বৃক্ষমেলায় পৌনে ১৫ কোটি টাকার গাছ বিক্রি

মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলায় এবার ১৬ লাখ ৯১ হাজার ৪২৩টি চারা বিক্রি হয়েছে। এসব চারার মোট বিক্রয়মূল্য ১৪ কোটি ৭৯ লাখ ৯ হাজার ৪৭৪ টাকা। চলতি বছরের ২৫ জুন থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত চলে এ বৃক্ষমেলা।

এবারের মেলা চলাকালে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রাজধানীতে জমজমাট পরিবেশে চলে চারা বেচাকেনা। মোট ১১২টি স্টল অংশ নেয় মেলায়। এর মধ্যে সরকারি স্টল ছিল ৮টি, বেসরকারি স্টল ৮টি, নার্সারির একক স্টল ৯২টি এবং ডাবল স্টল ১৮টি।

রোববার (২৭ জুলাই) জাতীয় বৃক্ষমেলা-২০২৫ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা দীপংকর বর।

তিনি জানান, এবারের মেলায় চারা বিক্রির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা। মেলায় মোট ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৫৭৪টি শোভাবর্ধনকারী চারা বিক্রি হয়।

এছাড়া ফলদ গাছ বিক্রি হয় ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৬৪০টি, বনজ ২ লাখ ৪৮ হাজার ২৭৪টি, ঔষধি এক লাখ ১৪ হাজার ৫১৫টি, মসলাজাতীয় গাছ এক লাখ ৪৪৯টি, ক্যাকটাস এক লাখ ২ হাজার ৮৯টি, অর্কিড ৭৪ হাজার ৫৪১টি।

পাশাপাশি দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় বা বিরল প্রজাতির গাছের চারা বিক্রি হয়েছে ৩৭ হাজার ৩২১টি এবং অন্যান্য প্রজাতির ২ লাখ ২২ হাজার ২০টি চারা বিক্রি হয়েছে বলে জানান দীপংকর বর।




যেখানে খালি জায়গা সেখানেই গাছের চারা রোপণ করুন: প্রধানমন্ত্রী

পরিবেশ রক্ষায় যেখানে খালি জায়গা আছে সেখানেই গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য দেশ, জনগণ এবং প্রকৃতিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষিত করা।”

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান, বৃক্ষমেলা ২০২৪’ এবং ‘পরিবেশ মেলা ২০২৪’ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, জাতীয় পরিবেশ পুরস্কার-২০২৩ এবং বৃক্ষরোপণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার-২০২২ ও ২০২৩ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

এছাড়াও সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের মধ্যে চেক বিতরণ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হবে, কারণ এটি আমাদের সবকিছু দেয়। আমরা যদি সুস্থ জীবনযাপন করতে চাই তবে আমাদের একটি সুন্দর পরিবেশ দরকার এবং প্রত্যেকেরই এর দিকে মনোনিবেশ করা উচিত।”

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় ঘরের ছাদে বা অফিসে যেখানেই থাকুক না কেন খালি জায়গায় চারা রোপণ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “আমি আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করছি, যেখানেই খালি জায়গা আছে সেখানে চারা লাগান। ফল ধরাতে পারেন, ফলদ গাছ লাগাতে পারলে, কাঠ বিক্রি করে যথেষ্ট অর্থ পাওয়া যায়, কাঠের গাছ লাগালে, ভেষজ গাছ থেকে ওষুধও তৈরি হয়।

“প্রত্যেকেরই অফিস, স্কুল, কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসার প্রাঙ্গণ এমনকি বাড়ির ছাদেও গাছ লাগাতে হবে, যে গাছ আপনাকে আরাম দেয়, আপনি ছায়া পেতে পারেন, নিজের বাগানের ফল ও শাকসবজি খেয়ে আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়” বলেন শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপঙ্কর তালুকদার ও সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।