৬ ব্যাংক থেকে আরও ৮৫ মিলিয়ন ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহ বাড়ায় দেশে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে মার্কিন ডলার কেনা শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ছয়টি ব্যাংক থেকে ৮৫ মিলিয়ন বা সাড়ে আট কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে প্রতি ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয় ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

 

এর আগে সোমবার (১৮ মে) ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এমপিএ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়েও প্রতি ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংক থেকে মোট ছয় দশমিক ০৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারে ডলারের দাম অতিরিক্ত কমে গেলে রপ্তানিকারক ও প্রবাসী আয় প্রেরণকারীরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন। সে কারণে ডলারের দর একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে যাওয়া ঠেকাতেই কেনার এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরেই বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ডলার কেনাবেচা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে বড় অঙ্কের ডলার বিক্রি করা হলেও, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ধীরে ধীরে কেনার মাধ্যমে রিজার্ভের ওপর চাপ কমানোর কৌশল নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

অর্থনীতিবিদদের মতে, সর্বশেষ এ ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও কিছুটা শক্তিশালী হবে। তারা বলেন, রিজার্ভের চাপ ও বৈদেশিক লেনদেনে ঘাটতির কারণে এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিটি পদক্ষেপই মুদ্রাবাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। ফলে ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ ধরনের হস্তক্ষেপ আস্থা ফেরাতে সহায়ক হবে।




আমদানি-রপ্তানির ডলার অর্থায়নে বাড়ল সুদহার

বৈদেশিক মুদ্রা স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক অর্থাৎ আমদানি-রপ্তানি অর্থায়নের সুদহার পুনঃনির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে ডলারের বাণিজ্যিক অর্থায়নে আগের চেয়ে দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি সুদ পাওয়া যাবে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদি আমদানি-রপ্তানি অর্থায়নের সুদের হার পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে মুদ্রার বেঞ্চমার্ক রেটের সঙ্গে ৪ শতাংশ যুক্ত করে বার্ষিক সুদের হার নির্ধারণ করতে হবে। অর্থায়ন চলমান থাকাকালীন অবস্থায় বেঞ্চমার্ক রেট হিসেবে লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফার্ড রেট (লাইবর) ব্যবহার করা যাবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ২০২২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সুদহার পুনঃনির্ধারণ করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতদিন নির্দেশনা অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার বেঞ্চমার্ক রেটের সঙ্গে সাড়ে ৩ শতাংশ যুক্ত করে সুদের হার নির্ধারণ করা হতো।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মার্কিন ডলারের বেঞ্চমার্ক রেট হিসেবে ব্যবহৃত এসওএফআরের হার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় দশমিক ৫০ শতাংশ সুদহার কমানো হয়েছে। এতে করে বায়ার্স ক্রেডিটের আওতায় আমদানি ব্যয় কিছুটা কমবে। পাশাপাশি রপ্তানিকারকরাও কম সুদে রপ্তানি বিল বৈদেশিক মুদ্রায় ডিসকাউন্ট করতে পারবে।

জানা গেছে, এখন বেঞ্চমার্ক রেফারেন্স রেট ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদি আমদানি-রপ্তানির সময় এই রেটের সঙ্গে ৪ শতাংশ যোগ করে সুদ পাবে।




অফশোর ব্যাংকিং হিসাবে ডলার আমানতে মিলবে ৯ শতাংশ সুদ

অফশোর ব্যাংকিংয়ে মাধ্যমে হিসাব খুলে বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার আমানত রাখার সুযোগ করে দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রবাসী ও স্থানীয় গ্রাহক এই আমানত রাখতে পারবেন। এর বিপরীতে মিলবে ৭ থেকে প্রায় ৯ শতাংশ সুদ। এর ফলে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে বিপরীতে কমবে ডলার সংকট।

অফশোর ব্যাংকিং হলো ব্যাংকের অভ্যন্তরে পৃথক ব্যাংকিং সেবা। বিদেশি কোম্পানিকে ঋণ প্রদান ও বিদেশি উৎস থেকে আমানত সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে অফশোর ব্যাংকিংয়ে। স্থানীয় মুদ্রার পরিবর্তে বৈদেশিক মুদ্রায় হিসাব করা হয় অফশোর ব্যাংকিংয়ে।

বুধবার (২৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, অফশোর ব্যাংকিং আমানত হিসাবে মুদ্রা ভিত্তিক রেফারেন্স রেটের সাথে মার্কআপ যোগ করে সুদের হার নির্ধারণ করা হবে। এই আমানত হিসাবে ৩ মাস থেকে ১ বছর মেয়াদী আমানতের ওপর রেফারেন্স রেটসহ ১ দশমিক ৫০ শতাংশ, ১ বছর থেকে ৩ বছর সময়ের জন্য রেফারেন্স রেটসহ ২ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং ৩ বছর থেকে ৫ বছর সময়ের জন্য রেফারেন্স রেটসহ ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ সুদ পাবে গ্রাহকরা।

বর্তমানে রেফারেন্স রেটের হার সাড়ে ৫ শতাংশ। ফলে তিন মাস থেকে ১ বছর মেয়াদী অফশোর ব্যাংকিংয়ে আমানতের ওপর মিলবে ৭ শতাংশ সুদ, ১ বছর থেকে ৩ বছর মেয়াদে ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং ৩ বছর থেকে ৫ বছর মেয়াদে ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদ মিলবে। অথচ বর্তমানে ব্যাংকগুলো আমানতের উপর ৫ থেকে ৬ শতাংশ সুদ দেয়।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বাইরে অবস্থানকারী অনিবাসী বাংলাদেশি, বাংলাদেশি ব্যক্তি, বিদেশি নাগরিক, বিদেশে নিবন্ধিত ও পরিচালিত প্রতিষ্ঠান এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী আলোচ্য আমানত হিসাব পরিচালনার সুযোগ পাবে। অনিবাসীদের পাশাপাশি অফশোর ব্যাংকিং নিবাসী ব্যক্তি ও বিশেষায়িত অঞ্চলে কার্যরত টাইপ-এ, টাইপ-বি ও টাইপ-সি শিল্পসহ প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং হিসাব খোলার সুযোগ প্রদান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিদেশি পক্ষের সাথে হিসাবধারীর যৌক্তিক সম্পর্ক থাকতে হবে। হিসাবধারী বিদেশি পক্ষের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে এবং সে অনুযায়ী তহবিল ব্যবহার হবে। সকল ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে প্রাপ্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স আলোচ্য হিসাবে জমা হবে।




রপ্তানিকারকদের ইআরকিউ হিসাবে ডলার জমা রাখার নতুন নির্দেশনা

প্রত্যাবাসিত রপ্তানি আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ (বৈদেশিক মুদ্রা) রপ্তানিকারকের রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাবে জমা রাখা যায়। এই হিসাবে ডলার জমা রাখার পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে ব্যবসায়ীদের হিসাবে ডলার কম থাকলেও বাজারে সরবরাহ বাড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) বৈদেশিক মুদ্রার অনুমোদিত ডিলার (এডি) শাখায় পাঠিয়েছে।

নতুন নির্দেশনার ফলে ব্যবসায়ীদের ইআরকিউ হিসাবে ডলার কম থাকলেও বাজারে সরবরাহ বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।




কার্ডে বৈদেশিক মুদ্রার খরচ বেড়েছে ১২৭ শতাংশ

আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে দেশে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন বেড়েছে। শুধুমাত্র দেশি মুদ্রায় নয়, বিদেশি মুদ্রায়ও বেড়েছে কার্ডে খরচের প্রবণতা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশিরা বিদেশে গিয়ে কার্ড ব্যবহার করে বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন করেছেন ৬ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা। যেখানে আগের ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা ছিলো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশে গিয়ে কার্ডে বৈদেশিক মুদ্রার খরচের প্রবণতা বেড়েছে ১২৭ শতাংশ, যা পরিমাণে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের করা এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, কার্ডে খরচের পাশাপাশি লেনদেনের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট লেনদেন হয়েছে ৯২ লাখ ৩৭ হাজার। এর আগের অর্থবছরে লেনদেনের সংখ্যা ছিল ৫৬ লাখ ৯০ হাজার। অর্থাৎ এক বছরে লেনদেনের সংখ্যা বেড়েছে ৩৫ লাখ ৪৭ হাজার।

বিদেশে গিয়ে একজন বাংলাদেশি সাধারণত এক বছরে ১২ হাজার ডলার বা এর সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে পারেন। নগদ বৈদেশিক মুদ্রা কিংবা কার্ড ব্যবহার করে এই পরিমাণ অর্থ খরচের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ফেব্রুয়ারিতে ভারত ভ্রমণে বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ৭৩ কোটি টাকা খরচ করেছেন। মার্চে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত ভ্রমণে বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ৭৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ খরচ করেছেন। পরের মাসে, অর্থাৎ মার্চে এভাবে অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১০৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ। ভারতের পর বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বেশি খরচ করেন। এর পরের অবস্থানে রয়েছে থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।




বাংলাদেশকে আরও ১০ কো‌টি ডলার ফেরত দিল শ্রীলঙ্কা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত (রিজার্ভ) থেকে প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কাকে ২০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছিল বাংলাদেশ। ওই ঋণের ১০ কো‌টি (১০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার পরিশোধ করছে শ্রীলঙ্কা। এর আগে ৫ কোটি (৫০ মিলিয়ন) ডলার ফেরত দি‌য়ে‌ছিল দেশটি। সব মি‌লি‌য়ে ১৫ কোটি (১৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার পরিশোধ করে‌ছে দেশ‌টি।

শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক।

তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার ফেরত দিয়েছে। এখন শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া ২০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণের মধ্যে ১৫০ মিলিয়ন ডলার আমরা পেয়েছি। বাকি ৫০ মিলিয়ন ডলার যথাসময়ে ফেরত দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিন মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার শর্তে কারেন্সি সোয়াপ পদ্ধতির আওতায় ২০২১ সালে ঋণ নেয় শ্রীলঙ্কা। কিন্তু যথাসময়ে ওই ঋণ ফেরত দিতে পারেনি দেশটি। পরে কয়েক দফা সময় চেয়েছে তারা। উপায় না থাকায় কয়েক দফা সময় দিয়েছে বাংলাদেশও। সবশেষ আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় ২০২১ সালের ১৯ আগস্ট ৫ কোটি ডলার ছাড় করে বাংলাদেশ ব্যাংক। দ্বিতীয় দফায় ১০ কোটি ডলার দেওয়া হয় ওই বছরের ৩০ অক্টোবর। বাকি ৫ কোটি ডলার দেওয়া হয় নভেম্বরে। বিদ্যমান চুক্তির আওতায় গত বছরের আগস্ট, অক্টোবর ও নভেম্বরের মধ্যে সুদসহ অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় ঋণ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয় শ্রীলঙ্কা।

ঋণের বিপরীতে লন্ডন আন্তঃব্যাংক অফার রেট বা লাইবর যোগ করে দেড় শতাংশ সুদ পাওয়ার কথা বাংলাদেশের। তবে সেই সুদ নিয়মিত পরিশোধ করছে শ্রীলঙ্কা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। ডলার সংকটে ধারাবাহিকভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ২৯ বিলিয়ন ডলারের নেমে এসেছে।




বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বৈদেশিক মুদ্রায় খুলতে পারবেন হিসাব

বিদেশি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে বৈদেশিক মুদ্রায় (এফসি) হিসাব খোলার সুযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে কোম্পানিগুলো যেসব অর্থ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে তা বৈদেশিক মুদ্রায় একবছর ধরে রাখতে পারবে। আগে বৈদেশিক মুদ্রা স্থানান্তর হলে তা সঙ্গে সঙ্গে টাকায় রূপান্তরিত করতে হতো।

বুধবার (২১ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, এখন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দ্বারা প্রস্তাবিত কোম্পানি বা এন্টারপ্রাইজের নামে অস্থায়ী বৈদেশিক মুদ্রায় অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। মুদ্রাটি শুধুমাত্র মূলধন ব্যয়ের জন্য বহির্মুখী অর্থ প্রদানের জন্য ব্যবহার করতে পারবে। এফসি অ্যাকাউন্টের মেয়াদ হবে খোলার তারিখ থেকে এক বছর।

এতদিন বাংলাদেশে নিবন্ধিত রপ্তানি নির্ভর নয় এমন বিদেশি কোম্পানির বিদেশি কর্মীদের বৈদেশিক মুদ্রার অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ ছিল না। এ কারণে তারা স্থানীয় মুদ্রায় বেতন-ভাতা তুলে পরে তা দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা কিনে নিজ দেশে পাঠাত। এতে ঝুঁকি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে অনেকেই হুন্ডিতে আগ্রহী হচ্ছিলেন। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের বৈদেশিক মুদ্রায় অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দিয়েছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আরও উৎসাহিত হবে বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের সং‌শ্লিষ্ট কর্মকর্তারা

তারা জানান, এতোদিন বিদেশি কোম্পানি দেশে বিনিয়োগের জন্য একটি অস্থায়ী এফসি অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ ছিল। বাংলাদেশে বিনিয়োগের ওই এফসি অ্যাকাউন্টে ফরেন কারেন্সি আনা হত। ব্যবসা শুরুর করার সময় তা আবার টাকায় রূপান্তর করতে হত। তাই এখন তাদের বৈদেশিক মুদ্রায় এফসি অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে তারা ফরেন ক্যারেন্সি হোল্ড করতে পারবে। বিনিয়োগকারী একবছর ধরে ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার হিসেবে ব্যয় করতে পারবে। এমন সুযোগের ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আরও আগ্রহী হবেন এবং একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।




চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা

চলতি ২০২২-২৩ অর্থ বছরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৯০ কোটি ৫ লাখ টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেন, ‘চলতি ২০২২-২৩ অর্থ বছরে জুলাই-এপ্রিল সময় পর্যন্ত নিটওয়্যার ওভেন, তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, ফুটওয়্যার খাত, হিমায়িত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে।’

সোমবার (১২ জুন) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।

তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে নিটওয়্যার তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি আয় ২ লাখ ৬ হাজার ৯১ কোটি টাকা, ওভেন তৈরি পোশাক খাতে ১৭ লাখ ৩০ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা, হোম টেক্সটাইল খাতে ৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা, ফুটওয়্যার খাতে ৩ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা, হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি খাতে ৩ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা, পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি খাতে ৭ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি খাতে আয় হয়েছে ৯ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা।




জুলাই থেকে একক দামে বৈদেশিক মুদ্রা বেচাকেনা

আগামী জুলাই থেকে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা (বিশেষ করে ডলার) একক দাম চালু হতে যাচ্ছে। একইসঙ্গে দাম নির্ধারণের বিষয়টি বাজারের ওপর ছেড়ে দেবে ডলার।

সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের অফিসে ব্যাংক খাত নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ লিমিটেড(এবিবি) চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন। এসময় সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, সুদের হার বাজারভিত্তিক হওয়া কতটুকু প্রয়োজন তা নিয়ে চিন্তা করা উচিত। ৬ ও ৯ শতাংশ হারে যে সুদহার বেধে দেওয়া হয়েছিল তা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছে। এখন আসছে মুদ্রানীতিতে যদি সুদহারে ক্যাপ তুলে দেওয়া হয় তারপরও তা বাজারভিত্তিক হবে না বলে মনে করে এবিবি। তবে এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, গেল বছরের থেকে এখন স্বস্তিতে ফিরছে দেশের ব্যাংক খাত। ২ কিংবা ১টা ব্যাংক ছাড়া কোন ব্যাংকে ডেফার পেমেন্ট বাকি নেই। তবে ২০১৮ বা ২০১৯ সালের মতো অবস্থায় আসতে এখনও বেশ সময় লাগবে।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তিনি বলেন, ২০২২ সালে বহির্বিশ্বের কারণে দেশে যে অর্থনৈতিক মন্দা, সামষ্টিক অর্থনীতির যে চাপ , রিজার্ভের যে সংকট গেছে তা গেল ৩৫ বছর দেখেনি দেশের ব্যাংক খাত। গেল বছরের জুন-জুলাইয়ে ভয়াবহ মন্দাতে গেছে দেশ। এ বছরেই টাকার মান কমেছে ২৫ শতাংশ যা অকল্পনীয়। ডলার সংকট কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি শুরু করায় মূলত তারল্য সংকট দেখা দেয়।