আগস্টে ভারতের ভোজ্যতেল আমদানি বেড়েছে ৩৩%

আসন্ন দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল আমদানির নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে ভারত। আগস্টে ১৮ লাখ ৭০ হাজার টন উদ্ভিজ্জ তেল আমদানি করেছে দেশটি। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম থাকায় ও দেশীয় তেলবীজ উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ভোজ্যতেল আমদানি বাড়িয়েছে ভারত। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালের একই সময়ের চেয়ে ৩৩ শতাংশ বেশি ভোজ্যতেল আমদানি করেছে দেশটি। এ তথ্য জানিয়েছে সলভেন্ট এক্সট্র্যাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (এসইএ)। খবর এসপি গ্লোবাল।

 

অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ায় মজুদ বাড়িয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ভোজ্যতেল আমদানিকারক দেশটি। এসইএ জানিয়েছে, চলতি বছরের আগস্টে গত বছরের জুলাইয়ের সর্বোচ্চ আমদানির রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। সে সময় ১৭ লাখ ৭০ হাজার টন ভোজ্যতেল আমদানি করেছিল ভারত।

মুম্বাইভিত্তিক উদ্ভিজ্জ তেলের ব্রোকারেজ সানভিন গ্রুপের গবেষণা প্রধান অনিলকুমার বাগানি বলেন, ‘‌চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষ্ণ সাগর শস্য চুক্তি বাতিল হওয়ায় আমদানি সরবরাহ হুমকির মুখে পড়ে। এ কারণে উদ্ভিজ্জ তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। অন্যদিকে কম বৃষ্টিপাতের দরুন দেশীয় তেলবীজের প্রত্যাশিত ফলন না আসার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেল আমদানি অব্যাহতভাবে বাড়িয়েছেন।’

চলতি ২০২২-২৩ বিপণন বছরের প্রথম ১০ মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি উদ্ভিজ্জ তেল আমদানি করেছে ভারত। এ বছর ১ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার টন আমদানির কথা জানিয়েছে এসইএ। বছরওয়ারি হিসেবে এ বছর তেল আমদানির পরিমাণ সর্বকালের সর্বোচ্চে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি এসইএ বলেছে, চলতি বিপণন বছরে ১ কোটি ৬০ লাখ টন থেকে ১ কোটি ৬৫ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানির রেকর্ড হলেও আমরা অবাক হব না। ভারতের সর্বশেষ ভোজ্যতেল আমদানির রেকর্ড ছিল ২০১৬-১৭ বিপণন বছরে। ওই বছর দেশটি ১ কোটি ৫১ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি করেছিল।

এসইএর তথ্য মতে, ভারতের ভোজ্যতেল আমদানির সিংহভাগই মূলত পামওয়েল। চলতি বছর গত বছরের চেয়ে ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি পামওয়েল এসেছে। এ বছর পামওয়েলের মোট আমদানি দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৩০ হাজার টনে, যা গত জুলাইয়ের ১০ লাখ ৯০ হাজার টনের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি।

আগস্টে সয়াবিন আমদানি ৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৮৯০ টন। আর জুলাইয়ে সয়াবিন আমদানির পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪২ হাজার ২৭০ টন। গত বছরের চেয়ে এ বছরে জুলাইয়ে প্রায় ১ লাখ টন বেশি সয়াবিন আমদানি করা হয়েছে। এসইএ জানাচ্ছে, ২০২২ সালের জুলাইয়ে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৯৭ টন সয়াবিন এসেছে।

আগস্টে সূর্যমুখী তেলের আমদানি ১২ শতাংশ বেড়ে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৮৭০ টন হয়েছে। জুলাইয়ে যার পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ২৭ ২৫৯ টন। আর গত বছরের একই মাসে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩০৮ টন সূর্যমুখী তেল কিনেছিল ভারত।




সীমান্তঘেঁষা ত্রিপুরা দিয়ে বাংলাদেশে রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত

প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করে ত্রিপুরা দিয়ে বাংলাদেশে রপ্তানিকরা পণ্যের সংখ্যা বাড়াতে পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারত। বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তঘেঁষা এ রাজ্য থেকে রপ্তানি বাড়াতে বলেছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল।

সম্প্রতি ত্রিপুরায় দুদিনের সফরে গিয়ে রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার সঙ্গে দেখা করে তিনি এ পদক্ষেপ নিতে বলেন।

ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, অনুপ্রিয়া প্যাটেল এদিন সিপাহিজালার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিশাল কুমার ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্প ও রপ্তানির সম্ভাবনা পর্যালোচনার বিষয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের বিষয়ে বিশাল কুমার বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্প ও রপ্তানি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।’

এছাড়া ওই বৈঠকে রাবারের মূল্য সংযোজন করার বিষয়েও জোর দিয়েছেন অনুপ্রিয়া। কেননা উত্তর-পূর্ব রাজ্যে প্রাকৃতিক রাবারের প্রচুর সম্পদ রয়েছে।




ভারতে ইলিশ রপ্তানি করতে চেয়ে ১০০ প্রতিষ্ঠানের আবেদন

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে অন্যান্য বছরের মতো এবারও ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ প্রতিষ্ঠান ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে।

মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি শাখা সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর দুর্গাপূজায় ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এবারও সে ধারাবাহিকতায় অনুমতি দেয়া হবে। তবে কত প্রতিষ্ঠানকে কী পরিমাণ ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেয়া হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি শাখা সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এবারও ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেয়া হবে। তবে কী পরিমাণ অনুমোদন দেবে সেটি চূড়ান্ত হয়নি। অনেকেই আবেদন করেছেন, সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রায় ১০০ প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। এর মধ্যে মৌসুমি ব্যবসায়ী বেশি। সেখান থেকে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হবে। আগামী ১৫ তারিখের মধ্যে বৈঠক করে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

ওই সূত্র আরও জানায়, গতবার যেসব প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে অনেকে নির্ধারিত পরিমাণ মাছ রপ্তানি করতে পারেনি। অনেকে একেবারেই রপ্তানি করতে পারেনি। মাছ রপ্তানির বিষয়টি মূলত কী পরিমাণ মাছ ধরা পড়ল সেটির ওপরও অনেকটা নির্ভর করে। তাই এবার প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা দেখে অনুমতি দেয়া হবে।

গত বছর দুর্গাপূজায় ১১৫টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ৪ হাজার ৬০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সে সময় ইলিশ সংকটের কারণে মাত্র ১ হাজার ১০৮ টন ২৮০ কেজি ইলিশ রপ্তানি হয়েছিল। ইলিশ রপ্তানির শর্তে বলা হয়েছিল, রপ্তানি নীতি ২০২১-২৪ এর বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে; শুল্ক কর্তৃপক্ষ দ্বারা রপ্তানি করা পণ্যের কায়িক পরীক্ষা করাতে হবে। প্রতিটি কনসাইনমেন্ট শেষে রপ্তানি সংক্রান্ত কাগজপত্র রপ্তানি-২ অধিশাখায় দাখিল করতে হবে; অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি ইলিশ পাঠানো যাবে না।




আবারো দাম বাড়লো ভিয়েতনামিজ চালের

চলতি সপ্তাহেও এশিয়ার শীর্ষ রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনামিজ চালের রফতানি মূল্য ছিল সবচেয়ে ব্যয়বহুল। ভারত সম্প্রতি চাল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় দেশটির চালের দাম ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে, থাই চালের দাম বেড়ে ভিয়েতনামিজ চালের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আমদানিকারকদের জন্য ভারতের বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা ভিয়েতনামের পাশাপাশি থাই চাল আমদানিও বাড়াচ্ছেন। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

ভিয়েতনাম চলতি সপ্তাহে ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চাল টনপ্রতি ৬৫০-৬৬০ ডলারে রফতানি করছে। এর আগের সপ্তাহে রফতানি করা হয়েছিল ৬৬০ ডলারে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থানীয় সরবরাহ কম। ফলে রফতানিকারকরা নতুন কোনো রফতানি চুক্তি থেকে বিরত আছেন। দাম বাড়ার কারণে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন। এছাড়া যেসব ব্যবসায়ী চালের মজুদ করে রেখেছিলেন তারাও বেশ ভালো মুনাফা তু্লে নিচ্ছেন পণ্যটি থেকে। প্রাথমিক তথ্যমতে, ১-২৬ আগস্ট পর্যন্ত হো চি মিন সিটির বন্দরগুলোয় রফতানির উদ্দেশ্যে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮৮০ টন চাল জাহাজীকরণ করা হয়।

 

এদিকে থাইল্যান্ড চলতি সপ্তাহে প্রতি টন ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চাল ৬৩০ ডলারে রফতানি করছে। এর আগের সপ্তাহে একই চাল রফতানি করা হয় ৬১৫-৬২০ ডলার মূল্যে। সম্প্রতি দেশটির রফতানি বেড়ে যাওয়ায় দামও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ভারতীয় ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চালের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত। প্রতি টনের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৫০-৪৫৫ ডলারে। দুই সপ্তাহে আগে এটির দাম রেকর্ড ৪৬০-৪৬৭ ডলারে উঠে গিয়েছিল। অভ্যন্তরীণ দাম নিয়ন্ত্রণ ও মজুদ ধরে রাখতে সেদ্ধ চাল রফতানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ভারত সরকার। গত শুক্রবার এ শুল্ক আরোপ করা হয়, যা আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়। দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রফতানির উদ্দেশ্যে যেসব সেদ্ধ চাল এরই মধ্যে শুল্কায়নের জন্য কোনো ভারতীয় বন্দরে রয়েছে এবং রফতানির জন্য ২৫ আগস্টের আগে বৈধ ঋণপত্র খোলা হয়েছে, সেসব চাল নতুন আরোপিত শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।

বৈশ্বিকভাবে চালের মূল্যবৃদ্ধি পেতে শুরু করলে গত বছর ভাঙা চাল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার। পাশাপাশি তখন বাসমতি নয় এমন চালের রফতানির ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। এর পরও দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে বাড়তে থাকে চালের দাম। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়ে। দেশের ভেতরে চালের ঊর্ধ্বমুখী দাম সামাল দিতে চলতি বছরের ২০ জুলাই বাসমতি নয়, এমন সাদা চাল রফতানিতেও নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার। ভারত থেকে মোট রফতানি হওয়া চালের প্রায় ২৫ শতাংশ অবাসমতি সাদা চাল।




চালের মজুত পর্যাপ্ত, কারসাজি না হলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই

সেদ্ধ চালের দাম স্থির, পোলাওর চাল কেজিতে বেড়েছে সর্বোচ্চ ১০ টাকা

চাল রপ্তানিতে ভারত একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করছে। সম্প্রতি মিয়ানমারও রপ্তানি বন্ধের আভাস দিয়েছে। এতে উদ্বেগ বাড়ছে চাল আমদানিকারক দেশগুলোতে। তবে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এর কোনো আঁচ লাগেনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধান-চালের পর্যাপ্ত মজুত আছে। বাজারে প্রভাব পড়বে না।

সরকারি কর্মকর্তারা জানান, বোরো ফলন ভালো হওয়ায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ধান-চালের পর্যাপ্ত মজুত আছে। এই চাল শেষ হওয়ার আগেই কৃষকের ঘরে উঠবে আমন ফসল। তাই আমদানির প্রয়োজন হবে না। সরকারের এমন বক্তব্যকে সমর্থন করছেন চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, দেশে এই মুহূর্তে যে পরিমাণ ধান ও চাল মজুত আছে, তাতে কোনো দেশ রপ্তানি বন্ধ করলেও প্রভাব পড়বে না। ভোক্তা অধিকার নিয়ে যারা কাজ করেন তারাও মনে করেন, কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কারসাজির চেষ্টা না করলে বাজার অস্থির হবে না।

ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাল রপ্তানিকারক দেশ। বিশ্ববাজারে মোট চালের ৪০ শতাংশই সরবরাহ করে দেশটি। অভ্যন্তরীণ বাজার স্বাভাবিক রাখতে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে ভারত আতপ চাল (নন-বাসমতী হোয়াইট রাইস) রপ্তানি বন্ধ করে। গত শুক্রবার নতুন করে সেদ্ধ চাল রপ্তানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। ভারত সরকার বলেছে, ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত এ শুল্ক বহাল থাকবে। নিজেদের বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাল রপ্তানিতে শিগগিরই সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করছে মিয়ানমারও। তবে দেশটির রপ্তানি কম। এসব সিদ্ধান্তে কিছুটা অস্থির হয়ে উঠছে চালের আন্তর্জাতিক বাজার।

উৎপাদন ভালো হলেও বাংলাদেশকে প্রতিবছর চাল আমদানি করতে হয়। এর বেশির ভাগই আসে ভারত থেকে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ১০ লাখ ৫৬ হাজার টন চাল আমদানি করা হয়েছে।

মাসখানেক ধরে দেশে চালের বাজার স্থিতিশীল। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট ও তেজকুনিপাড়ায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোটা তথা গুটি স্বর্ণা ও চায়না ইরি জাতের চালের কেজি ৫০ থেকে ৫২ টাকা, মাঝারি (পাইজাম, লতা ও বিআর-২৮ জাত) চাল ৫৩ থেকে ৫৬, চিকন বা মিনিকেট চালের কেজি মানভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নাজিরশাইল চাল কিনতে ক্রেতাকে কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা।




‘বাংলাদেশ-ভারত একসঙ্গে কাজ করলে অর্থনীতি আরও এগিয়ে যাবে’

বহুমাত্রিক যোগাযোগ বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের জন্যই আশীর্বাদ। গত ১০ বছরের দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য অনেক বেড়েছে এবং তা আরও বাড়ানো সুযোগ রয়েছে।

বক্তরা বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পূরক অর্থনীতির প্রয়োজন রয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশকে ট্রেড, ট্রানজিট এবং ট্যুরিজমের ওপর জোর দিতে হবে। মাল্টিলেভেল কানিক্টিভিটির ব্যাপারে আমাদের ভাবতে হবে। ভারত-বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করলে এই অঞ্চলের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে।

শনিবার (২৬ আগস্ট) চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও কানেক্টিভিটি : সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ-ভারত ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদ ও উন্নয়ন সমন্বয়র যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারম্যান ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা।

ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চট্টগ্রামের গুরুত্ব অপরিসীম। চট্টগ্রাম এগিয়ে গেলে বাংলাদেশও এগিয়ে যাবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভারত-বাংলাদেশ এক সঙ্গে কাজ করতে চায়।

সেমিনারে ড. আতিউর রহমান বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহগুলো সম্পন্ন হলে বদলে যাবে চট্টগ্রাম। তবে শুধুমাত্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না তা সমন্বয় করতে হবে। এই সমন্বয়ের জন্য কো-অর্ডিনেটিং টাস্কফোর্স করা যায় কি-না সেটা ভেবে দেখা দরকার। অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম দরকার। ফরোয়ার্ড এবং ব্যাংকওয়ার্ড লিংকেজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলছে। কিন্তু ভারত এর চেয়ে আরও বেশি সমন্বয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল অবকাঠামো সমৃদ্ধ করেছে। ভারতের মতো আমাদেরও ডিজিটাল অবকাঠামো গড়তে হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল কানেক্টিভিটি সিংক্রোনাইজড করতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল বলেন, সেবার মান বৃদ্ধির জন্য মাস্টারপ্ল্যান করেছি, আমাদের গভীর সমুদ্রবন্দর মাতারবাড়ি ২-৩ মাসের মধ্যে চালু হবে। ভারতের সেভেন সিস্টার্স ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের দ্বার উন্মোচন করবে। চট্টগ্রাম বন্দর সবার জন্য উন্মুক্ত, এখানে যে কোনো দেশ ব্যবহার করতে পারে। আমরা সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত আছি।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধে তুলে ধরা হয়- বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চট্টগ্রাম হলো হৃদস্পন্দন। বাংলাদেশের আমদানি ৯০ শতাংশ এবং রপ্তানির ৮৫ শতাংশ হয় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর চালু হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যাবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শিরিন আক্তার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন, চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাই-কমিশনার ড. রাজীব রঞ্জন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যন জহিরুল আলম দোভাষ, বাংলাদেশ-ভারত ইতিহাস ঐতিহ্য পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, চট্টগ্রাম চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি তরফদার রুহুল আমীন, চট্টগ্রাম সিটি করর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদুল আলম সুজন, চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ প্রমুখ।




ভারতকে পণ্য সরবরাহ প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

ভারত থেকে বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে লক্ষ্যে প্রস্তাবিত প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

শুক্রবার (২৫ আগস্ট) মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

ভারতের জয়পুরে অনুষ্ঠিত জি-২০ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মন্ত্রীদের সভার পূর্বে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে সাইডলাইনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দেশটির প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি।

ভারত থেকে বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের একটি প্রক্রিয়া প্রণয়নের অগ্রগতির জন্য টিপু মুনশি ভারতীয় বাণিজ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রস্তাবিত ব্যবস্থার দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তার ক্রমাগত সমর্থন কামনা করেন।

এ সময় টিপু মুনশি সম্প্রতি পেঁয়াজের ওপর ৪০% রপ্তানি শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দামে বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এর জবাবে পীযূষ গোয়েল জানান, বিশ্বব্যাপী উৎপাদনে ব্যাঘাত, সরবরাহের ঘাটতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অসুবিধাগুলো কাটিয়ে উঠতে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতির কারণে ভারতও কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদন ঘাটতিতে ভুগছে। এ কারণে ভারত সরকারকে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তিনি বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করে বলেন খুব শিগগিরই এ সংকট কাটিয়ে ওঠতে সক্ষম হবো।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের ওপর থেকে এন্টি ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য ভারত সরকারের প্রতি অনুরোধ করলে পীযূষ গোয়েল এ বিষয়ে সর্বোচ্চ বিবেচনার আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়া, অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী দুই মাসের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে উপস্থাপন এবং এগুলি নিষ্পত্তি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী জি-২০ মন্ত্রী পর্যায়ের ঘোষণা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মূল্যবান অবদানের প্রশংসা করে বলেন ভারত সবসময় বাংলাদেশের সঙ্গে বিশেষ বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্বকে মূল্যায়ন করে থাকে।

বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী জি-২০ এর প্রেসিডেন্সি হওয়ায় ভারতকে অভিনন্দন জানান এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ফোরামে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশকে অতিথি দেশ হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পরে, টিপু মুনশি সৌদি আরবের বাণিজ্যমন্ত্রী এমই মাজিদ আল কাসাবির সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। এসময় দিল্লিতে অনুষ্ঠাতব্য জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আসন্ন বৈঠক ফলপ্রসূ হবে বলে উভয় মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

এরআগে ২৪-২৫ আগস্ট জয়পুরে অনুষ্ঠিত জি-২০ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মন্ত্রীদের সভায় যোগদান দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সভায় দেয়া বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশসহ গ্র্যাজুয়েশন ট্র্যাকে থাকা দেশগুলোকে ২০২৬ সালের পর এলডিসি দেশসমূহের জন্য প্রযোজ্য শুল্কমুক্ত কোটা মুক্ত বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে সমর্থন প্রদানের জন্য জি-২০ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। আগামী ১৩তম ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউটিও) মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে (এমসি১৩) এলডিসি থেকে উত্তরণপ্রাপ্ত দেশগুলোর পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি জি-২০ দেশের মন্ত্রীদের অনুরোধ করেন।




কমোডিটি এক্সচেঞ্জ দেখতে ভারতে বিএসইসি

কমোডিটি এক্সচেঞ্জ ও কমোডিটি ডেরিভেটিভ মার্কেট দেখতে ভারতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল। অতি দ্রুত দেশের পুঁজিবাজারে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা ও কমোডিটি ডেরিভেটিভ মার্কেট গড়ে তোলার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ভারতের মুম্বাইয়ে মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ অব ইন্ডিয়া’র (এমসিএক্স) কার্যালয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার প্রশিক্ষণ কর্মশালার অংশ হিসেবে ভারতের স্বনামধন্য সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান কোটাক মাহিন্দ্রা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কো. লি.-এর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার (২৫ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিএসইসি।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশে কমোডিটি ডেরিভেটিভ মার্কেট প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ভারতের বৃহত্তম পণ্য ডেরিভেটিভ এক্সচেঞ্জ মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ অব ইন্ডিয়া’র সঙ্গে কাজ করছে।

দেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পরামর্শ সেবা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ২০২২ সালে মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ অব ইন্ডিয়া’র সঙ্গে চুক্তি করেছে। যার ফলশ্রুতিতে মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ অব ইন্ডিয়া বাংলাদেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠায় কনসালটেন্ট বা পরামর্শকের ভূমিকায় কাজ করছে।

অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় কোটাক মাহিন্দ্রা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কো. লি.-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও গ্রুপ প্রেসিডেন্ট মি. নিলেশ শাহ্‌-এর নেতৃত্বে ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল এবং বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বে ১০ জনের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপ-সচিব গোলাম মোস্তফা, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম ফারুক এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এর কর্মকর্তারা রয়েছেন। আলোচনা সভায় বাংলাদেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা ও কমোডিটি ডেরিভেটিভ মার্কেট গড়ে তোলার নানা দিক নিয়ে কথা হয়।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে কমোডিটি ডেরিভেটিভ প্রোডাক্টগুলোর সুযোগ এবং এ দেশে এ ধরণের বাজার ও তার সম্ভাবনার বিষয়ে তথ্যবহুল আলোচনা হয়। প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে রয়েছে বিরাট আকারের ভোক্তাসম্প্রদায় এবং জিডিপি ও ক্রয়ক্ষমতার সূচকে বাংলাদেশের অব্যাহত উন্নতি। দেশের পুঁজিবাজার ও কমোডিটি ডেরিভেটিভ পণ্যের বিপুল সম্ভাবনার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

সভায় ভারতে মিউচুয়াল ফান্ড ও সংশ্লিষ্ট প্রোডাক্টগুলোর বাজার এবং নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ভারতের পুঁজিবাজারের ন্যায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সুযোগ-সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিষয়ে কথা হয়। পাশাপাশি ভারতে মিউচুয়াল ফান্ডসহ বিভিন্ন সেক্টর থেকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়াও আগামী ২৫ আগস্ট বিএসইসি’র কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ অব ইন্ডিয়া’র অপারেশনাল প্রসিডিউর ও ওয়্যারহাউস পরিদর্শন করবেন এবং ভারতের সিকিউরিটিজ ও কমোডিটি মার্কেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া’তে (এসইবিআই) একটি সভায় অংশগ্রহণ করবেন। উক্ত সভায় বাংলাদেশে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়ন এবং এ খাতের প্রোডাক্টগুলোর উন্নতিসাধনসহ তাদের জনপ্রিয় করার বিষয়ে আলোচনা হবে। একইসঙ্গে সভায় বাংলাদেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু এবং কমোডিটি প্রোডাক্টগুলোর বিকাশের বিষয়ে কথা হবে।




চিনি রফতানি নিষিদ্ধের কথা ভাবছে ভারত

চাল ও পেঁয়াজের পর এবার চিনি রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে ভারত। এটি কার্যকর হলে সাত বছরের মধ্যে প্রথম দেশটি থেকে চিনি রফতানি বন্ধ হয়ে যাবে।

সরকারি তিনটি সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি বছরের অক্টোবরে শুরু হওয়া আসন্ন মৌসুমে চিনি রফতানি নিষিদ্ধ করতে পারে ভারত। মূলত পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে আখের ফলন কমে যাওয়ায় বিগত সাত বছরের মধ্যে প্রথমবার রফতানি বন্ধের পরিকল্পনা করছে দেশটি।

 

এরই মধ্যে বিগত কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্ববাজারে চিনির দাম বাড়তি। এখন যদি ভারত চিনি রফতানি বন্ধ করে দেয়, তাহলে নিউইর্য়ক এবং লন্ডন বেঞ্চমার্কে পণ্যটির দাম আরও বাড়তে পারে। কাজেই এতে বিশ্বজুড়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন,
‘দেশের অভ্যন্তরে চিনির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত আখ থেকে ইথানল তৈরি করাই হচ্ছে আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। এতে আসন্ন মৌসুমে রফতানি বরাদ্দের জন্য আমাদের কাছে পর্যাপ্ত চিনি থাকবে না।’

গত মৌসুমে রেকর্ড ১১.১ মিলিয়ন টন চিনি রফতানির অনুমোদন দিয়েছিল ভারত। বিপরীতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে শেষ হতে যাওয়া মৌসুমে মাত্র ৬.১ মিলিয়ন টন চিনি রফতানির অনুমতি দেয় দেশটি।

এর আগে, ২০১৬ সালে রফতানি নিরুৎসাহিত করতে চিনি রফতানির ওপর ২০ শতাংশ কর আরোপ করে ভারত সরকার।

ভারতের মোট আখ উৎপাদনের অর্ধেকের বেশিই উৎপাদিত হয় দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে। কিন্তু ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের তথ্য বলছে, এ বছর এখন অবধি এসব রাজ্যের শীর্ষ আখ উৎপাদনকারী জেলাগুলোতে গড় পরিমাণের চেয়ে ৫০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিল্প কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় ২০২৩-২০২৪ মৌসুমে চিনির উৎপাদন কমে যাবে। এমনকি ২০২৪-’২৫ মৌসুমে আখ চাষের পরিমাণও কমবে।’

এ সপ্তাহে ভারতের স্থানীয় বাজারে চিনির দাম বেড়ে প্রায় ২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে উঠে গেছে। ফলে আগস্টে চিনির মিলগুলোকে বাড়তি দুই লাখ মেট্রিক টন চিনি বিক্রি করতে বলেছে সরকার।

এ বিষয়ে সরকারি আরেকটি সূত্র বলেছে,
খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখন একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে চিনির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এর রফতানির সম্ভাবনাও কমছে।

জুলাইয়ে ভারতের রিটেইল মূল্যস্ফীতি ১৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭.৪৪ শতাংশ এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১১.৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা বিগত ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

২০২৩-’২৪ মৌসুমে দেশটির চিনির উৎপাদন ৩.৩ শতাংশ কমে ৩১.৭ মিলিয়ন টনে নেমে আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে রয়টার্স।

সরকারের তৃতীয় সূত্র বার্তা সংস্থাটিকে জানিয়েছে,
‘আমরা গত দুই বছর মিলগুলোকে প্রচুর পরিমাণে চিনি রফতানির অনুমতি দিয়েছি। কিন্তু এখন আমাদের স্থানীয় বাজারে পর্যাপ্ত চিনির সরবরাহ ও এর স্থিতিশীল দাম নিশ্চিত করতে হবে।’