আসল আমদানি করা ৬১ হাজার ডিম

প্রথমবারের মতো ভারত থেকে এলো আমদানির ডিম। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানির প্রথম চালানে ভারত থেকে ১৫ কোটির মধ্যে ডিম এসেছে ৬১ হাজার ৯৫০ পিস।

রবিবার সন্ধ্যায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দর থেকে ডিমের চালান নিয়ে একটি গাড়ি বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। পর্যায়ক্রমে এ পথে আরও ডিম আসবে বলে জানান আমদানিকারকের প্রতিনিধিরা। প্রথম চালানের এ ডিমের আমদানিকারক ঢাকার রামপুরায় অবস্থিত বিডিএস করপোরেশন। এ চালানের রপ্তানিকারক ভারতের ত্রিপুরার কানুপ নামক এক প্রতিষ্ঠান।

এরই মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১৫ কোটি ডিম আমদানির জন্য ১৫ প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছে। বেনাপোল দিয়ে আসা প্রতিটি ডিমের আমদানি মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ টাকা ৪৩ পয়সা। এর ওপর সরকারি শুল্ক এক টাকা ৮০ পয়সা। এলসি খরচ, রপ্তানি খরচ, পোর্ট চার্জ, সিঅ্যান্ডএফ চার্জ, পরিবহন খরচ ধরলে ৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০ টাকার মধ্যে থাকবে।

প্রথম চালানের আমদানি মূল্য দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৯৮৮ দশমিক ৪০ মার্কিন ডলার। এর আগে গেল ৮ অক্টোবর ৫টি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ কোটি ডিম আমদানির অনুমোদন দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর চার প্রতিষ্ঠানকে চার কোটি ডিম আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। ২১ সেপ্টেম্বর আরও ৬ কোটি ডিম আমদানির অনুমোদন দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

আমদানি করা ডিম খুচরা পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত দাম প্রতি পিস ১২ টাকায় বিক্রি হবে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. হায়দার আলী বলেন, ‘আমদানি করা ডিমের প্রতিটি চালানের জন্য বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে।’

হায়দার আলী জানান, ‘এসব শর্তের মধ্যে একটি হলো, রপ্তানিকারক দেশের সরকার কর্তৃক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু ভাইরাস ও ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ামুক্ত মর্মে সনদ দাখিল করতে হবে। সরকার নির্ধারিত শুল্ক বা কর পরিশোধ করতে হবে। নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি করা যাবে না। সরকারের অন্য বিধিবিধান মেনে চলতে হবে।’

দেশে এর আগে ডিম আমদানি না হওয়ায় এই সনদ পেতে আমদানিকারকদের কিছুটা সময় লাগে। এ কারণে ডিম আসতে দেরি হয়েছে বলে জানান মো. হায়দার আলী।




বেনাপোল দিয়ে ৯ দিনে ভারতে গেল ৬০০ মেট্রিক টন ইলিশ

ভারতে দূর্গাপূজা উপলক্ষে ৩ হাজার ৯৫০ টন ইলিশ রপ্তানির মধ্যে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত ৯ দিনে মোট ৬০০ টন ৪৪০ কেজি ইলিশ রপ্তানি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার এবার ভারতে দূর্গাপূজায় ৩ হাজার ৯৫০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়। অনুমতি পাওয়ার পর গত ৯ দিনে ৬০০ টন ৪৪০ কেজি ইলিশ রপ্তানি হয়েছে বেনাপোল দিয়ে। এর মধ্যে গত ২১ সেপ্টেম্বর ৭৭ টন ১০০ কেজি, ২৩ সেপ্টেম্বর শনিবার ৪০ টন ১০০ কেজি, ২৫ সেপ্টেম্বর ৫৬ টন ৫০০ কেজি, ২৬ সেপ্টেম্বর ৪৮ টন ৯৮০ কেজি, ২৭ সেপ্টেম্বর ৩১ টন ৭৬০ কেজি, ৩০ সেপ্টেম্বর ৯১ টন ৫০০ কেজি, ৩ অক্টোবর ৯৮ টন ৬০০ কেজি, ৪ অক্টোবর ৮৩ টন ৯০০ কেজি এবং বৃহস্পতিবার ৭২ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি করা হয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক আবদুল জলিল জানান, এবারের দুর্গাপূজায় ভারতে মোট ৩ হাজার ৯৫০ টন ইলিশ রপ্তানির কথা রয়েছে।

ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরকার ২০১২ সাল থেকে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০১৯ সাল থেকে পূজা উপলক্ষে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়া হয়।

ভারতের ইলিশ আমদানিকারক ভজন কুমার দাস বলেন, ‘পূজার আগ পর্যন্ত প্রতিদিনই বাংলাদেশের ইলিশ আসবে কোলকাতায়। পূজার আগে এর চেয়ে বেশি আনন্দের আর কী হতে পারে। এ জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

বেনাপোল মৎস্য অফিসের ফিশারিজ কোয়ারেন্টিন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকারের বিশেষ অনুমতিতে ইলিশ রপ্তানি শুরু হয়েছে ভারতে। গত ৯ দিনে মোট ৬০০ টন ৪৪০ কেজি ইলিশ ভারতে গেছে এই বন্দর দিয়ে। বাকি ইলিশ আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে রপ্তানি শেষ করবে ৭৯টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান।’