মালয়েশিয়া থেকে আসছে ৬০ হাজার টন ডিজেল

মালয়েশিয়া থেকে ৭ কোটি লিটার ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ আসছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ও রাতে ৩ ঘণ্টা বিরতিতে ‍‘এমটি টর্ম দামিনি’ এবং ‘এমটি লুসিয়া সোলিস’ নামের জাহাজ দুটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে।

বিপিসির এক উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিপিসির নিয়মিত সরবরাহকারী ইউনিপেক (সিঙ্গাপুর) পিটিই লিমিটেড চায়না এবং পিটি বুমি সিয়াক পুসাকু (বিএসপি)-জাপিন ইন্দোনেশিয়া ডিজেলগুলো সরবরাহ দিচ্ছে।

জানা গেছে, ডেনমার্কের পতাকাবাহী ট্যাংকার জাহাজ এমটি টর্ম দামিনি মালয়েশিয়ার জোহর বন্দর এবং ইন্দোনেশিয়ান পতাকাবাহী এমটি লুসিয়া সোলিস মালয়েশিয়ার তানজুং পেলেপাস বন্দর থেকে গত ৯ এপ্রিল বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। জাহাজ দুটি ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। জাহাজ দুটিতে ৩০ হাজার টন করে ৬০ হাজার টন ডিজেল থাকবে। যা লিটারে প্রায় ৭ কোটি ১১ লাখ লিটার।




পেট্রোল পাম্পের ধর্মঘট প্রত্যাহার

তেল বিক্রির কমিশন ন্যূনতম ৭ শতাংশ করাসহ ১০ দফা দাবি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়ম কর্পোরেশন (বিপিসি)। এরপরই ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক ঐক্য পরিষদ।

রোববার (২৫ মে) দুপুরের দিকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক মিজানুর রহমান রতন।

এর আগে সকাল ৬টা থেকে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও পেট্রোল পাম্প থেকে তেল বিক্রির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন সাধারণ ভোক্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তেল বিক্রির কার্যক্রম বন্ধের পরই সংকট সমাধানে বৈঠকে বসে বিপিসি ও মালিক সমিতি। বৈঠকে ১৫ দিনের মধ্যে সব দাবি সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় কর্মবিরতি কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।

তা ছাড়া, অন্যান্য দাবিগুলো দুই মাসের মধ্যে সুরাহা না হলে পুনরায় কর্মবিরতি যাবে বলেও জানান পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির নেতারা।

কমিশন বৃদ্ধিসহ পেট্রোল পাম্প মালিকদের ৭ দফার দাবির মধ্যে রয়েছে— সওজ অধিদপ্তরের ইজারা মাশুল পূর্বের ন্যায় বহাল করা, পাম্পের সংযোগ সড়কের ইজারা নবায়নের সময় পে-অর্ডারকে নবায়ন বলে গণ্য করা, বিএসটিআই কর্তৃক আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক ক্যালিব্রেশন, ডিপ রড পরীক্ষণ ফিস এবং নিবন্ধন প্রথা বাতিল করা, পেট্রোল পাম্পের ক্ষেত্রে পরিবেশ, বিইআরসি, কলকারখানা পরিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স গ্রহণ প্রথা বাতিল, বিপণন কোম্পানি থেকে ডিলারশিপ ছাড়া সরাসরি তেল বিক্রয় বন্ধ, ট্যাংকলরি চালকদের লাইসেন্স নবায়ন এবং নতুন লাইসেন্স বাধা বিপত্তি ছাড়া ইস্যু, সব ট্যাংকলরি জন্য আন্তঃজেলা রুট পারমিট ইস্যু করা, বিভিন্ন স্থানে অননুমোদিত এবং অবৈধভাবে ঘরের মধ্যে, খোলা স্থানে যত্রতত্র মেশিন দিয়ে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধের দাবি।




জ্বালানি তেল পরিবহনে ডিসি-এসপিদের সহায়তা চাইলো বিপিসি

অবরোধের মধ্যে জ্বালানি তেল পরিবহনে জেলা প্রশাসক ও এসপিদের সহায়তা চাইলো বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। টানা অবরোধে যাতে তেল পরিবহনে কোনও সংকট না ঘটে সে জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিপিসি বলছে, রাস্তায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এতে তেল পরিবহনকারী ট্যাংক লরিগুলো আতঙ্কে থাকে। এ ধরনের কোনও পরিবহনে অগ্নিসংযোগ করা হলে তা আশপাশে প্রাণহানির ঘটনা ঘটাতে পারে।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো ২৮ অক্টোবরের পর থেকে টানা কর্মসূচি পালন করছে। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো আজ একদিনের বিরতি দিয়ে আগামীকাল ও ৯ নভেম্বর ফের দুই দিনের অবরোধ দিয়েছে। সোমবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে গণতন্ত্র মঞ্চ বলেছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত টানা কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এই পরিস্থিতিতে রাস্তায় সহিংসতা আরও বাড়বে কিনা সেই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে তেল পরিবহনে যাতে কোনও সংকট না হয় সে জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা চাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলো বলে বিপিসির একজন কর্মকর্তা জানান। তিনি বলেন, আমরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের চিঠি দিয়ে বলেছি নিজ নিজ এলাকায় তেল পরিবহনের ট্যাংক লরি গেলে যেন সেগুলোকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। কোনও ক্ষেত্রে ট্যাংক লরির মালিকরা কোনও বিশেষ নিরাপত্তা চাইলেও তা যেন দেওয়া হয় সে বিষয়েও অনুরোধ করা হয়েছে।

তিনি জানান, গত ৩ নভেম্বর বিপিসি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের এ বিষয়ে চিঠি দেয়।

বিপিসি বলছে, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল থেকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের জন্য তেল নেওয়ার ক্ষেত্রে বিজিবির সহায়তা নেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক কোনও উড়োজাহাজে তেলের সংকট যাতে না হয়, বিপিসি সেই ব্যবস্থা আগেই করেছে।

চট্টগ্রাম, ঢাকার নারায়ণগঞ্জ এবং খুলনার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়িতে তেল পরিবহন করার জন্য জাহাজ ব্যবহার করা হয়। এসব জায়গা থেকে স্বল্প দূরত্বে জ্বালানি নেওয়ার জন্য ট্যাংক লরি ব্যবহার করা হয়। তবে অধিক দূরত্বে তেল পরিবহনের জন্য ট্রেনের ওয়াগন ব্যবহার করা হয়।

জানতে চাইলে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির একাংশের সভাপতি মিজানুর রহমান রতন বলেন, আমরা নিরাপত্তার কথা সবার আগে চিন্তা করছি। গাড়ির নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বিপিসি কাজ করছে। আমরা শুধু পরিবহনের নিরাপত্তাই নয়, গাড়ি ছাড়া যাতে অন্য কোনও কিছুতে, যেমন- বোতল, ক্যান বা ড্রামেও যাতে তেল না দেওয়া হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকা হচ্ছে।

পুলিশও এ ব্যাপারে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে পেট্রোল পাম্প মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় ডিএমপি কমিশনার বলেন, জ্বালাও-পোড়াও যেভাবে হচ্ছে তার অন্যতম উপাদান হচ্ছে এই পেট্রোল। আপনারা ব্যবসায়ী এবং সাধারণ নাগরিক। সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব এসব প্রতিরোধ করা। এ ধরনের কোনও দুর্ঘটনা যেন না ঘটে।