ভিয়েতনাম-বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি চান ব্যবসায়ীরা

বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ বাধা দূরীকরণসহ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সই এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ভিয়েতনামের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক ডেপুটি মিনিস্টার ফ্যান থি থ্যাং।

বুধবার (১৪ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত ভিয়েতনাম-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম ২০২৫ –এ তিনি এসব কথা বলেন।

ফোরামে ভিয়েতনামের ১৬ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন। প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন ডেপুটি মিনিস্টার ফ্যান থি থ্যাং।

কৃষি, পর্যটন, ওষুধ, মৎস্য আইসিটিসহ বেশকিছু শিল্পের বাণিজ্য সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে ভিয়েতনামের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক ডেপুটি মিনিস্টার ফ্যান থি থ্যাং জানান, উভয় দেশ একে অপরের পণ্যে উচ্চ ট্যারিফ আরোপ করে রেখেছে। ট্যারিফ, নন-ট্যারিফ বাধা দূর করাসহ পরিবহন, যোগাযোগ ও লজিস্টিকস ব্যবস্থা সহজ করা গেলে অনাবিষ্কৃত খাতগুলোর বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এ সময় দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক সহযোগিতা দৃঢ় করার পরামর্শ দেন তিনি।

উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের কথা বলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রহিম খানও। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে লেনদেন ব্যবস্থা আরও সহজ করার পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামের মধ্যে বিপুল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে, যার একটি বড় অংশই অনাবিষ্কৃত থেকে গেছে। এ সময় অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে জয়েন্ট ভেঞ্চার উদ্যোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন ঢাকায় নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত গুয়েন মান কোং। প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং কারিগরি সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশে শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুফল পেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামের মধ্যে বাণিজ্য-ভিসা সহজীকরণের আহ্বান জানান ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ লুৎফর রহমান। দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ এবং অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার গুরুত্ব তুলে ধরেন ভিয়েতনাম বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ডো ভ্যান থ্রং।




ভিয়েতনাম থেকে এলো ২৯ হাজার টন চাল

ভিয়েতনাম থেকে ২৯ হাজার টন চাল নিয়ে এভি ওবিই ডিনারেস জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। জিটুজি চুক্তির আওতায় ভিয়েতনাম থাকে তৃতীয় চালানের আতপ চাল নিয়ে জাহাজটি বন্দরে নোঙরে করে।

শনিবার (২২ মার্চ) খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাহাজে রক্ষিত চালের নমুনা পরীক্ষা শেষ হয়েছে। চাল খালাসের কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ভিয়েতনাম থেকে জি টু জি ভিত্তিতে মোট ১ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে দুটি চালানে মোট ৩০ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে।




তৃতীয় প্রান্তিকে ভিয়েতনামে কফি রপ্তানি কমার আশঙ্কা

লম্বা সময় ধরে নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ভিয়েতনামের কফি রপ্তানি। অপর্যাপ্ত সরবরাহ রপ্তানি কমার প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকেও (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশটির শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা শনিবার এ তথ্য জানায়। খবর ভিয়েতনাম প্লাস।

ভিয়েতনাম বিশ্বের শীর্ষ রোবাস্তা কফি রপ্তানিকারক। ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে রপ্তানি কমলেও আয়ের ধারা ঊর্ধ্বমুখী। সম্প্রতি অ্যারাবিকার তুলনায় রোবাস্তার চাহিদা বেশি থাকার কারণেও কফি বাণিজ্যে সুবিধা পাচ্ছে দেশটি।

২০২২-২৩ কফি বর্ষের (অক্টোবর ২০২২-আগস্ট ২০২৩) ১১ মাসে ভিয়েতনাম ১৬ লাখ টন কফি রপ্তানি করে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি ২ শতাংশ কমেছে। উৎপাদন কমেছে ১০-১৫ শতাংশ। বর্তমানে দেশটির কাছে রপ্তানিযোগ্য কফি সরবরাহ খুবই কম। আগামী নভেম্বর থেকে ফের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে তলানিতে থাকা মজুদের কারণে আগস্টে কফির দাম নতুন রেকর্ড স্পর্শ করে। প্রতি টনের মূল্য দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৪ ডলারে, যা আগের মাসের তুলনায় ৮ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে কফির গড় দাম ৯ শতাংশ বেড়েছে।

ভিয়েতনামের কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটি ১২ লাখ টন কফি রপ্তানি করে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানির পরিমাণ ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে আয় ৩২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় কফি রপ্তানি বাজার জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান।

দেশটির শুল্ক বিভাগের দেয়া তথ্যমতে, আগস্টে কফি রপ্তানির পরিমাণ কমে নয় মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। এ সময় ৮৪ হাজার ৬৪৭ টন কফি রপ্তানি করা হয়। এক মাসের ব্যবধানে রপ্তানির পরিমাণ ২২ দশমিক ৩ শতাংশ ও আয় ১৬ শতাংশ কমেছে।