ডিএসইতে বিদায়ী সপ্তাহে পিই রেশিও বেড়েছে

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (৮ থেকে ১১ জানুয়ারি) পর্যন্ত সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) সামান্য বেড়েছে। আলোচ্য এ সময়ে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ০.০৭ শতাংশ।

ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ১৩.১২ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৩.২৩ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও ০.১১ পয়েন্ট বা ০.৮৪ শতাংশ বেড়েছে।

এর আগের সপ্তাহের শুরুতে (১ থেকে ৪ জানুয়ারি) ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ১৩.১২ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৩.১৩ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও ০.০১ পয়েন্ট বা ০.০৭ শতাংশ বেড়েছিল।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) মার্জিন ঋণের যোগ্যতা হিসেবে সর্বোচ্চ ৪০ পিই রেশিও বেঁধে দিয়েছে। এ হিসেবে ৪০ পর্যন্ত পিইধারীর শেয়ার বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ বলে জানায় বিএসইসি। সেই হিসেবে গত বৃহস্পতিবার ডিএসইর পিই দাঁড়িয়েছে ১৩.২৩ পয়েন্টে।




মার্জিন ঋণ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিল বিএসইসি

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে মার্জিন ঋণ সুবিধার বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন(বিএসইসি)। নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো কোম্পানির শেয়ারের মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) সর্বোচ্চ ৫০ পর্যন্ত মার্জিন ঋণ সুবিধা দিতে পারবে।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) বুধবার (৩ মে) এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

 

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) সর্বোচ্চ ৫০ পর্যন্ত মার্জিন ঋণ সুবিধা দেওয়া যাবে। তবে এসব কোম্পানি পরপর ৩ অর্থবছর ‘এ’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করতে হবে। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন সর্বনিম্ন ৩০ কোটি টাকা থাকতে হবে।

গত ১৮ এপ্রিল এ সংক্রান্ত আরেকটি নির্দেশনা জারি করেছিল কমিশন। নতুন নির্দেশনা আগেরটির স্থলে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আগের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, যে সব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজগুলো টানা তিন অর্থবছর ‘এ’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে এবং কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি টাকার বেশি, সেসব কোম্পানির শেয়ারের পিই রেশিও অনুপাত ৫০ পর্যন্ত মার্জিনেবল হিসাবে বিবেচিত হবে।




মার্জিন ঋণ নিয়ে বিএসইসি ও ডিএসই’র বৈঠক আগামীকাল

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ট্রেক হোল্ডারদের জন্য তৈরি মার্জিন আইন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বৈঠকে বসবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বৈঠকটি আগামী ৩ মে রাজধানীর আগারগাঁও সিকিউরিটিজ কমিশন ভবনের সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠকের বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর পাঠিয়েছে কমিশন। চিঠিতে ট্রেক হোল্ডারদের মার্জিন ঋণের বিষয়ে ডিএসইকে আগামী ৩ মে সকাল ১১টায় সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান।

ডিএসই থেকে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (টিআরইসি হোল্ডারস মার্জিন) রেগুলেশনস, ২০১৩’ এর সংশোধিত আইনের বিষয়ে বিএসইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। যা গত বছর ২৬ মে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। সার্বিক বাজার পরিস্থিতি এবং ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) থেকে পাওয়া অনুরোধের কারণে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ট্রেক হোল্ডারস মার্জিন রেগুলেশনস, ২০১৩ আইনটি বাস্তবায়ন করতে পারেনি ডিএসই। আর এ বিষয়ে যথাসময়ে বিএসইসিকে জানিয়েছে ডিএসই।

এরমধ্যে ডিএসই আইনের ক্ষেত্রে কিছু অস্পষ্টতা এবং চ্যালেঞ্জ পর্যবেক্ষণ করেছে।

সংশোধিত আইন বাস্তবায়নের সময় বেশ কিছু বিষয় ডিএসইর নজরে এসেছে। সেগুলোর মধ্যে প্রাথমিক শেয়ারহোল্ডারের ন্যূনতম শেয়ারের সংখ্যাসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ না করে শেয়ারহোল্ডিং ট্রেকহোল্ডার এবং অন্যান্য ট্রেকহোল্ডারদের জন্য আলাদা নন-মার্জিন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া অনেক আগে থেকেই ট্রেকহোল্ডার কোম্পানিগুলো বিনামূল্যে মার্জিন সীমা/নন মার্জিন সীমা ১০ কোটি টাকা উপভোগ করছে। নতুন প্রবিধান (৩এ) অনুযায়ী শেয়ারহোল্ডিং ট্রেকহোল্ডাদের ৫০ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। কিন্তু এ বিষয়ে পরিষ্কার ছিল না যে ট্রেকহোল্ডাররা সিকিউরিটি ডিপোজিট জমা না দিলে ফ্রি মার্জিনসীমা সম্পর্কিত বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বাজারে দীর্ঘ সময়ে নিম্নমুখী প্রবণতা বিবেচনা করে ডিবিএ বেশ কয়েকবার ডিএসইকে ন্যূনতম সিকিউরিটি ডিপোজিটের বিকল্প বা সংশোধিত আইনের আগে থাকা ফ্রি মার্জিন সুবিধা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। আলোচ্য জটিল পরিস্থিতি বিবেচনা করে একটি উপযুক্ত বিকল্প সমাধান খুঁজে বের করতে এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার জন্য একটি সভা করার সময় বিএসইসির কাছে চেয়েছিল ডিএসই। এরই আলোকে আগামী ৩ মে কমিশনে বৈঠক হবে বলে জানা গেছে।