ব্যাংক খাতে লুটপাট ও অর্থপাচারের বিচার দাবিতে গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি

দেশের ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচারের বিচার দাবি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে আইনজীবীদের সংগঠন ‘ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশ’। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে সংঘবদ্ধভাবে দুর্নীতি ও অর্থপাচার হয়েছে, যার ফলে সাধারণ আমানতকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আয়োজিত এক বক্তব্যে সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে অনেক সংকটের মধ্যে রয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা নিজেদের আমানতের টাকা তুলতে পারছেন না। কেউ ২ হাজার টাকা, কেউ ৫ হাজার টাকা পাচ্ছেন, আবার অনেক ব্যাংক গ্রাহকদের কোনো টাকাই দিতে পারছে না।’

 

তিনি বলেন, ‘একজন ক্যানসার রোগী চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে চাইলেও নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে দেড় কোটি টাকা তুলতে পারেননি। ব্যাংক তাকে মাত্র ৫ হাজার টাকা নিতে বলেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

তিনি আরও বলেন, গত ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আবেদন করা হলেও তারা সাক্ষাৎ করতে পারেননি। তবে তাদের স্মারকলিপি গভর্নরের কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

 

সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময় বিশেষ একটি গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে নিয়োগ দিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়। সেই সিন্ডিকেট ব্যাংকের টাকা লুটপাট ও বিদেশে পাচার করেছে।

তারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশের চিফ কোঅর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট আশরাফুজ্জামান বলেন, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি একটি বিশেষ গোষ্ঠী সরকারের প্রভাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দখল করে নেয়। এরপর ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়।

 

তার দাবি, ‘প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা নয়টি দেশে পাচার করা হয়েছে। সেই অর্থ ফেরত এনে আমানতকারীদের টাকা বুঝিয়ে দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে অবৈধভাবে হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের নিয়োগ বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

সংগঠনটির নেতারা সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন’-এরও সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, এই আইনের মাধ্যমে অতীতে ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। তারা আইনের বিতর্কিত ধারা বাতিলের দাবি জানান।

 

এসময় বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে বিতর্কিত ও অকার্যকর করার জন্য দেশীয়-আন্তর্জাতিক একটি মহল সক্রিয় রয়েছে। তারা চান ইসলামী ব্যাংকিং খাত আগের মতো স্বাভাবিক হোক, আমানতকারীরা নির্বিঘ্নে টাকা জমা ও উত্তোলন করতে পারুক এবং বিনিয়োগ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলুক।

স্মারকলিপিতে ব্যাংক লুটপাটের বিচার, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।




ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন সামিট শুরু

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল ট্রাসফরমেশন সামিটের আয়োজন করেছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)। বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রবৃদ্ধি অর্জনের মূল গতিধারা নিয়ে মূল্যবান পর্যবেক্ষণে ‘ব্যাংকিং অন ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে এবিবি।

বুধবার (২৪ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার প্রধান অতিথি হিসেবে এ সামিটের উদ্বোধন করেন। এসময় এবিবির চেয়ারম্যান এবং ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি ও সিইও সেলিম আরএফ হোসেন, এবিবির বোর্ড অব গভর্নর এবং বিভিন্ন ব্যাংকের এমডি ও সিইওরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাল রূপান্তর যাত্রা নিয়ে আলোচনা করার লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী এ সামিটে বাংলাদেশের ৪৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৫০ জনের বেশি কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন। সম্মেলন উপলক্ষে এবিবি এবং পিডব্লিউসি যৌথভাবে ‘ব্যাংকিং ইভল্যুশন: ড্রিভেন বাই ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য গৃহীত কৌশলগুলো বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন ব্যাংকের সিএক্সও পর্যায়ের নির্বাহীদের নিয়ে একটি জরিপ স্থান পেয়েছে।

সম্মেলনে ডিবিএস সিঙ্গাপুর, ইঅ্যান্ডওয়াই, আইবিএম, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রামীণফোন, ইউনিলিভার, হুয়াওয়ে, ওরাকল, আইটি কনসালট্যান্ট লিমিটেড, লেন্ট্রা, থাকরাল, ওরোজেনিক, মাস্টারকার্ড, কেপিএমজি, ডেলয়েট, এটুআই, বিআইবিএমসহ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানি এবং সংস্থার বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করছেন।

সম্মেলনের লক্ষ্য বাংলাদশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা প্রধান গতিধারাগুলোর ওপর আলোকপাত করা। দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্যে পথ চলতে ব্যাংকগুলো যে কৌশলগুলি গ্রহণ করতে পারে তা বিশ্লেষণ করে মূল্যবান পর্যবেক্ষণ প্রদান করা সম্মেলনের লক্ষ্য। এছাড়া এর লক্ষ্য আর্থিক সেবা খাতকে প্রভাবিত করে এমন বিদ্যমান নীতি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়ে গবেষণা করা। এ শিল্পের স্টকহোল্ডার, ইকোসিস্টেম এনাবেলার্স ও নীতি নির্ধারকদের এগিয়ে যাওয়ার পথে সুপারিশ দিয়ে এ সম্মেলন সহযোগিতা এবং একীভূত লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাকে বৃদ্ধি করেছে।

এই সম্মেলন নিয়ে এবিবির চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, এবিবি-এর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন সামিট বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা প্রধান গতিধারাগুলো সম্পর্কে মূল্যবান পর্যবেক্ষণ দেবে। এটি দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্যে পথচলার জন্য ব্যাংকগুলো যে কৌশল নিতে পারে তা বিশ্লেষণ করবে এবং আর্থিকসেবা খাতকে প্রভাবিত করে এমন বিদ্যমান নীতি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোগুলো নিয়ে গবেষণা করবে। এ ছাড়াও এ সম্মেলন এ খাতের স্টেকহোল্ডার, ইকোসিস্টেম এনাবেলার্স ও নীতি নির্ধারকদের এগিয়ে যাওয়ার পথে সুপারিশ করবে। একটি একীভূত লক্ষ্যের দিকে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থিক সেবা খাত একটি টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ইকোসিস্টেম তৈরি করতে পারে যা সব স্টেকহোল্ডারের উপকারে আসবে।

সম্মেলনে ব্যাংকিং সেক্টরে ডিজিটাল রূপান্তরের গুরুত্ব অনুধাবনকারী সম্মানিত স্পন্সরদের কাছ থেকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইভেন্টের প্ল্যাটিনাম স্পন্সর হুয়াওয়ে, পাওয়ার্ড বাই স্মার্ট। গোল্ড স্পনসরগুলোর মধ্যে রয়েছে— ওরাকল, পাওয়ার্ড বাই রেডিংটন গ্রুপ এবং আইবিএম, পাওয়ার্ড বাই থাকরাল ও লেন্ট্রা। সিলভার স্পন্সর হলো মাস্টারকার্ড, ডকুওয়্যার পাওয়ার্ড বাই ওরোজেনিক, আইটি কনসালটেন্ট লিমিটেড, পেলজিক এবং মোডফিন পাওয়ার্ড বাই থাকরাল।

‘ব্যাংকিং অন ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন’ সম্মেলনটি শিল্পে অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ আলোচনা, ইন্ডাস্ট্রির অন্তর্বর্তী মূল্যবান তথ্য আদান-প্রদান এবং নেটওয়ার্কিং সুযোগের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি জ্ঞান বণ্টন, সহযোগিতা এবং ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে নতুন সম্ভাবনা খুঁজে পাওয়ার পথ আরও সহজ করবে।




জানুয়ারিতে ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত তারল্য কমেছে ৮,১২৮ কোটি টাকা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, চলতি অর্থবছরের ঘাটতি মেটাতে সরকারের ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেয়ার কথা রয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো থেকে নীট ঋণ না নিয়ে উল্টো ১১ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। যার অর্থ ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট থাকায় সরকার ঋণ নিচ্ছে না।
ব্যাংকিং খাতে গত জানুয়ারি মাসে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ কমেছে ৮,১২৮ কোটি টাকা। বর্তমানে কয়েকটি ব্যাংক তারল্য সংকটে থাকলেও বেশ কিছু ব্যাংকের এই অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে।

ব্যাংকাররা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাপক ডলার বিক্রি, কম আমানত রেট, ডলারের রেট ব্যাপক বৃদ্ধি ও কয়েকটি ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি, গ্রাহকের নগদ অর্থ উত্তোলনে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য কমছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৩ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা; এরপর তা কমতে কমতে জানুয়ারিতে এসে ঠেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়।

অক্টোবরের ১.৬৯ লাখ কোটি টাকা থেকে পরের মাসেই তারল্যের পরিমাণ দ্রুত নেমে দাঁড়ায় ১.৫৩ লাখ কোটি টাকায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, ২০২২ সাল জুড়েই ব্যাংকগুলো ডলার সংকটে। এই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাপক ডলার কেনায় ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট দেখা দেয়। এছাড়া কিছু ব্যাংকের ঋণ অনিয়মের তথ্য প্রকাশ হওয়ায় গ্রাহকের নগদ তারল্য ওঠানো ব্যাপক বেড়েছে, যার কারণে উদ্বৃত্ত তারল্য কমেছে।

তারা আরও বলেন, সাধারণত ব্যাংকগুলো সরকারি বিল-বন্ডের রেট বেশি হলে অতিরিক্ত তারল্য দিয়ে বিনিয়োগ করে। আবার বিল-বন্ডের রেট কমে গেলে বিনিয়োগের পরিমাণও কমে যায়। গত ১৫ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন মনিটারি পলিসিতে কনজ্যুমার লোনের সুদ হার রেট ৯% থেকে ১২% করেছে। যার কারণে অনেকের বিল-বন্ডে বিনিয়োগ ম্যাচিউরিটি হওয়ায় নতুন করে বিনিয়োগ করেনি। এ কারণেও অতিরিক্ত তারল্য কমেছে।
সংবিধিবদ্ধ তারল্য অনুপাত (এসএলআর) এবং নগদ রিজার্ভ অনুপাত (সিআরআর) বজায় রাখার পর অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ নির্ণয় করা হয়।

ক্যাশ আকারে মোট আমানতের ৪% সিআরআর এবং নন-ক্যাশ আকারে ১৩% এসএলআর বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে রাখা ব্যাংকগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৯১-দিনের ট্রেজারি বিলগুলোর জন্য একটি নিলাম ডাকে, যেখানে ইল্ড রেট ছিল ৬.৮৪%, যা জানুয়ারির ৭.৪৫% থেকে কম।

ব্যাংকগুলো সেসব বিলে বিনিয়োগের জন্য নিলামে অংশ নেয়, যার মাধ্যমে সরকার বাজেটে ব্যয়ের জন্য ঋণ নেয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, পাঁচ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড রেট ফেব্রুয়ারিতে ৮.২০% এ নেমে এসেছে, জানুয়ারিতেও এই হার ছিল ৮.২৯%।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের জুন শেষে সরকারের ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সিকিউরিটিজ হিসেবে দায়ের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা। ডিসেম্বর শেষে এর পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা। এই ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকগুলোর কাছে দায় কমেছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারের সিকিউরিটিজ হিসেবে দায়ের পরিমাণ কমেছে, অর্থ হচ্ছে সরকার বেশি ঋণ পরিশোধ করছে। চলতি অর্থবছরের সাত মাসে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। সরকার এই ঋণ নিয়ে ব্যাংকগুলোকে আগের ১১ হাজার কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থবছরের ঘাটতি মেটাতে সরকারের ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেয়ার কথা রয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো থেকে নীট ঋণ না নিয়ে উল্টো ১১ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। যার অর্থ ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট থাকায় সরকার ঋণ নিচ্ছে না।

বৈদেশিক মুদ্রা বাজারকে স্থিতিশীল করতে এবং ব্যাংকগুলোকে তাদের আমদানি ব্যয়ে বাধ্যবাধকতা পূরণে সহায়তার জন্য ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে আর্থিক ব্যবস্থায় ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ডলার বিক্রির ফলে ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২.৬০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে, ২০২১ সালের আগস্টেও এটি ছিল রেকর্ড ৪৮.৬ বিলিয়ন ডলার।

তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক লেনদেন এবং স্থানীয় বাজার, উভয় ক্ষেত্রে তারল্য সংকট কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে; যেহেতু বেশ কয়েক মাস পর ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে মুদ্রামান আবার নামতে শুরু করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় ক্যাশ মেইনটেনেন্সের পর জানুয়ারির শেষে ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮,৭০০ কোটি টাকায়, যা ডিসেম্বরে ছিল মাত্র ৫,৮০০ কোটি টাকা।

পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক পুনঃঅর্থায়ন বা রিফাইন্যান্সিং স্কিম চালু করেছে যা ব্যাংকগুলোকে ঋণের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তার ভাষ্যে, বাংলাদেশ ব্যাংক রেপো সুবিধার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সহায়তার গতি বাড়িয়েছে, যা তারল্য সংকট কমাতেও অবদান রেখেছে।