কোনো ব্যাংক বন্ধ হবে না : অর্থ উপদেষ্টা

কিছু ব্যাংক ভালো অবস্থায় ফিরে আসছে, কিছু ব্যাংক খুঁড়ে খুঁড়ে চলবে, তবে কোনো ব্যাংক বন্ধ হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন অর্থ উপদেষ্টা।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, কিছু ব্যাংক ফিরে আসছে। ইসলামী ব্যাংক বিগেস্ট ব্যাংক। এটা ভালোর দিকে যাচ্ছে। তবে কিছু ব্যাংক খুঁড়ে খুঁড়ে চলবে। আমরা কোনো ব্যাংক বন্ধ করব না।

তিনি বলেন, বাজেটের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি কর্মকর্তা যারা আছেন তাদের বেতন ভাতা আটকাবে না। এডিপিতে কোন কোন প্রকল্প অপ্রয়োজনীয় এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখা যাচ্ছে।

 




ঈদের ছু‌টি‌তেও যেসব এলাকায় ব‌্যাংক খোলা

পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবা‌নির পশু কেনার জন‌্য লেন‌দে‌নের সু‌বিধার্থে রাজধানীর দুই সি‌টি ও চট্টগ্রাম সি‌টি কর‌পো‌রেশন এবং নাটোরের সিংড়া পশুর হা‌ট সংলগ্ন ব্যাং‌কের শাখা ও উপশাখা খোলা রাখতে ব‌লে‌ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব শাখায় ব্যাংকিং কার্যক্রম রাত ১০টা পর্যন্ত পরিচালনা কর‌তে বলা হ‌য়ে‌ছে।

তাই শ‌নিবার ও রোববার সকাল ১০টা থে‌কে রাত ১০টা পর্যন্ত নির্ধা‌রিত এলাকায় হাট সংলগ্ন ব্যাংকের শাখা ও উপশাখা খোলা থাক‌বে।

পশু ব্যবসায়ী‌দের ব্যাং‌কিং লেন‌দে‌নের সু‌বিধা‌র্থে এ নি‌র্দেশনা দি‌য়ে‌ছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।

এর আগে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ’ এ সংক্রান্ত সার্কুলার জা‌রি ক‌রে বা‌ণি‌জ্যিক ব্যাং‌কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কা‌ছে পাঠায়।

নির্দেশনায় আসন্ন ঈদুল আজহায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও নাটোরের সিংড়া পৌরসভার
কোরবানির পশুর হাটের (স্থায়ী ও অস্থায়ী) নিকটবর্তী ব্যাংক শাখা, উপশাখা স্বীয় বিবেচনায় নির্বাচন করে বিশেষ ব্যবস্থায় ১৪ জুন থেকে ঈদের আগের দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখতে বলা হয়।

প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কোরবানির পশুর হাটে অস্থায়ী বুথ স্থাপন করতেও বলা হয় নির্দেশনায়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শাখা, উপশাখা ও বুথগুলোতে অতিরিক্ত সময়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিধি মোতাবেক ভাতা প্রদান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ঈদের আগে তিনদিন ছুটিতে শিল্প এলাকায় ব্যাংক খোলা
তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাসসহ অন্যান্য ভাতা পরিশোধ ও রপ্তা‌নি বিল বিক্র‌য়ের সুবিধার্থে পোশাকশিল্প এলাকায় সী‌মিত প‌রিস‌রে শিল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাংক খোলা রাখ‌তে বলা হ‌য়ে‌ছে।

কেন্দ্রীয় ব‌্যাংক জানায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে তৈরিপোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও রপ্তানি বিল ক্রয়ের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো ঈদের আগের সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ১৪, ১৫ ও ১৬ জুন পূর্ণ দিবস খোলা থাকবে। ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের তৈরিপোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ছুটির দিন সংশ্লিষ্ট শাখা খোলা থাকবে।

তাই পোশাক শিল্প এলাকায় শ‌নিবার ও রোববার ব‌্যাংক খোলা।




আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও বাড়ল সুদহার

ব্যাংকের পর এবার ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরও সুদহার বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ৬ মাসের গড় সুদের সঙ্গে ৫ শতাংশের পরিবর্তে সাড়ে ৫ শতাংশ যোগ করে সুদহার নির্ধারণ হবে। আর আমানতে যোগ করা যাবে ২ শতাংশের পরিবর্তে আড়াই শতাংশ। গতকাল রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছে।

বিভিন্ন শর্ত পূরণ না হওয়ায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংস্থাটির পরামর্শে এরই মধ্যে নীতি সুদহার বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে স্মার্ট বা সিক্স মান্থ মুভিং এভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিলের সুদহার বাড়বে। গত সেপ্টেম্বর মাসে স্মার্ট ছিল ৭ দশমিক ২০ শতাংশ। এতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণে সুদহার হবে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। আর আমানতে ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ।




৩৪ হাজার কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি ১৫ ব্যাংকে 

ঋণ আদায়ে বিভিন্ন শিথিলতার মধ্যেও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ। এর প্রভাবে বেড়েছে মূলধন ঘাটতিও। গত জুন শেষে ১৫টি ব্যাংকে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি হয়েছে। ঘাটতির তালিকায় নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে চারটি ব্যাংক। অবশ্য বিভিন্ন ছাড় দিয়ে পুনঃতপশিল, আদায় না করেও নিয়মিত দেখানোর সুযোগসহ বিভিন্ন শিথিলতার মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হচ্ছে। তা না হলে মূলধন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতো বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

ঋণের শ্রেণিমান বিবেচনায় প্রতিটি ব্যাংকের নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ করতে হয়। প্রভিশন ঘাটতি বাড়লে স্বাভাবিকভাবে মূলধন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বাড়ে। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গত জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। গত জুন পর্যন্ত বিতরণ হওয়া ১৫ লাখ ৪২ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকার, যা ১০ দশমিক ১১ শতাংশ। তিন মাস আগে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২১ কোটি টাকা। মোট ঋণের যা ছিল ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। এর মানে তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৩ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা। এর বাইরে অবলোপন ও পুনঃতপশিলের পর আদায় না হওয়া ঋণ রয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই ঋণকেও দুর্দশাগ্রস্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং পদ্ধতি ব্যাসেল-৩ নীতিমালার আলোকে একটি ব্যাংকের মোট ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ অথবা ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে যা বেশি, ন্যূনতম সেই পরিমাণ মূলধন রাখতে হয়। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে প্রতিটি ব্যাংককে আপৎকালীন সুরক্ষা সঞ্চয় হিসেবে অতিরিক্ত আড়াই শতাংশ হারে মূলধন রাখার নির্দেশনা রয়েছে। তবে নিয়ম মেনে ১৫টি ব্যাংক গত জুন শেষে মূলধন রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। অনেক ব্যাংক আবার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মূলধন রেখেছে।

কোন ব্যাংকের কত ঘাটতি

আগে থেকেই সরকারি-বেসরকারি খাতের ১১টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে ছিল। নতুনভাবে যুক্ত হওয়া বেসরকারি খাতের সিটিজেন ব্যাংকের ঘাটতি ৯৭ কোটি এবং বেঙ্গল ব্যাংকের ৮৮ কোটি টাকা। আর বিদেশি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ৪২ কোটি এবং হাবিব ব্যাংকের ৩৬ কোটি টাকা ঘাটতি।

বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি ঘাটতি রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের। গত জুন শেষে ব্যাংকটির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। সরকারি ব্যাংকের মধ্যে পর্যায়ক্রমে অগ্রণীর ৩ হাজার ৭৬৮ কোটি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ২ হাজার ৩৮৬ কোটি, রূপালীর ২ হাজার ২৩০ কোটি, জনতার ২ হাজার ১৮৯ কোটি এবং সোনালী ব্যাংকের ঘাটতি ১১ কোটি টাকা। বেসরকারি খাতের অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে– আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকে ১ হাজার ৮১২ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংকের ১ হাজার ৩৮০ কোটি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ১ হাজার ৩১৪ কোটি ও পদ্মা ব্যাংকের ৮৯৭ কোটি টাকা ঘাটতি। সব মিলিয়ে ১৫ ব্যাংকের ঘাটতি ৩৩ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ব্যাংক খাতে মূলধন রাখার কথা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। তবে সামগ্রিক ব্যাংক খাত রাখতে পেরেছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা। এর মানে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন ছিল ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ। এর মানে আপৎকালীন সুরক্ষা হিসেবে অতিরিক্ত আড়াই শতাংশ বিবেচনায় নিলে বেশির ভাগ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি রয়েছে।

আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের শর্তের আলোকে সর্বশেষ ২০২২ সালের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়, খেলাপি ঋণ ৩ শতাংশ বাড়লে মূলধন ঘাটতিতে পড়বে আরও ২১টি ব্যাংক। আর শীর্ষ তিনজন করে গ্রাহক খেলাপি হলে চারটি ব্যাংক নতুন করে মূলধন ঘাটতিতে পড়বে। আর যদি খেলাপি ঋণ ৩ শতাংশ বাড়ে এবং একই সময়ে শীর্ষ তিনজন ঋণগ্রহীতা খেলাপি হন তখন বেশির ভাগ ব্যাংক ন্যূনতম মূলধন রাখতে পারবে না।




মোবাইল ওয়ালেটে আসবে রেমিট্যান্স

এখন থেকে ব্যাংক ও মোবাইলে আর্থিক সেবাদানকারী (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের (পিএসপি) মাধ্যমে দেশে সরাসরি রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবেন প্রবাসীরা।

সনদপ্রাপ্ত পিএসপির আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশ থেকে রপ্তানি আয় সংগ্রহ করতে পারবে। এক্ষেত্রে ব্যাংক ও এমএফএসের মাধ্যমে পাঠানো রেমিট্যান্সের সঙ্গে যে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা ছিল, সেই সুবিধা এখানেও কার্যকর হবে। তবে, এসব প্রতিষ্ঠানের সরাসরি আউটলেট না থাকায় তারা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিবেন। আর এই সেবার জন্য কোনো বাড়তি চার্জ যুক্ত হবে না।

মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, এতদিন ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো রেমিট্যান্স আনতে পারত। নতুন নির্দেশনার পর থেকে তৃতীয় কোনো মাত্রা যোগ হলো।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগের পরিচালক মো. সারওয়ার হোসেন বলেন, ‘ব্যাংক ও এমএফএসের পাশাপাশি রেমিট্যান্স সংগ্রহ করতে নতুন মাত্রা হিসাবে যোগ হলো পিএসপি। এতে রেমিট্যান্স সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান বাড়ায় সেবার পরিধি বৃদ্ধি পেল।’




নারী উদ্যোক্তাদের ঋণে মিলবে বিশেষ প্রণোদনা

নারী উদ্যোক্তাদের দেওয়া ঋণ যথাসময়ে আদায় বা পরিশোধে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহক প্রত্যেককে দেওয়া হবে ১ শতাংশ হারে বিশেষ প্রণোদনা।

বুধবার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে।

সিএমএসএমই খাতের নারী উদ্যোক্তাদের বিতরণকৃত ঋণ বিনিয়োগের বিপরীতে প্রণোদনা সুবিধা প্রদান প্রসঙ্গে সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ৪ ও ১৭ আগস্ট, ২০২২ সালের ২০ জুন, ২০২৩ সালের ২৫ জুন সার্কুলারের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য স্মল এন্টারপ্রাইজ খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদ/মুনাফায় বিতরণকৃত ঋণ যথাসময়ে সমন্বয় /আদায়/পরিশোধে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং গ্রাহক প্রত্যেককে ১ শতাংশ হারে প্রণোদনা সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

প্রণোদনার পরিমাণ হিসাবায়নে যেসব নির্দেশনা/ব্যাখ্যা অনুসরণীয় হবে সেগুলোর হলো, প্রণোদনার পরিমাণ হিসাবায়নের জন্য সকল নিয়মিত ঋণ/বিনিয়োগের পরিমাণ ও ব্যবহারকাল বিবেচনা করতে হবে। কন্টিনিউয়াস বা রিভোলিং (সিসি, ওডি ইত্যাদি) ঋণ/বিনিয়োগসমূহ মেয়াদের মধ্যে পুনঃনবায়ন করা হলে তার বিপরীতে প্রণোদনা সুবিধা প্রাপ্য হবে। বিরূপমানে শ্রেণিকৃত হলে উক্ত ঋণ বিনিয়োগের বিপরীতে প্রণোদনা সুবিধা প্রাপ্য হবে না।

আগের সার্কুলারগুলোতে নারী উদ্যোক্তাদের বিতরণকৃত ঋণ/বিনিয়োগের বিপরীতে প্রণোদনা প্রদান সংক্রান্ত অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ এর ১৮ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।




ব্যাংককে আইওএসকোর বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ সিকিউরিটিজ কমিশনের (আইওএসকো) বার্ষিক সভা ২০২৩ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বুধবার (১৪ জুন) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ও আইওএসকোর এশিয়া-প্যাসিফিক আঞ্চলিক কমিটির (এপিআরসি) ভাইস-চেয়ার এবং আইওএসকো বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এ সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম চলতি বছরের ২২ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এপিআরসি সভা এবং ১৩ জুন থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এপিআরসি সভা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যাদি উপস্থাপন করে আইওএসকো বোর্ডের সদস্যদেরকে এ বিষয়ে অবহিত করেন।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আইওএসসিওর উদ্যোগে সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন থাইল্যান্ডের আয়োজনে ব্যাংককে ১৩ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত আইওএসসিও’র বার্ষিক সভা হবে।

 




লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের বন্ড সাবস্ক্রিপশন সম্পন্ন

লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেড সম্প্রতি ৩ হাজার মিলিয়ন টাকার প্রাইভেটলি প্লেসড নন-কনভার্টিবল, জিরো কুপন বন্ডের সাবস্ক্রিপশন সম্পন্ন করেছে।

একাধিক ব্যক্তি বিনিয়োগকারী, কর্পোরেট, ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, পেনশন ও গ্র্যাচুয়িটি ফান্ড এই ইস্যুতে সাবস্ক্রিপশন করে। এই বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স তার চতুর্থ বন্ড ইস্যু সম্পন্ন করল। বন্ডটি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডেবট সিকিউরিটিজ) রুলস ২০২১-এর আলোকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন সাপেক্ষে ডিমেটেরিয়ালাইজ্ড ফর্মে ইস্যু করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে লেনদেন হবে।

উক্ত বন্ডের ট্রাস্টি ও লিড অ্যারেঞ্জার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যথাক্রমে আইআইডিএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড ও গ্রিন ডেল্টা ক্যাপিটাল লিমিটেড। লংকাবাংলা ফাইন্যান্স সক্রিয়ভাবে বন্ড ইস্যু ও অন্যান্য বহুমুখী বিকল্প দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে অর্থায়নের নানাবিধ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। পক্ষান্তরে, বিএসইসি দেশের বন্ড বাজারের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। জিরো কুপন বন্ড ফেইস ভ্যালুর ওপর ডিসকাউন্টে ইস্যু করা হয় এবং মেয়াদান্তে ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীকে সম্পূর্ণ ফেইস ভ্যালু প্রদান করে। বর্তমানে জিরো কুপন বন্ড থেকে অর্জিত আয় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ব্যতীত সকল ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর জন্য সম্পূর্ণ করমুক্ত।