ব্র্যাক ব্যাংকের চলতি-সঞ্চয়ী হিসাবে আমানত বেড়েছে ২১০০ কোটি টাকা

ব্র্যাক ব্যাংক ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে চলতি হিসাব ও সঞ্চয়ী হিসাব (সিএএসএ) খাতে দুই হাজার ১০০ কোটি টাকার নিট আমানত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

ব্যাংকটির ইতিহাসে এ খাতে এটি অন্যতম শক্তিশালী পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) ব্যাংকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রাহকদের ধারাবাহিক আস্থা, সম্পর্কভিত্তিক ব্যাংকিং এবং একটি স্থিতিশীল ও বৈচিত্র্যময় তহবিল কাঠামো গড়ে তোলার কৌশলের ফলেই এ প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। দেশজুড়ে বিস্তৃত ৩১০টি শাখা ও উপ-শাখার নেটওয়ার্ক এবং নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাও এ সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এই সিএএসএ আমানত প্রবাহের ফলে স্বল্প খরচের তহবিল সংগ্রহে ব্যাংকের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এর মাধ্যমে শিল্পায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এ সাফল্য উদ্‌যাপন উপলক্ষে সম্প্রতি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক রেফাত উল্লাহ খান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্রাঞ্চ ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক প্রধান শেখ মোহাম্মদ আশফাক এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিং প্রধান মো. মাহানীয়ুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র জোনাল হেড (নর্থ) এ কে এম তারেক, সিনিয়র জোনাল হেড (সাউথ) তাহের হাসান আল মামুনসহ বিভিন্ন অঞ্চলের রিজিওনাল, ক্লাস্টার ও শাখা ব্যবস্থাপকরা।

অনুষ্ঠানে সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, শক্তিশালী সিএএসএ প্রবৃদ্ধি একটি স্থিতিশীল ব্যালান্স শিট গঠনের অন্যতম ভিত্তি। এই অর্জন গ্রাহকদের আস্থা এবং ব্যাংকের টিমের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে তহবিল ভিত্তি আরও শক্তিশালী করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংক আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায়।

তিনি আরও বলেন, ব্রাঞ্চ নেটওয়ার্ক টিমের পেশাদারিত্ব, গ্রাহককেন্দ্রিকতা ও সেবার উৎকর্ষ নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই এ সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি।

 




ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহীন ইকবাল ও আহমেদ রশীদ

ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ মো. শাহীন ইকবাল, সিএফএ এবং আহমেদ রশীদ জয়কে ব্যাংকটির অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে পদোন্নতি দিয়েছে। এই দুই কর্মকর্তার পদোন্নতি ১ মার্চ ২০২৬ থেকে কার্যকর।

মো. শাহীন ইকবাল এখন ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি কর্পোরেট, কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং, ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং, স্ট্রাকচার্ড ফাইন্যান্স, রেমিটেন্স ও প্রবাসী ব্যাংকিং এবং ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনসহ মূল বিজনেস সেগমেন্টগুলো দেখবেন।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ব্যাংকটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০০৪ সালে ব্র্যাক ব্যাংকে যোগদানের পর থেকে তিনি ট্রেজারি অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্টে বিস্তর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেছেন। বিশেষ করে ফরেন এক্সচেঞ্জ (foreign exchange), মানি মার্কেট (money market), ক্যাপিটাল মার্কেট (capital market), ডেরিভেটিভস (derivatives), অ্যাসেট-লায়বিলিটি ম্যানেজমেন্ট (asset-liability management) এবং ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্টে তাঁর দক্ষতা উল্লেখযোগ্য।

মো. শাহীন ইকবাল বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি, চট্টগ্রাম (বর্তমানে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত সিএফএ (CFA) ইনস্টিটিউট থেকে মর্যাদাপূর্ণ চার্টার্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট সার্টিফিকেশন অর্জন করেছেন।

তিনি সিএফএ সোসাইটি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এবং সিএফএ ইনস্টিটিউট, ভার্জিনিয়ার সদস্য। তাঁর পদোন্নতির বিষয়ে মন্তব্য করে ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, “শাহীন ইকবাল গত ২১ বছর ধরে ব্র্যাক ব্যাংকের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে কাজ করে আসছেন। তাঁর অসাধারণ নেতৃত্বগুণ, কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং ফাইন্যান্সিয়াল প্রোডাক্ট নিয়ে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা আমাদের হোলসেল ব্যাংকিং বিজনেসকে আরও শক্তিশালী করবে।”

পদোন্নতিপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তা আহমেদ রশীদ জয় ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড চিফ রিস্ক অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে হেড অব ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংকে যোগদান করেন এবং ব্যাংকটির রিস্ক কমপ্লায়েন্স ও অ্যাসেট কোয়ালিটি শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

আহমেদ রশীদ জয় তাঁর ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন ইস্টার্ন ব্যাংকে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি আইএফসি (IFC), মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (Mutual Trust Bank) ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সে কাজ করেছেন। দীর্ঘ ২৭ বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (BIBM) থেকে মাস্টার্স ইন ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (MBM) সম্পন্ন করেছেন।

রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে তাঁর ব্যাপক দক্ষতা ও কৌশলগত জ্ঞানের জন্য তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রেগুলেটরি কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন। তারেক রেফাত উল্লাহ খান আরও বলেন, “আহমেদ রশীদ ব্র্যাক ব্যাংকের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছেন। তাঁর প্রযুক্তিগত দক্ষতা, শৃঙ্খলাবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি এবং গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিস অনুশীলনের বিষয়ে অঙ্গীকার ব্র্যাক ব্যাংকের পোর্টফোলিও কোয়ালিটি উন্নতকরণ এবং শক্তিশালী ক্রেডিট অবস্থান নিশ্চিতে সহায়তা করেছে।”




পদত্যাগ করেছেন ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আর. এফ. হোসেন পদত্যাগ করেছেন।

মঙ্গলবার (২৭ মে) ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সেলিম আর এফ হোসেন পদত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।

সেলিম আর. এফ. হোসেন বলেন, আমি বোর্ডের কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছি, বোর্ডও এটা গ্রহণ করেছে। এখন তারা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে। আশা করছি বাংলাদেশ ব্যাংকও এটা গ্রহণ করবে। এখানে কোনো চাপ নেই বা অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা নেই। ব্যক্তিগত কারণে আমি নিজেই পদত্যাগ করেছি। এখানে অন্য কোনো চাপ নেই।

পদত্যাগ নিয়ে ব্যাংকটির কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক চিঠিতে তিনি লেখেন, প্রিয় সহকর্মীরা, সব ভালো জিনিসেরই শেষ আছে। আর সেই ধারাবাহিকতায় ব্র্যাক ব্যাংকে আমার সময়েরও শেষ হতে চলেছে। আমি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। কিছু আনুষ্ঠানিকতা ও প্রক্রিয়া এখনো বাকি রয়েছে। তবে, আশা করি সেগুলো কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে না। আজই সম্ভবত আমার ব্রাক ব্যাংকে শেষ কর্মদিবস। গত প্রায় দশ বছর ধরে আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে পারা আমার জন্য একটি বড় সম্মানের বিষয় ছিল। আমরা একসঙ্গে একটি অসাধারণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি, যা দেশের ব্যাংকিং খাতে এক অনুকরণীয় মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি আরও লেখেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ব্র্যাক ব্যাংক ভবিষ্যতেও উন্নতি অব্যাহত রাখবে এবং দেশের অর্থনীতি ও সমাজে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আপনাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে আগামী দিনে আরও সাফল্য ও অগ্রগতি কামনা করছি। আপনাদের এবং আপনাদের পরিবারের সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করছি। অনুগ্রহ করে আমাকে ও আমার পরিবারকে আপনাদের প্রার্থনায় রাখবেন।




বাংলাদেশ ব‌্যাংকের সামনে ব্র্যাক ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের মানববন্ধন

বেসরকা‌রি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক অন্যায় ও অমানবিকভাবে ২৬৬৮ জন কর্মীকে চাকুরিচ্যুত করেছে— এমন দাবি করে অবিলম্বে তাদের পুনর্বহাল ও যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ব্যাংটির চাকরিচ্যুত কর্মীরা।

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বর বাংলা‌দেশ ব্যাংকের সামনে এক মানববন্ধনে এ দাবি করেন তারা।

মানববন্ধনে চাকরিচ্যুত কর্মীরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্র্যাক ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগে সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনো সতর্কবার্তা বা নোটিশ না দিয়েই তাদের হঠাৎ চাকরিচ্যুত করে। এর ফলে তারা কঠিন মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছেন এবং একাধিক সহকর্মী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

এছাড়া, কর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করে ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট চাকরিচ্যুত কর্মীদের পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। কিন্তু ব্র্যাক ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেই আদেশ অমান্য করে বলে তারা দাবি করেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কেন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাকরিচ্যুত কর্মীরা। তারা বলেন, ‘আমরা সামাজিক, মানসিক এবং আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েছি এবং এখন একমাত্র পথ হিসেবে আত্মহত্যার চিন্তা আমাদের মাথায় ঘুরছে।’

মানববন্ধনে চাকরিচ্যুতদের দাবি

চাকরিচ্যুত কর্মীদের অবিলম্বে পুনর্বহাল করা এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া। ব্র্যাক ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অন্যায় পুনরাবৃত্তি রোধ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া চালু করা।




ব্র্যাক ব্যাংকের ২০ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি’র শেয়ারহোল্ডারবৃন্দ ২০২৩ সালের জন্য ২০ শতাংশ লভ্যাংশের অনুমোদন দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড আকারে বণ্টিত হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির ২৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এজিএম এ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শেয়ারহোল্ডার অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ব্যাংকটির চেয়ারপারসন মেহেরিয়ার এম. হাসানের সভাপতিত্বে এজিএমে আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারপারসন ফারুক মঈনউদ্দীন আহমেদ এবং পরিচালক আসিফ সালেহ, ফাহিমা চৌধুরী, ফারজানা আহমেদ, ডা. জাহিদ হোসেন, শামেরান আবেদ, ডা. মোস্তফা কে. মুজেরী, সালেক আহমেদ আবুল মাসরুর, আনিতা গাজী রহমান, চৌধুরী এমএকিউ সারওয়ার এবং লীলা রশিদ।

সভায় ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও সেলিম আর. এফ. হোসেন শেয়ারহোল্ডারদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এবং ব্যাংকের প্রতি অবিচল আস্থার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানান। কোম্পানি সচিব এম মাহবুবুর রহমান, এফসিএস এজিএম পরিচালনা করেন।

ব্যাংকটি ২০২৩ সালে সমন্বিতভাবে ৮২৮ কোটি টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা অর্জন করে। এর ফলে ২০২২ সালের সমন্বিত কর-পরবর্তী মুনাফা ৬১৪ কোটি টাকার তুলনায় ২০২৩ সালে ৩৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ২০২২ সালের তুলনায় ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ২০২৩ সালে ব্র্যাক ব্যাংক এককভাবেই ৭৩০ কোটি টাকা মুনাফা করে, ২০২২ সালে যার পরিমাণ ছিল ৫৭৬ কোটি টাকা। সভায় ব্র্যাক ব্যাংক শেয়ারহোল্ডারদের এসব বিষয়ে জানায়।

ব্যাংকটির চেয়ারপারসন মেহেরিয়ার এম. হাসান তাঁর বক্তব্যে সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ব্যাংকের শক্তিশালী আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর তুলে ধরা বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল ২০২৩ সালে ব্যাংকটির গ্রাহক আমানত ও ঋণে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি। তিনি শেয়ারহোল্ডার, রেগুলেটর, সহকর্মী এবং স্টেকহোল্ডারদের তাঁদের সমর্থন এবং অবিচল আস্থার জন্য ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি তিনি ২০২৪ সালে ব্র্যাক ব্যাংক আরও বেশি সাফল্য অর্জন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




ব্র্যাক ব্যাংকের বোনাসে বিএসইসির সম্মতি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্র্যাক ব্যাংক পিএসসি ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশে সম্মতি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ব্র্যাক ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

অনুমোদনের প্রেক্ষিতে বোনাস শেয়ার পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করেছে ব্যাংকটি। আগামী ১৯ মে এই রেকর্ড তারিখ।

গত ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এই লভ্যাংশের মধ্যে ছিল ১০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস।

বিধি অনুসারে, বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করা হলে তা বিতরণের আগে বিএসইসির অনুমোদন নিতে হয়। ওই আবেদনে বোনাস ঘোষণা যৌক্তিকতা তুলে ধরতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ব্র্যাক ব্যাংক আবেদন করলে বিএসইসি তাতে অনুমোদন দেয়।




শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দিলেন ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি

শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন পুঁজিবাজারে ব্যাংকিং খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ।

ঢাকা স্টক একেচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি ও সিইও সেলিম রেজা ফরহাদ হুসাইনের হাতে থাকা কোম্পানিটির ৪ লাখ ৯৫ হাজার ২৩টি শেয়ারের মধ্যে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ২৩টি শেয়ার বিক্রি করবেন। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ডিএসইর পাবলিক মার্কেটে বিদ্যমান বাজার দরে শেয়ার বিক্রি সম্পন্ন করবেন তিনি।

২০০৭ সালে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হওয়া ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির মোট শেয়ারের ৪৬ দশমিক ২৪ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকটি পুঁজিবাজারে ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে লেনদেন করছে।




ব্র্যাক ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি’র পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ব্যাংকটি হিসাববছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারেদর ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দেবে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ও ১০ শতাংশ বোনাস।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র অনুসারে, সর্বশেষ বছরে সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৭৩ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৩ টাকা ৭৫ পয়সা।

গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩ তারিখে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৪১ টাকা ৩৬ পয়সা।

আগামী ৩০ মে ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ মে।




ব্র্যাক ব্যাংক ও মেটলাইফের ব্যাংকাস্যুরেন্স চুক্তি স্বাক্ষর

ব্র্যাক ব্যাংক ও মেটলাইফ বাংলাদেশ সম্প্রতি ব্যাংকাস্যুরেন্স সেবা দেওয়ার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এতে ব্র্যাক ব্যাংকের গ্রাহকেরা মেটলাইফের বিভিন্ন জীবনবিমা পলিসি নিতে পারবেন।

বাংলাদেশের মানুষের কাছে বীমাপণ্য ও সেবা আরও সহজলভ্য করার মাধ্যমে এই চুক্তির মধ্য দিয়ে আর্থিক খাতে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলে জীবনবীমা সেবার মধ্য দিয়ে মেটলাইফের বিস্তৃত উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবা ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা, উপশাখা এবং এসএমই ইউনিট অফিসসহ ব্যাংকের দেশজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারপারসন মেহেরিয়ার এম হাসান এবং মেটলাইফ বাংলাদেশের সিইও আলা আহমদের উপস্থিতিতে চুক্তি-স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়।

মেটলাইফ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এএমডি অ্যান্ড চিফ ডিস্ট্রিবিউশন অফিসার জাফর সাদেক চৌধুরী, ডিএমডি অ্যান্ড চিফ করপোরেট বিজনেস অফিসার নাফিস আক্তার আহমেদ, এসইভিপি অ্যান্ড হেড অব ব্যাংকাস্যুরেন্স মুহাম্মদ আসিফ শামস এবং ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষ থেকে ডিএমডি অ্যান্ড হেড অব এসএমই ব্যাংকিং সৈয়দ আব্দুল মোমেন, ডিএমডি অ্যান্ড হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং মো. মাহীয়ুল ইসলাম এবং হেড অব ব্রাঞ্চেস শেখ মোহাম্মদ আশফাক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে ব্যাংকাস্যুরেন্স সেবা অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারপারসন মেহেরিয়ার এম হাসান এই চুক্তির তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ‘আজ একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে মেটলাইফ বাংলাদেশ এবং ব্র্যাক ব্যাংক ব্যাংকাস্যুরেন্স পার্টনারশিপে একত্রিত হয়েছে। এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান দুটির নিরলস পরিশ্রমের প্রতিফলন। এই চুক্তিটি বাংলাদেশের আর্থিক খাতে একটি নতুন ও যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করেছে।’

মেটলাইফ বাংলাদেশের সিইও আলা আহমদ একই অনুভূতি প্রতিধ্বনিত করে বলেন, ‘ব্যাংকাস্যুরেন্সের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিমা সুবিধাকে আরও সহজলভ্য করা। বাংলাদেশের দুটি বিশ্বস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান—মেটলাইফ এবং ব্র‍্যাক ব্যাংকের এই কৌশলগত অংশীদারত্ব দেশের মানুষের কাছে বিমার বিস্তৃতি আরও বাড়াতে সক্ষম হবে। এই উদ্যোগে দেশের আর্থিক সক্ষমতার বৃদ্ধির প্রয়াস আরও গতি পাবে।’

ব্যাংকিং এবং বিমার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দুই শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডের মধ্যে এই কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি গ্রাহকদের ব্যাংকিং ও বিমা চাহিদার জন্য সমন্বিত সমাধান দেবে এবং আর্থিক সেবা খাতকে আরও উন্নত করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




বেশি দামে ডলার বিক্রিতে শাস্তি পাবেন ১০ ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধান

ডলারের জন্য ঘোষিত হারের তুলনায় বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে ব্যাংকগুলোর আগের ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হয়নি। তাই গত সোমবার ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

চলতি বছর ডলারের দাম নিয়ে কারচুপির দায়ে ১০ ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে কেন জরিমানা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ডলারের জন্য ঘোষিত হারের তুলনায় বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে ব্যাংকগুলোর আগের ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হয়নি। তাই গত সোমবার ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ১০৯(৭) ধারা অনুযায়ী কেন ব্যাংকগুলোর ট্রেজারি প্রধানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা চিঠি দেওয়ার তারিখ থেকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

এই ধারায় বলা আছে, আইন লঙ্ঘনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা করতে পারে।

চিঠি পাওয়া ব্যাংকগুলো হলো—সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংক।

ডলার কারচুপির অভিযোগে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়।

গত বছর ডাচ্-বাংলা, প্রাইম, সিটি, সাউথইস্ট, ব্র্যাক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, এনসিসি, এইচএসবিসি, মার্কেন্টাইল, ঢাকা, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ও ব্যাংক এশিয়াসহ ১২ ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল।

এরপর ডাচ-বাংলা, সাউথইস্ট, প্রাইম, সিটি, ব্র্যাক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডকে তাদের ট্রেজারি প্রধানদের মানবসম্পদ বিভাগে বদলি করার নির্দেশ দিলেও পরে বাংলাদেশ ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

গত বছর থেকে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন ও এবিবি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনানুষ্ঠানিক নির্দেশে ডলারের দাম নির্ধারণ করে আসছে।

গত ৩১ আগস্ট প্রতিষ্ঠান দুটি সেপ্টেম্বর থেকে অভিন্ন বিনিময় হার কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেসময় ১০৯ টাকা ৫০ পয়সায় ডলার কিনে ১১০ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।




ছয় মাসে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স আগস্টে

সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসে কমেছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। গেল মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ পথে ও ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। দেশের প্রবাসী আয়ের এ অংক গত ছয় মাসে সর্বনিম্ন। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ১৫৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকিং চ্যানেলের চেয়ে খোলা বাজারে যখন ডলারের দামের ব্যবধান বেশে হয় তখন হুন্ডি বেড়ে যায়। আর যখন হুন্ডির চাহিদা বাড়ে তখন রেমিট্যান্স কমে যায়। গত মাসে ব্যাংকের চেয়ে খোলা বাজারে ডলারের দাম ৫ থেকে ৬ বেশি ছিল। তাই বেশি লাভের আশায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো কমিয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, সদ্যবিদায়ী আগস্টে মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে এসেছে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এ অংক আগের বছরের আগস্টের তুলনায় ৪৩ কোটি ৭৪ লাখ বা ২১ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম। গত বছরের আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলার।

এছাড়া আগের মাস জুলাইয়ে তুলনায়ও আগস্টে প্রবাসী আয় কমেছে। গত জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৭ কোটি ৩১ লাখ ডলার। অর্থাৎ জুলাইয়ের চেয়ে আগস্টে ৩৭ কোটি ৩৭ লাখ ডলার বা ১৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমেছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৮ কোটি ৩১ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৩৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৩ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

আগস্টে মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বরাবরের মতো ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। আলোচিত সময় ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে ৩৪ কোটি ডলার। এরপর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ১২ কোটি ৭৪ লাখ, ব্র্যাক ব্যাংকে ৮ কোটি ৯২ লাখ, আল-আরাফা ব্যাংকে এসেছে ৭ কোটি ৩৩ লাখ এবং জনতা ব্যাংকে এসেছে ৬ কোটি ৭৪ লাখ ডলার প্রবাসী আয়।

গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার। আগের ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ হয়েছিল। যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার।

ডলার সংকট ও বাজার স্থিতিশীলতার জন্য রপ্তানি ও প্রবাসী আয় এবং আমদানি দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে ডলারের দাম নির্ধারণ করে আসছে ব্যাংকগুলো। এখন প্রবাসী আয়ে ব্যাংকগুলো প্রতি ডলারে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা দাম দিচ্ছে। রপ্তানি বিল নগদায়নে প্রতি ডলারের বিপরীতে দাম দিচ্ছে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা এবং আমদানি ও আন্তঃব্যাংক লেনদেনে সর্বোচ্চ ১১০ টাকা।

প্রকৃত রিজার্ভ ২৩ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা সংস্থার (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক নিয়মে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রকৃত রিজার্ভ ২ হাজার ৩৩০ কোটি (২৩ দশমিক ৩০ বিলিয়ন) ডলার।

সবশেষ গত ২৬ জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের রিজার্ভ আছে ২ হাজার ৯২০ কোটি ডলার (২৯ দশমিক ২০ বিলিয়ন) ডলার। তবে আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী- আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের প্রকৃত রিজার্ভে ৬১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রকৃত রিজার্ভ নেমে দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলারে। প্রতি মাসে ৬ বিলিয়ন ডলার হিসাবে এ রিজার্ভ দিয়ে ৪ মাসের কম আমদানি ব্যয় মেটাতে পারবে বাংলাদেশ।

সারা বিশ্বে প্রচলিত ও বহুলব্যবহৃত আইএমএফের ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম ৬) অনুযায়ী, রিজার্ভ গণনায় বাংলাদেশ ব্যাংক গঠিত বিভিন্ন তহবিলের পাশাপাশি বিমানের জন্য প্রদত্ত ঋণ গ্যারান্টি, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে মুদ্রা বিনিময়, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষকে দেওয়া ঋণ, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকে আমানত এবং নির্দিষ্ট গ্রেডের নিচে থাকা সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত নয়। এসব খাতে বর্তমানে রিজার্ভ থেকে ৬৩৭ কোটি ডলার দেওয়া আছে, যা বাদ দিয়ে হিসাব করা হয়েছে।




মূলধন বাড়ানোর অনুমোদন পেল ব্র্যাক ব্যাংক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডকে ২ হাজার কোটি টাকা থেকে মূলধন ৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, ২০০৭ সালে তালিকাভুক্ত ব্যাংকটির বর্তমান অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৬০৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

কোম্পানিটির পর্ষদ সভায় অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকা থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এরপর এই প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠায় ব্যাংকটি। প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এটি অনুমোদন দিয়েছে।

কোম্পানির শেয়ার আজ লেনদেন হয়েছে ৩৫ টাকা ৮০ পয়সায়। কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ১৬০ কোটি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ২২৭টি। কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০২২ সালে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। এর মধ্যে সাড়ে ৭ শতাংশ নগদ আর সাড়ে ৭ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দিয়েছিল।




ব্র্যাক ব্যাংকের নতুন ভাইস চেয়ারপারসন ফারুক মঈনউদ্দীন

বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ফারুক মঈনউদ্দীন। শনিবার ব্র্যাক ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ফারুক মঈনউদ্দীন ২০২১ সালের ডিসেম্বরে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংকের পর্ষদে যোগ দেন এবং বোর্ড এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ফারুক মঈনউদ্দীন একজন ক্যারিয়ার ব্যাংকার হিসেবে ৩৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন ম্যানেজমেন্টের সদস্য হিসেবে বহুমুখী দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ট্রাস্ট ব্যাংকে যোগদানের আগে ফারুক মঈনউদ্দীন সিটি ব্যাংকে একাধারে অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর, চিফ রিস্ক অফিসার এবং মানি-লন্ডারিং বিরোধী প্রধান পরিপালন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও এবি ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে পাঁচ বছর এবি ব্যাংকের মুম্বাই অফিসে কান্ট্রি ম্যানেজার পদে নিযুক্ত ছিলেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএসএস করার পর ১৯৮৪ সালে এবি ব্যাংক লিমিটেডে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ফারুক মঈনউদ্দীন। ১৯৮৭ সালে ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক স্বর্ণপদক এবং বিসিসিআই (তৎকালীন) স্বর্ণপদক অর্জন করেন। তিনি অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যান্টি মানি-লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার্স অব ব্যাংকস ইন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ইকোনমিক অ্যাসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য।

ব্যক্তিগত জীবনে ফারুক মঈনউদ্দীন একজন প্রখ্যাত লেখক ও সাহিত্যিক। ব্যাংকিং, অর্থনীতি, ছোটগল্প, অনুবাদ এবং ভ্রমণকাহিনী মিলিয়ে তাঁর রচিত ও প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দুই ডজনেরও বেশি। অর্থনীতি ও ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি সংবাদপত্রেও নিয়মিত নিবন্ধ লেখেন। বাংলা সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, অনুবাদকর্মে অনন্য অবদানের জন্য ২০১১ সালে আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার এবং ভ্রমণকাহিনীর জন্য ২০১৯ সালে সিটি-আনন্দ আলো পুরস্কার লাভ করেন তিনি। বর্তমানে তিনি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি হিসেবেও কর্মরত।




সিডব্লিউটি-কমিউনিটি ব্যাংক শরীয়াহ ফান্ডের প্রসপেক্টাস অনুমোদন

সিডব্লিউটি-কমিউনিটি ব্যাংক শরীয়াহ ফান্ডের প্রসপেক্টাস অনুমোদন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সোমবার (১৯ জুন) অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৮৭২তম কমিশন সভায় এ প্রসপেক্টাসটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফান্ডটির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ২৫ কোটি টাকা। এই ফান্ডের উদ্যোক্তা কমিউনিটি ব্যাংক লিমিটেড তাতে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার যোগান দেবে, যা মোট ফান্ডের ১০ শতাংশ। বাকী ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকার ইউনিট সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এর প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা।

আলোচিত ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে আছে- সিডব্লিউটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। এর ট্রাস্টি ও কাস্টোডিয়ানের দায়িত্ব পালন করবে যথাক্রমে সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ও ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড।




বন্ড ছেড়ে ৭০০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে ব্র্যাক ব্যাংক

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বন্ড ছেড়ে ব্যাংকটি পুঁজিবাজার থেকে ৭০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে।

বৃহস্পতিবার (৮ জুন) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে বুধবার (৭ জুন) অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের ৩৪৬তম বৈঠকে বন্ড ইস্যু সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তথ্য মতে, এ সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডের মেয়াদ হবে ৭ বছর। এটি হবে ফুললি রিডিমেবল অর্থাৎ মেয়াদ শেষে এই বন্ডের সম্পূর্ণ অবসায়ন হবে। বন্ডটি হবে নন-করর্ভার্টেবল অর্থাৎ এই বন্ডের কোনো অংশ শেয়ারে রূপান্তরিত হবে না। আলোচিত বন্ডটি হবে কুপনযুক্ত। নির্দিষ্ট সময় পর পর বন্ডধারীকে প্রাপ্য সুদ পরিশোধ করা হবে। আর এর সুদের হার হবে ভাসমান। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে এই বন্ড বরাদ্দ করা হবে।

বন্ডটির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দ্বারা ব্যাংকটি তার টায়ার-ll মূলধনের ভিত্তি শক্তিশালী করবে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে বন্ড ইস্যু সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।




বিলুপ্ত জাতের গাছ সংরক্ষণের উদ্যোগ নিল ব্র্যাক ব্যাংক

বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিলুপ্তপ্রায় স্থানীয় জাতের গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্র্যাক ব্যাংক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘তরুপল্লব’ এর সাথে অংশীদারিত্ব করে ব্র্যাক ব্যাংক দেশের বিভিন্ন স্থানে এক হাজার ৩০০টি চারা রোপণ করবে।

সোমবার (৫ জুন) ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানা‌নো হ‌য়ে‌ছে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের সাথে মিল রেখে ৫ জুন ২০২৩ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এনএএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০০টি চারা রোপণের মধ্য দিয়ে এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমটি শুরু হয়। মাসব্যাপী এ ক্যাম্পেইনের আওতায় ব্র্যাক ব্যাংক চট্টগ্রামের জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর ও পাহাড়তলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, বগুড়ার পুণ্ড্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চারা রোপণ করবে।

এই কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশের দেশীয় জাতের এবং কয়েকটি পাহাড়ি জাতের গাছ লাগানো হবে। বাংলাদেশের এসব গাছের অধিকাংশই বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির। এগুলো হলো উদল, লাল উদল, সোনালু, ধরমারা, জারুল, চালতা, গোলাপজাম, দোই গুটা, কাঞ্চন, গাব, হরতোকি, বুদ্ধ নারিকেল এবং কৃষ্ণচূড়া।

এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিওও মো. সাব্বির হোসেন, হেড অব কমিউনিকেশনস ইকরাম কবীর, তরুপল্লবের সেক্রেটারি মোকারম হোসেন, এনএএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামাল হোসেন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এ উপলক্ষ্যে ব্র্যাক ব্যাংক-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিওও মো. সাব্বির হোসেন বলেন, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ব্যাংকিং অন ভ্যালুজের গর্বিত সদস্য হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক মানুষ, পৃথিবী এবং সমৃদ্ধির নীতিগুলোকে ধারণ করে। আমরা নির্মল পরিবেশের উন্নয়নে এবং অধিকতর টেকসই পৃথিবী গড়ে তোলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা প্রত্যেকের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।

তিনি আরও বলেন, তরুপল্লবের সাথে আমাদের অংশীদারিত্ব টেকসই উন্নয়ন এবং পৃথিবীর প্রতি যত্ন নেওয়ায় আমরা যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তারই বহিঃপ্রকাশ ৷ নতুন প্রজন্মের মাঝে গাছের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তুলতে এবং পরিবেশ রক্ষায় সকলকে যত্নবান করতে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গাছ লাগাচ্ছি।

তরুপল্লবের সেক্রেটারি মোকারম হোসেন বলেন, স্থানীয় বৈচিত্র্যময় গাছ নির্বাচনের বিষয়টি আমাদের লক্ষ্য পরিবেশগত সম্প্রীতি এবং একটি টেকসই পরিবেশের প্রসারের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা এই গাছগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করব। ব্র্যাক ব্যাংকের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সম্প্রসারণ করতে চাই।




মূলধন ৫ হাজার কোটিতে উন্নীত করবে ব্র্যাক ব্যাংক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড তাদের অনুমোদিত মূলধন ৩ হাজার কোটি টাকা বাড়াবে। ফলে ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হবে।

ব্যাংকটির সর্বশেষ বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের সর্বসম্মতিক্রমে এই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, ২০০৭ সালে তালিকাভুক্ত ব্যাংকটির পূর্ব ষোষিত এজিএমে ২০২২ সালের জন্য পর্ষদ ঘোষিত ১৫ শতাংশ (৭ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ বোনাস শেয়ার) ও অনুমোদিত মূলধন অনুমোদন করা হয়।

এর আগের পরিচালনা পর্ষদ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এর ফলে ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ হিসেবে ১১২ কোটি ২৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯৯৬ টাকা দেবে। পাশাপাশি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করে বোনাস শেয়ারও দেওয়া হবে।

এর আগের বছরও শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ (সাড়ে ৭ শতাংশ নগদ আর সাড়ে ৭ শতাংশ বোনাস শেয়ার) লভ্যাংশ দিয়েছিল ব্যাংকটি। তার আগের বছর ২০২০ সালে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ, আর ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দিয়েছিল।

জানানো হয়, ২০২২ সালে সামষ্টিকভাবে ব্র্যাক ব্যাংকের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ৬১২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা ২০২১ সালে ছিল ৪৬৫ কোটি টাকা। ব্র্যাক ব্যাংক এককভাবে ২০২২ সালে ৫৭৬ কোটি টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা অর্জন করেছে, যা ২০২১ সালের ৫৫৫ কোটি টাকার তুলনায় ৩.৯০ শতাংশ বেশি।




ব্র্যাক ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের ২৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা আজ ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মেহেরিয়ার এম হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যসহ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সেলিম আর এফ হোসেন ও অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যাক শেয়ারহোল্ডার ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন।

সভা সঞ্চালনা করেন কোম্পানি সচিব এম মাহবুবুর রহমান এফসিএস।

সমাপ্ত অর্থ বছরে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগকারীদের জন্য সাড়ে ৭ শতাংশ নগদ ও সাড়ে ৭ শতাংশ স্টক লভ্যাংশসহ সর্বমোট ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ সভার অন্যান্য এজেন্ডার সাথে বিনিয়োগকারীদের সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।




দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে অনেক নিচে আমরা : এবিবি চেয়ারম্যান

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন বলেছেন, বিশ্বের সংকট যেটা আছে এটা সামলাতে আমাদের আরও সময় লাগবে। আমরা এখনও অনেক গরিব দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে অনেক নিচে আমরা। আমাদের ছোট অর্থনীতির দেশ এটা।

সোমবার (২২ মে) রাজধানীর ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এবিবি আয়োজিত ‘ব্যাংকিং সেক্টর আউটলুক-২০২৩’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় এবিবির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের সংকট কিছুটা কেটেছে। তবে আমরা সংকট থেকে এখনও পুরোপুরি উত্তরণ হতে পারিনি। সংকটের মধ্যেও কোনো ব্যাংকের আমানতকারী টাকা তুলতে পারেনি এমন হয়নি। তারল্য ব্যাংক খাতের কোনো চ্যালেঞ্জ নয়, সে সংকটও দূর হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ একটি বড় সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ না করলে সমাধান করা সম্ভব না।

প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ডলার সংরক্ষণ করে দর বৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়ায় বেশ কয়েকটা ব্যাংককে জরিমানা করা হয়েছিল এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে জবাব চেয়েছিল, পুরোনো বিষয় সেটার সমাধান হয়েছে।

রেমিট্যান্স নিয়ে তিনি বলেন, রেমিট্যান্সের ডলারের শুধু দাম নির্ধারণ করলেই হবে না রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের কি ধরনের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে তাও দেখতে। প্রবাসীরা এয়ারপোর্টে ভালো সুবিধা পান না, তাদের কোনো ধরনের কাজ সম্পর্কে শেখানো হয় না। অন্যান্য দেশে বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং দেওয়া হয়, দক্ষ করা হয়। যা আমাদের দেওয়া হয় না। এতে প্রবাসীরা অনেক পিছিয়ে পড়ছে।

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন বলেন, আমাদের ব্যাংকিং সেক্টরের প্রতি গ্রাহকের আস্থা বেড়েছে। এখন ডিপোজিট বেড়েছে, রেমিট্যান্স বাড়ছে। রেমিট্যান্সে ডলারের রেট ৮৭ টাকা থেকে ১০৮ টাকা হয়েছে। আমাদের তারল্য সাময়িক সংকট দেখা দিয়েছিল তবে এখন অতিরিক্ত তরল্য রয়েছে। পুরো ব্যাংক খাতে এখন অতিরিক্ত এক লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা তারল্য রয়েছে।




মুনাফা বেড়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের

চলতি বছরের (২০২৩ সাল) প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা বেড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের।

জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। যা রোববার ব্যাংকটির সর্বশেষ পর্ষদ সভায় আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর অনুমোদন করা হয়েছে।

সোমবার (০৮ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানাগেছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, নতুন বছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৯৬ পয়সা। যা ২০২২ সালের একই সময়ে সমন্বিত ইপিএস ছিল ৭৭ পয়সা। অর্থাৎ ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় ১৯ পয়সা করে বেড়েছে।

মুনাফা বাড়ায় সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ৮৬ পয়সা। যা এর আগের বছর ছিল ৩৮ টাকা ৯৪ পয়সা।

এর আগে ২০২২ সালে সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল ৪ টাকা ২ পয়সা। সেখান থেকে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ (৭ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ বোনাস শেয়ার) লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাতে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের নগদ ১১২ কোটি ২৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯৯৬ টাকা দেবে। পাশাপাশি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করে বোনাস শেয়ারও দেওয়া হবে।

এর আগের বছর ২০২১ সালে ছিল শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল ৩ টাকা ৬৫ পয়সা।




ব্র্যাক ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারের ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৭.৫০ শতাংশ নগদ ও ৭.৫০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। ফলে প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ০.৭৫ টাকা নগদ লভ্যাংশ পাবেন শেয়ারহোল্ডাররা।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এই লভ্যাংশ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১২ এপ্রিল) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ৩১ মে বেলা ১১টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৯ মে।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৪.০২ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৩.৬৫ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪০.৮৬ টাকা।

এর আগের হিসাব বছরে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। এর মধ্যে ৭.৫০ শতাংশ নগদ ও ৭.৫০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ।