পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলছে ট্রেন

ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে টানা কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল আবারও স্বাভাবিক হয়েছে।

রেললাইন মেরামতের কাজ শেষ হওয়ায় রোববার (১২ জুলাই) থেকে এ রুটের সব ট্রেন নিয়মিত চলাচল শুরু করেছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা) রেজাউল করিম সিদ্দিকীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত কয়েকদিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের জানআলীহাট ও ষোলশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশের রেললাইন প্লাবিত হয়। এতে ট্রেন চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ায় গত ৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল।

পরবর্তীসময়ে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ষোলশহর-জানআলীহাট সেকশনের রেললাইন ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটের পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, আজ রোববার থেকে ঢাকা-কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার-ঢাকা রুটের সব ট্রেন নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।




ভারী বর্ষণে ভেসে গেছে খামারের কোটি কোটি টাকার মাছ

ভারী বর্ষণে ময়মনসিংহের প্রায় সাড়ে চার হাজার হেক্টর এলাকার মৎস্যখামার ও পুকুর তলিয়ে সব মাছ বের হয়ে গেছে। হঠাৎ এভাবে বৃষ্টিতে মাছ বের হয়ে যাওয়ায় মাছচাষি ও হ্যাচারি মালিকরা আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দিলীপ কুমার বলেন, ‘দুই দিনের বৃষ্টিতে এখন পর্যন্ত আমরা জেনেছি, জেলার সাড়ে চার হাজার হেক্টর এলাকার পুকুর ও জলাশয় তলিয়ে গেছে। এ কারণে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার মাছ বের হয়ে গেছে।’

তিনি আরও জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ত্রিশাল, ভালুকা এবং ময়মনসিংহ সদরের মাছ চাষিরা। ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

ত্রিশালের ধলা এলাকার শাপলা হ্যাচারির মালিক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমার হ্যাচারিতে ২৮টি পুকুর ছিল। সবগুলোই বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। সব মাছ পুকুর থেকে বের হয়ে গেছে।’ আনুমানিক ১০ কোটি টাকার মাছ পুকুর থেকে বের হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

গৌরীপুরের বর্মণ হ্যাচারির মালিক যতীন্দ্র বর্মণ জানান, তার হ্যাচারিতে ১৮টি পুকুর ছিল। বৃষ্টির পানিতে সবগুলো তলিয়ে গিয়ে মাছ বের হয়ে গেছে। হ্যাচারির বাইরে দুটি পুকুর ছিল। ওই দুটি পুকুরের মাছ অবশিষ্ট আছে। প্রায় পাঁচ থেকে সাত কোটি টাকার মাছ তার হ্যাচারি থেকে বের হয়ে গেছে, দাবি যতীন্দ্র বর্মণের।

ময়মনসিংহ সদরের চর ঈশ্বরদীয়া গ্রামের মাছ চাষচাষি কামরুল হাসান জানান, শুধু তিনি নিজে না, আশপাশের অধিকাংশ মাছচাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এই বৃষ্টির কারণে। বেশির ভাগ পুকুর তলিয়ে গেছে এবং মাছ বাইরে বের হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সরকারিভাবে সহযোগিতা করলে আবারও তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) বিকাল থেকে শুক্রবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত একটানা ভারী বৃষ্টিতে ময়মনসিংহে ৩৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।




সন্ধ্যার পর রাজধানীতে বৃষ্টি শুরু হবে

ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে ঢাকাসহ ৪ বিভাগে ভারী বর্ষণের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরইমধ্যে ঢাকায় বাতাস শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত রাজধানীর কোথাও কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি।

রোববার (১৪ মে) দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা  এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে ঢাকায় দমকা হাওয়াসহ ঝড় বৃষ্টির আভাস রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের মূলভাগ এরইমধ্যে উপকূলে উঠেছে। এর প্রভাবেই রাজধানীতে বাতাস শুরু হয়েছে।

কাজী জেবুন্নেসা আরও জানান, ঢাকায় ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। তবে মোখার মূলভাগ উপকূল অতিক্রম করার পরই বৃষ্টি শুরু হবে। সন্ধ্যা ৬টার পর রাজধানীতে বৃষ্টি শুরু হবে। তবে টানা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সারা রাতই বৃষ্টি হবে, তবে তা থেমে থেমে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‌‘মোখা’ আজ সন্ধ্যা নাগাদ বাংলাদেশ অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি অতিক্রম করার পর সোমবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার তাণ্ডবে সেন্টমার্টিনে গাছচাপা পড়ে নারীসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মোখার আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে এই প্রবাল দ্বীপ। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব এখনো চলছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা।