অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পুঁজিবাজারে আলোচিত এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের অর্থ অপব্যবহার এবং তহবিল ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।

শনিবার (১৪ মার্চ) দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা অনুসন্ধানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে একজন অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নথিপত্র সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি দিয়েছেন। রেকর্ডপত্র সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে পাওয়া অনিয়ম ও আর্থিক অসংগতির ভিত্তিতে কমিশন থেকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনুসন্ধানে মিউচুয়াল ফান্ডের টাকা কীভাবে, কার নির্দেশে এবং কোন খাতে স্থানান্তর করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল পরিচালিত একাধিক মিউচুয়াল ফান্ড থেকে প্রায় ৫৫ কোটি টাকার বেশি অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে স্থানান্তর ও উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফান্ডের অর্থ নির্ধারিত বিনিয়োগ খাতের বাইরে ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত বা সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রবাহের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে বিএসইসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।বাংলাদেশি খাবারএর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালের অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকে চিঠি পাঠায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যেখানে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা লোপাটের দুর্নীতির ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

চিঠিতে বলা হয়, সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালের দুই ফান্ডে অনিয়ম ও ইউনিটহোল্ডারদের ৫৫ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য অবগতি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হলো।

গণমাধ্যমকে দুদকের সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ, শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 




৮ মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি সভা স্থগিত

পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে তালিকাভুক্ত ৮টি ফান্ডের ট্রাস্টি সভা স্থগিত করা হয়েছে। গত ৬ আগস্ট বিকেল ৩টায় ফান্ডগুলোর ট্রাস্টি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

বুধবার (৭ আগস্ট) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ফান্ডগুলো হলো-আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড, আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট মিউচুয়াল ফান্ড ১: স্কিম ১, প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়াল ফান্ড, ফনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, আইসিবি এএমসিএল থার্ড এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ফাস্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং আইসিবি এএমসিএল ফার্স্ট অগ্রণী ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড।

ডিএসইর মাধ্যমে ফান্ডগুলো জানায়, অনিবার্য কারণবশত ফান্ডগুলোর ট্রাস্টি সভা স্থগিত করা হয়েছে। শিগগিরই ট্রাস্টি সভার নতুন তারিখ ঘোষণা করবে ফান্ডগুলো।

আলোচিত ট্রাস্টি সভায় ৩০ জুন, ২০২৪ সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল’২৪-জুন’২৪) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। ট্রাস্টি বোর্ড এ প্রতিবেদন অনুমোদন করলে ফান্ডগুলো তা প্রকাশ করবে।




দুই মিউচুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ দিতে ট্রাস্টি সভা ২ জুলাই

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুইটি মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি কমিটির সভার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ড দুটি হলো- এআইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।

বুধবার (২৬ জুন) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আগামী ২ জুলাই বিকাল ৩টায় এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে একইদিন বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে এআইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি কমিটির সভা।

দুটি ফান্ডের ট্রাস্টি সভাতে সংশ্লিষ্ট ফান্ডের গত ৩১ মার্চ, ২০২৩ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। কমিটি ওই প্রতিবেদন অনুমোদন করলে সভা থেকে ইউনিটহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করা হতে পারে।




এনসিসিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে তালিকাভুক্ত এনসিসিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানের ট্রাস্টি কমিটি ইউনিটহোল্ডারদের জন্য ৪.৫০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই নগদ লভ্যাংশ।

২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ইউনিটহোল্ডারদের জন্য এই লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ফান্ডটির ট্রাস্টি কমিটির বৈঠকে সর্বশেষ হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইউনিটহোল্ডারদের ঘোষিত লভ্যাংশ বিতরণে মিউচুয়াল ফান্ডটির রেকর্ড ডেট আগামী ১০ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানির ইউনিটপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.৬১ টাকা। আগের হিসাব বিষয় বছরের একই সময়ে কোম্পানির ইউনিটপ্রতি মুনাফা ছিল ০.৬৯ টাকা।

২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর মিউচুয়াল ফান্ডটির ক্রয়মূল্যে নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিইউ) দাঁড়িয়েছে ১০.৭৭ টাকা। আর বাজারমূল্যে নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিইউ) দাঁড়িয়েছে ১০.৯৭ টাকা।




মিউচুয়াল ফান্ড খাত শক্তিশালী হলে পুঁজিবাজার শক্তিশালী হবে : বিএসইসি চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) উদ্যোগে বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘রেগুলেটরি ওভারসাইট অ্যান্ড গর্ভরন্যান্স অব মিউচুয়াল ফান্ড ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশের মিউচুয়াল ফান্ড খাতের অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় দেশের অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, ফান্ড ম্যানেজার, ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ান কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম। এছাড়াও বিএসইসি’র কমিশনার ড. মিজানুর রহমান কর্মশালায় মূল বক্তব্য প্রদান করেন এবং বিএসইসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্যে বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বাংলাদেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির উন্নয়নের জন্য এই খাতে সুশাসন নিশ্চিতে সকল অংশীজনদের একসাথে কাজ করার উপর জোর দেন। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনীতি, পুঁজিবাজার এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মিউচ্যুয়াল ফান্ড গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করতে পারলে এবং এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী করতে পারলে, এই খাতকে বহুগুণে বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে জানান তিনি। দেশের অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারকে দৃঢ় ও শক্তিশালী অবস্থানে দেখতে চাইলে বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন এবং এ ক্ষেত্রে মিউচ্যুয়াল ফান্ড বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কর্মশালায় মূল বক্তব্যে বিএসইসি’র কমিশনার ড. মিজানুর রহমান দেশের পুঁজিবাজারে বিদ্যমান মিউচ্যুয়াল ফান্ডসমূহ এবং এই খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট নীতি সংক্রান্ত ইস্যুগুলো এবং এই খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো ও সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন। সাম্প্রতিক সময়ে মিউচ্যুয়াল ফান্ড এর আয়কর অব্যাহতির বিষয়টি নিয়ে পূর্ণ সমাধান আসায় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান। দেশে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের সম্প্রসারণের জন্য আগামীতে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিধিবিধান ও নীতি সংশ্লিষ্ট পুনর্গঠনে কমিশন কাজ করছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও এই খাতে রেগুলেটরি অ্যাকশনগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করবে বলে উপস্থিত সকলকে আশ্বস্ত করেন তিনি। দেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়নের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বাজার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের একসাথে কাজ করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি এবং উপস্থিত মিউচুয়াল ফান্ড খাতের শীর্ষ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের তাদের মূলবান মতামত ও পরামর্শ কর্মশালায় উপস্থাপনের অনুরোধ করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসইসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী মিউচুয়াল ফান্ড সংশ্লিষ্টদের স্বাগত জানান এবং এই খাতে সুশাসন নিশ্চিতে একত্রে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “মিউচুয়াল ফান্ড আমাদের পুঁজিবাজারের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে যত শক্তিশালী করা যাবে, দেশের পুঁজিবাজার ততটাই শক্তিশালী হবে। মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিএসইসি সবরকমের চেষ্টা করে যাচ্ছে, আপনারাও আপনাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখুন।” তিনি মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে শক্তিশালী রূপ দিতে কমিশন সংশ্লিষ্টদের সবধরনের সহযোগিতা করবে বলে জানান।

এছাড়াও কর্মশালায় অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডস (এএএমসিএমএফ) এর প্রেসিডেন্ট হাসান ইমাম, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এইচ এফ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফায়েকুজ্জামান, এএএমসিএমএফ-এর সহসভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী, এএএমসিএমএফ -এর সেক্রেটারি জেনারেল অরুনাংশু দত্তসহ মিউচুয়াল ফান্ড খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য ও মতামত উপস্থাপন করেন।




প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ভালো করছে মিউচুয়াল ফান্ড

মিউচুয়াল ফান্ডের আয়ের প্রধান উৎস পুঁজিবাজার। কিন্তু সেই পুঁজিবাজার মন্দার মধ্যে রয়েছে। প্রধান মূল্য সূচকের পাশাপাশি ব্লু-চিপস কোম্পানির সূচকও কমেছে। এছাড়া তালিকাভুক্ত কোম্পানির লভ্যাংশ প্রদানও কমেছে। এতসব প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও মিউচুয়াল ফান্ড খাত সর্বশেষ অর্থবছরের ব্যবসায় ভালো লভ্যাংশ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’ উপলক্ষ্যে অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডস (এএএমসিএমএফ) আয়োজিত রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে ‘রোল অব এসডিজি অ্যানালিটিক্স ইন ক্যাপিটাল মার্কেট-বেজড ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্সিং’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ড. মিজানুর রহমান। এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন আরেক কমিশনার ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রেস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এএএমসিএমএফ এর সভাপতি ড. হাসান ইমাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের কোঅর্ডিনেটর অ্যান্ড ইকোনোমিস্ট জুবায়ের হোসেন।

অনুষ্ঠানে বিএসইসির কমিশনার ড. মিজানুর রহমান বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়নে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। তবে বর্তমানে শেয়ারবাজারে এই খাতের অংশগ্রহণ খুবই কম। যেটা ১৬ হাজার কোটি টাকার মতো। কিন্তু এটা হওয়া উচিত ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। তবে আগামী ১০ বছরে এই খাত অনেক এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া হিসাব মান পরিপালনে কঠোর কমিশন। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে কমিশনার ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নিরসন করে। যা ব্যক্তিগতভাবে করা কঠিন। এজন্য বিনিয়োগকারীদের মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানাই।

রেস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এএএমসিএমএফ এর সভপাতি ড. হাসান ইমাম বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। এই খাতটি অনেক বাঁধা বা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ভালো করছে। শেয়ারবাজার যেখানে নেতিবাচক, সেখানে এই খাতের উন্নতি হয়েছে।

তিনি বলেন, গত অর্থবছরে পুঁজিবাজারে নেতিবাচক ছিল। যেই ব্লু চিপস কোম্পানিতে মিউচুয়াল ফান্ড থেকে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করা হয়, সেই ব্লু চিপস-৩০ সূচকও নেতিবাচক ছিল। এই অবস্থার মধ্যেও মিউচুয়াল ফান্ডগুলো ২০২২-২৩ অর্থবছরের ব্যবসায় ২৮৩ কোটি টাকার নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এমনকি গত ১০ বছরের মধ্যে ৭ বছরই সূচক বৃদ্ধির তুলনায় মিউচুয়াল ফান্ড ভালো করেছে।

মিউচুয়াল ফান্ডের দাম কম নিয়ে অনেকে সমালোচনা করেন উল্লেখ করে হাসান ইমাম বলেন, এই যে কোনো কোনো ইউনিটের দর ৪-৫ টাকা, এটা কিন্তু অ্যাসেট ম্যানেজারদের পারফরমেন্স না। আপনাকে দেখতে হবে ওই ইউনিটের অ্যাসেট কত আছে। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের দেশে সম্পদের তুলনায় অনেক কমে বা ডিসকাউন্টে ইউনিট লেনদেন হয়। যেটা আমেরিকায় সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেজাউল করিম বলেন, বন্ডের কুপন রেট থেকে কর অব্যাহতি দেওয়া দরকার। তাহলে ইউনিটহোল্ডাররা ভালো লভ্যাংশ পাবে।

এলআর গ্লোবালের সিআইও রিয়াজ ইসলাম বলেন, দেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়েছে, সেভাবে শেয়ারবাজার এগোয়নি। এটা শেয়ারবাজারের জন্য খারাপ খবর। এটা সমাধান করা সম্ভব। যার অনেক সুযোগ রয়েছে।




মিউচুয়াল ফান্ড ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে: বিএসইসির চেয়ারম্যান

মিউচুয়াল ফান্ড খাত ভালো করছে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে এমন মন্তব্য করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেছেন, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থে এ খাতের উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।

শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ‘ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কনফারেন্স প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিএসইসি এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কনফারেন্সটি কক্সবাজারে অবস্থিত সী পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড হোটেলে অনুষ্ঠানটি হয়।

অধ্যাপক শিবলী বলেন, বর্তমান চ্যালেঞ্জিং সময়ে বিনিয়োগকারীরা বেশি মুনাফা লাভ করতে না পারলেও যেন কোনোভাবেই ক্ষতির সম্মুখীন না হোন তার জন্য কাজ করছে বিএসইসি।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের শিল্পায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহার হচ্ছে, যা অদূর ভবিষ্যতে আমাদের জন্য সুফল বয়ে আনবে। অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আগামী ৫ বছর হবে বাংলাদেশের জন্য সোনালি সময়।

তিনি বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাত ভালো করছে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থে এ খাতের উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। সামনের দিনগুলোতেও বাংলাদেশ উন্নয়নের ধারা ধরে রাখবে বলে আশা করছি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ এবং মো. আবদুল হালিম। এছাড়া বক্তব্য দেন বিএসইসির কমিশনার ড. মিজানুর রহমান, অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের (এএএমসিএমএফ) সভাপতি হাসান ইমাম, ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার প্রমুখ।

বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, মিউচুয়াল ফান্ডকে জনপ্রিয় করতে এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সুনাম অর্জন প্রয়োজন এবং এ খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দরকার। মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে আরও বিকশিত করতে এ খাত সম্পর্কে সবাইকে আরও প্রচার প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করে বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অধিক রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ-সম্ভবনাকে কাজে লাগনো উচিত। মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতকে বিকশিত করতে দেশের পুঁজিবাজারের ইক্যুইটি মার্কেটেরও উন্নয়ন প্রয়োজন এবং তার জন্য দেশের পুঁজিবাজারের ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তি প্রয়োজন।

মো. আবদুল হালিম বলেন, আমাদের জাতীয় অর্থনীতির তুলনায় দেশের পুঁজিবাজার এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। আমরা দেশের পুঁজিবাজারকে উন্নত ও স্মার্ট পুঁজিবাজারে পরিণত করতে কাজ করছি।

তিনি অংশীজনদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে এ খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কথা বলেন। অর্থনৈতিক সব সূচকে বাংলাদেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী করতে হবে।

ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, মিউচুয়াল ফান্ডের বিস্তার ঘটানোর মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে বিকশিত করার সুযোগ রয়েছে। দেশের বিনিয়োগকারীদের কাছে মিউচুয়াল ফান্ডকে জনপ্রিয় করতে ডিএসই কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে মিউচুয়াল ফান্ডের বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসইসি’র কমিশনার ড. মিজানুর রহমান। তিনি এশিয়া ও পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশের সঙ্গে দেশের মিউচুয়াল ফান্ড খাতের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন এবং সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে দেশে এই খাতকে আরও বর্ধিত করা যায় সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।

অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের (এএএমসিএমএফ) সভাপতি হাসান ইমাম বলেন, বিশ্বে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৩০০ বছরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিরা একই সঙ্গে দেশের পুঁজিবাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী এবং পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বৃহৎ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। তিনি সবাইকে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর উত্তরণে কাজ করার অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ব্যাপ্তি আরও বাড়বে এবং দেশের পুঁজিবাজার ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।




প্রাইম ফাইন্যান্সের ৩ ফান্ডের পোর্টফোলিও খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন

পুঁজিবাজারের সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালিত তিনটি মিউচুয়াল ফান্ডের পোর্টফোলিওর সার্বিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)। গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালিত মিউচুয়াল ফান্ড তিনটি হলো- প্রাইম ফাইন্যান্সিয়াল ফার্স্ট ইউনিট ফান্ড, প্রাইম ফাইন্যান্স সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড এবং রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন বিএসইসির উপ-পরিচালক মো. রফিকুন্নবী এবং সহকারী পরিচালক মো. আতিকুল্লাহ খান।

তথ্য মতে, গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের নিজস্ব সুবিধার জন্য ইউনিট হোল্ডারদের অর্থ অবৈধ আত্মসাৎ, অপব্যবহার এবং পাচারে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ এবং মূল ব্যবস্থাপনা কর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখবে। কমিটি মিউচুয়াল ফান্ডের সমস্ত ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত পর্যালোচনা করবে।

এছাড়া, প্রতিটি মিউচুয়াল ফান্ডের সুবিধাভোগী মালিকের অ্যাকাউন্টে অফিসিয়াল লেনদেনের বিবরণী যাচাই করে দেখবে। কমিটি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে মেয়াদী আমানত এবং অন্যান্য ব্যালেন্সে কুপন পেমেন্ট বা সুদ প্রদানের প্রমাণ পর্যালোচনা করবে। আর মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি এবং কোনো সংশ্লিষ্ট পক্ষের সুবিধার জন্য বেআইনি অর্থপ্রদানকেও চিহ্নিত করবে। পাশাপাশি তদন্ত কমিটি সিকিউরিটিজ বিনিয়োগের ত্রৈমাসিক সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অফ বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) রেকর্ড পর্যালোচনা করবে।

প্রসঙ্গত, ইউএফএস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট বিনিয়োগকারীদের তহবিল থেকে ১৫৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে বিএসইসি বিষয়টি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ইউএফএস অ্যাসেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হামজা আলমগীর সম্পদের মিথ্যা প্রতিবেদন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে দেশ থেকে পালিয়ে যান। এই ঘটনার পর বিএসইসি অন্যান্য সম্পদ ব্যবস্থাপক পরিদর্শন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।




চার মিউচুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে তালিকাভুক্ত চারটি মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি কমিটি ইউনিটহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ২০২৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ফান্ডগুলোর ট্রাস্টি কমিটি।

বুধবার (১৬ আগস্ট) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মিউচুয়াল ফান্ডগুলো হলো—ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিনডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, রিলায়েন্স ওয়ান দ্য ফার্স্ট স্কিম অব রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও গ্রামীণ ওয়ান: স্কিম টু।

ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি কমিটি সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ইউনিটহোল্ডারদের জন্য ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি মুনাফা (ইপিইউ) ০.২৯ টাকা। ২০২৩ সালের ৩০ জুন ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিইউ) বাজারমূল্য অনুযায়ী দাঁড়িয়েছে ১০.৩২ টাকা। ইউনিটহোল্ডারদের মাঝে লভ্যাংশ বিতরণে ফান্ডটির রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ সেপ্টেম্বর।

গ্রিনডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি কমিটি সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ইউনিটহোল্ডারদের জন্য ১.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি মুনাফা (ইপিইউ) ০.১৪ টাকা। ২০২৩ সালের ৩০ জুন ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিইউ) বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১০.১৬ টাকা। ইউনিটহোল্ডারদের মাঝে লভ্যাংশ বিতরণে ফান্ডটির রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ সেপ্টেম্বর।

রিলায়েন্স ওয়ান দ্য ফার্স্ট স্কিম অব রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি কমিটি সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ইউনিটহোল্ডারদের জন্য ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি মুনাফা (ইপিইউ) ০.৫৫ টাকা। ২০২৩ সালের ৩০ জুন ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিইউ) বাজারমূল্য অনুযায়ী দাঁড়িয়েছে ১৩.৮০ টাকা। ইউনিটহোল্ডারদের মাঝে লভ্যাংশ বিতরণে ফান্ডটির রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ সেপ্টেম্বর।

গ্রামীণ ওয়ান: স্কিম টু’র ট্রাস্টি কমিটি সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ইউনিটহোল্ডারদের জন্য ৬.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি মুনাফা (ইপিইউ) ০.৬৫ টাকা। ২০২৩ সালের ৩০ জুন ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিইউ) বাজারমূল্য অনুযায়ী দাঁড়িয়েছে ১৯.২৮ টাকা। ইউনিটহোল্ডারদের মাঝে লভ্যাংশ বিতরণে ফান্ডটির রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ সেপ্টেম্বর।




পুঁজিবাজারে ২০০ কোটির ফান্ড আনবে ক্যাপিটেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট

দেশের পুঁজিবাজারে ২০০ কোটি টাকার মিউচুয়াল ফান্ড আনবে দেশের সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। ফান্ডটির নাম- ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড। ফান্ডটির বৈশিষ্ট্য হলো- মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড (Close-end Mutual Fund)।

রোববার (১৪ মে) গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ফান্ডের উদ্যোক্তা গ্রামীণ ব্যাংক এবং ফান্ডের ট্রাস্টি ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) মধ্যে এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ফান্ডের স্পন্সর গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে ক্যাপিটেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডেরও একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

চুক্তি সম্পাদন ও চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ক্যাপিটেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাসান রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান ও চিফ অপারেটিং অফিসার সুমিত পাল, গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম সাইফুল মজিদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোসলেহ উদ্দীন, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (মানব সম্পদ ও সেবা ব্যবস্থাপনা) ছাইদুজ্জামান ভূঞা, মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) প্রদীপ কুমার সাহা, আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু তাহের মোহাম্মদ আহমেদুর রহমান এবং উপমহাব্যবস্থাপক শরিকুল আনামসহ উপস্থিত ছিলেন তিনটি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফান্ডটির উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক আর ফান্ডের ট্রাস্টির দায়িত্ব পালন করবে আইসিবি। ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড হবে ক্যাপিটেক অ্যাসেট পরিচালিত চতুর্থ মিউচুয়াল ফান্ড। প্রতিষ্ঠানটি সফলভাবে তিনটি বে-মেয়াদি (Open-end) মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনা করছে। আর এটি তালিকাভুক্ত হলে আকারের দিক থেকে ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড হবে দ্বিতীয় বৃহত্তম মিউচুয়াল ফান্ড।

জানা গেছে, বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড হবে একটি বর্ধিষ্ণু ফান্ড (Growth Fund)। এই ফান্ডের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ক্যাপিটাল গেইন ও নগদ লভ্যাংশের সমন্বিত আয়ের উপর ভিত্তি করে ঝুঁকি সামঞ্জস্যপূর্ণ আয় করা এবং পুঁজিবাজার ও মুদ্রাবাজারে অনুমোদিত উপকরণগুলোতে বিনিয়োগ করে ফান্ডের ইউনিটহোল্ডারদের ভালো লভ্যাংশ প্রদান করা।




শেয়ারবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়লো

শেয়ারবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এখন থেকে মিউচুয়াল ফান্ড শেয়ারবাজারে আগের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভা শেষে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ সীমা ৬০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফান্ডগুলো এতদিন তার আকারের ১০০ টাকার মধ্যে ৬০ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারতো। এখন থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ৮০ টাকা করতে পারবে।