রপ্তানির গন্তব্য হিসেবে দেশকে গড়ে তোলা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও রপ্তানির আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে দেশকে গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার বেসরকারি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা যখন ’৯৬ সালে সরকার গঠন করি, তখন থেকেই আমাদের প্রচেষ্টা ছিল বেসরকারি খাতকে আরও উজ্জীবিত করা। তাদের জন্য সব কিছু উন্মুক্ত করে দেওয়া এবং বিদেশি বিনিয়োগ যাতে আসে সেজন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া।’

রবিবার ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ৬০ বছর পূর্তি উদযাপন এবং ইনভেস্টমেন্ট এক্সপোর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার বেসরকারি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ’৯৬ থেকে ২০০১, আমরা বেসরকারি খাতকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আসার বিভিন্ন সুযোগ সৃষ্টি করে দেই। আমরা দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে, গ্যাস উত্তোলন থেকে সার্বিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগে আকর্ষণ করার প্রচেষ্টা চালাই। তিনি আরও বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ৬ দফার পঞ্চম দফা ছিল বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনে জাতির পিতার বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কাঠামো নির্ধারণ ও শিল্প-বাণিজ্য পুনর্জীবিত করা। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে ভারত ও রাশিয়া সফর করেন, ফলে বেশকিছু বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি সম্পাদন সম্ভব হয়। জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার আগেই ১৯৭২ সালে জাতির পিতা চিলির সান্তিয়াগোতে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সংস্থা আঙ্কটাডের তৃতীয় অধিবেশনে বাংলাদেশ ডেলিগেশন প্রেরণ করেন।

শক্তিশালী সামষ্টিক অর্থনৈতিক মৌলিক বিষয়সমূহ ও বাণিজ্য সংহতকরণের ফলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭.২৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মাথাপিছু আয় মাত্র এক দশকে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২,৭৯৩ মার্কিন ডলারে। জিডিপির আকার ২০০৬ সালের ৪ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ লক্ষ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দারিদ্র্যের হার কমে ১৮.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

২০৩১ সালের মধ্যে জিডিপিতে বেসরকারি বিনিয়োগের অনুপাত ৩১ দশমিক চার-তিন শতাংশে উন্নীত হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করা হচ্ছে ২০৩৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২০তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সারা দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, ৩৯টি হাই-টেক পার্ক প্রতিষ্ঠা করেছি। এগুলো বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আমরা পাঁচটি বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা গঠন করেছি। ২০২৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত ও ধনিক শ্রেণির সংখা হবে ৩ কোটি ৪০ লাখ। ২০৪০ সালের মধ্যে আনুমানিক মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াবে ৫ হাজার ৮৮০ মার্কিন ডলারে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ৩০০ কোটি মানুষের আঞ্চলিক বাজারের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে ২০৩১ সালের মধ্যে একটি উচ্চ মধ্য-আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরিত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি আমরা। তিনি বলেন, এখন দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৭৮.৫৫ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার ফ্রিল্যান্সার রয়েছে যা বিশ্বব্যাপী অনলাইন শ্রমের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী। আইসিটি রপ্তানি খাতে ২০২৩ সালে আমরা অর্জন করেছি ১.৯ বিলিয়ন ডলার। আশা করা হচ্ছে, ২০২৫ সাল নাগাদ এই খাতে রপ্তানি আয় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে।




ঘানার সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি বিষয়ে আলোচনা

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী শার্লি আয়োরকার বচওয়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সংস্থাটির সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনের ফাঁকে তারা বৈঠক করেন। এ সময় তারা আগামীতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী শার্লি আয়োরকার বচওয়ে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একক সিদ্ধান্ত এবং আগামী জলবায়ু সম্মেলনে তা তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামে বাংলাদেশের নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ চালু করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় সুযোগ গ্রহণ করতে, বিশেষ করে ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে বিনিয়োগ করতে ঘানার প্রতি আহ্বান জানান।

ঘানাতে বাংলাদেশ মিশন স্থাপন অথবা অনারারি কনসাল জেনারেল নিয়োগের অনুরোধ জানান ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ড. মোমেন ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

 




কুর্দিস্তানের বাণিজ্য-শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

ইরাকের কুর্দিস্তানের আঞ্চলিক সরকারের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী কামাল মুসলিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসানের নেতৃত্বের একটি প্রতিনিধিদল।

শুক্রবার (২৫ আগস্ট) ইরাকের ইরবিলে এ সাক্ষাৎ হয়।

পরে তাদের মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাণিজ্য ও শিল্প উপমন্ত্রী সারওয়ার কামাল হাওয়ারী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক উপদেষ্টা ফাতি এম আলী আলমুদারিস এবং কুর্দিস্তান-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি ড. আহমেদ জালালও উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলে ছিলেন জায়ান্ট গ্রুপের পরিচালক শারমিন হাসান তিথি; বাংলা পোশাক লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল; বাংলা পোশাক লিমিটেড এর পরিচালক মো. শওকত হোসেন এবং বনিকা ফ্যাশন লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিশের খান।

বৈঠকে ইরাকে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল বারীও উপস্থিত ছিলেন।

তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলী, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ইরাকের মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বাংলাদেশের বিকাশমান উৎপাদন খাতগুলো এবং তৈরি পোশাকের মতো সম্ভাবনাময় পণ্যগুলো যেগুলো কিনা কুর্দিস্তান বাংলাদেশ থেকে আমদানি করতে পারে, সেগুলো সম্পর্কে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

তিনি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিশীল শিল্প খাতগুলোর দিকেও ইঙ্গিত করেন, যেখানে ইরাকি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগের কথা বিবেচনা করতে পারে।

বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী কামাল মুসলিম বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা কুর্দিস্তানে বিনিয়োগের যে সুযোগগুলো গ্রহণ করতে পারেন, সেগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেন।

তিনি বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলকে কুর্দিস্তানে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিষয়ে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।




ডিজিটাল ব্যাংকে বিনিয়োগ করবে এমকে ফুটওয়্যার-কুইন সাউথ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানি ডিজিটাল ব্যাংকে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানিগুলো হলো-এমকে ফুটওয়্যার লিমিটেড ও কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড।

মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

উল্লিখিত কোম্পানি দুটি আরও কয়েকটি কোম্পানি মিলে একটি কনসোর্টিয়াম গঠনের মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করবে। কোম্পানি দুটির পরিচালনা পর্ষদ ওই কনসোর্টিয়ামে যোগ দেওয়া ও প্রস্তাবিত ব্যাংকে স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার হিসেবে থাকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রস্তাবিত ব্যাংকের নাম হবে ‘ওপেন ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’ (Open Digital Bank PLC)। ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন থাকবে ১২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে এমকে ফুটওয়্যার ৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক হতে চায়। কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলস ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ১০ শতাংশ শেয়ারের মালিক হতে চায়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।




পুঁজিবাজারে সহজে বিনিয়োগ করতে পারবেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা

এখন থেকে বিদেশে বসেই অনলাইনে দেশের যেকোনো ব্যাংকে হিসাব খুলতে পারবেন প্রবাসী বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীরা। এ হিসাব থেকে দেশের পুঁজিবাজারে সহজে বিনিয়োগ করতে পারবেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। এর ফলে বাংলাদেশে যেকোনো ব্যাংকের এডি (অথরাইজড ডিলার) শাখার মাধ্যমে হিসাব খুলে টাকায় লেনদেন করা যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রবাসী বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের আগে ব্যাংক হিসাব খুলতে হলে
সশরীরে কাগজপত্র নিয়ে আসতে হত। এখন আর হিসাব খুলতে সশরীরে আসতে হবে না। তারা বিদেশ বসেই অনলাইনে ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ঢুকে ব্যাংক নন রেসিডেন্ট ইনভেস্টারস টাকা অ্যাকাউন্ট-এনআইটিএ অর্থাৎ ‘নিটা’ হিসাব খুলতে পারবেন। রেমিট্যান্স পাঠিয়ে কিংবা আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমেও অর্থ জমা করা যাবে। ‘নিটা’ হিসাবের মাধ্যমে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বিনিয়োগ ও শেয়ার লেনদেন করতে পারবেন প্রবাসীরা।

ডলার সংকট কাটাতে ও দেশের বিনিয়োগ সহজ করতে নীতিমালা সহজিকরণসহ নানা উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসাবে গত জুনে বাংলাদেশে কোম্পানি অনুমোদন ও নিবন্ধনের আগেই সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগের বিপরীতে প্রস্তাবিত কোম্পানির নামে অস্থায়ী এফসি (ফরেইন কারেন্সি) হিসাব খোলার সুযোগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর আগে গত জানুয়ারিতে অনিবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ‘নিটা’ হিসাব খোলার প্রক্রিয়া সহজ করা হয়। ‘নিটা’ হচ্ছে, বাংলাদেশে বিনিয়োগে অনিবাসীদের পরিচালিত টাকায় ব্যাংক হিসাব। বিদেশি মুদ্রার বিপরীতে সমপরিমাণ স্থানীয় মুদ্রা টাকা তাদের ‘নিটা’ হিসাবে জমা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংকগুলোর অনলাইন প্লাটফর্মে প্রবাসীদের হিসাব খুলার জন্য তথ্য পূরণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা করার সুযোগ থাকতে হবে। এজন্য ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় নিতে হবে। কোনো প্রবাসী আবেদন করলে তা অনলাইনে যাচাই-বাছাই করে টাকায় ব্যাংক হিসাব খুলে দিতে পারবে ব্যাংক। এছাড়া এ হিসাবে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমেও আমানত জমা করতে পারবেন গ্রাহক। এজন্য ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইটে আন্তর্জাতিক লেনদেন সুবিধা যুক্ত করতে বলা হয়েছে।




মুক্তবাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করতে সম্মত বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর

বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে আলোচনাধীন মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে উভয়পক্ষ।

সম্প্রতি জাকার্তায় ৩০তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের বৈঠকের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণণ।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থে‌কে পাঠা‌নো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তারা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি আগামী দিনে আরও সম্পৃক্ততা এবং সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।

বৈঠকে ড. মোমেন জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের ইস্যুতে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান। তিনি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সিঙ্গাপুরের সহযোগিতা চান। এছাড়া মন্ত্রী আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে দেশটিকে পাশে চান।

মোমেন বালাকৃষ্ণণকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে অত্যাধুনিক মানের ওষুধ আমদানির জন্য সিঙ্গাপুরকে অনুরোধ করেন।

বৈঠকে উভয়পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, স্বাস্থ্য, আইসিটি, কানেক্টিভিটি , চিকিৎসা কূটনীতির ক্ষেত্রে সহযোগিতা ত্বরান্বিত করার বিষয়ে সম্মত হন।