চাল-ডাল-তেল মজুতের অভিয়োগে জরিমানা সাড়ে ৩ লাখ টাকা

রমজানে উপলক্ষে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে চাল-ডাল-তেল মজুত করেছিল তিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এই খবরে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন।

সোমবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর জুরাইনে দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ অভিযান চলে।

ওই তিন প্রতিষ্ঠান হলো- জনপ্রিয় স্টোর (ম্যানেজার নজরুল ইসলাম), মেসার্স ফরিদপুর রাইস এজেন্সি (ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম) এবং মেসার্স আরব রাইস এজেন্সি (ম্যানেজার নিজাম উদ্দিন)। এদের মোট তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে ২৩ হাজার ২০০ কেজি চাল, ২০০০ কেজি ডাল এবং ১৫০০ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দণ্ডপ্রাপ্তরা তাদের অপরাধ স্বীকার করেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে এ অপরাধ করে আসছিলেন বলে জানান।

র‍্যাব-৩ এর স্টাফ অফিসার (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার মো. শামীম হোসেন জানান, অবৈধভাবে পণ্য মজুতকারী প্রতিষ্ঠানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।




এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ৭ মামলায় ২ লাখ টাকা জরিমানা

এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবারের (২৯ আগস্ট) নগরের বিভিন্ন এলাকায় সাতটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালানা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি)। অভিযানে বাসাবাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় সাত মামলায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এক লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অঞ্চল-৩ এর আওতাধীন ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত নাখালপাড়া ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত গুলশান-২ এলাকায় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলকার নায়ন এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাখী আহমেদ মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান পরিচালনাকালে বাসাবাড়ি, বাণিজ্যিক ভবন ও নির্মাণাধীন ভবনে, ফাঁকা প্লটে মশক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। একটি ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ভবন মালিককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

 

অঞ্চল-৫ এর আওতাধীন মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় মশক নিধন অভিযানে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ৪ মামলায় মোট ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বির আহমেদ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারাওয়াত মেহজাবীন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রমথ রনজন ঘটক।

এছাড়া অঞ্চল-৪ এর আওতাধীন মিরপুরের কাজীপাড়া, দীপনগর ও সিটি পল্লী এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবায়েত হায়াত শিপলু অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে প্রায় ৯৫ টি বাসাবাড়ি, ভবন, রেস্টুরেন্ট ও দোকানপাট পরিদর্শন করা হয়েছে। একটি বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

 

অঞ্চল-১০ এর আওতাধীন ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত বাওয়ালি পাড়া এলাকায় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউল বাসেত অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে একটি বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ডিএনসিসির দশটি অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে লিফলেট বিতরণ করে এবং মাইকিং করে জনসাধারণকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সচেতন করেন।




এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ১৩ স্থাপনাকে জরিমানা

এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ঢাদসিক) পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১৩ স্থাপনাকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (২৩ জুলাই) করপোরেশনের ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, সবুজবাগ,নবীপুর লেন, মালিটোলা, পূর্ব জুরাইন, উত্তর মান্ডা ও কোনাপাড়া এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এক নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. মনজুরুল হক ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় ৪০টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। আদালত এ সময় কোনো স্থাপনায় মশার লার্ভা পাননি।

দুই নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর-আল-নাসিফ ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকায় ৪১টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। আদালত এ সময় ১টি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ১ মামলায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

এ ছাড়া দুই নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহরিয়ার হক ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে ৬২টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। আদালত এ সময় কোনো স্থাপনায় মশার লার্ভা পায়নি।

তিন নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তায়েব-উর-রহমান হাজারীবাগের নবীপুর লেনে ৬৪টি বাসাবাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করেন। আদালত এ সময় ৫টি স্থাপনা ও বাসাবাড়িতে মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫ মামলায় ৬৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

চার নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের মালিটোলা এলাকায় ৪২টি স্থাপনা ও বাসাবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন এবং ২টি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ২ মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

পাঁচ নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সফি উল্লাহ ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জুরাইন এলাকায় ৩৫টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেন এবং ২টি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ২ মামলায় ৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

সাত নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাওসীফ রহমান ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মান্ডা এলাকায় ৪৫টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেন এবং ১টি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ১ মামলায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

নয় নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের কোনাপাড়া এলাকায় ৪৫টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেন এবং ২টি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ২ মামলায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

আজকের অভিযানে সর্বমোট ৩৮৪ বাসাবাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করা হয়েছে। এ সময় ১৩টি বাসাবাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনে মশার লার্ভা পাওয়ায় ১৩ মামলায় সর্বমোট ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।




ঢাকা দক্ষিণে জরিমানার কবলে ২৩ স্থাপনা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ঢাদসিক) পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকালে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ২৩টি স্থাপনাকে জরিমানা করা হয়েছে। দক্ষিণ সিটির আট ভ্রাম্যমাণ আদালত ২৩ মামলায় ২ লাখ ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন।

সোমবার (১০ জুলাই) ধানমন্ডি ৩০, গোপীবাগ, ঝিগাতলা, বংশাল, মানিকনগর, স্বামীবাগ, মান্ডা, নতুন পাড়া, ডেমরা, রসুলপুর, কুতুবখালী, দনিয়া ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মঞ্জুরুল হক এক নম্বর অঞ্চলে ধানমন্ডি ৩০ এলাকায় ৩০টি বাসা ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত এ সময় তিনটি স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পায়। বাংলাদেশ আই হাসপাতালের ধানমন্ডি ব্র্যাঞ্চকে ৩০ হাজার, কনকর্ড রিয়েল এস্টেটের নির্মাণাধীন ভবনে দায়িত্বরত প্রকৌশলীকে ৫০ হাজার টাকা এবং আরেকটি ভবনের দায়িত্বরত তত্ত্বাবধায়ককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ ও তা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এম আর সেলিম শাহনেওয়াজ দুই নম্বর অঞ্চলে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোপীবাগ এলাকায় ৫৫টি বাসা ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। এ সময় দুটি স্থাপনায় লার্ভা পাওয়ায় ২ মামলায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

ডিএসসিসির প্রধান সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকন্দ মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দিন তিন নম্বর অঞ্চলে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিগাতলা এলাকায় ২৬টি বাসা ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। এ সময় দুটি স্থাপনায় লার্ভা পাওয়ায় ২ মামলায় ১১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানার আদালত চার নম্বর অঞ্চলে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বংশাল এলাকার ২০টি বাসা ও স্থাপনায় অভিযান চালান। দুটি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ২ মামলায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সফি উল্লাহ পাঁচ নম্বর অঞ্চলে ৭ ও ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের মানিকনগর ও স্বামীবাগ এলাকায় ২৬টি বাসা ও স্থাপনায় অভিযান চালান। ২টি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ২ মামলায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম সাত নম্বর অঞ্চলে ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের মান্ডা এলাকায় ৯৫টি বাসা ও স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেন। পাঁচটি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫ মামলায় ১৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম নয় নম্বর অঞ্চলে ৬৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পাড়া ও ডেমরায় ৫২টি বাসা ও স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেন। তিনটি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ৩ মামলায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর আলম ১০ নম্বর অঞ্চলে ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর, কুতুবখালী, দনিয়া ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় ২৩টি বাসা ও স্থাপনায় অভিযান চালান। চারটি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ৪ মামলায় ১৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

আজকের অভিযানে মোট ৩২৭টি বাসা ও স্থাপনা পরিদর্শন করা হয়েছে। এ সময় ২৩টি বাসা ও নির্মাণাধীন ভবনে মশার লার্ভা পাওয়ায় ২৩ মামলায় সর্বমোট ২ লাখ ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এদিকে, আজ থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকার স্কুল-কলেজসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় এডিস মশার লার্ভা নিধনে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতা সৃষ্টিতে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষিণ সিটির ৩০টি ওয়ার্ডে তিন দিনব্যাপী বিশেষ চিরুনি অভিযানও চলছে।