এলপিজির ভ্যাট সাড়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ

অবশেষে এলপি গ্যাস উৎপাদনে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট সাড়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করে আদেশ জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

ভ্যাট আদায় নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সোমবার (১৩ জানুয়ারি) এনবিআরের মূসক আইন ও বিধি বিভাগ থেকে এক বিশেষ আদেশে স্পষ্টীকরণ করা হয়েছে। নতুন আদেশে সাড়ে সাত শতাংশের অতিরিক্ত ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা ৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।

অর্থাৎ এনবিআরের নির্দেশনার পর এলপি গ্যাসের উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ হলো।

এ বিষয়ে ভ্যাট বিভাগের এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত ৯ জানুয়ারি শতাধিক পণ্যে শুল্ক, কর ও ভ্যাট জারি করার অধ্যাদেশে দেখা যায়, তফশিলভুক্ত পণ্য থেকে এলপি গ্যাসকে বাদ দেওয়া হয়। তফশিলভুক্ত থাকা অবস্থায় এলপি গ্যাসের উৎপাদনে ৫ শতাংশ ভ্যাট ছিল, তবে আড়াই শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া ছিল। কিন্তু আইন অনুযায়ী তফশিল থেকে ওই পণ্য বাদ দেওয়ায় স্বাভাবিক নিয়মে (১৫ শতাংশ) ভ্যাট প্রযোজ্য হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় কমিশনারেট কত আদায় করবে এবং ব্যবসায়ীরা কত শতাংশ ভ্যাট দেবে তা নিয়ে জটিলতার ছিল, সে বিষয়ে এনবিআর বিশেষ আদেশের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছে।

এনবিআরের বিশেষ আদেশে বলা হয়েছে, বর্তমানে এলপি গ্যাস বাসাবাড়িতে রান্নার জ্বালানি, অটোগ্যাস স্টেশনে যানবাহনের জ্বালানি এবং বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আর বর্তমানে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাস অপ্রতুল হওয়ার কারণে পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন প্রকার শিল্প কারখানায় এলপি গ্যাসের চাহিদা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এলপি গ্যাসের উৎপাদন ও ব্যবহার সহজলভ্য করার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন অনুযায়ী উৎপাদন পর্যায়ে এলপি গ্যাসে সাড়ে ৭ শতাংশের অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অব্যাহতি দিয়েছে।

নতুন আদেশের পর শিল্প কারখানার উদ্যোক্তা ও বাসা-বাড়িতে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারকারীরা এলপি গ্যাসের দাম বাড়ার শঙ্কার রয়েছেন বলে জানা গেছে।




মেট্রোরেলে ভ্যাট অব্যাহতি

ঢাকার বাসিন্দাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা গণপরিবহন মেট্রোরেলে সব ধরনের যাত্রীসেবায় মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অব্যাহতি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ সুবিধা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।

সোমবার (৬ জানুয়ারি) এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (মূসক আইন ও বিধি) ব্যারিস্টার মো. বদরুজ্জামান মুন্সীর সই করা এ সংক্রান্ত বিশেষ আদেশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আদেশে বলা হয়, মেট্রোরেল বাংলাদেশের সর্বাধুনিক ও জনপ্রিয় গণপরিবহন। মেট্রোরেল যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি কর্মঘণ্টা সাশ্রয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। মেট্রোরেলকে অধিক জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে এর যাতায়াত ব্যয় সাশ্রয়ী করা প্রয়োজন।

সেখানে বলা হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৪৭ নং আইন) এর ধারা ১২৬ এর উপ-ধারা (৩) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে দ্রুতগামী, নিরাপদ, সময় সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও দূরনিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থা মেট্রোরেল সেবার ওপর আরোপণীয় মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি প্রদান করা হলো।

 

এই ভ্যাট অব্যাহতি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে আদেশ জানানো হয়েছে।




‘জাহাজের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি’

জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি পর্যায়ে আরোপিত মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ডগুলোকে গ্রিন শিপ ইয়ার্ডে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে শর্তসাপেক্ষে এ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব (মূসক নীতি) মশিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কথা জানানো হয়েছে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে, যা ২০২৫ সালের ২৬ জুন পর্যন্ত এই অব্যাহতি বহাল থাকবে।

আদেশে বলা হয়েছে, সরকার ২০২৫ সালের ২৬ জুনের মধ্যে সব জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ডকে গ্রিন শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে উন্নীত করবে। নয়তো ওই সময়ের পর থেকে পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য কোনো জাহাজ বাংলাদেশে আসতে পারবে না। তাই মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৪৭ নম্বর আইন) এর ধারা ১২৬ এর উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী সব ধরনের মূল্য সংযোজন কর (আগাম করসহ) অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আদেশে আরও বলা হয়, আমদানি করা মূলধনী যন্ত্রপাতি শুধু শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় এবং ব্যবহার হবে মর্মে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদমর্যাদার নিচে নন এমন একজন কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র শুল্কায়নের সময় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করতে হবে। রেয়াতি হারে আমদানি করা মূলধনী যন্ত্রপাতি শুধু শিপ ব্রেকিং ও রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে ব্যবহার করতে হবে। ন্যূনতম পাঁচ বছরের আগে বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না। পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার আগে আমদানি করা ওইসব মূলধনী যন্ত্রপাতি বিক্রি বা হস্তান্তর করা হলে প্রদত্ত রেয়াতি সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে এবং সেক্ষেত্রে আমদানি পর্যায়ে আরোপিত সব মূল্য সংযোজন কর (আগাম করসহ) আদায়যোগ্য হবে।

আরও বলা হয়, রেয়াতি হারে আমদানি করা মূলধনী যন্ত্রপাতি শুধু শিপ ব্রেকিং ও রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে ব্যবহার এবং ন্যূনতম পাঁচ বছরের আগে বিক্রি বা হস্তান্তর না করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মূল্য সংযোজন কর বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তা তদারকি করবেন।

আমদানি করা মূলধনী যন্ত্রপাতি ন্যূনতম পাঁচ বছরের আগে বিক্রি বা হস্তান্তর করা হবে না বলে তিনশত টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি অঙ্গীকারনামা শুল্কায়নের সময় আমদানিকারককে দাখিল করতে হবে।

 




সরকারি চাকরিতে আবেদনের ফি বাড়লো

সরকারি চাকরিতে আবেদনের ফি বাড়ানো হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে পুনরায় ফি বাড়ানো হলো। নবম গ্রেডের চাকরির আবেদন ফি ৬০০ টাকা এবং এর ওপর সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাটসহ পরিশোধ করতে হবে আরও ৬৯ টাকা। এবার পরীক্ষার ফি’র সার্ভিস চার্জের (টেলিটক বাংলাদেশের কমিশন) ওপর ভ্যাট যোগ করে পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরির আবেদন ফি’র ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। উপ-সচিব মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর হবে। এর সঙ্গে বেশ কয়েকটি শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্র অনুযায়ী, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন ও পরীক্ষার ফি নেওয়া হবে। পরীক্ষার ফি বাবদ সংগ্রহ করা অর্থের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কমিশন হিসেবে টেলিটককে দিতে হবে এবং কমিশন হিসেবে পাওয়া অর্থের ১৫ শতাংশ ভ্যাট হিসেবে আদায় করা হবে।

পরিপত্র অনুযায়ী, নবম গ্রেডের চাকরিপ্রত্যাশীদের আবেদন ফি হবে ৬০০ টাকা। এর সঙ্গে টেলিটককে সার্ভিস চার্জ হিসেবে ১০ শতাংশ বা ৬০ টাকা দিতে হবে। ৬০ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ বা ৯ টাকা ভ্যাট দিতে হবে। অর্থাৎ নবম গ্রেডে চাকরিপ্রত্যাশীদের আবেদন করতে গুনতে হবে মোট ৬৬৯ টাকা।

দশম গ্রেডের চাকরিপ্রত্যাশীদের আবেদন ফি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে ৫০ টাকা সার্ভিস চার্জ এবং ৭ টাকা ৫০ পয়সা ভ্যাট দিতে হবে। অর্থাৎ দশম গ্রেডের চাকরির জন্য আবেদন করতে ব্যয় হবে ৫৫৭ টাকা ৫০ পয়সা।

১১ ও ১২তম গ্রেডে আবেদন ফি ৩০০ টাকা। এর সঙ্গে ৩০ টাকা সার্ভিস চার্জ ও ৪ টাকা ৫০ পয়সা ভ্যাট। মোট দিতে হবে ৩৩৪ টাকা ৫০ পয়সা। ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের চাকরির আবেদন ফি ২০০ টাকা। এর সঙ্গে সার্ভিস চার্জ ২০ টাকা এবং ভ্যাট ৩ টাকা। মোট দিতে হবে ২২৩ টাকা। ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরির আবেদন ফি ১০০ টাকা। এর সঙ্গে ১০ টাকা সার্ভিস চার্জ এবং ১ টাকা ৫০ পয়সা ভ্যাট। মোট দিতে হবে ১১১ টাকা ৫০ পয়সা।

পরিপত্রে কয়েকটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন ও পরীক্ষা ফি দিতে হবে। পরীক্ষার ফি বাবদ সংগৃহীত অর্থের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কমিশন হিসেবে টেলিটককে দেওয়া হবে। কমিশন হিসেবে পাওয়া অর্থের ১৫ শতাংশ ভ্যাট হিসেবে আদায় করা যাবে।

টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড পরীক্ষার ফি বাবদ অর্থ নেওয়ার পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাংক চেকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে জমা দেবে। ওই প্রতিষ্ঠান অবিলম্বে চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে তা জমা করবে। তবে, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ওই অর্থ নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে জমা করতে পারবে।

অনলাইন আবেদন না নিলে পরীক্ষা ফি বাবদ অর্থ চালানের মাধ্যমে দিতে হবে। তবে, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যাংক ড্রাফট/পে অর্ডারে অর্থ নিতে পারবে।

পরীক্ষার ফি বাবদ আদায় করা অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ১৩ ডিজিট প্রাতিষ্ঠানিক কোড এবং ৭ ডিজিট নতুন অর্থনৈতিক কোড ১৪২২৩২৬ এ অটোমেটেড চালানে সরকারি কোষাগারে জমা করতে হবে।

কোনো প্রতিষ্ঠান ম্যানুয়াল চালানে (টিআর ফরম) পরীক্ষা ফি জমা করতে চাইলে ১-প্রাতিষ্ঠানিক কোড (চার অঙ্ক বিশিষ্ট) পরিচালনা কোড (চার অঙ্ক বিশিষ্ট), অর্থনৈতিক কোডে (২০৩১) জমা করতে হবে।

নতুন এ পরিপত্রের মাধ্যমে ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে জারি করা পরিপত্র বাতিল করা হয়েছে। গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্রে নবম গ্রেডের চাকরির আবেদন ফি ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা আগে ছিল ৫০০ টাকা।

দশম গ্রেডের চাকরির আবেদন ফি আগের মতো ৫০০ টাকা রাখা হয়। তবে, ১১ ও ১২তম গ্রেডের চাকরির আবেদন ফি ধরা হয় ৩০০ টাকা। আগে গ্রেড দুটির চাকরির আবেদন ফি নির্ধারণ করা ছিল না। ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে চাকরির আবেদন ফি বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়। ১৩ থেকে ১৬ তম গ্রেডে চাকরির আবেদন ফি ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরির আবেদন ফি ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়।

সে সময় আবেদন ফি’র সঙ্গে টেলিটকের কমিশন বাবদ ১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ রাখা হয়। তবে, এ কমিশনের ওপর কোনো ভ্যাট ছিল না। এখন নতুন করে কমিশনের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করা হয়েছে।

 




ভ্যাট আহরণের গতি বৃদ্ধি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে ইএফডিএমএস

বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইএফডিএমএস) চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট আহরণে এনবিআরের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ডিভাইস বসাবে জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড।

মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর এনবিআরের মাল্টিপারপাস হলে ভ্যাট আদায়ের ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইএফডিএমএস) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ভ্যাট ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার জন্য সরকার কাজ করছে। ভ্যাট দেওয়ার মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষ দেশের উন্নয়নে অংশ নিতে পারে। সেই জায়গায় আমরা স্বচ্ছতা আনতে চাই। এ ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। বিষয়টি ডিজিটাল হওয়ায় সবাই আগ্রহী হবে বলে আমার বিশ্বাস।

তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এ ধরনের কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়। জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেডকে ধন্যবাদ। এ ধরনের কাজ ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে যাওয়ার পদক্ষেপ। ইএফডিএমএস ব্যবহারের এই উদ্যোগকে সর্বস্তরের মানুষ স্বাগত জানাবে এবং ব্যবহারে এগিয়ে আসবে। আমরা এনবিআর এর ব্যবস্থাপনায় এবং জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেডের সহায়তায় এই উদ্যোগকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে চাই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থ সচিব মিজ ফাতিমা ইয়াসমিন বলেন, ভ্যাটের আওতা বেড়েছে। অনেক সময় ব্যবসায়ীরা জনগণের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা দেন না। দিলেও দেরি করে দেন। এজন্যই অটোমেশনের প্রয়োজন। ই-এফডিএমএস তথ্য নিরাপত্তার দায়িত্ব এনবিআরের।

তিনি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের সব কার্যক্রম হবে পেপারলেস সেটাই স্বাভাবিক। সে লক্ষ্যে আমাদের কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে।

অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম বলেন, হয়রানি থেকে রক্ষা পাই এমন নিশ্চয়তা পেতে হবে। অটোমেশনের বিকল্প নেই। ইএফডিএমএস ব্যবসাবান্ধব হবে আশা করছি।

অন্যদিকে জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ জালাল উদ্দিন বলেন, ভ্যাট ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে শুধু সরকারের রাজস্বই বৃদ্ধি পাবে না বরং টেকসই অর্থনীতির পথেও দেশ এগিয়ে যাবে। ইএফডিএমএস ব্যবসায় উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং হিসাব শৃঙ্খলা নিশ্চিতে সহায়তা করবে। ভ্যাট প্রদানে এবং রিটার্ন দাখিলে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় যে জটিলতা ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন তা এ ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে অনেকাংশে দূর হয়ে যাবে। ভ্যাট সংগ্রহে আমরা এনবিআরের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছি। প্রাথমিকভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রতি বছরে ৬০ হাজার করে পাঁচ বছরে তিন লাখ ইএফডিএমএস মেশিন বসানো হবে। এর মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশের রূপকল্প আরও গতিশীল হবে।

দেশে বর্তমানে মোট রাজস্বের প্রায় ৪০ শতাংশ আদায় হয় ভ্যাট থেকে। ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, বিপনিবিতান, হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ ২৫টি খাতে ইএফডিএমএস ডিভাইস বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

২০২২ সালের ৩ নভেম্বর স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী- প্রতিষ্ঠানটি বিনামূল্যে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিপনিবিতানে ইএফডি মেশিন বসাবে। বিনিময়ে প্রতি ১০০ টাকা ভ্যাটে ৫২ পয়সা কমিশন হিসেবে পাবে।

শর্তানুযায়ী, জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেডকে প্রতিটি জোনে প্রথম বছরে ন্যূনতম ২০ হাজার ইএফডি-এসডিসি সরবরাহ ও স্থাপন করতে হবে। চুক্তির পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিটি জোনে মোট এক লাখ করে তিনটি জোনে পর্যায়ক্রমে ৩ লাখ ইএফডি এবং সেলস ডাটা কন্ট্রোলার (এসডিসি) সরবরাহ ও স্থাপন করতে হবে।

এ সেবা দেওয়ার ফলে সরকারের ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক (এসডি) আহরণ বাড়বে। একইসঙ্গে প্রতি বছর কোম্পানিটির ২১২ কোটি টাকা আয় বাড়বে বলে আশা করছে এনবিআর।




বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম

২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এই বাজেটে কিছু পণ্যে আয়কর, শুল্ক, ভ্যাট অথবা সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এতে লেখার কলম থেকে শুরু করে ফেসিয়াল টিস্যু, টয়লেট টিস্যু, সিমেন্ট, কাজু বাদাম, বাসমতি চাল, চশমা, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, এলপি গ্যাস সিলিন্ডার, প্লাস্টিকের পাত্র, অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র, সিগারেট, জর্দা-গুল, খেজুর, বিদেশি টাইলস ও মোবাইল ফোনসহ বেশকিছু নিত্যব্যবহার্য পণ্যের দাম আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে।

শুধু নিত্যপণ্যই নয়, আগামীতে সংসার খরচের পাশাপাশি বাড়তে পারে ভ্রমণ খরচও। কারণ, নতুন অর্থবছরের বাজেটে বিমানের টিকিটের ওপর ভ্রমণ কর বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জুন) বিকেল ৩ টায় জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের ৫২তম বাজেট। এটি বর্তমান সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের পঞ্চম বাজেট, টানা ১৫তম এবং অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পঞ্চম বাজেট।

যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে:
কলম: শিক্ষার্থীদের লেখার প্রধান উপকরণ কলমের দামও নতুন অর্থবছরে বাড়তে পারে। কলম উৎপাদনে বর্তমানে ভ্যাট অব্যাহতি রয়েছে, সেখানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কারখানা থেকে বাজারে কলম সরবরাহের সময় এই কর আরোপ করা হবে। এতে কলমের দাম বাড়তে পারে।
চশমার ফ্রেম ও সানগ্লাস: ফ্রেম ও সানগ্লাস আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে সামনে এসব পণ্যের দামও বাড়তে পারে।

দামি গাড়ি: আগামী অর্থবছরের বাজেটে দামি গাড়ির ওপর নতুন করে আরোপ হতে পারে। ফলে বাজেটে দামি গাড়ি আরও দামি হতে পারে। ২০০১ সিসি থেকে ৩০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ি আমদানিতে এখন ২০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসে, যা বাড়িয়ে ২৫০ শতাংশ এবং ৩০০১ থেকে ৪০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করে ৫০০ শতাংশ করা হতে পারে। ২০০০ সিসির বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতাবিশিষ্ট গাড়ি সাধারণত জিপগাড়ি হয়। এখন দেশে বিপুলসংখ্যক জিপগাড়ি কিংবা এসইউভি মডেলের গাড়ি আসছে। জনপ্রিয় হচ্ছে জিপগাড়ির ব্যবহার। টয়োটা, মিতসুবিশি, নিশান, টাটাসহ নানা খ্যাতনামা কোম্পানির গাড়ির ব্যবহার বাড়ছে।

নির্মাণ সামগ্রী: বাড়ি নির্মাণের প্রধান উপকরণ সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিঙ্কার আমদানিতে বর্তমানে টনপ্রতি ৫০০ টাকা শুল্ক রয়েছে, নতুন অর্থবছরে এটি বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হচ্ছে। এ কারণে সিমেন্টের দাম বাড়তে পারে। বাসা-বাড়িতে ব্যবহৃত বিদেশি টাইলস আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ফলে বিদেশি টাইলসের দামও বাড়তে পারে।

ভূমি ও ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও চট্টগ্রাম ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (সিডিএ) এলাকায় জমি নিবন্ধনের ট্যাক্স বিদ্যমান ৩ শতাংশ ও ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে যথাক্রমে ৪ শতাংশ ও ৫ শতাংশ হতে পারে। এ ছাড়া ফ্ল্যাট বিক্রিতে বিদ্যমান গেইন ট্যাক্স বাড়তে পারে। ফলে আগামী অর্থবছর থেকে উভয় ক্ষেত্রে বাড়তি খরচ গুনতে হবে।

সিগারেট: বাড়তি বাজেট বরাদ্দ করতে হবে ধূমপায়ীদের। কারণ প্রস্তাবিত বাজেটে সব ধরনের সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে নিম্নস্তরের এক প্যাকেট (২০ শলাকার) সিগারেটের (যেমন-হলিউড, ডার্বি) দাম ৯০ টাকা, মধ্যম স্তরের (স্টার, নেভি) ১৩৪, উচ্চস্তরের (গোল্ডলিফ) ২২৬ এবং অতি উচ্চস্তরের (বেনসন, মার্লবোরো) সিগারেটের দাম ৩০০ টাকা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ানো হচ্ছে জর্দা-গুলের দামও। তবে বিড়ির দাম অপরিবর্তিত থাকবে।

বাসমতি চাল: নতুন অর্থবছরে বাসমতি চাল আমদানিতে ভ্যাট বসানোর হয়েছে। ফলে বিরিয়ানি-তেহারির অন্যতম প্রধান উপকরণ এ চালের দাম আরও বাড়বে। এতে যারা শখ করে উৎসব-পার্বণে বিরিয়ানি বা তেহারি খেতে পছন্দ করেন, খরচ বাবদ তাদের গুনতে হবে বাড়তি টাকা।

খেজুর ও কাজুবাদাম: সুস্বাস্থ্যের জন্য কাজুবাদাম অনেকের কাছেই জনপ্রিয়। দেশে বাদাম চাষকে উৎসাহিত করতে কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৩ শতাংশ করা হচ্ছে। তাই আমদানি করা কাজুবাদামের দাম বাড়তে পারে। এ ছাড়া নতুন অর্থবছরের বাজেটে তাজা ও শুকনা খেজুর আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্কের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তৈজসপত্র ও গৃহস্থালি সামগ্রী: বাড়তি অর্থ গুনতে হবে প্লাস্টিকের তৈরি সব ধরনের টেবিলওয়্যার, কিচেনওয়্যার, গৃহস্থালি সামগ্রীতেও। কারণ এসব পণ্যের উৎপাদনে ভ্যাট বাড়িয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে এসব পণ্যের উৎপাদনে ৫ শতাংশ ভ্যাট আছে।

এ ছাড়া অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি গৃহস্থালি সামগ্রী ও তৈজসপত্রের (হাড়ি-পাতিল, থালা-বাসন) ক্ষেত্রেও ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে কিচেন টাওয়াল, টয়লেট টিস্যু, ন্যাপকিন টিস্যু, ফেসিয়াল টিস্যু/পকেট টিস্যু ও পেপার টাওয়াল উৎপাদনে ৫ শতাংশ ভ্যাট আছে, এটি বাড়িয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে আগামীতে এসব পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।

শুল্ক ফাঁকি রোধে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সব ধরনের ওভেন আমদানির শুল্ক ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে মোট করভার ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বিদেশি ওভেনের দাম বাড়তে পারে। অবশ্য দেশে ওভেন উৎপাদনের ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা দেওয়া আছে। ফলে বিদেশি ওভেনের দাম বাড়লেও দেশি ওভেনের দাম না-ও বাড়তে পারে।

সিলিন্ডার: বর্তমানে সারাদেশে রান্নার কাজে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যাপক হারে ব্যবহার হয়। প্রস্তাবিত অর্থবছরের বাজেটে সিলিন্ডার উৎপাদনে ব্যবহৃত স্টিল ও ওয়েল্ডিং ওয়্যার আমদানিতে শুল্ক আরোপ এবং উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে আগামীতে রান্নার চুলার জন্যও গুনতে হবে বাড়তি টাকা।

মোবাইল ফোন: মোবাইল ফোনকে বিলাসী পণ্য বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মোবাইল ফোন উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি আছে, সেখানে ২ শতাংশ ভ্যাট বসানো হচ্ছে। আর সংযোজন পর্যায়ে ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ এবং ৫ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে। এ কারণে খুচরা পর্যায়ে মোবাইল ফোনের দাম বাড়তে পারে।

সাইকেল: নতুন অর্থবছরে সাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিরিশ কাগজ আমদানিতেও শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। ভাঙা জিনিস জোড়া দেওয়ার আঠা বা সুপার গ্লু সংরক্ষণমূলক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

বিমানের টিকিট: শুধু নিত্যপণ্যই নয়, আগামীতে সংসার খরচের পাশাপাশি বাড়বে ভ্রমণ খরচও। কারণ, নতুন অর্থবছরের বাজেটে বিমানের টিকিটের ওপর ভ্রমণ কর বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আবার অধিক সংখ্যক মানুষকে করজালের আওতায় আনতে এবার শূন্য আয় (করযোগ্য সীমার নিচে বার্ষিক আয়) দেখিয়ে রিটার্ন জমার স্লিপ (প্রাপ্তি স্বীকারপত্র) নিতে ন্যূনতম দুই হাজার টাকা কর আরোপের পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার।

এবারের বাজেটের মূল দর্শন হলো- ২০৪১ সালের মধ্যে সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ। এই স্লোগান নিয়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। নতুন এ বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এতে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে রাখার কথা বলা হচ্ছে।