‘নগদ’ কার্যালয়ে ‍দুদকের অভিযান

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’র প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থপাচারের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অভিযান পরিচালনা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান পরিচালনা করছেন। অভিযানে লেনদেনসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ দপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

অভিযোগসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (এমএফএস) প্রায় পাঁচ হাজার অবৈধ এজেন্ট রয়েছে। এসব এজেন্টের মাধ্যমে গত এক বছরে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এজেন্টরা হুন্ডির মাধ্যমে ওই টাকা পাচার করেছে। এসব বিষয় সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতেই আজকের অভিযান। পর‌্যায়ক্রমে অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের প্লাটফর্মের লেনদনের তথ্য-উপাত্তও সংগ্রহ করা হবে বলে দুদকের একটি সূত্রে জানা গেছে।

আরএম/জেডএস




মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশের ৫ ধাপ উন্নতি

অর্থপাচার বা মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের পাঁচ ধাপ উন্নতি হয়েছে। ব্যাসেল অ্যান্টি মানি লন্ডারিং (এএমএল) ইনডেক্স- ২০২৩ রিপোর্টে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। সোমবার (২০ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ পাঁচটি দেশকে পেছনে ফেলে র‌্যাংকিং এর ৪১ নম্বর দেশ থেকে ৪৬ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে। ওই সূচক মোতাবেক সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের মধ্যে রয়েছে হাইতি (১), চাদ (২), মিয়ানমার (৩), কঙ্গো (৪) এবং সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হলো আইসল্যান্ড (১৫২)।

অবশ্য এই সূচকে ২০২২ সালেও ২০২১ সালের তুলনায় আট ধাপ উন্নতি করেছিল বাংলাদেশ।

এই তালিকায় চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য যথাক্রমে ২৭, ১১৯ ও ১৪০তম অবস্থানে রয়েছে।

সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক দ্য ব্যাসেল ইনস্টিটিউট অন গভার্নেন্স বিশ্বের ১৫২টি দেশের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঝুঁকি নিরূপণ করে গত ১৩ নভেম্বর এই ইনডেক্স প্রকাশ করে। ২০২২ সালের তথ্যের ওপর এটি তৈরি করা হয়েছে।

রিপোর্টে বাংলাদেশের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ সূচকে উন্নয়নের কারণ হিসেবে আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কাঠামোর মানোন্নয়নের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারে উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক অঙ্গীকার, আন্তঃসংস্থার কাজের সমন্বয়, আর্থিক খাতে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের পর্যাপ্ত লোকবল ও অর্থের সংস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এপিজি’র মিউচ্যুয়াল ইভালুয়েশন রিপোর্ট মোতাবেক বাংলাদেশ এফএটিএফ এর ৪০টি সুপারিশের সবকটিই বাস্তবায়ন করেছে।

উল্লেখ্য, দ্য ব্যাসেল ইনস্টিটিউট অন গভার্নেন্স গত ১২ বছর ধরে কোনও একটি দেশের যে পাঁচটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ব্যাসেল এএমএল ইনডেক্স নির্ধারণ করে থাকে সেগুলো হলো— মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থার পরিপালন (৬৫%); ঘুষ ও দুর্নীতি (১০%); আর্থিক স্বচ্ছতা ও মানদণ্ড (১০%); স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা (৫%); এবং আইনগত ও রাজনৈতিক ঝুঁকি (১০%)।




ই-অরেঞ্জ কেলেঙ্কারির হোতা সোহেল রানার অবস্থান জানতে চান হাইকোর্ট

ই-অরেঞ্জ কেলেঙ্কারির হোতা ঢাকার বনানী থানার বরখাস্ত পরিদর্শক সোহেল রানা বর্তমানে কোথায় আছেন জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। সোহেল রানার সবশেষ অবস্থান ও তাকে ফেরানোর পদক্ষেপ জানাতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সোহেল রানার বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে।

রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ রাষ্ট্রপক্ষে আর ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ুম লিটন রিটের পক্ষে শুনানি করেন।

এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি সোহেল রানাকে ফিরিয়ে আনার ব্যপারে পদক্ষেপ জানাতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এই আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল সোহেল রানাকে ভারতের কারাগার আটক ছিলেন। জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়ে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

প্রতারিত গ্রাহকরা ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা করার পর সোহেল রানা বিনা অনুমতিতে কর্মক্ষেত্র ছেড়ে যান। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের কোচবিহারে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে আটক হন। অনুপ্রবেশের দায়ে তিন বছর কারাদণ্ড হয় তার। এরপর ভারতের কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি।

পরে অসুস্থতার কথা বলে কলকাতার হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চে আবেদন করে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর জামিন পান। আদালতে ভারতীয় নাগরিক কোচবিহার মেখলিগঞ্জ থানার ইসমাইল হোসেনের ছেলে নূর আলম এবং একই থানার চৌরঙ্গীবাজারের রফিকুল রহমান তার জামিনদার ছিলেন। তবে সোহেল রানা জামিনে বের হয়ে পালান। এরপর ফেব্রুয়ারিতে জামিনদার নূর আলমকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ। বাতিল হয় সোহেল রানার জামিন।

এদিকে সোহেল রানা ও তার বোন ই-অরেঞ্জের মূল মালিক সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুদুরের বিরুদ্ধে ২৭টি মামলার তথ্য পেয়েছে ঢাকা টাইমস। একটি মানিলন্ডারিং, দুটি ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে এবং বাকিগুলো প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের মামলা।

এর মধ্যে গুলশান থানার পাঁচটি মামলায় সোহেল রানা ও তার বোন-বোনের স্বামীকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। চার্জশিটে অভিুযক্তরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির আরেক পরিচালক বীথি আকতার, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) আমানউল্লাহ চৌধুরী, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ এবং সাবেক সিও নাজমুল রাসেল। এদের মধ্যে সোহেল রানা, বীথি আকতার ও কাওসার পলাতক। নাজমুল রাসেল গত ফেব্রুয়ারিতে জামিনে কারামুক্ত হন। বাকিরা কারাগারে রয়েছেন।