দক্ষিণ কোরীয় কোম্পানির সঙ্গে ২৪.০৩ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই করলো বেপজা

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) বহুমুখী শিল্প উৎপাদনে আরেকটি বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান এ বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকাস্থ বেপজা কমপ্লেক্সে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠান পিএইচ ক্রিয়েটিভ (বিডি) লিমিটেডের সঙ্গে বেপজার এ চুক্তি সই সম্পন্ন হয়েছে।

নতুন এ বিনিয়োগের আওতায় ২৪ দশমিক শূন্য ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সামগ্রী, গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ এবং ব্যাগ ও লাগেজ উৎপাদন করা হবে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে এ বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৯৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

বেপজার পক্ষে নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) তানভীর হোসেন এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জিন হো বে চুক্তিতে সই করেন। অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত থেকে চুক্তি সই কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।

 

প্রতিষ্ঠানটি স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও আয়রন ফ্রেম, ফাইবারগ্লাস পোল, তাঁবু, স্লিপিং ব্যাগ, ক্যাম্পিং চেয়ারসহ বিভিন্ন ক্যাম্পিং সামগ্রী উৎপাদন করবে। পাশাপাশি পিভিসিওয়্যার কভার, ক্যাপ, চেয়ার প্যাচ, হ্যাঙ্গার, হ্যামারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করা হবে।

এছাড়া ট্রলি ব্যাগ, হ্যান্ড ব্যাগ এবং গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ যেমন টগল ও বিড উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ও বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলকে বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ায় পিএইচ ক্রিয়েটিভ (বিডি) লিমিটেডকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক পণ্যের মতো উচ্চপ্রযুক্তি খাতে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, সদস্য (অর্থ) আ ন ম ফয়জুল হক, নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) সমীর বিশ্বাস, নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) খুরশিদ আলম, নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ.এস.এম. আনোয়ার পারভেজসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




বেপজায় হাইড্রোপনিক্স টেন্ট উৎপাদনে ৩০.৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই

বাংলাদেশে উৎপাদিত হতে যাচ্ছে গ্রিনহাউস হাইড্রোপনিক্স টেন্ট। এ লক্ষ্যে চীন (হংকং)-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্রিন পিউর হাউসওয়্যার (বিডি) কোম্পানি লিমিটেড বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সঙ্গে একটি ভূমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

প্রতিষ্ঠানটি ৩০ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে গ্রিনহাউস হাইড্রোপনিক্স টেন্ট যা মাটিবিহীন চাষাবাদের জন্য বিশেষায়িত বহনযোগ্য কাঠামো তৈরি করবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে ইভিএ ক্যাবিনেট ম্যাট, কার্টন এবং পিই প্যাকেজিং ফিল্মও উৎপাদন করা হবে।

হাইড্রোপনিক্স টেন্ট একটি নন-ট্র্যাডিশনাল ও উচ্চমূল্য সংযোজনকারী রপ্তানি পণ্য, যা পণ্য বহুমুখীকরণ ও বিশেষায়িত বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশে বেপজার কৌশলগত লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

উৎপাদিত পণ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হবে। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ লক্ষ্যে রোববার (১ মার্চ) ঢাকায় বেপজা কমপ্লেক্সে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বেপজার পক্ষে নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মোঃ তানভীর হোসেন এবং গ্রিন পিউর হাউজওয়্যার (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষে এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াং শেনিউ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন।

প্রতিষ্ঠানটিকে স্বাগত জানিয়ে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সব ধরনের সহায়তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ প্রদানে বেপজার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, সদস্য (অর্থ) আ ন ম ফয়জুল হক, নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ.এস.এম. আনোয়ার পারভেজসহ বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




৬ মাসে ইপিজেডে বিনিয়োগ কমেছে ২২.৩৩ শতাংশ: বেপজা

জুলাই আন্দোলনের পর পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশের ইপিজেডগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ২২ দশমিক ৩৩ শতাংশ বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রসেসিং জোন কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর গ্রীনরোডে বেপজার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জিয়াউর রহমান এ তথ্য জানান।

বেপজার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এএসএম আনোয়ার পারভেজের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেপজার সদস্য (অর্থ) আশরাফুল কবির।

আবুল কাশেম জিয়াউর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা দাবি করেন যে, পটপরিবর্তনের পর ৬ মাসে বাংলাদেশে বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ কমেছে ৭১ শতাংশ। তবে এটি ইপিজেডের বাইরে। ইপিজেডগুলোতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর অর্থাৎ ছয় মাসে এফডিআই কমেছে ২২.৩৩ শতাংশ। কেবল পটপরিবর্তনই নয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্যও বিনিয়োগ কমেছে। তবে বিনিয়োগ কমলেও এই সময়ে ইপিজেড থেকে রপ্তানি বেড়েছে ২২.৪১ শতাংশ যেখানে ইপিজেড বহির্ভূত রপ্তানি বেড়েছে ১২.৮৪ শতাংশ।

আমরা আশা করছি বিনিয়োগ বাড়বে কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প সরকার এসেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। ফলে চীনের শিল্প-কারখানাগুলো বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরিত হবে যেখানে বাংলাদেশ সবার ওপরে আছে। একটি চীনা কোম্পানি এরইমধ্যে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে বলে জানিয়েছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ইপিজেডে বিনিয়োগ হয়েছিল ১৬২.৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যেখানে ২০২৪-২৫ একই সময়ে বিনিয়োগের পরিমাণ ১২৬.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ইপিজেড থেকে রপ্তানি হয়েছিল ৩,৩৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি বেড়ে হয়েছে ৪,১২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।




বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২ কোটি ১৮ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে চীনা প্রতিষ্ঠান

বেপজার অর্থনৈতিক অঞ্চলে ক্যারি ব্যাগ ও লাগেজ উৎপাদন শিল্প স্থাপনে ২ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে চীনা প্রতিষ্ঠান ইউনিকর্ন হ্যান্ডব্যাগ লিমিটেড। সম্প্রতি ঢাকায় বেপজা কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সঙ্গে এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হয়।

বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবুল কালাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমানের উপস্থিতিতে বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. আশরাফুল কবির এবং ইউনিকর্ন হ্যান্ডব্যাগ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝেং শুয়ং নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চীনের এ প্রতিষ্ঠানটি বছরে ১৭ লাখ ব্যাকপ্যাক, হ্যান্ডব্যাগ, মানিব্যাগ, ব্যাগ, ক্যাপ, বেল্ট ও লাগেজ উৎপাদন করবে। এতে ২ হাজার বাংলাদেশী নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ইউনিকর্ন হ্যান্ডব্যাগ লিমিটেডকে স্বাগত জানিয়ে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেন, তাদের বিনিয়োগ বাংলাদেশের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) খাতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) মোহাম্মদ ফারুক আলম, সদস্য (অর্থ) আ ন ম ফয়জুল হক, নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) মো. খুরশীদ আলম এবং নির্বাহী পরিচালক মসিহ্উদ্দিন বিন মেসবাহ্ উপস্থিত ছিলেন।




আদমজী ইপিজেডে ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ

ভারত-জার্মানি যৌথ মালিকানাধীন শিল্প প্রতিষ্ঠান মেসার্স হেলসা আইকন বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড ১০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগে আদমজী ইপিজেডে একটি গার্মেন্ট এক্সেসরিজ শিল্প স্থাপন করতে যাচ্ছে।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এবং মেসার্স হেলসা আইকন বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড সম্প্রতি ঢাকার বেপজা কমপ্লেক্সে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) আলী রেজা মজিদ এবং হেলসা আইকন বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিস. আরতি পাতিল নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবুল কালাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন।

শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন এ প্রতিষ্ঠানটি বার্ষিক ১ কোটি জোড়া সোল্ডার প্যাড এবং ৭ লাখ ৫০ হাজার জোড়া স্লিভ হেড তৈরি করবে। কারখানাটিতে ১২৬ জন বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) আ.ন.ম ফয়জুল হক, নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) মো. খুরশীদ আলম উপস্থিত ছিলেন।




মে মাসের বেতন দেয়নি ২৩শ কারখানা

বাংলাদেশে এখন প্রায় ১০ হাজার শিল্প ও কল-কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে মে মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে ৭ হাজার ৬০২টি শিল্প ও কল-কারখানায়। অর্থাৎ জুনের ১৭ দিন পার হলেও এখনো বেতন পায়নি ২ হাজার ৩১৩টি কল-কারখানার শ্রমিকরা।

পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমইএ, বেপজা,পাটকল এবং শিল্পাঞ্চল পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, শনিবার (১৭ জুন) দুপুর ২টা পর্যন্ত সময়ে ৯ হাজার ৯১৫টি কল-কারখানার মধ্যে চলতি বছরের মে মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে ৭ হাজার ৬০২টি কল-কারখানায়। যা শতাংশের হিসেবে ৭৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অর্থাৎ ২ হাজার ৩১৩টি কারখানার শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হয়নি। যা শতাংশের হিসেবে ২৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত ১ হাজার ৬২৪ কারখানার মধ্যে মে মাসের বেতন হয়েছে ১ হাজার ৩৪৩টি কারখানায়। অর্থাৎ ২৮১টি কারখানায় এখনো মে মাসের বেতন হয়নি। নিটওয়ার মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত ৬৯৯টি কারখানার মধ্যে ৫৩১ কারখানার বেতন পরিশোধ করা হয়। ১৬৮টি বেতন পরিশোধ করা হয়নি।

বিটিএমইএ-র ৩৫৯টি কারখানার মধ্যে ২৫৩ কারখানার বেতন পরিশোধ করা হয়েছে, বাকি আছে ১০৬টির। বেপজার ৩৯২টির মধ্যে ৩৮৯ কারখানার বেতন পরিশোধ করা হয়েছে, বাকি আছে ১২টির। পাটকল ৯০টির মধ্যে ৮৪ বেতন পরিশোধ করা হয়েছে, বাকি আছে ৬টির। ৬ হাজার ৭৫১টি কারখানার মধ্যে ৫ হাজার ১১টির বেতন দেওয়া হয়েছে, আর পরিশোধ করা হয়নি এক হাজার ৭৪০টির। মোট ২ হাজার ৩১৩টি কারখানায় বেতন হয়নি। যা শতাংশের হিসেবে ২৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

সূত্র মতে, আশুলিয়া এলাকার থাকা ১৭৯২টি কল-কারখানার মধ্যে ৬৭ দশমিক ৩১ শতাংশ কারখানায় বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি রয়েছে ৩০ দশমিক ৬৯ শতাংশ। গাজীপুর এলাকার মধ্যে ২ হাজার ২৮৭ কারখানার মধ্যে ৭০ দশমিক ৪০ শতাংশ কারখানার বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। অর্থাৎ ২৯ দশমিক ৬০ শতাংশ কারখানার বাকি রয়েছে। চট্টগ্রামের ১৪৮০ কারখানার মধ্যে ৮৯ দশমিক ৮০ শতাংশ কারখানার বেতন দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ২২০৭টির মধ্যে ৬০ দশমিক ৮৫ কারখানায় বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। ময়মনসিংহের ২৬৬টির মধ্যে ৯৭ দশমিক ২৯ শতাংশ, খুলনার ৩৬৭টির মধ্যে ৯৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং সিলেটের ৭৪০টি কারখানার সব কয় পরিশোধ করা হয়েছে।

এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে জুন মাসের প্রথম ১৫ দিনের বেতন পরিশোধ করেছে ৫১টি কারখানা। অর্থাৎ জুন মাসের ১৫ দিনের বেতন পাননি ৯ হাজার ৮৬৪টি কারখানার শ্রমিকরা।

সার্বিক বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, অধিকাংশ কারখানায় মে মাসের দেওয়া হয়েছে। অল্প কিছু কারখানায় মে মাসের বেতন পরিশোধ করেননি। এগুলো দ্রুত পরিশোধ করা হবে। সরকারি নির্দেশনা মেনেই মে মাসের পাশাপাশি আমরা জুন মাসের ১৫ দিনেরও বেতন দেওয়া শুরু করেছি।

নিটওয়ার মালিকদের সংগঠনের বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের অধিকাংশ কারখানার বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। হাতে গোনা কয়েকটি কারখানা রয়েছে সেগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তারা দুই চারদিনের মধ্যে বেতন দিয়ে দেব।

উল্লেখ্য, জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) ৭৫তম এবং আরএমজি টিসিসির ১৫তম সভা অনুষ্ঠিত হয় ৬ জুন। সেখানে শিল্প-কারখানার বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্টরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। সভা শেষে তিনি ঈদুল আজহার ছুটির আগেই শ্রমিকদের ঈদ বোনাস এবং জুন মাসের ১৫ দিনের বেতন দেওয়ার জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।




উত্তরা ইপিজেডে পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস ইউনিট চায় বেপজা

নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস ইউনিট স্থাপনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। সম্প্রতি বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) আলী রেজা মজিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এনবিআরের কাছে এ সহায়তা চেয়েছে বেপজা।

পিছিয়ে পড়া উত্তরাঞ্চলে শিল্পায়নের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নীলফামারীতে ২০০১ সালে উত্তরা ইপিজেড স্থাপিত হয়। ২১২ একর জমির উপর গড়ে ওঠা উত্তরা ইপিজেডে বাংলাদেশ, হংকং, চীনসহ ২৪ টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে প্রায় ৩০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২১৬ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ রয়েছে।

সরকারের ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিনিয়োগকারীদের দ্রুততম সময়ে সেবা দেওয়া এবং আমদানি-রপ্তানি সহজীকরণের মাধ্যমে দেশে-বিদেশি বিনিয়োগের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও চলমান প্রবাহ অব্যাহত রাখতে এনবিআরের কাছে পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস ইউনিট স্থাপন সুবিধা চেয়েছে বেপজা।

চিঠিতে বলা হয়, বিনিয়োগকারীদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ করতে কোম্পানিগুলোর আমদানি ও রপ্তানি সংশ্লিষ্ট সাব-কন্ট্রাক্ট, শিপ ব্যাক, ব্রিং ব্যাক, রিপেয়ারিং, মেশিন ঋণ, পুরাতন মেশিন বিক্রয়, নিলাম, বন্ড টু বন্ড ট্রান্সফার ইত্যাদি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উত্তরা ইপিজেডে একটি পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস ইউনিট স্থাপন প্রয়োজন। পাশাপাশি কাস্টমস ইউনিটে উপ-কমিশনার বা সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে পূর্ণ ক্ষমতা দিয়ে ইপিজেড থেকেই বিনিয়োগকারীদের কাস্টমস সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

বেপজা বলছে, আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে লিড টাইম সীমাবদ্ধতাসহ বর্তমান বিশ্ববাণিজ্যে বিরাজমান নানান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং যথাসময়ে রপ্তানির মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতা ধরে রেখে প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্যে টিকে থাকতে ইপিজেডে পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস ইউনিট প্রয়োজন।