মালয়েশিয়ায় ফার্মাসিউটিক্যালস প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যালস ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদর্শনী ‘এসইএকেয়ার ২০২৬’-এ প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুরের সক্রিয় উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় এই অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৃহস্প‌তিবার (২১ মে) কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ‌্য জা‌নি‌য়েছে।

বিজ্ঞ‌প্তি‌তে জানা‌নো হয়, ২০–২২ মে ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মালয়েশিয়ার ডেপুটি মিনিস্টার অব হেলথ দাতো হাজা হানিফা হাজার তৈয়ব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের চারটি প্রতিষ্ঠানসহ বিশ্বের নয়টি দেশের ১০৫টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে।

ডেপুটি মিনিস্টারকে বাংলাদেশ হাই কমিশনের বুথে স্বাগত জানান হাইকমিশনার এবং বাংলাদেশের ঔষধশিল্পের অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

 

হাইকমিশনার মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের ওষুধপণ্যের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনের বুথে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের বিভিন্ন পণ্যের প্রদর্শনীর ব‍্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া, এরেবা ক্যাপসুলস লিমিটেড পৃথক বুথে ওষুধপণ্য ও সংশ্লিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করছে।

মালয়েশিয়ার ডেপুটি মিনিস্টার অব হেলথ বাংলাদেশের ঔষধশিল্পের অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনকে ধন্যবাদ জানান।

 

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো মালয়েশিয়ার বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে সক্ষম হবে।

পরবর্তী সময়ে হাইকমিশনার এরেবা ক্যাপসুলস লিমিটেডের বুথ পরিদর্শন করেন এবং উপস্থিত মিডিয়াকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

তিনি বলেন, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি ও নতুন বাজার সম্প্রসারণে পণ্যের বহুমুখীকরণের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ হাইকমিশন নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্প প্রদর্শনীতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছে।

তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, এ ফার্মাসিউটিক্যালস প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ঔষধশিল্পের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বাজারে প্রবেশাধিকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি ভবিষ্যতে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

মেলার প্রথম দিনে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ঔষধশিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও অংশীজন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশিগণ বাংলাদেশের বুথসমূহ পরিদর্শন করেন।

এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ মালয়েশিয়াসহ সমগ্র আসিয়ান অঞ্চলে বাংলাদেশে উৎপাদিত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ওষুধপণ্যের পরিচিতি বৃদ্ধি এবং রপ্তানির নতুন বাজার সম্প্রসারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।




মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার দ্রুত খুলতে কাজ করছে সরকার

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালু করতে সরকার জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা চাই স্বল্প খরচে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যেন আমাদের মানুষ যেতে পারেন। মালয়েশিয়াকে আহ্বান জানিয়েছি এই প্রক্রিয়াটাকে সিন্ডিকেটমুক্ত করার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন সেটি যেন করে।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেমন আন্তরিক, তেমনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।

শ্রমিক পাঠানো কবে শুরু হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। আমরা যত দ্রুত সম্ভব এটি উন্মোচনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

মামলা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, যৌথ বিবৃতিতে এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

‘বাংলাদেশে এখন যে গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে, আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাস করি। বিচার বিভাগ তার নিজস্ব গতিতে চলবে। যারা অপরাধী, যারা দুর্নীতি বা অপকর্মে যুক্ত, তারা আইনি প্রক্রিয়ায় শাস্তি পাবে। একইভাবে যারা নির্দোষ, তারাও সুবিচার পাবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’ বলেন তিনি।

‘ক্রেডিবল রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, এটি কোনো নতুন সিন্ডিকেট তৈরির উদ্যোগ নয়। এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, মালয়েশিয়ার সব সেন্ডিং কান্ট্রির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তাদের নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড রয়েছে, সেই অনুযায়ী তারা এজেন্সি নির্বাচন করে।

বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমরা ক্রেডিবল বা কোয়ালিফাইড বলতে তাদেরই বোঝাবো, যারা দুর্নীতিমুক্ত থেকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রিক্রুটমেন্ট পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে আমরা ধীরে ধীরে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনতে চাই।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের আকাঙ্ক্ষা বেশি সংখ্যক মানুষ বিদেশে যেতে পারবে, অভিবাসন ব্যয় কমবে এবং সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যেই আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছি।




মালয়েশিয়া থেকে আসছে ৬০ হাজার টন ডিজেল

মালয়েশিয়া থেকে ৭ কোটি লিটার ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ আসছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ও রাতে ৩ ঘণ্টা বিরতিতে ‍‘এমটি টর্ম দামিনি’ এবং ‘এমটি লুসিয়া সোলিস’ নামের জাহাজ দুটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে।

বিপিসির এক উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিপিসির নিয়মিত সরবরাহকারী ইউনিপেক (সিঙ্গাপুর) পিটিই লিমিটেড চায়না এবং পিটি বুমি সিয়াক পুসাকু (বিএসপি)-জাপিন ইন্দোনেশিয়া ডিজেলগুলো সরবরাহ দিচ্ছে।

জানা গেছে, ডেনমার্কের পতাকাবাহী ট্যাংকার জাহাজ এমটি টর্ম দামিনি মালয়েশিয়ার জোহর বন্দর এবং ইন্দোনেশিয়ান পতাকাবাহী এমটি লুসিয়া সোলিস মালয়েশিয়ার তানজুং পেলেপাস বন্দর থেকে গত ৯ এপ্রিল বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। জাহাজ দুটি ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। জাহাজ দুটিতে ৩০ হাজার টন করে ৬০ হাজার টন ডিজেল থাকবে। যা লিটারে প্রায় ৭ কোটি ১১ লাখ লিটার।




মালয়েশিয়ায় ৩৯৬ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অভিযান চালিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতের এ অভিযানে ৩৯৬ বাংলাদেশিসহ মোট ৭৭০ জন অনিবন্ধিত অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির গণমাধ্যম দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কুয়ালালামপুরের বুকিত বিনতাং এলাকায় রাতভর অভিযান চালায় ইমিগ্রেশন বিভাগ। অভিযানে অংশ নেয় শতাধিক কর্মকর্তা। মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয় ৭৭০ জন অভিবাসীকে।

ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের পরিচালক বসরি ওসমান জানান, আটক হওয়াদের মধ্যে ৩৯৬ জন বাংলাদেশি রয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন নারী। এ ছাড়া ২৩৫ জন মিয়ানমার, ৭২ জন নেপাল, ৫৮ জন ভারত এবং ১৭ জন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক রয়েছেন। অন্য দেশের আরও ৯ জনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এদের অধিকাংশই মালয়েশিয়ায় অনুমোদিত সময়সীমার বেশি দিন অবস্থান, বৈধ কাগজপত্র না থাকা এবং অনুমতি ছাড়া কাজ করার অভিযোগে আটক হয়েছেন।

বসরি ওসমান বলেন, বুকিত বিনতাং অনেক দিন ধরেই অনিবন্ধিত অভিবাসীদের জন্য হটস্পট হয়ে উঠেছে। নাইটলাইফ ও শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থানের কারণে এখানকার পরিবেশ তাদের আকৃষ্ট করে। তিন সপ্তাহ পর্যবেক্ষণের পরই অভিযান চালানো হয়।

তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




মালয়েশিয়ানদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য-বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে ব্যবসা ফোরামে বক্তব্য দেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে ব্যবসাবান্ধব করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে অনুষ্ঠিত এক ব্যবসা ফোরামে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অতীতে বাংলাদেশে ব্যবসা আমার ধারণা মতো এগোয়নি। তবে নতুন বাংলাদেশে অনেক কিছুই গড়ে উঠছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো ব্যবসার সম্ভাবনা।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সর্বোচ্চভাবে ব্যবসাবান্ধব হওয়ার চেষ্টা করছে। আমি পরিবর্তিত বাংলাদেশে অসীম সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছি।

প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে তার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এসব তথ্য জানান।

বাংলাদেশ তরুণদের দেশ, সৃজনশীল মানুষের দেশ, উল্লেখ করে তিনি বিনিয়োগকারীদের বহু দেশে ছড়িয়ে থাকা তরুণ বাংলাদেশি প্রবাসীদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

প্রবাসী তরুণ বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের সবসময়ই বাংলাদেশের জন্য কিছু করার তীব্র ইচ্ছা রয়েছে।

বিআইডিএ ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন কর্মসূচির শুরুতে একটি উপস্থাপনা বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ও অন্তর্বর্তী সরকারের শুল্ক ও অশুল্ক বাধা অপসারণের প্রচেষ্টা তুলে ধরেন।

সেলুলার অপারেটর রবি-র মূল শেয়ারহোল্ডার এবং আজিয়াটা গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিবেক সোদ-ও অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা দেন। তিনি বাংলাদেশে আজিয়াটার ২৮ বছরের প্রবৃদ্ধি ও অংশীদারত্বের সফলতা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে পেট্রোলিয়াম ন্যাশনাল বেরহাদ (পেট্রোনাস)-এর প্রেসিডেন্ট ও গ্রুপ সিইও তেংকু মুহাম্মদ তৌফিক; সার্বভৌম সম্পদ তহবিল খাজানাহ ন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল ফয়সাল ওয়ান জাহির; পাম তেলের শীর্ষ কোম্পানি সিম ডার্বি প্ল্যানটেশন্স, কুয়ালালামপুর কেপং বেরহাদ (কেএলকে), আইওআই কর্পোরেশন ও ফেলদা গ্লোবাল ভেঞ্চারস (এফজিভি)-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা; প্রোটন হোল্ডিংস বেরহাদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়সাল আলবার এবং টপ গ্লোভ কর্পোরেশনের নির্বাহী চেয়ারম্যান লিম উই চাই উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসায়িক সমাবেশের আগে মঙ্গলবার পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এনসিসিআইএম) এবং বাংলাদেশের ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।




নারী কর্মীদের মালয়েশিয়া যেতে মানা করল সরকার

কাজের উদ্দেশ্যে ট্যুরিস্ট কিংবা অন্যান্য ভিসায় নারীদের মালয়েশিয়া নিয়ে বিভিন্ন চক্র প্রতারণা করছে বলে জানিয়েছে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাই কমিশন। মালয়েশিয়ার সঙ্গে এ সংক্রান্ত কোনও চুক্তি না থাকায় সাধারণ কর্মী হিসেবে বাংলাদেশি নারীদের মালয়েশিয়ায় না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে হাই কমিশন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নারী কর্মীদের বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমানে দেশটির সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনও চুক্তি নেই। একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র নারী কর্মীদের বিভিন্নভাবে কর্মসংস্থান নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে ট্যুরিস্ট বা অন্যান্য ভিসায় নারীদের মালয়েশিয়ার নিয়ে প্রতারিত করছে তারা। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের আর্থিক কিংবা মানসিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হতে পারে।

মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে নারী কর্মী সংক্রান্ত চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ কর্মী হিসেবে মালয়েশিয়া না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।




বিদেশি কর্মী নিয়োগে বাংলাদেশিদের অগ্রাধিকার দেবে মালয়েশিয়া

এখন থেকে মালয়েশিয়ায় গিয়ে কাজ করতে ইচ্ছুক এবং আবেদনকারী বিভিন্ন দেশের কর্মীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের অগ্রাধিকার দেবে মালয়েশিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এই ঘোষণা দিয়েছেন।

শুক্রবার তিন ঘণ্টার সফরে ঢাকা এসেছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। ঢাকায় আসার পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, “বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রয়েছে এবং আমরা শিগগিরই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করব। তবে যেসব কর্মী আবেদনের সব শর্ত পূরণ করবে, শুধু তাদেরকেই অগ্রাধিকারের জন্য বিবেচনা করা হবে।”

বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চান, কিন্তু দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে তারা অর্থ লগ্নি করার সাহস পান না।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, “আমাদের দেশে আমরা সরকারি প্রশাসন বলতে বুঝি সুশাসন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং অর্থনীতির বিভিন্ন মৌলিক বিষয়। কারো বিরুদ্ধে যদি অনিয়মের কোনো অভিযোগ আসে, সেক্ষেত্রে আমরা আপোস করি না, কারণ কোনো রাজনৈতিক নেতা, তার পরিবারের সদস্য বা বন্ধুরা সরকারি সুবিধা নিয়ে নিজেদের অর্থ-সম্পদ বৃদ্ধি করবেন— এমন সংস্কৃতি আমাদের এখানে নেই।”

“এ কারণে সম্ভবত ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার সাহস পান না। আমি তাদের সঙ্গে (বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে) কথা বলে দেখতে পারি, তবে একটি ব্যাপারে আমাদের সবারই পরিষ্কার ধারণা থাকা উচিত যে দুর্নীতি এবং পরিশ্রম— এ দুই ইস্যুতে আমি কখনও আপোস করি না।”

তবে কৃষি, উচ্চশিক্ষা, হালাল অর্থনীতি এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ নির্মাণ খাতে বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে মালয়েশিয়ার সরকার কাজ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। দু’দেশ এ ইস্যুতে দু’দেশের সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিশন গঠন করা যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের এটিই প্রথম বাংলাদেশ সফর। একই সঙ্গে আনোয়ার ইব্রাহিমের এই সফরটি নতুন এই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রথম কোনো বিদেশি সরকারপ্রধানের ঢাকা সফর।




মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট চক্রের তৎপরতা বন্ধের দাবি

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী প্রেরণে সিন্ডিকেট চক্রের তৎপরতা বন্ধের দাবি জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাধারণ সদস্যদের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বায়রার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রিয়াজ উল ইসলাম, যুগ্মসচিব ফখরুল ইসলাম, সিনিয়র সদস্য খন্দকার আবু আশরাফ, কার্যনির্বাহী সদস্য কামাল উদ্দীন প্রমুখ।

 

বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রিয়াজ উল ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের আমলে প্রত্যেক সেক্টরে বিভিন্নভাবে সিন্ডিকেট প্রথা তৈরি হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের খাতকে এক সিন্ডিকেট চক্র চরমভাবে কলঙ্কিত করেছে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও অতিরিক্ত অভিবাসনের কারণে চলতি বছর ৩১ মে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ায় ৫০ হাজার কর্মী সেখানে যেতে পারেনি। যার মধ্যে ১৭ হাজার ছিল চূড়ান্তভাবে ট্রেনিং সম্পন্ন করা। যার ফলে কর্মী ও এই সেক্টরের উদ্যোক্তারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও নেতাদের নিয়ে এই সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন বায়রার সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল অব. প্রাপ্ত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরি নিজাম হাজারি, বেনজির আহমেদ, মহিউদ্দিন মহিসহ আরো অনেকে। এরইমধ্যে আইএলও, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এই বিষয়ে উদ্বেগ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকারকে অনুরোধ করেছে।

সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়া যাওয়া কর্মীদেরকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়েছে, যেখানে সিন্ডিকেটের চাঁদা ছিল জনপ্রতি ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা। এই অতিরিক্ত চাঁদার কারণে বড় বড় কোম্পানি গুলো, যারা বিনা পয়সায় কর্মী নেয়, তারাও বাংলাদেশ থেকেও কর্মী না নিয়ে নেপাল থেকে নিয়েছে। অনেকে আবার কর্মী নিতেই পারেনি। এই সিন্ডিকেটের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে শ্রম বাজার বন্ধ হওয়ায় ৫০ হাজার কর্মী যেতে পারেনি।

 

তিনি আরো বলেন, কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এতকিছুর পরও স্বৈরাচারী সরকারের দোসর রুহুল আমিন স্বপন ও কাজী মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে আবারো সিন্ডিকেট করার অপচেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে যেসব দাবি তুলে ধরা হয় সেগুলো হলো-

১. সিন্ডিকেটের মূল হোতা রুহুল আমিন স্বপনসহ সিন্ডিকেটের পরিকল্পনাকারী, বাস্তবায়নকারী, নিয়ন্ত্রণকারী আওয়ামী লীগ সরকারে জড়িত মন্ত্রী এমপি ও নেতাদের অনতিলম্বে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

২. কোনোক্রমেই সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সিন্ডিকেটে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। যদি সিন্ডিকেট করার পুনরায় সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে বর্তমান সরকারের সঙ্গে আগের সরকারের কোনো পার্থক্য থাকবে না।

৩. দুই দেশের এমওইউ সন্নিবেশিত বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়া সরকার সিলেকশন করার সুযোগ বাতিল করতে হবে। রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি সিলেকশন করবে নিয়োগকর্তা। সিন্ডিকেট মুক্তভাবে সব এজেন্সি কম খরচে বা বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর জন্য মন্ত্রণালয় পক্ষ থেকে সেন্ট্রাল অনলাইন পদ্ধতিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৪. সিন্ডিকেটের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে যেসব কর্মী যেতে পারেনি, তাদেরকে কম খরচে সিন্ডিকেটমুক্তভাবে পুনরায় মালয়েশিয়া পাঠাতে হবে।

৫. নেপালসহ অন্যান্য ১৩টি দেশ থেকে মালয়েশিয়া যে প্রক্রিয়ায় কর্মী গ্রহণ করে ঠিক বাংলাদেশ থেকেও একই প্রক্রিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে হবে।

৬. বিতর্কিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত FWCMS online পদ্ধতি বাদ দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অনলাইন পদ্ধতি এবং মালয়েশিয়া সরকারের প্রস্তাবিত ই-প্যাক্স বা ম্যানুয়াল পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।

৭. FWCMS এর মাধ্যমে মেডিকেল পদ্ধতি বাদ দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত যে কোন মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে মেডিকেল চেকআপ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

৮. ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে চালু হওয়া দূতাবাসের সত্যায়ন অব্যাহত রাখা এবং সিন্ডিকেটকে সহায়তাকারী সাবেক ফ্যাসীবাদী আমলে নিয়োগকৃত মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের কর্মকর্তাদের অপসারণ করতে হবে।




মালয়েশিয়া যেতে না পারা ১৭ হাজার কর্মীর টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ

মালয়েশিয়া যেতে না পারা ১৭ হাজার কর্মীর টাকা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মালয়েশিয়া পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি একথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠায়। তাদের কারও ১০ জন, কারও ৫০ জন, কারও ৫০০ জন, কারও ৪০০ জন কর্মী যেতে পারেনি। আমরা এগুলো নিয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সঙ্গে বসেছি, তাদের মতামত জানতে যে তারা টাকা নিলো কিন্তু পাঠাতে পারলো না। এই টাকার কী হবে তাদের কাছে জানতে চেয়েছি গতকাল বুধবার। তারা সবাই সম্মত হয়েছে যে প্রমাণ সাপেক্ষে যার কাছ থেকে যত টাকা নেওয়া হয়েছে সেটি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়া হবে। এই একটি ধাপে আমরা মোটামুটি এগিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, প্রথমে আমরা চেষ্টা করছি গরীব মানুষের টাকাটা ফেরত দেওয়ার। ১৫ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দিতে বলেছি। এই সময়ের মধ্যে যে টাকা দিতে পারবে না, তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এর পরে গিয়ে অন্য ব্যবস্থা। প্রথমে টাকা উদ্ধার হোক!

প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাকা ফেরত পাওয়ার পর আগামীতে যখন মালয়েশিয়া কর্মী নেবে তখন অগ্রাধিকার তালিকায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই মাসের শেষে মালয়েশিয়ার সঙ্গে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক হবে, সেখানে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর রাস্তা আবার উন্মুক্ত হবে।

শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ১৫ দিনের মধ্যে দেখি কী পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়, যারা দিতে ব্যর্থ হবে কিংবা অনিহা প্রকাশ করবে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছি সেটিও আপনারা জেনে যাবেন।

তদন্ত কমিটির অনুসন্ধান প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার যারা নিয়োগকর্তা তারাও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডিমান্ড দিতে দেরি করেছে। অনেকে আবার ভিসা পেয়েছে দেরিতে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য কর্মীর টাকা ফেরত দেওয়া এবং তাদের আবার মালয়েশিয়া হোক কিংবা অন্য দেশে হোক তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

এসময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রুহুল আমিন উপস্থিত ছিলেন।




মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ৩৭৭ অভিবাসী আটক

মালয়েশিয়ার সড়ক পরিবহন বিভাগ (জেপিজে) এবং সহযোগী সংস্থার যৌথ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৩৭৭ জন বৈধ কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে এ কথা জানান দেশটির অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক রুসলিন বিন জুসোহ।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার সড়ক পরিবহন বিভাগের (জেপিজে) সঙ্গে যৌথভাবে পুত্রজায়া সড়কের আশপাশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট হেডকোয়ার্টার্স পুত্রজায়ার এনফোর্সমেন্ট ডিভিশন ও প্রিভেনশন এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের ১১০ জন ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং পুত্রজায়ার জেপিজে হেডকোয়ার্টার্স থেকে বিভিন্ন পদমর্যাদার ৪০ জন জেপিজে অফিসার অভিযানে অংশ নেন।

অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক বলেন, জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে দেশটির কাজাং এবং বাঙ্গির দিক থেকে পুত্রজায়ায় প্রবেশের প্রধান সড়কে জেপিজে এবং ইমিগ্রেশন পুলিশের ২টি স্থানে চেকপয়েন্ট বসিয়ে বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তাদের বেশির ভাগই স্থানীয় আলম ফ্লোরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীর কাজের বাস যোগে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

অভিযানে মোট ৬০০ জন অভিবাসীর কাগজপত্র যাচাই বাছাই করা হয়, তার মধ্যে ৩৭৭ জনের কাছে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাদের আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে ২৫০ নারী ও ১২৭ জন পুরুষ রয়েছে। এদের মধ্যে বাংলাদেশ, নেপাল, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলঙ্কার নাগরিক রয়েছে। তাদের সবার বয়স ২৫ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে।

আটক অভিবাসীরা অভিবাসন বিভাগ আইনে ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট অ্যাক্ট ১৯৬৬ এবং ইমিগ্রেশন রেগুলেশনস ১৯৬৩ লঙ্ঘন করেছেন বলে জানায় মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ।

আটক অভিবাসীদের পরবর্তী তদন্তের জন্য দেশটির সেলাঙ্গর সেমেনিহ ইমিগ্রেশন ডিপোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে তাদের নাম-পরিচয় জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, দেশটিতে যদি কোন নিয়োগকর্তা অনিয়মিত অভিবাসীদের কাজে যোগ দেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এর অধীনে গ্রেপ্তার করা হতে পারে যেখানে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা বা অনধিক ১২ মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।




সঠিক ভিসা নিয়ে বাংলা‌দে‌শি‌দের মাল‌য়ে‌শিয়া ভ্রমণের অনু‌রোধ

বাংলাদেশি নাগরিকদের সঠিক ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়া ভ্রমণের অনুরোধ করেছে দেশটির ঢাকার হাইকমিশন। মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) ঢাকার মালয়েশিয়া হাইকমিশন এক বার্তায় এই অনুরোধ জানায়।

হাইকমিশনের বার্তায় বলা হয়, সঠিক ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়া ভ্রমণ করছেন কি না, তা নি‌শ্চিত হ‌য়ে নিন। মালয়েশিয়া পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা, কাজ বা পড়াশোনার জন্য মালয়েশিয়ায় ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের স্বাগত জানায়। দয়া করে নিশ্চিত করুন যে আপনি মালয়েশিয়া ভ্রমণের জন্য সঠিক ভিসা পেয়েছেন।

বার্তায় আরও বলা হয়, আপনি যদি অবকাশ যাপনের জন্য মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেন, তাহলে ট্যুরিস্ট ভিসা আপনার জন্য সঠিক। ত‌বে এ ট্যুরিস্ট ভিসা কোনও কাজের ভিসা নয়। দয়া করে কোনও ধরনের ভিসা জালিয়াতির সঙ্গে নিজেকে জড়াবেন না। আপনি যদি এটি করতে চান, তবে আপনার সমস্ত অর্থ হারানোর এবং বেআইনিভা‌বে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করলে আইন অনুসারে আটক করা হ‌তে পা‌রে।




মালয়েশিয়াতে কম খরচে শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা

মালয়েশিয়াতে কম খরচে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে উভয় দেশ তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বুধবার (১০ মে) দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিবদের বৈঠকে নিরাপদ, সুষ্ঠ ও নৈতিকতাসম্পন্ন অভিবাসনের বিষয়ে উভয়পক্ষের সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বাংলাদেশের পক্ষে এবং মালয়েশিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল নরমান মোহামাদ ওই দেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন। পাঁচ বছর পর ঢাকায় তৃতীয় পররাষ্ট্র সচিবদের মধ্যে বৈঠকটি হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মালয়েশিয়ানদের আরও জোরালো ভূমিকা নেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি আসিয়ান ও দিপক্ষীয়ভাবে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগেরও অনুরোধ জানান।

বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, হালাল বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন, আইসিটি, শিপিংসহ অন্যান্য বিষয়েও আলোচনা হয়।




বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভিসা সহজ করছে মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়া শুধু কর্মসংস্থানের জন্যই নয়, দেশটিতে নানা আয়োজন আছে পর্যটকদের জন্য। পর্যটনকে প্রধান আয়ের উৎস করার লক্ষ্যে কাজ করছে মালয়েশিয়া সরকার, নিয়েছে নানা পদক্ষেপ। ভিসা জটিলতার কারণে আগ্রহ থাকলেও বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়া ভ্রমণের হার ছিল কম। বাংলাদেশ থেকে বছরে ১ লাখ ২০ হাজার পর্যটকের টার্গেট নির্ধারণ করেছে দেশটি। এ কারণে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভিসা সহজ করছে মালয়েশিয়া।

এশিয়ায় নিজেদেরকে প্রধান পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে চায় মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়ার সব চেয়ে বেশি পর্যটক আসে সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সাউথ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইন থেকে। বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ মালয়েশিয়ায় যান কাজের উদ্দেশ্যে। অনেকেই ভিজিট ভিসায় (পর্যটন) গিয়ে সেখানে অবৈধভাবে থেকে যান বলে অভিযোগ আছে। এ কারণে বাংলাদেশিদের ভিজিট ভিসা দেওয়ার হার ছিল কম। তবে এসব চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের পর্যটক টানতেও আগ্রহী দেশটি।

করোনা ভাইরাসের মহামারি সারা বিশ্বের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মানুষের চলাচল বন্ধ থাকায়, ভ্রমণকারী না থাকায়— পর্যটন শিল্প সবার আগে ক্ষতির মুখোমুখি হয়। মালয়েশিয়াও এর ব্যতিক্রম নয়। পর্যটন শিল্প হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। হোটেল, ট্যুর অপারেটর, খাদ্য ও পানীয় তথা রেস্তোরাঁ, থিম পার্কসহ পর্যটন-সংশ্লিষ্ট খাতগুলো বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। করোনার পর ফের বাজার দখল করতে তৎপর হয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটির পর্যটন খাতের স্টেকহোল্ডাদের মতামতের ভিত্তিতে ‘মার্কেটিং প্ল্যান ২০২২-২০২৬’ প্রণয়ন করেছে দেশটির ট্যুরিজম প্রমোশন বোর্ড। মার্কেটিং কৌশল ও পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশটির ট্যুরিজম প্রমোশন বোর্ড পুরনো বাজারে প্রচারণার পাশাপাশি নতুন নতুন বাজার সৃষ্টিতে কাজ করছে। বিভিন্ন দেশের ট্যুর অপারেটর, এজেন্সি, পর্যটন সাংবাদিক, ব্লগারদের জন্য আয়োজন করছে ফ্যাম ট্রিপ, মেলাসহ নানা আয়োজন।

মালয়েশিয়ার ট্যুরিজম প্রমোশন বোর্ডের সিনিয়র পরিচালক (আন্তর্জাতিক প্রমোশন, এশিয়া-আফ্রিকা) মনোহরন পেরিয়াস্বামী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুধু মাত্র অবকাশ যাপন নয়, আমরা সারা বিশ্বে মালয়েশিয়াকে বহুমাত্রিকভাবে তুলে ধরছি। নানানভাবে পর্যটকদের দৃষ্টি আর্ষণের জন্য কাজ করছি। আমরা বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি সংখ্যক পর্যটক প্রত্যাশা করছি। এ কারণে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

মনোহরন পেরিয়াস্বামী বলেন, ‘অনেক বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় কাজ করতে আসেন। অনেকেই মালয়েশিয়ায় ভ্রমণ ভিসায় এসে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে কৌশলগত কারণে ভিসার বিষয়টি এতদিন কঠিন ছিল। তবে পর্যটকরা যেন নির্বিঘ্নে আসতে পারেন, এজন্য বাংলাদেশিদের ভিসার বিষয়টি সহজ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে বছরে ১ লাখ ২০ হাজার পর্যটককে টার্গেট নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

অনলাইন ট্রাভেল এজেন্ট (ওটিএ) শেয়ারট্রিপ-এর চিফ অপারেটিং অফিসার সোহেল মজিদ বলেন, ‘প্রকৃতি, অ্যাডভেঞ্জার, সংস্কৃতির বৈচিত্র্য থাকায় মালয়েশিয়ায় ভ্রমণ নিয়ে বাংলাদেশে মানুষের আগ্রহ আছে। কাছাকাছি গন্তব্য হওয়ায় অনেকেই পরিবার নিয়েও বেড়াতে যান। আগের তুলানায় মালয়েশিয়ায় ভিসা দেওয়ার হারও বেড়েছে। এখন অনলাইনেই ই-ভিসা পাচ্ছেন পর্যটকরা।’

তিনি বলেন, ‘তবে মালয়েশিয়া সিঙ্গেল এন্ট্রির ভিসা দেয়। এটা পর্যটকদের জন্য জটিলতা। অনেক পর্যটক কুয়ালালামপুরে আসেন, তারপর সিঙ্গাপুর কিংবা ইন্দোনেশিয়া ঘুরে ফের মালয়েশিয়া আসতে চান। সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার কারণে এ সুবিধা পাচ্ছেন না পর্যটকরা।’

জানা গেছে, পর্যটকদের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা দেওয়ার জন্য দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাব করেছে সে দেশের পর্যটন, আর্ট এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। বর্তমানে মালয়েশিয়া সিঙ্গেল এন্ট্রির ভিসা দিয়ে থাকে। এটিকে পর্যটনের বড় বাধা হিসেবে দেখছেন দেশটির পর্যটন, আর্ট এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা এবং মেয়াদ থাকলে ফের ঘুরতে আসবেন অনেক পর্যটক।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর ভিন্ন ধরনেরমিশ্রণ রয়েছে। দেশটির সরকারি ধর্ম হলো ইসলাম। তবে বৌদ্ধ, হিন্দু এবং খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্ম অবাধে পালন করা হয়। থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ চীন সাগর থেকে ব্রুনাই এবং ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত সবকিছুর মিল রয়েছে মালয়েশিয়ার। যেমন রয়েছে, স্থাপত্য শৈলি, একইসঙ্গে প্রাকৃতিক পরিবেশও পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়। মালয়েশিয়ায় রয়েছে মোট ১৩টি রাজ্য। সেগুলো হচ্ছে— কেলান্তান, তেরেঙ্গানু, পাহাং, জোহর, মেলাকা, নেগেরি সেম্বিলান, সেলাঙ্গর, পেরাক, পুলাউ পিনাং, কেদাহ, পেরলিস, সাবাহ এবং সারাওয়াক। দেশটির তিনটি ফেডারেল টেরিটোর হচ্ছে— কুয়ালালামপুর, পুত্রজায়া এবং লাবুয়ান।