প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে

প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তেমন সুফল মেলেনি। প্রবাসীদের বাড়তি খরচ বহন করেই রেমিট্যান্স পাঠাতে হচ্ছে।

গত এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কিছুটা কমলেও মোবাইল ব্যাংকিং ও ডাকঘরের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে। তবে ২০১৯ সালের তুলনায় গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব মাধ্যমেই রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা খুব বেশি কমছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বরং আরও বেড়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে প্রতি ২০০ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠাতে খরচ হচ্ছে ২৯ শতাংশ। যা বৈশ্বিকভাবে রেমিট্যান্স পাঠাতে সবচেয়ে বেশি খরচ হয় এমন দেশগুলোর মধ্যে চতুর্থ।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি ২০০ ডলার রেমিট্যান্স ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠাতে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে খরচ হতো ১১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে খরচ হয়েছে ১১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। তবে ব্যাংকিং চ্যানেলে ওই পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাতে গড়ে খরচ হচ্ছে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

একই সময়ের ব্যবধানে মোবাইল ফোন অপারেটরদের মাধ্যমে পাঠানোর খরচ ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ হয়েছে এবং ডাকঘরের মাধ্যমে পাঠানোর খরচ ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ হয়েছে। এদিকে ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে রেমিট্যান্সের অর্থ স্থানান্তরের খরচও বেড়েছে। তবে বিভিন্ন ধরনের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কিছুটা কমেছে।

এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার গড়ে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বাড়ছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রতি ২০০ ডলার পাঠাতে খরচ হতো ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। একই সময়ের মধ্যের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ হয়েছে। সৌদি আরব থেকে ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ হয়েছে।

আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রবাসীদের প্রতি ২০০ ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠাতে গড় খরচ ৩ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার কথা। কিন্ত তা সম্ভব হয়নি। এ লক্ষ্যমাত্রা এখন বেড়ে ৫ শতাংশের বেশি রয়েছে।

দেশে গত অর্থবছরে ২ হাজার ১৬১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে বৈধ চ্যানেলে। এর বাইরে আরও রেমিট্যান্স এসেছে হুন্ডির মাধ্যমে।




২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১০৫ কোটি মার্কিন ডলার

প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ পথে ও ব্যাংকিং চ্যানেলে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরের প্রথম ২২ দিনে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১০৫ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। এতে দৈনিক আসছে ৪ কোটি ৭৯ লাখ ৫২ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি মাসের ২২ দিনে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছে এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৯ কোটি ১১ লাখ ৩০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ২ কোটি ৯৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৯২ কোটি ৯৮ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৭ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার এবং আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। এক মাসের ব্যবধানে রেমিট্যান্স কমেছে ৩৭ কোটি ৩৭ লাখ মার্কিন ডলার।

বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। আগের ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ হয়েছিল। যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার।

 




সেপ্টেম্বরে দৈনিক গড় রেমিট্যান্স ৪ কোটি ডলারে নামলো

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ৭৩ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। অর্থাৎ দৈনিক গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ৪ কোটি ৯৩ লাখ ৩২ হাজার মার্কিন ডলার। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৪৮ কোটি ডলার, যা আগের মাসের চেয়ে অন্তত ১১ কোটি ডলার কম। রবিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত তিন মাসের (১৫ জুন-১৫ সেপ্টেম্বর) ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিন রেমিট্যান্স এসেছে গড়ে ৫ কোটি ২৭ লাখ ডলার করে। অর্থাৎ প্রবাসীরা চলতি মাসের প্রথম ৭ দিনে ৩৬ কোটি ৮৮ লাখ মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। আর জুলাইয়ের প্রথম তিন সপ্তাহে দৈনিক রেমিট্যান্স এসেছে গড়ে পৌনে ৭ কোটি ডলার করে। তার আগের মাস জুনে প্রবাসীরা প্রতিদিন পাঠিয়েছিলেন গড়ে ৭ কোটি ৩৩ লাখ ডলার করে। ওই মাসে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অবশ্য আগস্ট মাসে প্রবাসীরা দেশে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

চলতি (সেপ্টেম্বর) মাসে রেমিট্যান্সের প্রবাহ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, হুন্ডিতে রেমিট্যান্স বেশি আসায় ওইসব ডলার চলে গেছে কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে। এতে কার্ব মার্কেটে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। একইসঙ্গে চাহিদা ও দাম বেড়েছে।

উল্লেখ্য, কার্ব মার্কেটে প্রতি ডলারের দাম এখন ১২০ টাকা। যদিও ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রতি ডলারের বিপরীতে প্রবাসীরা প্রণোদনাসহ সর্বোচ্চ ১১২ টাকা ২৪ পয়সা পাচ্ছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মাসের প্রথম ১৫ দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৫ কোটি ৭ লাখ ১০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ৯৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৯ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৭ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার এবং আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। এক মাসের ব্যবধানে রেমিট্যান্স কমেছে ৩৭ কোটি ৩৭ লাখ মার্কিন ডলার।

বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। আগের ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ হয়েছিল, যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার।

এদিকে গত ৫ সেপ্টেম্বর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৩১৮ কোটি ডলার। এরপর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জুলাই ও আগস্ট মাসের আমদানি বিল ১৩১ কোটি ডলার পরিশোধ করে বাংলাদেশ। ফলে আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ নেমে দাঁড়ায় ২ হাজার ১৭১ কোটি ডলারে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী, বর্তমানে রিজার্ভ ২ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার।




এপ্রিলে ১৬৮ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠালো প্রবাসীরা

ঈদের আগে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠান প্রবাসী বাংলা‌দে‌শিরা। কিন্তু এবার দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ঈদুল ফিতরের মাসে তুলনামূলক কম এসেছে রেমিট্যান্স। সদ্য সমাপ্ত এপ্রিল মাসে বৈধ পথে বা ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৬৮ কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ রেমিট্যান্স হিসাবে এসেছে। এই অঙ্ক চলতি বছরের মার্চ ও আগের বছরের এপ্রিল এ দুই সময়ের তুলনায়ই কম।

মঙ্গলবার (২ মে) প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে ১৬৮ কোটি ৩৪ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ১০৭ টাকা) এ অর্থের পরিমাণ ১৮ হাজার কোটি টাকা। এ অঙ্ক আগের মাসের চেয়ে ৩৩ কোটি ৩৯ লাখ ডলার কম। মার্চে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২ কোটি ২৫ লাখ ডলার। একই সঙ্গে আগের বছরের একই মাসের তুলনায়ও রেমিট্যান্স কমেছে ৩২ কোটি ২৭ লাখ ডলার। আগের বছর ঈদুল ফিতরের সময় অর্থাৎ ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০১ কোটি ৮ লাখ ডলার।

ঈদের সময় হঠাৎ রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, সাধারণত ঈদের সময় রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে। এবারও মাসের প্রথম দিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেশি ছিল। কিন্তু শেষ দিকে কমেছে। কেন রেমিট্যান্স কমল বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বলা হয়েছে। রেমিট্যান্স সার্বিকভাবে কমেছে নাকি বিশেষ কোনো দেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেছে এটা দেখা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে এ বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিতে পারব।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২৪ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৩৮ কোটি ৩৫ লাখ ডলার এবং বিদেশী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

এপ্রিল মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বরাবরের মতো ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। আলোচিত সময়ে ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে ৪২ কোটি ২৩ লাখ ডলার। এরপর অগ্রণী ব্যাংকে ৯ কোটি ৮৩ লাখ, ব্র্যাক ব্যাংকে ৭ কোটি ৮১ লাখ, ডাচ্–বাংলা ব্যাংকে ৭ কোটি ৬৭ লাখ ডলার ও সোনালী ব্যাংক ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার প্রবাসী আয়।

আলোচিত সময়ে সরকারি বিডিবিএল, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, পুলিশের কমিউনিটি ব্যাংক, বিদেশি হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে কোন রেমিট্যান্স আসেনি।

২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৭৭১ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৭৩০ কোটি ডলার। আলোচ্য সময়ে প্রায় ৪১ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বেশি এসেছে।

২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার।

এদিকে ডলার সংকট ও রেমিট্যান্স প্রবাহ কম থাকায় কমছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ। সবশেষ গত ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের রিজার্ভ ৩ হাজার ১০৬ কোটি ( ৩১ দশমিক ০৬ বিলিয়ন) ডলারে নেমে আসে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যদি রিজার্ভ হিসাব করা হয়, তাহলে রিজার্ভ আরও ৭ বিলিয়নের মতো কমে যাবে। সেই হিসাবে এখন প্রকৃত রিজার্ভ আছে ২৪ বিলিয়ন ডলার।




রমজান সামনে রেখে স্বস্তি রেমিট্যান্সে

করোনার পরে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিলো। এরপরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে দেশেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা দেয়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রায় ২০০ কোটি ডলার আসায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিলো। তবে সেই ধারা অব্যহত থাকেনি ফেব্রুয়ারিতে। কমতে থাকে প্রবাসী আয়। তবে রমজান সামনে রেখে স্বস্তি দিচ্ছে রেমিট্যান্স। চলতি মাসের প্রথম ১৭ দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছে ১১৬ কোটি ৪১ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, মার্চ মাসের প্রথম ১৭ দিনে মোট ১১৬ কোটি ৪১ লাখ মার্কিন ডলার এসেছে দেশে। এর মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৪ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ২ কোটি ৫২ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ৯৮ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সাথে হুন্ডি বা অন্য কোনো অবৈধ পথে রেমিট্যান্স না পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা বিএফআইইউ। তবে আগামীতে দুইটি বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা রয়েছে। এ কারনে রেমিট্যান্স বেশি পরিমাণ আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে ডলার সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের ৮ মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার বিক্রি করেছে। দেশের ইতিহাসে পুরো অর্থবছরেও রিজার্ভ থেকে এতো পরিমাণ ডলার বিক্রি হয়নি। মূলত জরুরি আমদানির দায় মেটাতে রিজার্ভ থেকে এসব ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই ও আগস্ট) টানা দুই বিলিয়ন ডলার করে রেমিট্যান্স এসেছিল। এর পরের মাস সেপ্টেম্বর থেকে টানা পাঁচ মাস দেড় বিলিয়ন ডলারের ঘরেই থেমে যায়। অর্থবছরের প্রথম মাসে (জুলাই) এসেছিল ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার, আগস্টে এসেছিল ২০৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলার।

দুই মাস দুই বিলিয়ন ডলার করে এলেও পরের মাস থেকে কমতে থাকে রেমিট্যান্স প্রবাহ যা দেড় বিলিয়ন বা তার কাছাকাছি চলে আসে। সেপ্টেম্বরে এসেছিল ১৫৩ কোটি ৯৬ লাখ মার্কিন ডলার, অক্টোবরে ১৫২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে প্রায় ১৭০ কোটি ডলার বা ১৬৯ কোটি ৯৬ লাখ মার্কিন ডলার। জানুয়ারি মাসে এসেছে ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ মার্কিন ডলার। আর ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসীরা ১৫৬ কোটি ১২ লাখ ডলার পাঠায়।

গত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ (২১.০৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। এটি তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ কম। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ (২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল।