এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.০৪ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের ফলে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এপ্রিল মাসে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মার্চ মাসে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। এতে মাসের ব্যবধানে ভোগ্যপণ্যে ব্যয়ের চাপ বাড়লো।

বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে।

 

এতে বলা হয়েছে, খাদ্যখাত—বিশেষ করে চাল, ডাল, মাছ, মুরগি, ডিম, দুধ, সবজি, মাংসসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি।

এপ্রিল মাসে খাদ্যখাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ।

 

অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ হয়েছে, যেখানে মার্চ মাসে এই হার ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।

খাদ্যবহির্ভূত খাতে দাম বাড়ায় সন্তানের পড়ালেখা, বাড়িভাড়া, পরিবহন, পোশাক ও তামাকের খরচ মেটাতে চাপ বাড়বে। কারণ এসব খাতে হাতখরচ বাড়ছে দেশবাসীর।




বিবিএসের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস পিএলসি (বিবিএস) পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে। আগামী ২৯ জানুয়ারি বিকাল ০৫ টায় কোম্পানিটির পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, আলোচিত সভায় ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর’২৪-ডিসেম্বর’২৪) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। পর্ষদ এ প্রতিবেদন অনুমোদন করলে তা প্রকাশ করবে কোম্পানিটি।




খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩.৮০ শতাংশ

আবারও নাগালের বাইরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে অর্থাৎ নভেম্বর মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতি নিয়ে চলতি বছরের নভেম্বর মাসের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে।

বিবিএস এর প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, চাল, ডাল, তেল, লবণ, মাছ, মাংস, সবজি, মসলা ও তামাকজাতীয় পণ্যের দাম বাড়ায় খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে সাধারণ বা গড় মূল্যস্ফীতির হারও বেড়েছে। এই হার বেড়ে ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ হয়েছে গত মাসে যা ছিল ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। নভেম্বর মাসে বাড়ি ভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থালি, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন ও শিক্ষা উপকরণের দাম বেড়েছে। অক্টোবর মাসে এখাতে মূল্যস্ফীতিরে হার ছিল ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ, অথচ নভেম্বর মাসে বেড়ে যা হয়েছে ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে জুলাই মাস জুড়ে আন্দোলন করছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে করে দেশে এক ধরনের অচল অবস্থা দেখা যায়। ফলে ঢাকা কার্যত দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন ছিল, বন্ধ ছিল পণ্যের সরবরাহ। এর ফলে জুলাই মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ হয়েছিল।

২০২৩ সালের অগাস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ হয় যা ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। এর আগে খাদ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি ছিল ২০১১ সালের অক্টোবরে। তখন ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি দেখা যায়।




বিবিএসের নাম পরিবর্তনে সিএসইর সম্মতি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস (বিবিএস) লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানিটির নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সার্বিক দিক বিবেচনা করে কোম্পানিটিকে নাম পরিবর্তন করার অনুমতি দিয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (৩ জুন) চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানির নাম ‘বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড’ এর পরিবর্তে ‘বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস পিএলসি’ রাখার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সিএসই। আজ থেকে কোম্পানির নতুন নাম কার্যকর হবে। নাম সংশোধন ছাড়া কোম্পানির অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকবে।




 মাসিক গড় আয় ৭ হাজার ৬১৪ টাকা

দেশে ছয় বছরের ব্যবধানে একজন মানুষের মাসিক গড় আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৬ সালে একজন মানুষের গড় আয় ছিল ৩ হাজার ৯৪০ টাকা। বর্তমানে একজন মানুষের মাসিক গড় আয় ৭ হাজার ৬১৪ টাকা।

রোববার (১৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত খানা আয় ও ব্যয় জরিপ-২০২২ সালের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। এর আগে, গত এপ্রিল মাসে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল।

বিবিএস’র প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গ্রামের মানুষের চেয়ে শহরের মানুষের আয় অনেক বেশি। শহরের একজন মানুষের মাসিক গড় আয় ১০ হাজার ৯৫১ টাকা। আর গ্রামের মানুষের আয় অর্ধেকের কাছাকাছি, ৬ হাজার ৯১ টাকা।

একটি পরিবারের সবাই আয় করেন না এবং এমন শিশু-বৃদ্ধ ও নারী আছেন, যারা বাস্তব কারণে কাজ করতে পারেন না। তবে একটি পরিবারে এক বা একাধিক উপার্জনকারী থাকতে পারেন। এসব উপার্জনকারীর গড় আয়ের হিসাবও জরিপে দেওয়া হয়েছে। উপার্জনকারীদের গড় আয় ২৫ হাজার ৭০৭ টাকা। ৬ বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ৬৪৬ টাকা। এই হিসাব শুধুমাত্র উপার্জনকারীর আয়ের ভিত্তিতে করা।

একটি পরিবারের মাসিক আয় কত, ব্যয় কত, তা–ও খানা আয় ও ব্যয় জরিপে বলা হয়েছে। বিবিএস বলছে, বাংলাদেশে একটি খানা বা পরিবারের গড় সদস্য সংখ্যা ৪ দশমিক ২৬। ওই পরিবারের মাসিক আয় ৩২ হাজার ৪২২ টাকা। মাসে খরচ হয় গড়ে সাড়ে ৩১ হাজার টাকা। খাবারের পেছনে প্রতি মাসে গড়ে ১৪ হাজার ৩ টাকা খরচ করে একটি পরিবার।

এ বিষয়ে বিবিএস’র উপপরিচালক এবং খানা আয় ও ব্যয় জরিপ প্রকল্পের পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক যে ফলাফল এসেছিল, মূল প্রতিবেদনেও তা–ই এসেছে। এবার শুধু একটু বিস্তারিত বলা হয়েছে। গত ছয় বছরে আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হওয়ায় আয়-ব্যয়ে পরিবর্তন এসেছে।

এদিকে, ধনীদের কাছে সম্পদ আরও পুঞ্জীভূত হওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। আয়বৈষম্য আরও প্রকট হওয়ার চিত্রও উঠে এসেছে। দেখা গেছে, দেশের মোট আয়ের প্রায় ৪১ শতাংশ করে থাকেন দেশের সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষ। ২০১৬ সালে আয়ের এই হার ছিল ৩৯। তবে সবচেয়ে গরিব ১০ শতাংশ মানুষের আয়ের অংশীদারত্ব কিছুটা বেড়েছে। এখন দেশের মোট আয়ের ১ দশমিক ৩১ শতাংশ তাদের হাতে। ৮ বছর আগে এই হার ছিল ১ দশমিক শূন্য ২।

তবে ধনী মানুষ আরও বেশি আয় করার কারণে আয়বৈষম্যও আগের চেয়ে বেড়েছে। বিবিএস’র তথ্য–উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২২ সাল শেষে গিনি সহগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে দশমিক ৪৯৯ পয়েন্ট। ২০১৬ সালে গিনি সহগ ছিল দশমিক ৪৮২ পয়েন্ট। এটি সাধারণত দশমিক ৫০০ হলেই একটি দেশকে উচ্চ আয়বৈষম্যের দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।




আগস্টে গড়ে মূল্যস্ফীতি ১২.৫৪ শতাংশ

বাজারে খাদ্যপণ্যে আগুন। বেড়েই চলেছে ডিম, আলু, তেল, চাল, মাছ, মাংস ও সবজির দাম। বাজারের প্রভাব পড়েছে চলতি বছরের আগস্ট মাসের মূল্যস্ফীতিতে। গত মাসে খাদ্যখাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১২.৫৪ শতাংশ। যা বিগত বছরে কখনও হয়নি। এর আগের মাসে এই খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৭৬ শতাংশ। অর্থাৎ আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ২.৭৮ শতাংশ।

রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দেওয়া মে মাসের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ তথ্যে এমনটা বলা হয়েছে। যা গত ১১ বছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১১ সালের মে মাসে ছিল ১০ দশমিক ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি। ২০২০-২১ অর্থবছরেও খাদ্যখাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল মাত্র ৫.৫৬ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে এই খাতে বৃদ্ধি হয়েছে দ্বিগুণের বেশি।

বিবিএসের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, আগস্ট মাসে খাদ্যপণ্য বৃদ্ধির রেকর্ড গড়েছে। চাল, ডাল, তেল, লবণ, মাছ, মাংস, সবজি, মসলা ও তামাকজাতীয় পণ্যের দাম বাড়ায় খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিবিএস। ২০২০ সালে খাদ্যখাতে ১০০ টাকার পণ্যে ৫ টাকা ৫৬ পয়সা বৃদ্ধি হয়েছিল, একই পণ্যে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে বেড়েছে ১২ টাকা ৫৪ পয়সা। তবে বাড়িভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থালি, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন ও শিক্ষা উপকরণের দাম কিছুটা কমেছে বলে দাবি করেছে বিবিএস।

আগস্টে সার্বিক খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১২.৫৪ শতাংশ। আগের মাস, অর্থাৎ জুলাইয়ে এ হার ছিল ৯.৭৬ শতাংশ। এর মধ্যে গ্রাম এলাকায় আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১২.৭১ শতাংশ। আর শহর এলাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১২.১১ শতাংশে। উভয় ক্ষেত্রে খাদ্য মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ে ১০ শতাংশের নিচে ছিল।

অন্যদিকে সার্বিক খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ের ৯.৪৭ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে ৭.৯৫ শতাংশ হয়েছে। এর মধ্যে আগস্টে গ্রাম এলাকায় খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৭.৩৮ শতাংশ ও শহর এলাকায় এটি ৮.৪৮ শতাংশ।

এছাড়া গ্রামে এখন সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯.৯৮ শতাংশ, যা জুলাইয়ে ছিল ৯.৭৫ শতাংশ। আর শহরে এখন সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯.৬৩ শতাংশ, যা জুলাইয়ে ছিল ৯.৪৩ শতাংশ।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, হঠাৎ করেই ডিম ও আলুর দাম বেড়েছে। এসব খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় এর প্রভাব পড়েছে মূল্যস্ফীতিতে। সেই সঙ্গে বন্যা এবং অতি বৃষ্টির কারণে আগস্ট মাসে পণ্য সরবরাহ চেইন ব্যাহত হয়েছে। এ কারণে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বৃষ্টি ও বন্যা কমে গেলে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তখন ধীরে ধীরে আবারও নিত্যপণ্যের দাম কমবে।




জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি কমেছে

দেশে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তার আগের মাসে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

রোববার (৬ আগস্ট) বিবিএস মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ০২ শতাংশ।

বিবিএসের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, গত জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। আগের মাস, অর্থাৎ জুনে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৭৩। জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে।

অন্যদিকে এ মাসে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। জুন মাসে ছিল ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। এ ছাড়া গ্রামে এখন সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ, শহরে এই হার ৯ দশমিক ৪৩।




এফবিসিসিআই-বিবিএস’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-কে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। যা বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

একই ভাবে, নির্ভরযোগ্য এবং হালনাগাদকৃত পরিসংখ্যান তৈরিতে বিবিএসকে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে এফবিসিসিআই।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) এফবিসিসিআই কার্যালয়ে এই বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে এফবিসিসিআই এবং বিবিএস।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এবং বিবিএসের মহাপরিচালক মো. মতিয়ার রহমান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

এসময় এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এলডিসি গ্রাজুয়েশন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, এসডিজি অর্জন এবং ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নত হতে গেলে জরুরি একটি উপাদান হলো হালনাগাদকৃত তথ্য ও পরিসংখ্যান। অথচ দেশে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সহজলভ্য নয়। ফলে বাজারে নতুন কোনও শিল্প পণ্য আনার আগে সঠিকভাবে বাজার যাচাই-বাছাই করাও সম্ভব হয় না। নতুন বিনিয়োগ বা ব্যবসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণেও বেগ পেতে হয় উদ্যোক্তাদের।

দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করতে হলে গতানুগতিক অনুশীলন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদকৃত তথ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে নতুন উদ্যোক্তা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে তথ্য প্রবাহের গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে নির্ভুল হালনাগাদকৃত তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং সরবরাহের সক্ষমতা আরও উন্নত করার আহ্বান জানান মো. জসিম উদ্দিন। এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি খাত উপকৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র মহাপরিচালক মো. মতিয়ার রহমান জানান, এফবিসিসিআই বেসরকারি খাতের প্রথম কোনও প্রতিষ্ঠান যারা তথ্য আদান-প্রদানের জন্য পরিসংখ্যান ব্যুরো’র সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করলো। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিবিএস’র তথ্যভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মো. মতিয়ার রহমান বলেন, বিবিএসকে তথ্য সরবরাহ করে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কারণ, বিবিএস সরাসরি কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য প্রকাশ করে না। বরং সেসব তথ্য বিশ্লেষণ করে সূচক আকারে তা প্রকাশ করা হয়। এসময় সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে বেসরকারি খাতের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।




জুনে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে  ৯.৭৪ শতাংশ

গত মে মাসের তুলনায় জুন মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯.৭৪ শতাংশ। যা মে মাসে ছিল ৯.৯৪ শতাংশ।

সোমবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দেওয়া মে মাসের ভোক্তা মূল্য সূচকের (সিপিআই) হালনাগাদে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরূপ প্রভাবের কারণে চলতি অর্থবছরের মে মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশে গড়ে ৯.৯৪ শতাংশ হয়েছিল। যা গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। ২০১১ সালের মে মাসে ছিল ১০.২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল। তবে জুন মাসে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার কমলেও বেড়েছে খাদ্যপণ্যের দাম। জুন মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯.৭৩ শতাংশ হয়েছে। যা গত মে মাসে ছিল ৯.২৪ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্যে দেখা গেছে, মে মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার ৯.২৪ শতাংশ ছিল, এপ্রিল মাসে যা ছিল ৮.৮৪ শতাংশ। ফলে এপ্রিল থেকে বাড়তে মে মাসে খাদ্যপণ্য বৃদ্ধির রেকর্ড গড়েছে। চাল, ডাল, তেল, লবণ, মাছ, মাংস, সবজি, মসলা ও তামাকজাতীয় পণ্যের দাম বাড়ায় খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিবিএস। এছাড়া বাড়িভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থালি, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন ও শিক্ষা উপকরণের দাম কিছুটা কমেছে। মে মাসে এখাতে মূল্যস্ফীতিরে হার ছিল ৯.৯৬ শতাংশ। যা জুন মাসে কিছুটা কমে ৯.৬০ শতাংশ হয়েছে।

বিবিএস আরও জানায়, যদিও ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ৮.৭৮ শতাংশ। মার্চ মাসে আবারও মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে হয় ৯.৩৩ শতাংশ। এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা আশাব্যঞ্জক ছিল না। তখন সার্বিক বা সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.২৪ শতাংশ। সর্বশেষ বাড়তে বাড়তে ক্রেতা নাগালের বাইরে গেছে সব নিত্যপণ্য।




দেশে ১২ বছরে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরূপ প্রভাবের কারণে চলতি অর্থবছরের মে মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশে গড়ে ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ হয়েছে, যা ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরআগে ২০১১ সালের মে মাসে ছিল ১০ দশমিক ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি।

সোমবার (৫ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দেওয়া মে মাসের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ তথ্যে এমনটা বলা হয়েছে।

যদিও ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। মার্চ মাসে আবারও মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ হয়। এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা আশাব্যঞ্জক ছিল না। তখন সার্বিক বা সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্যে দেখা গেছে, মে মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ হয়েছে। গত মাসে যা ছিল ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ। চাল, ডাল, তেল, লবণ, মাছ, মাংস, সবজি, মসলা ও তামাকজাতীয় পণ্যের দাম বাড়ায় খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিবিএস।

এছাড়া বাড়িভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থালি, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন ও শিক্ষা উপকরণের দাম বাড়তি। মে মাসে এখাতে মূল্যস্ফীতিরে হার বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ, গত মাসে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ ছিল।