এপ্রিলে ৭ দিনেই রেমিট্যান্স এলো ১০০৪০ কোটি টাকা

চলতি বছরের মার্চে বৈশ্বিক রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ওই মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এর আগে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের মার্চে ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার এবং একই বছরের ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার।

রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে চলতি এপ্রিল মাসেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, এপ্রিলের প্রথম সাতদিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৮৩ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২০ টাকা ধরে) যার পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার ৪০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৬৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ১৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা ২ হাজার ২৮১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশি এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, এর আগে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল গত বছরের মার্চে। ওই সময় প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। সে হিসাবে চলতি বছরের মার্চে রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি।

এছাড়া তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে, যখন দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। আর চতুর্থ সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে চলতি বছরের জানুয়ারিতে, ওই মাসে প্রবাসী আয় ছিল ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও অস্থিরতার প্রভাব বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও পড়তে শুরু করেছে। সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা বেড়েছে এবং স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হারও বেড়েছে। ফলে প্রবাসীরা দেশে পাঠানো ডলারের বিপরীতে তুলনামূলক বেশি টাকা পাচ্ছেন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।




১২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১০৭ কোটি ডলার

চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১২ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১০৭ কোটি (১.০৭ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২১ টাকা হিসাবে)। চলতি মাসের বাকি দিনগুলোতেও এ গতি অব্যাহত থাকলে, জুলাই মাস শেষে রেমিট্যান্স ২৭৬ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার (১৩ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো এ রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফিরিয়েছে। হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ, প্রণোদনা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতির ফলেই রেমিট্যান্সে এ ধারাবাহিকতা এসেছে।

সব শেষ জুন মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২৮২ কোটি মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি।

সদ্য সদ্যসমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবাহ এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই অংক এক অর্থবছরে দেশে আসা সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। প্রবাসী আয়ের এমন ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও ডলারের জোগানে স্বস্তি এনে দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশের মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের এই অঙ্ক গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৩ সালের জুনে রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলার ছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে মোট রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার।

আর ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ২৬ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে বিপিএম-৬ ছিল ২১ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার।

এদিকে, আগামী (২০২৫-২৬) অর্থবছরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে প্রাক্কলন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মিডিয়াম টার্ম ম্যাক্রোইকোনমিক পলিসি স্টেটমেন্ট অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে রপ্তানিতে ১০ শতাংশ, আমদানিতে ৮ শতাংশ এবং রেমিট্যান্সে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে ধারণা করা হয়েছে।




এপ্রিলে রেমিট্যান্স এলো ২৭৫ কোটি ডলার

ঈদের পরও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আহরণ। যার ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিল মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে ২৭৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৩ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে)। দৈনিক গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ৯ কোটি ১৭ লাখ ডলার বা এক হাজার ১১৯ কোটি টাকা।

এপ্রিল মাসের এ রেমিট্যান্সের পরিমাণ একক মাস হিসেবে এ যাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে বৈধ পথে ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল বাংলাদেশে। যা ছিল একক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৬৪ কোটি ডলার এসেছে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে।

রোববার (৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জা‌নিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ৪৫৪ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৯১২ কোটি মার্কিন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা জানান, অর্থপাচারের বিষয়ে বর্তমান সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এতে হুন্ডিসহ বিভিন্ন অবৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানো কমে গেছে। ফলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আহরণ বেড়েছে।

এদিকে বৈধ পথে প্রবাসী আয় ইতিবাচক ধারায় থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে। দেশের ইতিহাসে ২০২২ সালের আগস্টে রিজার্ভ উঠেছিল সর্বোচ্চ ৪৮ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলারে। সেখান থেকে প্রতি মাসে কমতে–কমতে সরকার পতনের আগে গত জুলাই শেষে তা ২০ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। তবে সরকার পতনের পর আর রিজার্ভ থেকে কোনো ডলার বিক্রি করছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে মোট রিজার্ভ এখন ২ হাজার ৭৪১ কোটি ডলার বা ২৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার। প্রকৃত রিজার্ভ ২২ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার উঠেছে।




১৬ দিনে এসেছে ১১৫ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৬ দিনে বৈধপথে ও ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের পাঠানো ১১৫ কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ১২ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১১০ টাকা ধরে)। দৈনিক গড়ে আসছে ৭ কোটি ১৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এর আ‌গে চলতি মাসের প্রথম ৯ দিনে প্রবাসীরা পা‌ঠি‌য়ে‌ছিলেন ৬৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার।

রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১০ কোটি মার্কিন ডলার।

তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারির ১৬ দিনে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১১৪ কো‌টি ৯৯ লাখ ডলার এসেছে। এর ম‌ধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৩ কোটি ৮৪ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৯৫ কোটি ৬৫ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৫ লাখ মার্কিন ডলার।

২০২৩ সালের শেষ মাস ডিসেম্বরে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ১৯৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স আসে ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে আসে ১৫৬ কোটি ডলার, মার্চে ২০২ কোটি, এপ্রিলে ১৬৮ কোটি, মে মাসে ১৬৯ কোটি, জুনে ২২০ কোটি, জুলাইয়ে ১৯৭ কোটি, আগস্টে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ, সেপ্টেম্বর মাসে ১৩৩ কোটি, অক্টোবরে ১৯৭ কোটি, নভেম্বর ১৯৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে।

গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। তার আগের ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার, যা ছিল কোনো অর্থবছরে সর্বোচ্চ পরিমাণ রেমিট্যান্স।




ডিসেম্বরের প্রথম ২২ দিনে এলো ১৫৬ কোটি ডলার

দেশে ডলারের তীব্র সংকট চলছে। আমদানির দেনা শোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এমন পরিস্থিতির মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবর পাওয়া গেল রেমিট্যান্স-এ। কিছুদিন ধরে দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়ছে।

ডিসেম্বরের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধপথে ও ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৫৬ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার। গড়ে দৈনিক আসছে ৭ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার করে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে প্রবাসী আয় দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

রোববার (২৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই ২২ দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৩ কোটি ৮৫ লাখ ২০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৩৭ কোটি ১৯ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৪৩ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৭ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, আগস্টে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বরে ১৩৩ কোটি ৪৩ লাখ মার্কিন ডলার, অক্টোবরে ১৯৭ কোটি ১৪ লাখ ৩০ হাজার ডলার এবং নভেম্বর মাসে এসেছে ১৯৩ কোটি মার্কিন ডলার।

২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১৬১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। তার আগের অর্থবছরে এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ হয়েছিল। সে বার রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার।




আরও কমলো ডলারের দর

১৫ দিনের ব্যবধানে মার্কিন মুদ্রা ডলারের দর আরও ২৫ পয়সা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বা‌ণি‌জ্যিক ব্যাংকগু‌লো। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে ডলারের দর নির্ধারণের দায়িত্বে থাকা দুই সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) জরুরি বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন দর ১৪ ডিসেম্বর (বৃহস্প‌তিবার) থেকে কার্যকর হবে। বাফেদার চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্র‌তি ডলারে ২৫ পয়সা কমানোর ফলে ডলারের ক্রয় দর হবে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা। আর বিক্রয় দর হবে ১১০ টাকা। দেশের মুদ্রা বাজারে ডলারের স্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ায় মুদ্রাটির দাম তৃতীয় দফায় কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে ডলারের দাম আরও কমবে।

বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার অংশ হিসেবে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও ব্যাংকের নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) ডলারের দর নির্ধারণ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে পরামর্শ করে দাম নির্ধারণ করে থাকে সংগঠন দুটি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বরাবরের মতোই মুদ্রাটির দাম বাড়িয়ে যাচ্ছিল সংগঠন দুটি। তবে গত ২২ নভেম্বর এ দুই সংগঠন দাম নির্ধারণের দায়িত্বে আসার পর প্রথমবারের মতো ৫০ পয়সা দর কমিয়েছিল। এরপর সপ্তাহের ব্যবধানে ২৯ ডিসেম্বর আরও ২৫ পয়সা কমানো হয় ডলার দর। আর তৃতীয় দফায় গতকাল কমেছে আরও ২৫ পয়সা।

কোভিড মহামারি থেকে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর সময় ২০২১ সালের মাঝামাঝি থেকে ডলারের চাহিদা বাড়তে থাকে। পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আন্তর্জাতিক বাজারের দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেলে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়। তখন থেকে সরবরাহ সঙ্কটে দাম বেড়ে ডলারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।

বাফেদা ও এবিবি দর নির্ধারণের দায়িত্বে আসার পর থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্রমাগত ডলারের দর বাড়িয়ে আসছিল। দর বাড়ানোর হার বেশি হয়ে যাচ্ছে কি না এমন সমালোচনার মধ্যে গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো ডলারের দর কমিয়েছে সংগঠন দুটি।




২৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭৫ কোটি মার্কিন ডলার

প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ পথে ও ব্যাংকিং চ্যানেলে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাইয়ের প্রথম ২৮ দিনে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে ১৭৪ কোটি ৯২ লাখ মার্কিন ডলার। এতে দৈনিক আসছে ৬ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

রোববার (৩০ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি মাসের ২৮ দিনে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছে এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২১ কোটি ৮৬ লাখ ৬০ হাজার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৪ হাজার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৪৭ কোটি ৬ লাখ ৮০ হাজার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৮ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার।

সদ্য বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার। আগের ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ হয়েছিল। যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার।




৯ দিনে প্রবাসী আয় ৬ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা

প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলতি মাসের প্রথম ৯ দিনে ৫৭ কোটি ৫৬ লাখ ৮০ হাজার ( ৫৭৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। রোববার (১১ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি মাসের ৯ দিনে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছে এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১১ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৪২ কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, গত মে মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে ১৬৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। আগের বছরের মে মাসে ১৮৮ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এর আগে ঈদের মাস এপ্রিলেও প্রবাসী আয় কম এসেছিল। ওই মাসে রেমিট্যান্স আসে ১৬৮ কোটি ডলার। ২০২২ সালের এপ্রিলে যার পরিমাণ ছিল ২ বিলিয়নের ওপরে।

রেমিট্যান্স বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে বিভিন্নভাবে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত বছর ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে জানায়, বৈধ পথে বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স প্রেরণ করুন, প্রিয়জনকে ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ রাখুন। হুন্ডি বা অন্য কোনো অবৈধ পথে রেমিট্যান্স না পাঠানোর জন্য এভাবে আহ্বান জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে (হুন্ডি বা অন্য কোনো অবৈধ পথে) প্রেরণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এতে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানায়, আপনাদের অর্জিত মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা হুন্ডি বা অন্য কোনো অবৈধ পথে না পাঠিয়ে বৈধ পথে বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে প্রেরণ করুন, দেশ গড়ায় মূল্যবান অবদান রাখুন এবং আপনার প্রিয়জনকে ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ রাখুন। আরও জানায়, অবৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে প্রমাণ সাপেক্ষে প্রচলিত আইনে বিএফআইইউ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

উল্লেখ্য, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ৯৪১ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৯১৯ কোটি ৪৪ লাখ ডলার।




 ভারতের সঙ্গে রুপিতে বাণিজ্যের উদ্যোগ

বাংলাদেশ যাতে ভারতের সঙ্গে রুপিতে বাণিজ্য করতে পারে, সেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি এখন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক জানিয়েছেন, মার্কিন ডলারের পরিবর্তে রুপি ব্যবহার করে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। কিছু দ্বিপাক্ষিক সমস্যা রয়েছে। সেগুলোর সমাধানের কাজ চলছে। ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হবে বলে আশা করছি।

দুদেশের মধ্যে বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতে ২০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল। এর বিপরীতে বাংলাদেশ ভারত থেকে পণ্য আমদানি করেছিল এক হাজার ৬১৯ কোটি ডলারের। ঘাটতির পরিমাণ এক হাজার ৪১৯ কোটি ডলার।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এত বড় অঙ্কের বাণিজ্যে রুপির ব্যবহার শুরু হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে সব ধরনের পর্যালোচনা করেছে। এটি পর্যায়ক্রমে বাড়বে।

এলসি খোলার জন্য নির্দিষ্ট ডলার কোটা থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী এলসি খোলা হবে। আমরা রপ্তানির চেয়ে বেশি আমদানি করছি ভারত থেকে। এ জন্য বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। ফলে ভারতের সঙ্গে রুপিতে বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে এ বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

নাম না প্রকাশের শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ভারতের সঙ্গে রুপিতে বাণিজ্য করতে হলে ভারত ও বাংলাদেশের ব্যাংকের সঙ্গে রুপি ব্যবহারের জন্য পৃথক চুক্তিতে সই করতে হবে। এগুলো নিয়ে কাজ চলছে।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের বিষয়ে দুদেশের ব্যবসায়ীরাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দুই দেশের বাণিজ্যের পুরো চিত্র ইতোমধ্যে ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি একটি প্রস্তাব আকারে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছে।

গত বছরের ২২-২৩ ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাণিজ্যবিষয়ক বাংলাদেশ-ভারত মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ভারত উভয় দেশের জন্য বাণিজ্যের মাধ্যম হিসাবে রুপি চালু করার প্রস্তাব করেছিল।

এরপর চলতি এ বছর ২৪-২৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত জি-২০ দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠকের ফাঁকে বিনিময় মুদ্রা হিসাবে ডলারের বিকল্প বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল।

সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার ও রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার গভর্নর শক্তিকান্ত দাস মার্কিন ডলারের পরিবর্তে রুপি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।