদের যথাযথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন একান্ত অপরিহার্য। নীতি সহায়তা ও সংস্কার, অর্থায়ন, লজিস্টিক খাতের উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি এবং আর্থিক খাত চ্যালেঞ্জগুলো এর মধ্যে অন্যতম।

সেলিম রায়হান বলেন, গত ৫ দশকে আমাদের রপ্তানি বাড়লেও রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্রকরণে বাংলাদেশ বেশ পিছিয়ে রয়েছে, যেখানে আমাদের প্রতিযোগী দেশসমূহের অগ্রগতি অনেক বেশি। মুদ্রানীতি এবং অর্থবিষয়ক নীতিমালার সমন্বয়, সরকারি সংস্থাসমূহের সক্ষমতা বাড়ানো, খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য পুঁজিবাজারের নির্ভরতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো এলডিসি পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের মুদ্রানীতির কার্যকারিতা তেমন পরিলক্ষিত হয়নি, এমতাবস্থায় পরিস্থিতি বিবেচনায় আরো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে নির্ধারণের আরো সচেতন হওয়ার জন্য তিনি পরামর্শ দেন। সর্বোপরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে এসইজেডগুলোকে সব ধরনের সেবা প্রাপ্তি এবং ব্যবসা পরিচালন ব্যয় হ্রাসের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আশরাফ আহমেদ রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য স্বল্প সুদে অর্থয়ান এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ে একটি সহায়ক বিনিময় হার নির্ধারণ করার ওপর জোরারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের নির্ধারিত আলোচনায় বিজিএমইএ পরিচালক ও উর্মি গার্মেন্টস লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ আশরাফ এবং সোনালী আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটোয়ারি অংশগ্রহণ করেন।




নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে আজ। এটি হবে নতুন সরকার এবং নতুন অর্থমন্ত্রীর প্রথম মুদ্রানীতি। মুদ্রানীতি নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। নতুন অর্থমন্ত্রীর মেয়াদকালের প্রথম মুদ্রানীতি কেমন হয় তা নিয়ে সবার মাঝেই আগ্রহ রয়েছে। বাংলাদেশে ইতিপূর্বে যতগুলো মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে তার কোনোটিই এত জটিল পরিস্থিতির মধ্যে ঘোষিত হয়নি। মুদ্রানীতির মাধ্যমে একটি দেশের অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি কেমন হবে তার একটি সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা দেবার চেষ্টা করা হয়। বিশেষ করে আগামী দিনে বাজারে মুদ্রা সরবরাহ কেমন হবে, বিনিয়োগ পরিস্থিতি কেমন হবে এসব বিষয় মুদ্রানীতির মাধ্যমে ফুটে উঠে। এই মুহুর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উচ্চ মাত্রার মূল্যস্ফীতিকে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর দেয়া তথ্য মতে, সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। আগের মাসে এটা ছিল ৯দশমিক ৪৯ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাচ্ছে কিন্তু সেই হ্রাস পাবার গতি অত্যন্ত মন্থর। কিন্তু এই মহুূর্তে জরুরি ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসাটা খুবই জরুরি। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের স্ফীতি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। কারণ বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের স্ফীতি যেভাবে কমে যাচ্ছে তাতে আগামীতে দেশ সংকটে পতিত হতে পারে। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ সৃষ্টির অন্যতম সূত্র হচ্ছে প্রবাসীদের প্রেরিতে রেমিটেন্স। কিন্তু কোনোভাবেই রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ানো যাচ্ছে না। অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলের তুলনায় সার্ক মার্কেটে মার্কিন ডলারের মূল্য ১০ থেকে ১২ টাকা বেশি হবার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাংকিং চ্যানেলের পরিবর্তে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ প্রেরণ করছেন। ফলে প্রবাসীদের উপার্জিত মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশেই থেকে যাচ্ছে। এই মহুর্তে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বাজারের চাহিদা ও যোগানের উপর ছেড়ে দেয়া হলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপার্জিত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আসার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু যতটা জানা যাচ্ছে, এবারও মুদ্রানীতিতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বাজারের উপর ছেড়ে দেবার কোনো পরিকল্পনা নেই। মূলত আমদানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাতেই মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ধীরে ধীরে হলেও বাজারভিত্তিক করতে হবে। কৃত্রিমভাবে স্থানীয় মুদ্রা টাকার অতিমূল্যায়ন করে রাখা কোনোভাবেই সুফল দেবে না।




অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ৩ পরামর্শ আইএমএফের, বাড়বে রিজার্ভ

 

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করতে এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিতে তিন দফা সুপারিশ করেছে আইএমএফ। আর চলমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারলে আগামী দিনে রিজার্ভ বাড়তে শুরু করবে। ফলে চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ রিজার্ভ চার মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান হতে পারে।

আইএমএফের সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে-মুদ্রানীতিকে আরও কঠোর ও সংস্কার করা, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারকে আরও নমনীয় করা এবং নিরপেক্ষ রাজস্ব নীতি অনুসরণ করতে হবে।

আইএমএফ-এর ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ বাবদ ৬৮ কোটি ২০ লাখ ডলার ছাড় করার প্রস্তাব অনুমোদনের পর সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদ এসব সুপারিশ করেছে।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) প্রতিবেদনটি আইএমএফর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।

জানুয়ারিতে আইএমএফ’র নির্বাহী পর্ষদ বাংলাদেশের অনুকূলে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করে। ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ প্রথম কিস্তি বাবদ ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার পায়। দ্বিতীয় কিস্তি বাবদ ৬৮ কোটি ২০ লাখ ডলার ছাড় করার প্রস্তাব মঙ্গলবার আইএমএফ-এর নির্বাহী বোর্ড অনুমোদন করেছে।

আইএমএফ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একাধিক ধাক্কা লেগেছে। এর প্রভাবে অর্থনীতি বহুপাক্ষিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগোতে হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে তিন দফা পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়ক হবে।

এক.
মুদ্রানীতিকে আরও সংকোচনমুখী ও সংস্কার করতে হবে। একইভাবে এ প্রক্রিয়ায় সতর্ক থাকতে হবে।

দুই.
সহায়ক ও নিরপেক্ষ রাজস্ব নীতি অনুসরণ করতে হবে।

তিন.
ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারকে আরও উন্মুক্ত করতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আমদানিতে কঠোরতা আরোপ করার ফলে আমদানি ব্যয় কমেছে। গৃহীত পদক্ষেপের ফলে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। এতে চলতি হিসাবের ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে আগামী দিনে রিজার্ভ বাড়তে শুরু করবে।

চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ রিজার্ভ চার মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান হতে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির হার কমে আসবে। জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বৃত্ত অতিক্রম করে ৭ শতাংশের বৃত্তে প্রবেশ করবে।

এতে বলা হয়, মুদ্রানীতিতে আরও সংকোচনমুখী করলে মূল্যস্ফীতির হার কমবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতির প্রভাব জোরদার হবে। ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ধাপে ধাপে নমনীয় করলে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়াতে সহায়ক হবে। এতে ডলারের প্রবাহ বাড়বে। অর্থনীতিতে বহুপাক্ষিক ধাক্কা মোকাবিলায় এটি জরুরি বলে মনে করে আইএমএফ।

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমতির দিকে থাকলেও রপ্তানি ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

সংস্থাটির মতে, অর্থনৈতিক মন্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দুর্বল শ্রেণির জন্য এখন সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধিসহায়ক বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে করনীতি সংশোধন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কর-রাজস্ব বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে। ভর্তুকির যৌক্তিকীকরণ, ব্যয় করার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আরও দক্ষতার সঙ্গে আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

দেশের অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়ছে। এতে অর্থায়নের চাহিদাও বেশি। এ কারণে আর্থিক খাতের সংস্কার জরুরি। ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি কমাতে সরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমানোর পাশাপাশি মূলধন পুনরুদ্ধারে বিশেষ কৌশল প্রণয়ন করতে বলেছে সংস্থাটি।

আইএমএফ পর্ষদ এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে, ব্যাংক খাতের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো জোরদার করা, শাসনব্যবস্থার উন্নতি ও শেয়ারবাজারের উন্নয়ন করা গেলে আর্থিক খাতের দক্ষতা বাড়বে এবং উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ খাতে তারা জোর দিতে বলেছে।




দারিদ্র্য নিরসনে বাংলাদেশ ভালো করছে: বিশ্বব্যাংক

দারিদ্র্য নিরসনে বাংলাদেশ ভালো করেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে প্রায় ১১ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্য সীমার উপরে উঠে এসেছে। আরও ৫ মিলিয়ন মানুষ চরম দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসছে। তবে তিনি বাংলাদেশের আর্থিক খাত সংস্কারের তাগিদ দিয়েছেন। মুদ্রাবিনিময় হার, মুদ্রানীতি, সুদের হারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন।

বুধবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সঙ্গে তার নিজ দফতরে বৈঠক শেষে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে যে মূল্যস্ফীতি কমেছে তাতে তিনি সন্তুষ্ট নন। চলতি বছরের শেষদিকে মূল্যস্ফীতি ৫-৬ শতাংশে নেমে এলে তিনি খুশি হবেন।

উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৯.৬৩ শতাংশ হয়েছে যা আগস্টে ছিল ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ।

এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। অনেক ক্ষেত্রে সংস্কার হচ্ছে, কিন্তু আরও করতে হবে। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি যে পরিমাণ কমেছে এতে আমি সন্তুষ্ট নই।’

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেছেন, ‘চলতি অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। তবে যদি নির্বাচনি পরিবেশ ভালো থাকে তাহলে আগামীতে প্রবৃদ্ধি বাড়বে।’

এক প্রশ্নের জবাবে সেক বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। স্বল্প সুদে ঋণের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন তহবিলসহ বিভিন্ন স্কিম থেকে আরও ঋণ নেওয়ার সুযোগ আছে বাংলাদেশের। এরই মধ্যে আমরা বাজেট সহায়তা দিয়েছি। আগামীতে আরও দেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। বাংলাদেশের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তা পূরণে বিনিয়োগ দরকার।’

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা ও বিশ্বব্যাংক উভয়ই মনে করি, আগামীর পরিবেশ অর্থাৎ নির্বাচনের পরিবেশ যদি ভালো থাকে তাহলে উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। মানুষ যদি উন্নয়নের পক্ষে থাকে তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে।’




ঘোষিত মুদ্রানীতি পুঁজিবাজার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে : ডিএসই

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত মুদ্রানীতি পুঁজিবাজারের সম্প্রসারণ তথা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

রোববার (১৮ জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেন, ঘোষিত মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ সামগ্রিক মার্কেট ইকোনমিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য সময়োপযোগী ও দিকনির্দেশনা মূলক মুদ্রানীতি। ঘোষিত মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারের প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সমর্থনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের সম্প্রসারণ তথা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

রোববার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ১ম ষান্মাসিকের জন্য (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৩) নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এসময় ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল, কাজী ছাইদুর রহমান, আবু ফরাহ মো. নাছের, এ কে এম সাজেদুর রহমান খান, বিএফআইইউ প্রধান মাসুদ বিশ্বাস, প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. হাবিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র আবুল বশরসহ গবেষণা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর জানান, আগামী অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ এবং সাড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবার প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের চেয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জোর দিয়েছে।

তিনি বলেন, ঘোষিত মুদ্রানীতিতে একটি উন্নত ও বিকশিত পুঁজিবাজার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লিখিত হয়েছে। উন্নত ও বিকশিত পুঁজিবাজারের অভাবে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ ব্যাংকের অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়। বন্ড মার্কেট এই বৃহৎ অর্থায়নের চাহিদা পূরণ করতে পারে। সরকারি ও বেসরকারি খাত বন্ডের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে তাদের ব্যয় কমাতে পারে এবং পরিচালনাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে। এছাড়াও সরকার বন্ডের মাধ্যমে কম খরচে বাজেটের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ উত্তরণে পুঁজিবাজারে পর্যাপ্ত তারল্য নিশ্চিত করার জন্য চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও স্টক ডিলারদের দেওয়া ব্যাংকের শ্রেণিবদ্ধ ঋণের ক্ষেত্রে সংরক্ষিত প্রভিশন ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করেছে। এছাড়াও ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ না নিয়ে বন্ড ইস্যু করে অর্থের সংস্থান করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।

মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারের প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সমর্থন পুঁজিবাজারের সম্প্রসারণ তথা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। ঘোষিত মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারকে গুরুত্বারোপ করায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বাংলাদেশ ব্যাংককে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সেকেন্ডারি মার্কেটে বন্ডের ট্রেড সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে মার্কেট ইনফ্রাস্টাকচার মডিউল প্লাটফর্ম ব্যবহার করার জন্য গাইডলাইন প্রণয়ন করেছে। এছাড়া ব্যাংকিং কোম্পানি অ্যাক্ট ১৯৯১-এর সংশোধন অনুমোদনের জন্য জাতীয় সংসদে রয়েছে। যা বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজার উন্নয়নে সহায়ক হবে। বিএসইসি বাজারের প্রবৃদ্ধির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে এবং এজন্য কিছু নীতিগত ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো– মিউচ্যুয়াল ফান্ড, (স্পেশাল ফান্ড যেমন পেনশন ফান্ড ব্যতীত) এর বিনিয়োগ সীমা বৃদ্ধি করা। বিএসইসি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য ন্যূনতম বিনিয়োগের সীমা ৬০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশে বৃদ্ধি করেছে। একটি শক্তিশালী ও গতিশীল পুঁজিবাজারের জন্য প্রয়োজন বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ। ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের এই আশাবাদের সঙ্গে একমত পোষণ করে পুঁজিবাজার উন্নয়নে একযোগে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, ঘোষিত মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদে অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি কার্যকর বন্ড মার্কেট প্রতিষ্ঠিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ দুটো বিষয়ের ওপর ডিএসইও দেশের নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। ডিএসই মনে করে, এ দুটো উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে গেলে যথাযথ কৌশল প্রণয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিকাশে সারা বিশ্বে নীতি-সমর্থন এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে বলিষ্ঠ ভূমিকা থাকে, ঘোষিত মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সে ধরনের ভূমিকাই রয়েছে।




রিজার্ভ গণনার আইএমএফ পদ্ধতি শুরু জুনে

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ন গণনায় বিপিএম৬ পদ্ধতি আগামী জুন মাস থেকে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জুন মাসে বছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জুলাই থেকে রিজার্ভের নিট হিসাব প্রকাশ করা হবে।

একই সঙ্গে ওই সময়ে ঋণের সুদের হারের সীমা তুলে দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারভিত্তিক সুদ হার নির্ধারণের জন্য একটি মানদণ্ড বেঁধে দেবে। এর সঙ্গে ৩ বা ৪ শতাংশ যোগ করে ঋণের সুদ হার নির্ধারণ করতে পারবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের নীতি সুদ হার নিরূপণের বিষয়ে একটি সুদের হারের করিডোর তৈরি করবে। এর ভিত্তিতে সময়ে সময়ে সুদের হারে পরিবর্তন আনা হবে।

রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত মানিটারি পলিসি বিষয়ক কমিটির সভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ডেপুটি গভর্নর, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী পরিচালক ও পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র জানায়, আইএমএফ আগামী জুনের মধ্যে রিজার্ভের নিট হিসাব প্রকাশ করার শর্ত দিয়েছে। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করেছে। প্রথম কিস্তির টাকা হাতে পাওয়ার পর ঋণের শর্ত পালনে আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ।

আগামী জুলাইয়ে রিজার্ভের প্রকৃত হিসাব প্রকাশ করা হবে। এর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি মডেল তৈরি করছে। বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। এ পদ্ধতিতে রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করলে রিজার্ভ বেশ কমে যাবে। বর্তমানে রিজার্ভ রয়েছে ৩ হাজার ১২৬ কোটি ডলার। এ থেকে বিভিন্ন তহবিলে বিনিয়োগ করা অর্থ বাদ দিলে রিজার্ভ ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে নেমে আসবে। বর্তমান রিজার্ভ থেকে বিভিন্ন তহবিলে ৮০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছিল। ওই বিনিয়োগ থেকে ১০০ কোটি ডলার ইতোমধ্যে কমিয়ে আনা হয়েছে। আরও কমানোর চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নিজস্ব হিসাবের রিজার্ভের তথ্য এবং আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতির হিসাব-দুটির তথ্যই প্রকাশ করবে।

আইএমএফের আরও একটি শর্ত হচ্ছে ঋণের সুদের হারের সীমা তুলে দেওয়া। বর্তমানে সুদের হারের সীমা সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ বেধে দেওয়া আছে। এ সীমা তুলে দিতে হবে আগামী জুনের মধ্যে। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে। সুদের হারের ওই সীমা তুলে দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি বেঞ্চমার্ক সুদ বা সুদের হারের মানদণ্ড ঘোষণা করবে। এটি নির্ধারণ করা হবে সরকারের বিভিন্ন বন্ডের গড় সুদের হারের ভিত্তিতে। বর্তমানে সরকারের ৫টি প্রধান বন্ডের গড় সুদের হার রয়েছে সাড়ে ৮ শতাংশ। এর সঙ্গে ৩ বা ৪ শতাংশ ব্যাংক যোগ করে আলাদা আলাদাভাবে তারা সুদের হার নির্ধারণ করতে পারবে। তখন সুদের হার ১১ থেকে ১৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। এর সঙ্গে রয়েছে আরও নানা ধরনের ফি।

বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদের হার নির্ধারণ করে নিজস্ব পলিসি পর্যালোচনা করে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সুদের হারের করিডোর তৈরি করবে। যার ভিত্তিতে নীতি সুদের হার যেমন ব্যাংক রেট (বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সুদে ঋণ দেয়), রেপো রেট (কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিক্রি করা ট্রেজারি বিল পুনরায় কিনে নেওয়ার সুদ) ও রিভার্স রেপো রেট নির্ধারণ করবে।

সূত্র জানায়, সুদের হারের এ নীতি পরিবর্তন হবে। বাজারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে সুদের হার কমবে বা বাড়বে। এ বিষয়গুলো নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন কাজ করছে। আগামী অর্থবছরের জুলাইয়ে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার সময়ে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন নীতিও ঘোষণা করবে।